মিথ্যাচারই হলো ইসলামের প্রধান অবলম্বন

কোরানে আল্লাহ নিজেই বলেছে , যে সে নিজে হলো সবচাইতে বড় প্রতারক। যেমন —এবং কাফেরেরা প্রতারনা করেছে আর আল্লাহও প্রতারনা করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোত্তম প্রতারক।(সুরা-আল ইমরান- ০৩: ৫৪)অনেকেই এখন বলে বসবে এই অনুবাদ সঠিক না। তাদের জন্যে নিচে আসল আরবী দেয়া হলো Arabic:Qur’an 3:54- ومكروا ومكر الله والله خير الماكرين
Transliteration: Wamakaroo wamakara Allahu waAllahu khayru almakireena
Literal: And they cheated/deceived and God cheated/deceived, and God (is) the best (of) the cheaters/deceivers.

এখানে মূল ক্রিয়ার আরবী শব্দ – মাকর — এর অর্থ হলো – চক্রান্ত করা , প্রতারনা করা , ষড়যন্ত্র করা ইত্যাদি। আর এই একই ক্রিয়াপদ ব্যবহৃত হয়েছে কাফির ও আল্লাহর ক্ষেত্রে । তাই উভয় ক্ষেত্রেই অর্থ হবে এক আর সেটা হলো – প্রতারনা করা। এরপরেও কারও বিশ্বাস না হলে , তারা যে কোন আরবী ডিকশনারী থেকে – মাকর শব্দের অর্থ জানতে পারে।

ঠিক এরকম আরও একটা আয়াত আছে , যেমন —

সুরা আনফাল- ৮: ৩০: আর কাফেরেরা যখন প্রতারণা করত আপনাকে বন্দী অথবা হত্যা করার উদ্দেশ্যে কিংবা আপনাকে বের করে দেয়ার জন্য তখন তারা যেমন প্রতারনা করত তেমনি, আল্লাহও প্রতারনা করতেন। বস্তুতঃ আল্লাহর প্রতারনা সবচেয়ে উত্তম।

Arabic: واذا اذقنا الناس رحمة من بعد ضراء مستهم اذا لهم مكر في اياتنا قل الله اسرع مكرا ان رسلنا يكتبون ماتمكرون

Transliteration: Wa-itha athaqna alnnasa rahmatan min baAAdi darraa massat-hum itha lahum makrun fee ayatina quli Allahu asraAAu makran inna rusulana yaktuboona ma tamkuroona

Literal: And if We made the people taste/experience mercy from after calamity/disastrous distress touched them, then for them (is) cheatery/deceit/schemes in Our verses/evidences . Say: “God (is) quicker/faster (in) cunning/scheming , that Our messengers write what you cheat/ deceive/scheme.”

এই আয়াতেও মূল আরবি ক্রিয়াপদ হলো – মাকর । যার অর্থ হলো – প্রতারনা করা। তার অর্থ কাফিররা প্রতারক আর তাই আল্লাহও প্রতারক।

المكر (Al-Makr) deception
সূত্র: ArabEyes.com ,

যাইহোক , কোরান সরাসরি বলেছে আল্লাহই হলো সবচাইতে বড় প্রতারক , তথা মিথ্যাবাদী। সুতরাং দেখা যাচ্চে আল্লাহ নিজেই মুহাম্মদকে তথা মুসলমানদেরকে মিথ্যা কথা বলার জন্যে উৎসাহিত করছে। এ সম্পর্কিত হাদিসও আছে –

সহিহ মুসলিম :: বই ৩২ :: হাদিস ৬৩০৩:
হারমালা ইবন ইয়াহইয়া (র)…………হিজরত কারিনীদের মধ্যে নবী (সা) -এর হাতে প্রথম বায়ঁআত গ্রহণকারীদের অন্যতমা উম্মু কুলসূম বিনত উকবা ইবন মূঈত (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) -কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ সে ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মাঝে আপোষ মীমাংসা করে দেয় । সে কল্যাণের জন্যই বলে এবং কল্যাণের জন্যই চোগলখুরী করে । ইবন শিহাব (র) বলেন, তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা) মিথ্যা বলার অনুমতি দিয়েছেন বলে আমি শুনিনি । যুদ্ধ ক্ষেত্রে, লোকদের মাঝে আপোষ-মীমাংসার জন্য, স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর কথার ও স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর কথা প্রসঙ্গে ।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , আল্লাহই শুধু মুসলমানদেরকে মিথ্যা কথা বলতে উৎসাহিত করছে না , ইসলামের নবী মুহাম্মদ নিজেই বলছেন – যুদ্ধের সময়, মানুষের মাঝে আপোষ মিমাংশার সময় আর স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক উন্নয়ন- এই তিন ক্ষেত্রে মিথ্যা কথা বলা যাবে। আর একটা হাদিস দেখা যাক –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২৬৯:
সাদাকা ইব্ন ফাযল (র)…………….জাবির ইব্ন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘যুদ্ধ হল প্রতারনা।’

এখন অনেকেই বলবে যুদ্ধের সময় শত্রুকে পরাজিত করতে প্রতারনা করা যেতেই পারে , এতে দোষের কিছু নেই। আর যুদ্ধে জেতার জন্যে যে কৌশলই দরকার সেটাই গ্রহন করা যেতে পারে , যেখানে জয়ী হওয়াটাই হলো একমাত্র উদ্দেশ্য। খুব ভাল যুক্তি। কিন্তু আসল বিষয়টা অন্যখানে। সেটা হলো ইসলামে যুদ্ধ বিষয়টা কি , আর মুসলমানদের কাছেই বা যুদ্ধ জিনিসটা কি সেটা জানা। আর সেটা জানতে আমাদেরকে নিচের আয়াত পড়তে হবে –

সুরা তাওবা -৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তাওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

আমরা যদি এই সুরা তাওবার প্রেক্ষাপট দেখি তাহলে দেখব , সুরা তাওবা নাজিল করেছিলেন মুহাম্মদ তার মক্কা বিজয়ের এক বছর পর , মক্কা ও মদিনা মুহাম্মদের করতলগত , আশপাশের সকল গোত্রও মুহাম্মদের অধীন। অর্থাৎ সম্পূর্ন শান্তির সময়েই এই যুদ্ধের বিধান জারি হয়, আর আয়াতেও সরাসরি দেখা যাচ্ছে , মুশরিকদেরকে আক্রমন করে হত্যা করতে হবে বা ইহুদি খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে , একটাই মাত্র কারনে , সেটা হলো তারা ইসলাম গ্রহন করে নি । এই আয়াতের আগে পিছের কোন আয়াতেই বা এই উল্লেখিত আয়াত দুটোর কোনটাতেই বলে নি যে মুশরিকরা বা ইহুদি-খৃষ্টানরা মুসলমানদেরকে আক্রমন করতে যাচ্ছিল আর তাই আত্মরক্ষার জন্যে মুহাম্মদ তাদেরকে হত্যা করতে বা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বলছে। আয়াতদ্বয় এটাও খুব পরিস্কার বলছে যে – যদি তারা ইসলাম গ্রহন করে বা জিজিয়া কর দেয় , তাহলেও তাদেরকে ছেড়ে দেয়া যাবে। এ ছাড়াও এই আয়াত দুটোর পরিস্কার ব্যখ্যা দিয়েছেন স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই , নিচের হাদিসে —

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১:
আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি । এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারণ ছাড়া ।আর তাদের হিনাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

অর্থাৎ অমুসলিমরা যে ইসলাম গ্রহন করে নি ,সেই কারনেই ইসলামে তাদের বিরুদ্ধে চিরকালীন যুদ্ধ জারি হয়ে গেছে। সুতরাং এমন না যে অমুসলিমরা মুসলমানদেরকে আক্রমন করলেই যুদ্ধ হবে , বরং বিষয়টা এমন যে , মুসলমানরা কেয়ামত অবধি অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে , যতক্ষন না তারা ইসলাম গ্রহন করে। আর সেই সার্বক্ষনিক যুদ্ধে মুসলমানরা সর্বদাই প্রতারনা বা মিথ্যা কথা বলে অমুসলিমদেরকে বিভ্রান্ত করতে পারবে। আর যে মুসলমান এভাবে মিথ্যা কথা বা প্রতারনা করবে , সেই হবে সবচাইতে ভাল মুসলমান। কিভাবে এ ধরনের প্রতারনা করা যাবে , তার কিছু নিদর্শন কোরানে বিদ্যমান , যেমন –

সুরা নাহল – ১৬: ১০৬: যার উপর জবরদস্তি করা হয় এবং তার অন্তর বিশ্বাসে অটল থাকে সে ব্যতীত যে কেউ বিশ্বাসী হওয়ার পর আল্লাহতে অবিশ্বাসী হয় এবং কুফরীর জন্য মন উম্মুক্ত করে দেয় তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহর গযব এবং তাদের জন্যে রয়েছে শাস্তি।

অর্থাৎ পরিস্থিতি যদি বেগতিক হয়, তাহলে যে কোন মুসলমানই বলতে পারবে যে সে মুসলমান নয়। তাতে কোন দোষ নেই।

সুরা বাকারা – ২: ২২৫: তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে ধরবেন না, কিন্তু সেসব কসমের ব্যাপারে ধরবেন, তোমাদের মন যার প্রতিজ্ঞা করেছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী ধৈর্য্যশীল।

অর্থাৎ পরিস্থিতি সাপেক্ষে মিথ্যা শপথ করা যাবে , তাতে দোষ নেই। উদাহরন – আমেরিকায় নাগরিকত্ব পেতে গেলে, শপথ করতে হয়, যে সে আমেরিকার সংবিধানকে মান্য করার প্রতিজ্ঞা করছে। কিন্তু মনের মধ্যে তার ভিন্ন চিন্তা। সেখানে তার চিন্তা হলো – কিভাবে এই মানব রচিত সংবিধানকে ধ্বংস করে সেখানে শরিয়া প্রতিষ্ঠা করা যাবে। এভাবেই আমেরিকায় যত মুসলমান নাগরিকত্ব পাচ্ছে সবাই মিথ্যাচার করছে। কারন তারা মুখে মুখে সেই শপথ উচ্চারন করছে কিন্তু তাদের মনের মধ্যে ভিন্ন চিন্তা।

সুরা মায়েদা -৫: ৫১: হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

পরিস্কারভাবেই বলছে যে মুসলমানরা ইহুদি ও খৃষ্টানদেকে বন্ধুরূপে গ্রহন করতে পারবে না। কিন্তু যে সব মুসলমান অমুসলিম প্রধান দেশে বাস করে , সবাই অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্বের ভান করে , অর্থাৎ প্রতিটা মুহুর্তে সেখানে প্রতারনা করে যাচ্ছে , মিথ্যা কথা বলছে।

এই মিথ্যাচারের সবচাইতে বড় নিদর্শন দেখা যাচ্চে সারা দুনিয়ায় মুসলমানদের মধ্যে। আই এস , বোকো হারাম, আল কায়েদা , তালিবান ইত্যাদিরা ইসলামের প্রকৃত বিধান অনুযায়ী, যেটা আগে উল্লেখ করা হয়েছে , অমুসলিমদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত,তারা সারা দুনিয়ায় ইসলামী শাসন কায়েমের জন্যে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করে কোরান ও হাদিসের বিধান অনুযায়ীই অমুসলিমদেরকে হত্যা করছে , তাদের নারীদেরকে বন্দিনী নারী যা গনিমতের মাল হিসাবে ধর্ষন করছে — পশ্চিমা দেশে বসবাসকারী মুসলমানরা নির্দ্বিধায় প্রচার করছে , এইসব খাটি মুসলমানরা নাকি মুসলমানই না , তারা নাকি ইসলামের নামে এইসব বর্বর কর্মকান্ড করছে। বলা বাহুল্য, তারা খুব ভালই জানে , আল কায়েদা , আই এস এরা খাটি মুসলমান কি না , কিন্তু প্রকাশ্যে সেটা গোপন করে , মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে , কারন তারা তো মুসলমানদের সাথে সার্বক্ষনিক যুদ্ধে লিপ্ত , আর সেই যুদ্ধে সর্বদাই মিথ্যা বলা যাবে বা প্রতারনা করা যাবে। সুতরাং সেই দিক দিয়ে আই এস, বোকো হারাম ইত্যাদির সাথে এইসব মুসলমানদের কোনই তফাৎ নেই। এইসব অজিহাদী মুসলমানরা প্রকারান্তরে সেই সব জিহাদী মুসলমানদের কর্মকান্ডকেই সমর্থন করে যাচ্ছে মিথ্যাচার ও প্রতারনার মাধ্যমে।

তাই , খাটি মুসলমান হতে গেলে খাটি মিথ্যাবাদী বা প্রতারক হতেই হবে , এ ছাড়া উপায় নেই কারন ইসলামই তাদেরকে মিথ্যাচার বা প্রতারনা শিখায়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “মিথ্যাচারই হলো ইসলামের প্রধান অবলম্বন

  1. আয়াতগুলোতে কাফেরদের ক্ষেত্রে
    আয়াতগুলোতে কাফেরদের ক্ষেত্রে ‘প্রতারণা’ আর আল্লাহর ক্ষেত্রে লেখা হয় ‘কৌশলী’। কোরানের বেশিরভাগ মুসলিম অনুবাদক একেকটা জোচ্চোর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

53 − 49 =