প্রেমপত্র-৭১

প্রিয় চুপকথা,

তুমিহীনতায় আমি বড্ড একা,সময় কেটেছে বিষন্নতায়।রোজ রাতে বলা হয়না সেই সারাদিনের গল্প।আধঘুমে স্বপ্নদেখি তুমি যেন ডাকছো শোনো,তবুও সময়টা কেমন লাগে যেন?তুমিহীনতায় বড্ড একলা হয়ে গিয়েছি এই আমি।
সময় যতই যাচ্ছে আমি ততই তোমাতে ডুবে যাচ্ছি, বুঝলে খুব ইচ্ছে করে সারাদিনের শেষে তোমার গল্প শোনা,রাতে ঘুমানোর আগে তুমার কন্ঠের স্পর্শ আর একবার ভালবাসি শুনে ঘুমতে যাওয়া। এখনও মনে হয় তোমাকে ভালবাসি বলার প্রথম দিন।প্রথম পত্র লেখার কিবোর্ডে ঠকঠক করে কাঁপার অনুভূতির দিন,অবশ্য এখনও হাঁত কাঁপে। সবককিছুতেই আজ মনের নস্টালজিয়া জাগ্রত করেছে সবসময় মনে হয় আমি যদি তোমার পাশে থাকতাম তাহলে এত অপেক্ষা করা লাগত না।প্রথম দেখাতেই বলে দিতাম ভালবাসি। বন্ধুরাও হয়তো সাহায্য করত।খুব ভয় হয় সেই সময়গুলোতে যখন মনে হয় তুমি এত দূরে কেন?এই ভয়ে মাঝে মাঝে মনে হয় তোমাকে ছিনতাই করি পৃথিবীর সামনে থেকে।কিন্তু আবার ভালও লাগে তোমাকে আমি বারেবার মনের কথা বলতে পারি হয়ত কখনও সামনাসামনি এত কথা বলতে পারতাম না ” যদি কখনও সেই মজার শৈশব ফিরে যেতে পারতাম, তাহলে সেই ছোট বেলার বড় বৌ খেলতাম তোমার সাথে।ছোটবেলার থেকে একটা ট্রেনিং দিয়ে রাখতাম তোমাকে যে তুমি আমার। ধীরে ধীরে বড় হয়ে গেছি,তবুও তোমাকে দেখলে বাচ্চামি ভর করে পাগলামীও চাপে।মনে হয় আমি যেমন বাচ্চার তার প্রিয় জিনিস মুঠ করে আগলে রাখে হারাবার ভয়ে।ঠিক তেমনি করে তোমায় আমি হাতের মুঠোয় আগলে রাখি।

তবুও অপেক্ষা নামের এক চিরবহমান জিনিসের নিচে চাপা পরে যাচ্ছি আমি।এইযে আমি তোমাকে ডাকছি বারে বার তুমি বুঝতে চাইছো না।
কোন জায়গায় পড়েছিলাম, “প্রিয় মানুষের জন্যে অপেক্ষা করার নাম ভালবাসা,সবাই তা পারে না”আমি আসলে অপেক্ষাতেই আছি।

তুমিহীনা আসলে আমি ছোট শিশুটির মত একা!ভাষাহীনতা কাঁদে,অপেক্ষা কান্নার মত করে কথা বলে যায়।তুমিহীনা আমার ব্যাক্তিভাষা আসলে কান্না।দৃষ্টিহীনরা যেমন অন্ধকারে থাকে, অন্যরা যেমন ভেজা চোখে বাঁচে ভেজা দৃষ্টির মত স্যাঁতস্যাঁতে জীবনে।তুমিহীনতায় ঠিক তেমনই আমার বিষন্নজীবন।তুমিহীনতা আমার অন্ধকারে পথ চিনে বাড়ী ফেরা মাতালের মত একলা একা।সারাটি রাত তাকিয়ে থাকি তোমার ছবিতে,জাগিয়ে দেয় প্রতিরাতে কত স্বপ্ন আর তা নিয়ে অপেক্ষা করি জীবনের রেলস্টেষনে,প্লাটফরমে বসে থাকি তুমি নামক রেলগাড়ীটার অপেক্ষায়।ব্রেকফেল গাড়ীর কোন বাধাবিহীন তোমাকে ভালবাসি।তুমিহীনা আমি মন খারাাপের মত একা!মন খারাপ একা একা, শহরের মোড়ে মোড়ে, যেখানটায় ঠায় পেত আগে ল্যাম্পপোস্ট গুলি।তুমিহীনা আমি ততটাই একা।ইচ্ছে করে তোমায় বলি,ঠিক ঐখানটায় যাকে মানুষ হৃদয় বলে ওখানটায় একবার ছুঁয়ে দাও-যেখানে জমেছে পুঞ্জীভূত মেঘ,
যেখানে জমানো ব্যাথার শব্দমালা,যেখানে হাহাকার ফুলদানিতে সাজানো ।
ঠিক ঐখানটায় ছুঁয়ে দাও যাকে মানুষ মন বলে-যেখানে জমানো আবেগের ঝড়,যেখানে লেখা না বলা কথা,যেখানে আছে পরিপাটি আহত সুর ।ঠিক ঐখানটায় ছুঁয়ে দাও একটিবার যাকে মানুষ নয়ন বলে-যেখানে আগুন জ্বলছে দিগুণ,যেখানে পাথর ভাঙ্গছে ফাগুন,যেখানে ঢেউ ফুঁসছে দারুণ ।শুধু একবার ঠিক ঐখানটায় ছুঁয়ে দাও যাকে মস্তিস্ক বলে মানুষ-
যেখানে হাজার স্বপ্ন ভাঙ্গার গাণ,যেখানে স্মৃতির নিত্য উপহাস,যেখানে হিসেবের বেহিসেবী চোখ রাঙানো ।ঠিক ঐখানটায় ছুঁয়ে দাও ঠোঁট বলে -যাকে যেখানে উষ্নতার বিশুদ্ধ তরল নিয়ে অপেক্ষা করি আমি।
শুধু একটিবার, ঠিক ঐখানটায়,এই আমার শেষ চাওয়া ।
শুধু একবার ঠিক ঐখানটায় ছুঁয়ে দাও-বুকের বা’পাশে,একটু উপরে ।

ইতি
সংশপ্তক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

95 − = 88