ইসলামের ‘আল্লাহ’ ও খৃষ্টানের ‘ঈশ্বর’ কি এক ?

মুসলমানরা দাবী করে ইসলাম হলো আব্রাহামিক ধর্ম , তাই ইব্রাহীম , ইসহাক , মুসার সৃষ্টিকর্তা আর মুসলমানদের আল্লাহ একই ।অর্থাৎ ইহুদি বা খৃষ্টানদের ঈশ্বর ও মুসলমানদের আল্লাহ একই। কিন্তু আসলে কি সেটা সত্য ?আসল বিষয় জানার আগে প্রথমেই জানতে হবে , এই আল্লাহ বা ঈশ্বর এটা কিন্তু সৃষ্টিকর্তার কোন ব্যাক্তিগত নাম নয়। বরং পদবির নাম। বাইবেলে বিশেষ করে তৌরাতে সৃষ্টিকর্তার একটা নাম আছে ইংরেজীতে যাকে বলে Proper Noun, সেটা হলো Yehweh যাকে যিহোবা বলে উচ্চারন করা হয়। আল্লা বা ঈশ্বর কোন Proper Noun না। এটা হলো Common Noun।

সুতরাংইসলামে সৃষ্টিকর্তার কোন নাম নেই , আছে পদবী। বিষয়টা খোলাসা করে বলা যাক। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ হলো প্রেসিডেন্ট। এটা কোন Proper Noun না। এটা হলো Common Noun। এই পদে যে লোকই বসুক না কেন , তার একটা নিজস্ব নাম আছে। যেমন বর্তমানে এই পদে যিনি আসীন তার নাম আব্দুল হামিদ। আগে যিনি ছিলেন , তার নাম ছিল জিল্লুর রহমান। এই আব্দুল হামিদ বা জিল্লুর রহমান – এগুলো হলো Proper Noun। সুতরাং এই পদে একের পর এক বহু লোকই আসীন হবে , তাদের পদবী হবে প্রেসিডেন্ট কিন্তু তাদের নিজস্ব নাম থাকবে আর তাই তাদের প্রতি জনের আলাদা আলাদা ব্যাক্তিত্ব থাকবে। কেউ ভাল হবে , কেউ খারাপ হবে, সেটা নির্ভর করবে ব্যাক্তিত্বের ওপর।

এখন কোরানের আল্লাহ তথা ইসলামের আল্লাহ বা ঈশ্বর যদি বাইবেল তথা তৌরাতের ঈশ্বর হয়, তাহলে সেই আল্লাহর একটা নাম থাকবে, কিন্তু কোরানের কোথাও তার নাম নেই। এবারে দেখা যাক , বাইবেলের ঈশ্বরের নাম কি। তৌরাতে ঈশ্বর নিজেই তার নাম কি সেটা বলছে —-

যাত্রাপুস্তক- অধ্যায় – ৬: ৩: ৩ “আমিই হলাম প্রভু। আমি অব্রাহাম, ইসহাক এবং যাকোবের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতাম। তারা আমায় সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলে ডাকত। আমার নাম য়ে যিহোবা তা তারা জানত না।

অর্থাৎ তৌরাত কিতাবেই ঈশ্বর মুসার কাছে বলছে , তার নাম হলো যিহোবা বা Yehweh । আর এই যিহোবা হলো একটা Proper Noun, Common Noun না। তার মানে মুসার আগে যে সব নবী আসছে তারা ঈশ্বরের পকৃত নাম জানত না , তারা তাকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বলে ডাকত, মুসার কাছেই সর্বপ্রথম ঈশ্বর তার নিজের আসল নাম প্রকাশ করল। আবারও মুসার কাছে ঈশ্বর নিজের নাম প্রকাশ করল যাত্রাপুস্তকে –

যাত্রাপুস্তক- অধ্যায়-৩:
১৩ তখন মোশি ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বলল, ‘কিন্তু আমি যদি গিয়ে ইস্রায়েলীয়দের বলি য়ে, “তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন,’ তখন তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তার নাম কি?’ তখন আমি তাদের কি বলব?”
১৪ তখন ঈশ্বর মোশিকে বললেন, “তাদের বলো, ‘আমি আমিই।’ যখনই তুমি ইস্রায়েলীয়দের কাছে যাবে তখনই তাদের বলবে, ‘আমিই’ আমাকে পাঠিয়েছেন।”

ইংরেজী তর্জমা —

Exodus- Chapter- 3:
13 And Moses said unto God, Behold, when I come unto the children of Israel, and shall say unto them, The God of your fathers hath sent me unto you; and they shall say to me, What is his name? what shall I say unto them?

14 And God said unto Moses, I AM THAT I AM: and he said, Thus shalt thou say unto the children of Israel, I AM hath sent me unto you.

I AM -ই হলো হিব্রুতে – YHWH বা YEHWEH বা যিহোবা , এটাই হলো ঈশ্বরের Proper Noun ।

তৌরাত কিতাবে এই নামটাই সব সময় ব্যবহৃত হয়েছে। গোটা পুরাতন নিয়মে ৬৮০৭ বার এই নামটাই ব্যবহৃত হয়েছে , আর এটাই হলো ঈশ্বরের ব্যাক্তিগত নাম। এছাড়া তাকে Elohim, Adonai, Eloah ইত্যাদি নামেও বহুবার ডাকা হয়েছে , আর বলা বাহুল্য এই নামগুলো Proper Noun নয়, এসবই হলো Common Noun। এমন কি গসপেলে যীশু নিজেকে সেই YHWH বা YEHWEH বা যিহোবা বলেই পরিচয় দিয়েছেন-

John, Chapter- 8:
56 Your father Abraham rejoiced to see my day: and he saw it, and was glad.
57 Then said the Jews unto him, Thou art not yet fifty years old, and hast thou seen Abraham?
58 Jesus said unto them, Verily, verily, I say unto you, Before Abraham was, I am.

অর্থাৎ যীশু নিজেকে সেই YHWH বা YEHWEH বা যিহোবা বলেই দাবী করছেন এখানে।

এখন প্রশ্ন হলো ইসলামের কোরানে ঈশ্বরের নাম কি ? Allah এটা তো Common Noun, কিন্তু তার Proper Noun টা কি ? আল্লাহর কোন নাম আছে ? এই আল্লাহ, ঈশ্বর , গড , সৃষ্টিকর্তা এসবই তো পদবি ধরনের নাম তথা Common Noun। কোরানের কোথাও বাইবেলের ঈশ্বর তথা YHWH বা YEHWEH এই নাম উল্লেখিত নেই। এই যদি হয় প্রকৃত অবস্থা , তাহলে কোরানের আল্লাহ কিভাবে বাইবেলের ঈশ্বর হয় ? যে ভাষায়ই উচ্চারন করা হোক না কেন , Proper Noun সর্বদা একই থাকে। যেমন – যার নাম আবুল হোসেন , তার নাম আরবী, ইংরেজী, ফার্সি , বাংলা , চাইনিজ সব ভাষাতেই তার নাম আবুল হোসেনই থাকবে। অন্য কিছুই হবে না। ইব্রাহীম , ইয়াকুব , মুসা ইত্যাদির ঈশ্বরের ব্যাক্তিগত নাম ছিল YHWH বা YEHWEH বা যিহোবা সুতরাং আরবীতে যদি সেই ঈশ্বর কোন কিতাব নাজিল করে , তাহলে তাতে এই নামটা অন্তত: একবার হলেও থাকবে। কিন্তু নেই। তাহলে এই আল্লাহ কিভাবে বাইবেলের ঈশ্বর হয় ?

তাছাড়া আমরা দেখি , ইসলাম প্রবর্তনের আগেই পৌত্তলিক আরবরা “আল্লাহ” নামে এক দেবতাকে ডাকত। যেমন – মোহাম্মদের পিতার নাম ছিল আব্দুল্লাহ যার অর্থ – আল্লাহর দাস। মোহাম্মদের পিতা তো ইহুদি বা খৃষ্টান ছিল না , তাই তার কথিত আল্লাহ নিশ্চিতভাবেই বাইবেলের ঈশ্বর বা YHWH ছিল না। তাহলে তার কথিত আল্লাহ কে ছিল ? নিশ্চিতভাবেই কাবা ঘরের মধ্যেকার ৩৬০টা দেব দেবতার একটা ছিল যাদের সাথে বাইবেলের ঈশ্বরের কোনই সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে , পরবর্তীতে মোহাম্মদ সেই আল্লাহকেই তার নিজের ঈশ্বর হিসাবে মনোনীত করেছেন। অত:পর এই আল্লাহ কখনই কোরানে নিজের ব্যাক্তিগত নাম প্রকাশ করে নি। এই মত অবস্থায়, কিভাবে এই আল্লাহ বাইবেলের ঈশ্বর YHWH হয় ?

আরবে বসবাসকারী খৃষ্টানরা যদি তাদের সৃষ্টিকর্তাকে আল্লাহ ডাকে , সেটা তো হলো সেই Common Noun। এই নামে ডাকার পরেও তারা জানে যে তাদের আল্লাহর ব্যাক্তিগত নাম হলো – YHWH। যেমনভাবে বাঙ্গালী খৃষ্টানরা ডাকে ঈশ্বর বলে বা প্রভু বলে , যা সেই Common Noun। এখন এই Common Noun আল্লাহ বা ঈশ্বর বা প্রভু এটা তো সৃষ্টিকর্তার ব্যাক্তিগত নাম না।

এরপরে আর একটা বিষয় হলো বাইবেলের ঈশ্বরের বানী বুঝতে বা জানতে নির্দিষ্টভাবে কোন ভাষা যেমন হিব্রু , বা গ্রীক ইত্যাদি জানার দরকার পড়ে না। যে কেউ যে কোন ভাষার বাইবেল পড়লেই সে খৃষ্টান ধর্ম সম্পর্কে বা যীশুর বানীর প্রকৃত অর্থ জানতে পারে। ঈশ্বরের বানীর সেটাই একটা বিশেষত্ব। আজ পর্যন্ত দেখা যায় নি , কোন বাঙ্গালী বা ইংরেজ বা জাপানি বা চায়নিজ কেউ বলেছে যে সে গ্রীক ভাষা জানে না বলে বাইবেল বুঝতে পারে নি। কিন্তু ইসলামের ক্ষেত্রে ভীষণ সীমাবদ্ধতা। আল্লাহর ভাষা একমাত্র আরবী আর তাই আরবী না জানলে কেউ ইসলাম ভালমত জানতে পারে না। তাও আজকের আরবী জানলে হবে না। জানতে হবে সেই ১৪০০ বছর আগেকার আরবী যার সাথে আজকালকার আরবীর মিল খুবই কম। এত কিছুর পরে কোরানের আবার প্রেক্ষাপট জানতে হবে , কিন্তু সেই প্রেক্ষাপট আবার কোরানে নাই। তার মানে সঠিক আরবী জানার পরেও প্রেক্ষাপট না জানলে কোরান বোঝা দু:সাধ্য। এ জন্যে দরকার পড়ে হাদিসের , তাফসিরের। যা প্রমান করছে , কোরান কোন সম্পূর্ন, সুস্পষ্ট বা পরিস্কার গ্রন্থ না। দুনিয়ার সকল আলেমদের এই মত। সকল মুসলমানেরও সেই মত। পক্ষান্তরে বাইবেলে প্রেক্ষাপট সহ সব বানীই দেয়া আছে। বাইবেল বুঝতে অন্য কারও ব্যখ্যা দরকার নেই। অর্থাৎ বাইবেল হলো সম্পূর্ন , সুস্পষ্ট ও পরিস্কার গ্রন্থ। আল্লাহর এই ভীষন সীমাবদ্ধতা প্রমান করে , বাইবেলের ঈশ্বর ও কোরানের ঈশ্বর এক না।

সুতরাং কোরানের আল্লাহ যদি বাইবেলের ঈশ্বর না হয়, ইসলাম কিভাবে দাবী করে যে সে আব্রাহামিক ধর্ম ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১১ thoughts on “ইসলামের ‘আল্লাহ’ ও খৃষ্টানের ‘ঈশ্বর’ কি এক ?

    1. গতানুগতিক অর্থহীন প্রশ্ন যা
      গতানুগতিক অর্থহীন প্রশ্ন যা মুসলমানদেরকে স্বভাব। এ বিষয়ে খুব শিঘ্রী পোষ্ট দেয়া হবে , আর বলা হবে , কোন বাইবেল সঠিক। তবে আপনার জ্ঞাতার্থে জানাই , সব বাইবেলেই ঈশ্বরের নিজস্ব নাম একই – YHWH. কোরানের কোথায় সেই নাম ? যদি সেই নাম না থাকে , তাহলে বাইবেলের ঈশ্বর ও কোরানের আল্লাহ এক না। তাই দয়া করে , আর দাবী করবেন না , ইসলাম হলো আব্রাহামিক ধর্ম। এই মিথ্যাচার গত ১৪০০ বছর করা হয়েছে। এখন দয়া করে মিথ্যাচার বন্দ করুন।

      এবার বলুন তো – কোরানের লেখক কে ? জানেন ? জানা থাকলে একটু জানান।

  1. যিহোবা শব্দের অর্থ কি ?
    যিহোবা শব্দের অর্থ কি ? বাইবেল কোন ভাষায় প্রথম নাজিল হয়? সেই ভাষাটা কি জীবিত ভাষা না মৃত ভাষা, মৃত হলে কেন ঈশ্বরের ভাষা মৃত হল? সেটা কোথায় সংরক্ষিত অাছে? বাইবেলের কি কোন হাফেজ অাছে? না থাকলে কারন কি? খ্রিষ্টানগন কেন মুর্তিপুজা করে?

    কোরানের কোন লেখক নেই তবে লিপিকার ছিল ১২ জন এর বেশি এবং অনেক হাফেজ ছিল, নিরক্ষর মোহাম্মদ স: এর উপর নাজিল হয়েছে অাল্লাহর কাছ থেকে

    1. যিহোভা শব্দটা কিভাবে এসেছে
      যিহোভা শব্দটা কিভাবে এসেছে সেটা কিন্তু নিবন্ধে সবিস্তারে বলা হয়েছে। কিন্তু আপনি তো টাইপিক্যাল মুসলমান। একই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে করে যাবেন। YHWH > YEHWEH> JEHOBA । YHWH এর অর্থ – I AM । এর অর্থ হলো বাইবেলের ঈশ্বর অতীতে ছিল, এখনও আছে , ভবিষ্যতে থাকবে। কিন্তু আপনি এখনও আপনার আল্লাহর কোন ব্যাক্তিগত নাম বলতে পারেন নি। আল্লাহ ছিল আরব পৌত্তলিকদের আরাধ্য এক দেবতার নাম তা কিন্তু আমি দেখিয়েছি মুহাম্মদের বাপের নাম আব্দুল্লাহ থেকে। তার মানে পৌত্তলিকদের সেই আল্লাহই কি ইসলামের নবী মোহাম্মদের আল্লাহ ?

      বাইবেলের পুরাতন নিয়ম লেখা হয়েছিল হিব্রু ভাষায়। নুতন নিয়ম লেখা হয়েছিল গ্রীক ভাষায়। কিন্তু আসল বিষয়্টা হলো হিব্রু বা গ্রীক বা ইংরেজী বা চায়নিজ বা বাংলা যে কোন ভাষায়ই বাইবেল অনুদিত হোক না কেন , বাইবেলের বানীর প্রকৃত অর্থ বুঝতে কিন্তু এই ভাষাটা কোন সমস্যা না। আর সেটাই হওয়া উচিত। ঈশ্বরের বানীল এমন চরিত্র থাকবে যে তা যে কোন ভাষায় লেখা হোক না কেন , তা বুঝতে যেন কোন সমস্যা না হয়।

      পক্ষান্তরে , কোরানের বানী বুঝতে আরবী জানতে হবে , তাও সেই ১৪০০ বছর আগেকার আরবী না হলে কোরান বোঝা যাবে না। এরপরেও কিন্তু আবার জানা লাগবে আয়াতের প্রেক্ষাপট যা আবার কোরানে নেই। কোন ভাষায় কোরান অনুবাদ করলে তাতে কোরানের অর্থ পরিপূর্ন বোঝা সম্ভব না। এটাই কিন্তু সকল আলেমের মতামত। তার মানে আপনাদের আল্লাহর একমাত্র ভাষা আরবী, যা আপনার আল্লাহর কঠিন সীমাবদ্ধতা। এ কেমন আল্লাহ যার বানীর অর্থ বুঝতে আরবী জানতেই হবে ? তাহলে অনারব মানুষদের খাটি মুসলমান হতে গেলে উপায় কি ? কোন উপায় আছে ? কারন সবার পক্ষে তো ১৪০০ বছর আগেকার আরবী জানা সম্ভব না। তাই না ?

      কোরানের যদি কোন লেখক না থাকে , তাহলে সেটা আল্লাহর বানী হয় কিভাবে ? মানুষ তো ১০০% পারফেক্ট না , ১২ জন কথিত লেখকও পারফেক্ট ছিল না।তাই আপনাদের আল্লাহর বানী এই মানুষরা ১০০% পারফেক্ট আকারে লিখল? আপনদের হাদিসই সাক্ষী যে তারা মোটেও পারফেক্ট আকারে সংকলন করতে পারে নি , বহু আয়াত বাদ গেছে , এমন কি ছাগলেও নাকি আয়াত খেয়ে ধ্বংস করে ফেলেছে । আর লেখক বিহীন এই কোরান নিয়ে গর্ব করেন যে তা ১০০% বিশুদ্ধ ? আর যে কেউ এটার বিরুদ্ধে কথা বলে, তার কল্লা কাটতে ঝাপিয়ে পড়েন ? এই হলো ইসলামের বিধান ? আর বলছেন এটা সর্বজ্ঞানী আল্লাহর বানী ? মস্করা করেন নাকি ?

  2. যিহোভা শব্দটা কিভাবে এসেছে
    যিহোভা শব্দটা কিভাবে এসেছে সেটা কিন্তু নিবন্ধে সবিস্তারে বলা হয়েছে। কিন্তু আপনি তো টাইপিক্যাল মুসলমান। একই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে করে যাবেন। YHWH > YEHWEH> JEHOBA । YHWH এর অর্থ – I AM । এর অর্থ হলো বাইবেলের ঈশ্বর অতীতে ছিল, এখনও আছে , ভবিষ্যতে থাকবে। কিন্তু আপনি এখনও আপনার আল্লাহর কোন ব্যাক্তিগত নাম বলতে পারেন নি। আল্লাহ ছিল আরব পৌত্তলিকদের আরাধ্য এক দেবতার নাম তা কিন্তু আমি দেখিয়েছি মুহাম্মদের বাপের নাম আব্দুল্লাহ থেকে। তার মানে পৌত্তলিকদের সেই আল্লাহই কি ইসলামের নবী মোহাম্মদের আল্লাহ ?

    বাইবেলের পুরাতন নিয়ম লেখা হয়েছিল হিব্রু ভাষায়। নুতন নিয়ম লেখা হয়েছিল গ্রীক ভাষায়। কিন্তু আসল বিষয়্টা হলো হিব্রু বা গ্রীক বা ইংরেজী বা চায়নিজ বা বাংলা যে কোন ভাষায়ই বাইবেল অনুদিত হোক না কেন , বাইবেলের বানীর প্রকৃত অর্থ বুঝতে কিন্তু এই ভাষাটা কোন সমস্যা না। আর সেটাই হওয়া উচিত। ঈশ্বরের বানীল এমন চরিত্র থাকবে যে তা যে কোন ভাষায় লেখা হোক না কেন , তা বুঝতে যেন কোন সমস্যা না হয়।

    পক্ষান্তরে , কোরানের বানী বুঝতে আরবী জানতে হবে , তাও সেই ১৪০০ বছর আগেকার আরবী না হলে কোরান বোঝা যাবে না। এরপরেও কিন্তু আবার জানা লাগবে আয়াতের প্রেক্ষাপট যা আবার কোরানে নেই। কোন ভাষায় কোরান অনুবাদ করলে তাতে কোরানের অর্থ পরিপূর্ন বোঝা সম্ভব না। এটাই কিন্তু সকল আলেমের মতামত। তার মানে আপনাদের আল্লাহর একমাত্র ভাষা আরবী, যা আপনার আল্লাহর কঠিন সীমাবদ্ধতা। এ কেমন আল্লাহ যার বানীর অর্থ বুঝতে আরবী জানতেই হবে ? তাহলে অনারব মানুষদের খাটি মুসলমান হতে গেলে উপায় কি ? কোন উপায় আছে ? কারন সবার পক্ষে তো ১৪০০ বছর আগেকার আরবী জানা সম্ভব না। তাই না ?

    কোরানের যদি কোন লেখক না থাকে , তাহলে সেটা আল্লাহর বানী হয় কিভাবে ? মানুষ তো ১০০% পারফেক্ট না , ১২ জন কথিত লেখকও পারফেক্ট ছিল না।তাই আপনাদের আল্লাহর বানী এই মানুষরা ১০০% পারফেক্ট আকারে লিখল? আপনদের হাদিসই সাক্ষী যে তারা মোটেও পারফেক্ট আকারে সংকলন করতে পারে নি , বহু আয়াত বাদ গেছে , এমন কি ছাগলেও নাকি আয়াত খেয়ে ধ্বংস করে ফেলেছে । আর লেখক বিহীন এই কোরান নিয়ে গর্ব করেন যে তা ১০০% বিশুদ্ধ ? আর যে কেউ এটার বিরুদ্ধে কথা বলে, তার কল্লা কাটতে ঝাপিয়ে পড়েন ? এই হলো ইসলামের বিধান ? আর বলছেন এটা সর্বজ্ঞানী আল্লাহর বানী ? মস্করা করেন নাকি ?

    1. গ্রীক ভাষার সেই বাইবেল এখন
      গ্রীক ভাষার সেই বাইবেল এখন কোথায় যেটা প্রথম লেখা হয়েছিল? কে লিখেছিল ? কোরানের একটা নক্তাও পরিবর্তন করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় কোনভাবেই করলেই ধরা খেয়ে যেতে হবে কারন কোরানের অাছে লক্ষ লক্ষ হাফেজ বাইবেলের কি কোন হাফেজ অাছে?

      1. টিপিক্যাল মুসলিমের মত আবার
        টিপিক্যাল মুসলিমের মত আবার উদ্ভট প্রশ্ন করলেন বাইবেলের কোন ইতিহাস না জেনেই। যা বলছেন সবই আপনাদের মোল্লাদের বানান কথা যা পুরাই মিথ্যা প্রচারনা। গ্রীক ভাষার বাইবেল কোথায় সবিস্তারে জানতে এখানে যান : https://carm.org/manuscript-evidence

        লক্ষ লক্ষ লোক কোরান মুখস্ত করেও বেহেস্তে যাবে কি না তার গ্যারান্টি নেই কারন খোদ মোহাম্মদই যে বেহেস্তে যাবে তার গ্যারান্টি নেই। কোরান ও হাদিসে আছে। তাই লক্ষ লক্ষ লোকের কোরান মুখস্ত করা হলো অর্থহীন কাজে সময় ও শ্রম নষ্ট করা। এত লক্ষ লোক কোরান মুখস্ত করেছে কিন্তু তারপরেও তারা জানে না ইসলাম আসলে কি । কারন তারা আরবি মুখস্ত করেছে কিন্তু তার অর্থ জানে না। তার অর্থ তাদের এই শ্রম আসলে পন্ডশ্রম।

        পক্ষান্তরে , বাইবেল মুখস্ত করে সময় নস্ট করার দরকার নেই। যীশুকে ত্রানকর্তা হিসাবে বিশ্বাস করে তার উপদেশ মেনে চললেই ঈশ্বরের রাজ্যে নিশ্চিত। যীশু নিজে সেই গ্যারান্টি দিয়েছেন। সেটা কিভাবে ? কারন যীশু নিজেই তো ঈশ্বর। সেই ঈশ্বর সরাসরি যদি গ্যারান্টি দেয়, সেটা নিশ্চিতভাবেই ফালতু কথা হবে না। কি বলেন ? পক্ষান্তরে , আপনাদের মোহাম্মদ কি আপনাদেরকে সেই গ্যারান্টি দিয়েছে ? দেয়নি। এমন কি নিজেই বেহেস্তে যাবেন কি না তার গ্যারান্টিও আপনাদের আল্লাহ মোহাম্মদকে দেয় নি। কোরান ও হাদিসেই তা আছে , দেখবেন ?

  3. মহান অাল্লাহ তায়ালা তিনি
    মহান অাল্লাহ তায়ালা তিনি সুউচ্চ অতি মহান,ঈশ্বর সম্পর্কে তার সম্মান মর্যাদা সম্পর্কে তার ক্ষমতা তার শক্তি সম্পর্কে তাঁর পবিত্রতা সম্পর্কে নুন্যতম ধারনা যদি খৃষ্টানদের থাকত তাহলে তারা যা বলতেছে তার জন্য তারা অাফসোস করত লজ্জিত হত। মানুষের লিখিত বাইবেল কোন ঈশ্বর পদত্ব গ্রন্থ নয় যে এটা মুখস্ত করা যাবে যেমন করা যায় কোরান,এটা কোরানের একটা অলৌকিক গুন যা পৃথিবীর অার কোন গ্রন্থের নেই,যে কালে লিখার উপকরন সহজলভ্য ছিলনা পাথর,হার,চামরায়,মানুষ লিখত সে কালে এত বড় বাইবেল মানুষের কাছে কিভাবে পৌছত? অার এই লিঙ্কে শুধুমাত্র কিছু লিষ্ট দেয়া অাছে এখানেতো অরিজিনাল বাইবেলের কোন কপি নেই !

    1. ঈশ্বরের স্বরূপ সম্পর্কে
      ঈশ্বরের স্বরূপ সম্পর্কে আপনাদের ধারনা থাকলে উদ্ভট কথা বার্তা বলতেন না। আর বিশ্বাস করতেন না যে শুধু আরবী না জানলে আল্লাহর কোরান বোঝা যায় না। আপনাদের আল্লাহ যে কতটা সীমাবদ্ধ সেটার একটা প্রমানই হলো এই কোরান , যা নাকি একমাত্র আরবী না জানলে বোঝা সম্ভব না।

      আর কোরানের কোন লেখক না থাকাই প্রমান করে , যে এটা বহু মানুষের তৈরী গাল গল্প কিচ্ছা কাহিনী যার কোন মাথা নেই মুন্ডু নেই। সব দেশেই এই ধরনের লেখক বিহীন বহু পৌরানিক কাহিনী ও গাল গল্প পাওয়া যায় যার সাথে কোরানের অদ্ভুত মিল।

      আমার দেয়া যে লিস্ট সেই অনুযায়ী বাইবেলের আদি পান্ডুলিপি সমুহ দুনিয়ার বহু যাদুঘরে রক্ষিত , সেটা কিন্তু সেখানে বলা আছে। কিন্তু আপনি সেটা জানলেও গোপন করে যাবেন। কথিত ওসমানের সেই কোরান এখন কোথায় , বলতে পারবেন ?

      সেদিন আর বেশী দেরী নাই যেদিন আপনারাই আপনাদের কোরানের জন্যে লজ্জিত হবেন , আফসোস করবেন। দুনিয়ার সব যায়গাতেই এখন কোরান নিয়ে কাটা ছেড়া গবেষণা চলছে, যা আগে কোনদিন হয়নি। তাই আপনাদের মিথ্যাচারের দিন শেষ।

  4. অার স্বর্গে যাওয়ার মিথ্যা
    অার স্বর্গে যাওয়ার মিথ্যা গ্যরান্টি মুসলিমরা কখন মানুষকে দেয়নি,যদি এমন গ্যরান্টি নবী রাসুলগন দিতে পারতেন তাহলে অার ঈশ্বরের কি প্রয়োজন বলুন?

    1. কমন সেন্স থাকলে এমন উদ্ভট কথা
      কমন সেন্স থাকলে এমন উদ্ভট কথা বলতেন না। স্বয়ং ঈশ্বরই যদি দুনিয়াতে এসে মানুষকে গ্যারান্টি দেয়, সেটা হবে ১০০% সত্য, আপনার মুহাম্মদের দেয়া প্রতিশ্রুতির মত ভুয়া না। শেষ বিচার দিনে আপনাদের মোহাম্মদেরই কঠিন বিচার হবে , ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধাচার করার জন্যে। প্রস্তুত থাকুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

21 − = 17