প্রেমপত্র-৭২

অপরাজিতা,
অনুভূতির আকাশে ভালোলাগার মেঘ জমতে শুরু করেছিল অনেক দিন ধরে।আর তা হটাত করেই ভালোবাসার বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়েছে আমার মনে।
বৃষ্টিস্নাত আমি তোমার হাত ধরতে চাই,একসাথে দূরের অনেকটা পথ পারি দেব বলে।গন্তব্য জানা নেই,শুধু এতুকুই জানি এ পথ চলাটা না থামলেই হয়তো ভালো হবে।শুধু তুমি আর আমি,আমি আর তুমি কেবল আমরা দুজনে। ভালবাসা বলতে আমি এটাই বুঝি।অথবা যদি এমন হয়
“কারো জন্য বুকের মধ্যে শূন্যতা অনুভব করার নাম ভালবাসা ” তাহলে মনে রেখ তুমিহীনা আমি মস্ত বড় একটা শূন্য।.
বা “কারো সাথে পাশাপাশি চলার তীব্র ইচ্ছার নাম যদি হয় ভালবাসা ”
তাহলে আমি পথের শুরুতে তোমার সাথে চলব বলে ঠাই দাড়িয়ে আছি শতবর্ষ ধরে।
.”কারো সাথে কথা বলতে না পেরে ছটফট করার নাম যদি হয় ভালবাসা ”
তবে আমার তোমার সাথে কথা বলতে বড্ড ইচ্ছে করে,খুব ইচ্ছে করে।
“কাউকে নিয়ে ভাবতে ভাল লাগার নাম যদি হয় ভালবাসা ”
তবে জেনে রেখ মেয়ে তোমায় ভাবতে গিয়ে আমি হয়ত এক্সিডেন্ট করে মরে যাব।
“কাউকে হাসতে দেখে নিজেকে সুখী ভাবার নাম যদি হয় ভালবাসা ”
তোমার চাহুনী তোমার হাসি দেখলে আমি খুব শান্তি পাই,হৃদয়ে ঠান্ডা লাগে।
“কারো চোখের কোনে দু ফোটা জল দেখে কেঁদে ফেলার নাম যদি হয় ভালবাসা ” .
তবে তুমি সামান্য কষ্ত পেলে আমার হৃদয়ে শতবর্ষ রক্ত ঝড়বে।
“কারো কাছ থেকে কিছু প্রত্যাশা হীনতায় পাওয়ার আশা করার নাম যদি হয় ভালবাসা “তবে তোমার সাথে একজন্ম কাটাতে আমি চরম প্রত্যাশী।
তুমি কি বুঝতে পার মেয়ে,প্রতিটি অচেনা পাখিকেই আমি তোমার নামে ডাকি,প্রতিটি অচেনা ফুলকেই শুধু তুমি ভেবে বসি।যেখানে নেই তুমি সেখানেও দেখি।যতটা অসম্ভব ততটাও মাপি-পরিমিতি আর ত্রিকোণমিতি ঠিকঠাক হিসেব কষে;পৃথিবীর কোথাও কোন শুদ্ধ সীমানা পাইনি, কোনভাবেই হারিয়ে যাইনি যতটুকু দূরত্বে দূর,ততটুকু দীর্ঘ সাঁকো।যেভাবে নয় যেন সেভাবেও হেঁকেছি দান।শুধু তুমিতেই আমি বা আমিতেই তুমি তুমি হব বলে।পাগলী,আমি মানুষ আঁকতে পারিনা- মুখোশ এঁকে যায়
ইমিটেশন ঘরানার গড়াগড়ি সকালের বারান্দায় বারবার সোনারোদ ভুল ভেবে বসি।মেয়ে, লেখার হাতটা পাকিয়ে নিই এবার তারপর-তোমাকে নিয়ে মহাকাব্য লিখব।শুধু এতটুকু দাবী রইল জন্মান্তরের-
প্লিজ তুমি সবার চোখ এড়িয়ে যাওয়া আমার এই বিষন্নতার প্রেমে পড়ো, এলোমেলো আমাকেই প্রচণ্ড ভালোবাসো, আমার চোখের যে অস্থিরতা কেউ দেখতে পায় না তাকে আলিঙ্গন করে নিও..আর পারলে আমার মনটার প্রেমে ডুবে যেও,সবার আড়ালে সব নষ্ট ভন্ড প্রতারনাকে পায়ে মাড়িয়ে যে জেদি ছেলেটা একা পথ চলে,তুমি তার সহযাত্রি হও। যে মনের ভেতর কালবোশেখি বয়ে চলেছে অবিরত, ভাঙছে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে সব সবকিছুই ,তুমি তার একান্ত সঙ্গী হইয়ো।
চলো ঝুম বৃষ্টিতে জাপটে ধরে তোমাকে হৃদয়ের উষ্ণতা খুঁজি ।
বৃষ্টির জলে দুজনে ভিজি।তুমিহীনা আমি ভালো নেই।
ইন্দ্রজিৎ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “প্রেমপত্র-৭২

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 8 = 16