রিক্সাওয়ালা মামা!!!!

গতকাল রাতে হঠাৎ করেই একটা প্রশ্ন জাগে আসলে কি আমার কিছু করার নেই! এভাবে ঘরে বসে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া। এক বন্ধু বলল থাকবেনা কেন ইচ্ছে থাকলে অবশ্যই করা যায়। রাত ১২ টায় দুই তিনজন বন্ধুদের নেয়া সিদ্ধান্তের ফলস্বরুপ সকাল ৮ টায় বাসা থেকে বেরিয়ে রাত ১০ টায় বাসায় ফিরেছি। কি করেছি তা বলার জন্য নয়, আসলে কি পেয়েছি সেটা না বললেই নয় বলেই ক্লান্ত হাতদূটো নিয়ে ক্লান্তিহীন ভাবে কিবোর্ডে চালাচ্ছি। “সাহায্য নিয়ে সাভার যাচ্ছি। তুই পারলে কিছু দে!!” এই এক লাইনের বেশী কাউকেই বলা লাগেনি। সবাই সবার সাধ্যমত দিয়েছে!! রিক্সায় যাচ্ছি আর এক একজন বন্ধুকে ফোন করছি। মিরপুর ১১ থেকে রিক্সায় উঠে এক বন্ধুর কাছে যাচ্ছি টাকা আনতে। বন্ধুর অফিসের সামনে নেমে রিক্সাওয়ালাকে তার ভাড়া দিতে গেলে সে বলে মামা আমি টাকাটা নিবো না। আপনেরা সাভারে যে টাকা দিবেন তার সাথে এই ভাড়ার টাকাটাও যোগ করে দিয়েন। আপনারা বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা কিছুক্ষন আগে আমার এক বন্ধু ত্রিশ হাজার টাকা দেয়া আমাকে যে পরিমাণ খুশি করেছিল আমি তার চেয়ে হাজার গুণ শান্তি পেলাম। ভাবলাম এজন্যই হয়তো দেশটা এখনও বেঁচে আছে!! টাকা জোগাড় করে, জিনিসপত্র কিনে নিয়ে সাভার ঘুরে এসে মনটা বড় বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। নাকে লাশের গন্ধ, চোখে ভেসে উঠছে কান্নারত মুখগুলো কিন্তু তবুও কানে বাজছে “ভাড়া লাগবেনা মামা। এই ভাড়ার টাকাটা আপনাদের টাকার সাথে মিলিয়ে সাভারে কিছু কিনে দিয়েন।”
কোটি মানুষের অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই শুনবেন। অসহায় মানুষের এই মৃত্যুযাত্রার অবসান হোক। বেচে ফিরে আসুক তারা আপন মানুষের কাছে।অকুতোভয়, জীবন বাচাতে ছুটে আসা এসব মানুষকে সৃষ্টিকর্তা শক্তি দিন, মনোবল বৃদ্ধি করুন।এবার এরকম কিছু লোকের কথা না বললেই নয়। যারা আজকে আমাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন বাবু আহমেদ, দেওয়ান সাবরিনা মাসুক, ইসমাইল হোসেন রিয়াদ, জহিরুল ইসলাম সুমন, আবু সাইদ, মেহরাব, রাজিব, তুহিন, বাবলি, আব্বাস, আসিফ, রাজন, সাখাওয়াত, আনোয়ার সহ আরও অনেকে। এর আমাদের সেই রিক্সাওয়ালা মামা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

87 − = 84