ইসলামী বিধান অনুযায়ী রোজা রাখার উদ্দেশ্য ও তার সুফল –

রোজা রাখার উদ্দেশ্য ও তার সুফল –

২য় হিজরীর শাবান মাসে মদীনায় রোজা ফরজ সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয়

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো যেভাবে তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা সংযমী হও। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৩)।

খেয়াল করুন- ইসলামের জন্ম মক্কার ১৩ বছরে কিন্তু রমজান মাস থাকা সত্ত্বেও রোজা রাখার নির্দেশ আসে নাই কেন ? ইহাও কি ইহুদি নাসাদের ষড়যন্ত্র ?

ফারসি শব্দ রোজার আরবি অর্থ হচ্ছে সওম, বহুবচনে সিয়াম। সওম বা সিয়ামের বাংলা অর্থ বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তে সওম হল আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশে নিয়তসহ সুবহে সাদিকের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা।

অর্থাৎ শুধু পানাহার ও স্রী সহবাস ছাড়া বাকী সবই করতে পারবেন । অথচ সব জ্ঞানীরা বলে – রোজা নাকি আমাদের শিক্ষা দেয় । এই মাসে জিনিস পত্রের দাম বাড়িয়ে লোক ঠকানো নাকি অন্যায় ইত্যাদি ইত্যাদি ।

ছোয়াব পাওয়া ছাড়া আর কি শিক্ষা দেয় বলতে পারেন ? আসুন এবার কি কি ও কত ছোয়াব পাওয়া যায় তা হাদিস থেকেই দেখি –

হযরত সালমান ফারসী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একবার রাসুল (সা.) আমাদের শাবান মাসের শেষ তারিখে ভাষণ দান করলেন এবং বললেন, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের প্রতি ছায়া বিস্তার করেছে এক মহান মাস, মোবারক মাস। এটি এমন মাস যাতে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তায়ালা এই মাসের রোজাগুলোকে করেছেন (তোমাদের ওপর) ফরজ আর রাতে নামাজ পড়াকে তোমাদের জন্য করেছেন নফল ।

অর্থাৎ সেহেরীর পরে আর কোন ইবাদত জরুরী না ।

হাদিসে বর্নিত –

“ আল্লাহর কাছে রোজাদারের মুখের গন্ধ কস্তুরীর সুঘ্রানের চেয়েও উওম “।
জরত নবী করিম (সা.) বলেন, ‘ওই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহতায়ালার কাছে মেশকের ঘ্রাণ হতেও প্রিয়।’ –সহিহ বোখারি, হাদিস: ১৭৯০

এতে আলালহর রুচির কেমন পরিচয় পেলেন ? এত প্রিয়ই যদি হয় তাইলে মুমিনরা আল্লাহকে খুসি করতে সারা বছরই কেন রোজা রাখে না ? নাকি শুধুই এই মাসের রোজাদারের মুখের গন্ধটাই আল্লাহর পছন্দ ?

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারী, মুসলিম)

তাইলে কি এই মাসে যারা যেভাবেই মরবে তারাই বিনা বিচারে জান্নাতে যাবে ?

‘রমজানের প্রথম রাতে দুষ্ট শয়তানকে শৃংখাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কল্যাণের প্রতি আহবান করা হয় এবং অকল্যাণকে বিতাড়িত করা হয়। রমজানের প্রতি রাতেই অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।’ -সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৬৮২

শেষ বিচারের আগেই মুক্তি দেওয়ার প্রশ্নই বা আসে কিভাবে ?? তবে কি শেষ বিচারের বিষয়টা পুরাই ভুয়া ?

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন,-

‘জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে, যার নাম ‘রাইয়ান’। কেয়ামতের দিন রোজাদাররাই শুধু ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। অন্য কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন ঘোষণা করা হবে, রোযাদাররা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে এবং ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। যখন তাদের প্রবেশ শেষ হবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে তারা ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।’ –সহিহ বোখারি, হাদিস: ১৭৯৭

উপরের আগের হাদিসের সাথে এই হাদিসের ভিন্নতা কেন ?

অন্য হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একদিন রোজা রাখবে আল্লাহ তার থেকে জাহান্নামকে এক খরিফ (সত্তর বছরের) দূরত্বে সরিয়ে দেবেন। -সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৬৯ ।

অর্থাৎ ৪০ বছরে ৪০ রমজানে গড়ে ৩০ দিন শুধু রোজা থাকলে ৪০*৩০= ১২০০ দিন রোজা । ১২০০ দিন *৭০ বছর = ৮৪০০০ বছর জাহান্নাম থেকে দূরে থাকবে । এখন প্রশ্ন হলো – জাহান্নাম থেকে দূরে কোথায় থাকবে ?

বিখ্যাত হাদিস বিশারদ সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন-

হুজুর (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসের রাতে এবাদত করে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করে কাটাবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম)

এবার আসুন রমজান মাস ছাড়া অন্য সময়ে রোজা রাখার উদ্দেশ্য কি সেইটা জানি –

‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোযার কারণে আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’ -সহীহ মুসলিম ১/৩৬৭; জামে তিরমিযী ১/১৫৮

ইবনে আববাস রাদিআললাহু আনহু বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি যিলহজ্জের শেষ দিন এবং মুহাররমের প্রথম দিন রোযা রাখল সে যেন বিগত বছরকে রোজার মাধ্যমে শেষ করল। অর্থাৎ সে যেন বিগত পুরো বছর রোযা রাখল এবং আগামি বছরকেও রোযা দিয়ে শুরু করল।আল্লাহ তাআ’লা তার ঐ রোজাকে তার পঞ্চাশ বছরের গুনাহের কাফফারা করে দিবেন।( গনিয়াতুত তালিবিন, পৃষ্ঠা : ৪২৮ )।

এর পরেও কি রোজার মধ্যে ছোয়াবের ও ঈমানের নিয়ত ছাড়া অন্য কোন আত্মশুদ্ধি ও সংযম সাধনার বার্তার পবিত্রতার কিছু পেলেন ? জান্নাতের লোভে বাদে অন্য কোন কারনে কি রোজার প্রয়োজন আছে বা রোজা থেকে কোনো শিক্ষা লাভের সুযোগ আছে ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “ইসলামী বিধান অনুযায়ী রোজা রাখার উদ্দেশ্য ও তার সুফল –

  1. ভাই, আপনার প্রশ্নের উত্তর খুব
    ভাই, আপনার প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ। আপনি ইসলামকে বাইরে থেকে দেখে অন্যার লেখনী ধার নিয়ে লিখছেন। আপনি আরবি পাতে পারেন কিনা জানি না। আপনার শ্বাব্দিক ব্যাখ্যাতে ভুল আছে। বাংলা যেভাবে করেছেন আরবি সেরকম না। তাছাড়া আপনি কিছু ঝাল হাদীস দিয়েছেন। আপনার পুরো প্রশ্নের যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে এবং কোরআন-হাদীস ও ইতিহাস দ্বারা প্রমানিত। কিন্ত আপনার মনোভাব তালগাছ টা আমার টাইপের হয় তা হলে তো প্রমান হাজির করা বৃথা। মুক্ত মনা অনেকে নামধারী । কিন্ত সত্যি মুক্তমনা কি। সত্যের জন্য মন কি খোলা আপনা ?

    1. কোন হাদিসটা জাল ? সহি
      কোন হাদিসটা জাল ? সহি হাদিসটা কি ? কোরানের আয়াত বা হাদিস কি আমি বানাবো নাকি যে নিজের কথা বলব ? নাকি আপনিও হাদিস ও আয়াত তোইরি করেন ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 4 =