সাবিকুন নাহার সনিঃ সন্ত্রাস আর দখলদারিত্বের বলি

২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েট ক্যাম্পাসে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি জামাত জোটের শাসনামলে ছাত্রদলের বুয়েট শাখার ছাত্রদল ক্যাডার মুকিত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল শাখা ছাত্রদল ক্যাডার টগরের মধ্যকার সংঘর্ষে পরে নিহত হন বুয়েটের কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহার সনি। আজ সেই ৮ জুন যে দিনে এক রুগ্ন রাজনীতির বলি হয়েছিলেন সনি। সনির শোকে সারাদেশ মুহ্যমান হয়েছিলো। বহু আগেই আদর্শভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির বিপরীতে স্বার্থকেন্দ্রীক সন্ত্রাসের রাজনীতির পাঠ প্রদান করেছে এদেশের ধারাবাহিক স্বৈরশাসক,লুটেরা শাসকশ্রেণী সে পাঠের ফলাফল সনির রক্তাক্ত দেহ। জাতীয় রাজনীতির সাম্প্রদায়িকতা , স্বৈরনীতি, দমননীতি, লুটপাটতন্ত্র ছাত্ররাজনীতিতে এসব দখলদারিত্ব ,সন্ত্রাসের সূচনা করেছে। টেন্ডার নিয়ে মারামারির এই লুটেরা সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক এদেশেরই দ্বিদলীয় রাজনীতির সংস্কৃতি এবং তাদের দোসররা।

সনি হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটসহ সারাদেশ প্রতিবাদে ফেটে পরে। তৎকালীন জামাত বিএনপির মদদপুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে নি। এই হত্যাকে ধামাচাপা দিতে নানান কূটকৌশল নেয়া হয়। ধারাবাহিক আন্দোলনকে বাধাগ্রস্থ করতে ছাত্রদল ছাত্রশিবিরকে মাঠে নামিয়ে পেটানো হয় আন্দোলনকারীদের । এমনকি আন্দোলনকারীদের বহিষ্কার পর্যন্ত করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেয়া হয়। অবশেষে, ছাত্র জনতার তীব্র প্রতিরোধে তৎকালীন জোট সরকার ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু পরিহাস হলেও সত্য যে সে বিচারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন জন আসামিকে ২০০৬ সালে সেই সরকারের রাষ্ট্রপতি শাস্তি মওকুফ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ক্যাডার মুকিত এখনো পলাতক। সবচাইতে আশ্চর্যজনক হলো এই হত্যা মামলার আসামি সর্বশেষ ঘোষিত ছাত্রদলের কমিটির একজন যার নাম নিয়াজ মখদুম। ক্ষমতাসীন দলের ক্ষমতা টিকে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দখলদার বাহিনী তৈরির এই কর্মকাণ্ড এখন নিয়মিত ঘটনা। ক্যাম্পাসজুড়ে হত্যা , সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি যেন কয়েক দশকেরই নিয়মিত ঘটনা। আদর্শবিবর্জিত এক নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি পুরো শিক্ষাঙ্গনজুড়ে।অদ্ভুত এক ছাত্ররাজনীতি চলছে এই দ্বিদলীয় রাজনীতির ধারায়। যখন যে ক্ষমতায় থাকছে তখন সেই যেন লুটপাটের রাজ কায়েম করছে সমগ্রকিছুতে।

গত ৩৯ বছরে এদেশের ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রলীগ এই তিন ধারার সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী জীবন দিয়েছে। এর মধ্যে কোনটা আবার এদের অভ্যন্তরীন কোন্দলে নিহত হয়েছে এদের নিজেদেরই কোন না কোন কর্মী অথবা নেতা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বারবার শিবিরের ক্যাডাররা রক্তাক্ত করেছে।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জোবায়ের রিমু হত্যাকাণ্ড , ফারুক হত্যাকাণ্ডসহ এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে যা এখন আর কারো মনেও নেই। ময়মনসিংহের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে মারামারিতে পরে ছোট শিশু রাব্বি মারা গেছে এইতো তিনবছর আগে । সে ঘটনার তদন্ত ,বিচারের খবর এখন আর পাওয়া যায় না। সনি,রাব্বিদের বিচার নিভৃতেই কাদে।
স্মরন করছি সনি , রাব্বিদের…………।।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 75 = 79