রিয়ার পথভ্রষ্ট ছেলের সন্ধান

একবার না দু’বার না বেশ কয়েকবার অনুরোধ করে বসল মেয়েটা……
চোখ জ্বল জ্বল ,কপাল খানিকটা কুঁচকে,দু’হাত এক করে
এমন করে অনুরোধ করে বসেছে যেন পূর্বজনমের চির-চেনা ।

ঠোট জোড়া মসৃণ, নরম ও কালো ।
বেশ সময় নিয়ে লম্বা করে নিজ সমস্যার কথা তুলে ধরল ,অস্থিবোধ করলাম আমি ।
পর পর তিনবার নিষ্ফল আবেদন করার পর বলেই বসলাম ।

নীলঃ দুঃখিত, আমি আপনার প্রস্তাব রাখতে পারছি না , সময় থাকতে সচেতন ছিলেন না ?

-এখন নিজের কর্ম ফল ভোগ করা আপনার প্রাপ্য ।

এইবার দু’চোখ সজ্জল হয়ে উঠল,
ফোঁটাখানেক জল চোখ বেঁয়ে কালো জোড়া মসৃণ ঠোটের কোনে আসতেই ডান হাত দিয়ে মুছে নিল ।
আরও কিছু বলতে চাইল কিন্তু অগত্যা আমি খাঁচা বন্দী পাখির মত ছটফট করতে লাগলাম ।
তড়িঘড়ি করে এসে পরলাম বাসায় ।

তারও ৩ দিন পর, যা শুনলাম তা ছিল রীতিমত শ্বাসরোধ কর ।
মেয়েটি ২ দিন আগে আজিমপুর বাসা হতে পালায় এবং
গতকাল তাকে মৃত পাওয়া যায় মিরপুরের এক নদীতে ।
জানা যায়, ব্যাপারটা “আত্মহত্যা” ছিল ।

কথাগুল দারোয়ান থেকে শুনে আমি যতটা কষ্ট পাইয়েছিলাম, তার চেয়ে বেশি অপরাধীবোধ করেছিলাম ।

উপরের ঘটনাটি দু’বছর আগের,তবুও আজও আমার হৃদয়ে চাপা পড়েনি ।

আজও আমি নীলপথচারী সেই পাপের প্রায়শ্চিত্তে ,
রাতের আঁধারে আজিমপুরের নিশিদ্ধ অলি-গলি ঘুরে বেড়াই , হয়ত একদিন মিলে যাবে অভাগা রিয়ার পথভ্রষ্ট ছেলের সন্ধান 🙂

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 2