কোরানের আল্লাহ কি আসলে শয়তান ?

আমরা যদি কোরান ভালমত মন দিয়ে পড়ি , তাহলে দেখব আল্লাহ ও শয়তানের মধ্যে চরিত্রগত , কর্মগত , স্বভাবগত ইত্যাদি বিষয়ে এক বিস্ময়কর সাদৃশ্য বিদ্যমান। এখন ধরা যাক , বাংলাদেশের কোন এক নামকরা অপরাধীর সাথে , অন্য একজন মানুষের চরিত্রগত , স্বভাবগত , কর্মগত ইত্যাদি সাদৃশ্য দেখি ,তাহলে সেই লোককেও কি আমরা ক্রিমিনাল বলি না ? যেমন – কোন এক লোককে আমরা কুখ্যাত ক্রিমিনাল এরশাদ সিকদারের সাথে তুলনা করি। এই তুলনা মুলত: সেই লোককেও বিরাট ক্রিমিনাল প্রমান করে। তাই নয় কি ? এখন আল্লাহ ও শয়তানের মধ্যে যদি সেই ধরনের সাদৃশ্য দেখি , তাহলে আল্লাহও কি শয়তান হয়ে যাবে না ? তাহলে বিষয়টা ভালমত পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা যাক————–

যে সব বিষয়কে কেন্দ্র করে আল্লাহ ও শয়তানের সাদৃশ্য বিচার করা হবে , তা হলো (২)কর্মগত সাদৃশ্য, (৩) আদেশ গত সাদৃশ্য , (৪) বিধানগত সাদৃশ্য

কোরান থেকে আল্লাহর চরিত্রগত বিষয় জানি , প্রথমেই দেখা যায়, আল্লাহ হলো অহংকারী, শয়তানও অহংকারী—-

সুরা আল হাশর – ৫৯: ২৩:
Muhammad Mahmoud Ghali: He is Allah, (other than Whom) there is no god except He. He is The King, The Superb Holy, The Peace, (i.e., The Giver of Peace) The Supreme Believer, (i.e., The Giver of Belief) The Supremely Hegemonic, The Ever-Mighty, The Superb Potentate, The Supremely Proud. (i.e., The Justly Proud) All Extolment be to Allah above whatever they associate (with Him)

বাংলা : তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতিত কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মহা গর্বিত। তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ তা’ আলা তা থেকে পবিত্র।

যদিও বিভিন্ন অনুবাদে কারসাজি করে , এটাকে অন্যরকমভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যাতে আল্লাহকে অহংকারী হিসাবে পরিচিত না করা যায়।কিন্তু আমাদের জানতে হবে এই Muhammad Mahmoud Ghali একজন মিশরীয় যার মাতৃভাষা আরবী। তার সম্পর্কে জানা যাবে এখানে – https://en.wikipedia.org/wiki/Mohammad_Mahmoud_Ghali

সুতরাং দেখা যাচ্ছে আল্লাহর ৯৯ টা নামের মধ্যে একটা নাম হলো সে অহংকারী বা PROUD। এবার শয়তানের চরিত্র কি সেটা জানা যাক ——-

সুরা বাকারা – ২: ৩৪: এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।

এছাড়া দেখা যাক —
সুরা নাহল- ১৬:২৩: নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাদের গোপন ও প্রকাশ্য যাবতীয় বিষয়ে অবগত। নিশ্চিতই তিনি অহংকারীদের পছন্দ করেন না।

অর্থাৎ শয়তান হলো অহংকারী। আর আল্লাহ অহংকারীকে পছন্দ করে না। কিন্তু সে নিজেই আবার অহংকারী। যা একটা ভয়াবহ স্ববিরোধী কথা ও বস্তুত: স্ববিরোধী চরিত্র। কিন্তু সে যাই হোক, চরিত্রগত দিক দিয়ে আল্লাহও অহংকারী, শয়তানও অহংকারী। এখানেই শেষ নয়, কোরান বলছে –

সুরা আল আরাফ- ৭: ১৩: বললেন তুই এখান থেকে যা। এখানে অহংকার করার কোন অধিকার তোর নাই। অতএব তুই বের হয়ে যা। তুই হীনতমদের অন্তর্ভুক্ত।

সুরা নাহল -১৬: ২৯: অতএব, জাহান্নামের দরজসমূহে প্রবেশ কর, এতেই অনন্তকাল বাস কর। আর অহংকারীদের আবাসস্থল কতই নিকৃষ্ট।

যেহেতু শয়তান অহংকারী , তাই সে বেহেস্তে থাকতে পারবে না আর সে হলো হীনতম। কিন্তু ঘটনা হলো আল্লাহ নিজেই তো অহংকারী, তাই আল্লাহরও বেহেস্তে থাকার অধিকার নেই আর সে নিজেও হীনতম। কারন চরিত্রগত দিক দিয়ে আল্লাহ ও শয়তানের মধ্যে কোনই তফাৎ নেই , আর তাই তারা এক ও অভিন্ন।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তার নবী ও মানুষকে নানা কিছু প্রলোভন দিয়ে পরীক্ষা করে , শয়তানও মানুষকে প্রলুব্ধ করে পরীক্ষা করে , যেমন —-

সুরা আল ফুরকান- ২৫: ২০:আপনার পূর্বে যত রসূল প্রেরণ করেছি, তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ করত এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের এককে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। দেখি, তোমরা সবর কর কিনা। আপনার পালনকর্তা সব কিছু দেখেন।

এমন কি শয়তানের মাধ্যমেও আল্লাহ মানুষ বা নবীদেরকে পরীক্ষা করে —-

সুরা হাজ্জ – ২২: ৫৩: এ কারণে যে, শয়তান যা মিশ্রণ করে, তিনি তা পরীক্ষাস্বরূপ করে দেন, তাদের জন্যে, যাদের অন্তরে রোগ আছে এবং যারা পাষাণহৃদয়। গোনাহগাররা দূরবর্তী বিরোধিতায় লিপ্ত আছে।

অর্থাৎ আল্লাহ বিভিন্ন নবীদেরকে পরীক্ষা করে। এইসব পরীক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষ ও নবীদেরকে বিভ্রান্ত করে , আর সেটা্ হলো আল্লাহর পরীক্ষা মাত্র। এবার দেখা যাক শয়তান কি করে —

সুরা আল আরাফ- ৭: ২৭: হে বনী-আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি-যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, , যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না।

শয়তানও নানা কায়দায় মানুষকে বিভ্রান্ত করে , যেমন আদম হাওয়াকে বিভ্রান্ত করেই তাদেরকে বেহেস্ত থেকে বের করে দিয়েছে। এছাড়া শয়তান যাতে সর্বক্ষন মানুষকে(যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না) বিভ্রান্ত করতে পারে , আল্লাহ সে ব্যবস্থাও করে রেখেছে। আল্লাহ সেই সব অবিশ্বাসীদের জন্যে কোন ভাল ব্যবস্থা রাখে নি যাতে তারা বিশ্বাস করতে পারে। তারা যাতে চিরকাল অবিশ্বাসী থেকে শয়তানের দ্বারা বিভ্রান্ত হতে পারে সেই পাকা ব্যবস্থাই করেছে আল্লাহ। আল্লাহ যে সত্যি সত্যিই মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিপথে চালিত করে ইচ্ছাকৃত ভাবে , সেটাও বলেছে কোরানে –

সুরা হুদ- ১১: ৩৪: আর আমি তোমাদের নসীহত করতে চাইলেও তা তোমাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে না, যদি আল্লাহ তোমাদেরকে গোমরাহ করতে চান; তিনিই তোমাদের পালনকর্তা এবং তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে।

এছাড়াও বলছে —

সুরা হিজর -১৫: ৩৯: সে বললঃ হে আমার পলনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথ ভ্রষ্ঠ করে দেব।

তার মানে শয়তান যে আমাদেরকে বিভ্রান্ত করে বিপথে চালিত করে , সেটা কিন্তু নিজের ইচ্ছায় নয়, সেটার কারনও আল্লাহ কারন আল্লাহই শয়তানকে বিভ্রান্ত করে তাকে সেটা করতে বাধ্য করেছে। এক্ষেত্রে আল্লাহ ও শয়তানের চরিত্র একই আর তাদের উভয়ের উদ্দেশ্য মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করে দোজখে প্রেরন করা , কারন আল্লাহ ও শয়তান যে একই ব্যাক্তিত্ব আর তাদের বাসস্থান দোজখ। আর যদি একই ব্যাক্তিত্ব না হয় , তাহলে আল্লাহ ও শয়তান তারা একই চরিত্রের অধিকারী দুই ব্যাক্তিত্ব যাদের বাসস্থান দোজখে।

শুধু এখানেই শেষ হলে ভাল হতো , কিন্তু এখানেই শেষ নয়—

সুরা ইউনুস- ১০: ১০০: আর কারো ঈমান আনা হতে পারে না, যতক্ষণ না আল্লাহর হুকুম হয়। পক্ষান্তরে তিনি অপবিত্রতা আরোপ করেন যারা বুদ্ধি প্রয়োগ করে না তাদের উপর।

সুরা আল আনআম- ৬: ১২৫: অতঃপর আল্লাহ যাকে পথ-প্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দেন এবং যাকে বিপথগামী করতে চান, তার বক্ষকে সংকীর্ণ অত্যধিক সংকীর্ণ করে দেন-যেন সে সবেগে আকাশে আরোহণ করছে। এমনি ভাবে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। আল্লাহ তাদের উপর আযাব বর্ষন করেন।

অর্থাৎ মানুষ যে আসলে আল্লাহকে অবিশ্বাস করে , সেটা কিন্তু মানুষের দোষ না। এটা সম্পূর্ন আল্লাহরই ইচ্ছা বা হুকুম। কে বিশ্বাসী হবে , আর কে অবিশ্বাসী হবে , সেটা সম্পূর্নই আল্লাহর খেয়ালী ইচ্ছা। এখানে মানুষের কোনই হাত নেই। বরং দেখা যাচ্ছে , আল্লাহ মানুষকে এমনভাবে অবিশ্বাসী করে দেয়, যাতে তারা পরে শত চেষ্টা করলেও আর বিশ্বাসী হতে পারে না। অর্থাৎ আল্লাহই মানুষকে ইচ্ছাকৃত ভাবে বিভ্রান্ত করে বিপথে চালিত করে , যাতে তারা দোজখে যেতে পারে। এবার দেখা যাক , শয়তান কি করে —

সুরা আল মায়েদা – ৫: ৯০: হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।

মানুষ যে মদ , জুয়া , শিরক ইত্যাদিতে লিপ্ত হয়, সেসব হলো শয়তানের কাজ , কিন্তু এর আগেই আল্লাহ বলেছে সে নিজেই মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করে যাতে তারা বিপথে চালিত হয়। তার অর্থ- স্বয়ং আল্লাহই মানুষদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে মদ , জুয়া , শিরক ইত্যাদি কাজে লিপ্ত করে , আর এটা আবারও প্রমান করে যে আল্লাহ ও শয়তান আসলে একই ব্যাক্তিত্ব। শুধু মানুষ যাতে সেটা বুঝতে না পারে কৌশলে মাঝে মাঝে বলা হয়েছে শয়তান যেন কোন ভিন্ন ব্যাক্তিত্ব।

এর পর বলছে –
সুরা বাকারা -২: ৫৯: অতঃপর যালেমরা কথা পাল্টে দিয়েছে, যা কিছু তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল তা থেকে। তারপর আমি অবতীর্ণ করেছি যালেমদের উপর আযাব, আসমান থেকে, নির্দেশ লংঘন করার কারণে।

সুরা আল আরাফ- ৭: ১৬২: অনন্তর জালেমরা এতে অন্য শব্দ বদলে দিল তার পরিবর্তে, যা তাদেরকে বলা হয়েছিল। সুতরাং আমি তাদের উপর আযাব পাঠিয়েছি আসমান থেকে তাদের অপকর্মের কারণে।

এ কেমন কথা? আল্লাহ তো নিজেই মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করেছে যাতে তারা তাদের কাছে আসা আগের বানী পাল্টে ফেলতে পারে। অতপর: সেই বানী পাল্টানোর পর আল্লাহ আবার তাদেরকে দোষারোপ করছে ও তাদেরকে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছে। এটা কি পায় পাড়া দিয়ে গন্ডগোল বাধিয়ে সব দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে তাদেরকে শাস্তি দেয়ার মত শয়তানী কাজ নয় ? সুতরাং আল্লাহর চরিত্র কি আসলে শয়তানের মত নয় ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “কোরানের আল্লাহ কি আসলে শয়তান ?

  1. কবির দাড়ি আছে, ছাগলের ও দাড়ি
    কবির দাড়ি আছে, ছাগলের ও দাড়ি আছে। তাই কবি একজন ছাগল অথবা ছাগল একজন কবি। কি চমতকার বে-জ্ঞান মনস্ক যুক্তি।

    1. হুম দারুন যুক্তি। কিন্তু যদি
      হুম দারুন যুক্তি। কিন্তু যদি দেখা যায় সেই দাড়িআলা কবি ছাগলের মত ম্যা ম্যা করে , তারপর কাঠালপাতা খায় , ছাগলের মত ল্যাদায়, তাহলে সেই কবিকে ছাগল বলা যেতেই পারে। কি বলেন?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + = 10