কল্পনা চাকমা: কেন হারিয়ে যাবেন

১.
কল্পনা চাকমাকে নিয়ে একটি গানের প্রথম অংশ এরকম-
‘‘পরানানে ডাগের তরে/
হুদু তুই গেলে/
রেদোত জাগি চোগত বাজে/
ত ডাগান হানত এলে/
‘ও কল্পনা, তুই আয় না, হু-দু গেলে?”

২০ বছর ধরে বিশ্বের প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের মন
শিল্পীর এই গানটির মতো কল্পনাকে খুঁজে ফেরে।
জিজ্ঞাসা করে, কল্পনা চাকমা কোথায়? তিনি কি বেঁচে
আছেন নাকি মারা গেছেন? প্রতি বছর, প্রতিদিন, প্রতি
মুহুর্তে কল্পনার সহযোদ্ধা, উত্তরসূরীরা খুঁজে ফেরে
তাঁকে। দাবির আওয়াজ তুলেছে বারবার। কিন্তু রাষ্ট্র
বধিরের ভান করে থাকার চেষ্টা করে সব সময়। তাই এ
বছর(২০১৬) কল্পনার মুক্তিকামীরা আর আওয়াজ তুলতে
চাননি। এবার তাঁরা নীরব প্রতিবাদ করেছে ঢাকার
শাহবাগে দাঁড়িয়ে। মানববন্ধনের সময় তাঁদের হাতে ছিল
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’র ‘ফটো এ্যাকশন’ কর্মসূচির কল্পনার ছবি।
এদিকে, একই দিনে(১০ জুন, ২০১৬) চট্টগ্রামে সকাল সাড়ে
১০টায় হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম
নারী সংঘ সমাবেশ করেছে। সমাবেশ থেকে অভিযোগ
উঠেছে, চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌস গংকে
শাসকগোষ্ঠী উপযুক্ত সাজা না দিয়ে বরং রক্ষার চেষ্টা
করে নানান কৌশল ও নাটক সাজিয়েছে।
কাল ক্ষেপন না করে কল্পনা চাকমার মুক্তিসহ দেশে
অব্যাহত যৌন আক্রমণ বন্ধের দাবি জানিয়ে
চট্টগ্রামের সমাবেশ থেকে অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্র
দেশে অব্যাহত যৌন আক্রমণ, নারীর সম্মান-মর্যাদা ও
জীবন রক্ষায় সরকার ও প্রশাসন সব সময় নিষ্ক্রিয়তা
থেকেছে এবং চিহ্নিত অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়েছে।
২.
১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সকাল আটটা থেকে সপ্তম জাতীয়
সংসদ নির্বাচনের ভোটদান অনুষ্ঠিত হয়। দেশের
অপরাপর জেলার ন্যায় সেদিন রাঙামাটি জেলায়ও এই
নির্বাচনকে ঘিরে সেনাবাহিনী, বিডিআর, পুলিশ, আনসার,
ভিডিপি মোতায়েন করে নিরাপত্তা বলয় তৈরী করেছিল
বিচারপতি হাবিবুর রহমানের তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক
সরকার। নির্বাচনের ভোটদান অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার ঠিক
সাত ঘন্টা পূর্বে কঠিন নিরাপত্তা বলয়ে প্রবেশ করে
কল্পনা চাকমার পরিবারের ওপর হামলা অতপর বলপূর্বক
অপহরণ করা কার এত বড় দুঃসাহস তা সহজেই অনুমেয়।
শুধু তাই নয় এই ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটারের ছোট
একটা ভূ-খণ্ডে ২০ বছর ধরে গা ঢাকা দিয়ে অদৃশ্য থেকেছে
অপহরণকারীরা। কল্পনা চাকমাকে ফিরে পাবার আশা না
হয় ছেড়েই দিলাম। কিন্তু রাষ্ট্রের লজ্জা কোথায়
ঢাকাবে? অপরাধী যেই হোক, ২০ বছরে তাঁদের কোনো
হদিস বের করতে পারেনি কেন রাষ্ট্র? দেশের নিরাপত্তা
নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল।
৩.
রাষ্ট্র সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক সাত ঘন্টা
পূর্বে কল্পনা চাকমা গুম করার মধ্য দিয়ে নিজের দেহে
ক্ষত তৈরি করে নিজেরই অপূরণীয় ক্ষতি করেছে তা
এখনও টের পায়নি। অথবা টের পেয়ে লজ্জা ঢাকার চেষ্টা
করছে।
কল্পনা চাকমাকে অপহরণ ঘটনার সাড়ে ছয়মাস পর, ১৯৯৭
সালের ১ জানুয়ারি দৈনিক ভোরের কাগজ ‘ভোরের
কাগজ-এর চোখে ‘৯৬ এর আলোচিত দশ’ শিরোনামে
দেশের আলোচিত ১০ ব্যক্তিত্বের দশটি ছবি প্রকাশ
করেছিল। তার মধ্যে কল্পনা চাকমার ছবিও অন্যতম
একটি। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন, সাহাবুদ্দিন আহম্মদ,
শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান,
আব্দুর রহমান বিশ্বাস, জেনারেল মো. নাসিম, আকরাম
খান, আবুল খায়ের ও চিত্র নায়ক সালমান শাহ। কল্পনা
চাকমার ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘কল্পনা চাকমা: কেন
হারিয়ে যাবেন?’
অপহরণ ঘটনার পর থেকে বিশ্ব বিবেকে এ সহজ প্রশ্নটি
বারবার উঁকি মারছে। কল্পনা চাকমা, কেন হারিয়ে যাবেন
তিনি? কিন্তু রাষ্ট্র এ সহজ প্রশ্নের জটিল উত্তর দিয়ে
নিজেদের লজ্জা ঢেকে রাখার চেষ্টা করছে বারবার। বরং রাষ্ট্র যন্ত্রের কয়েকটি অযৌক্তিক ও
অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য ছিল- কল্পনা চাকমাকে
শান্তিবাহিনী অপহরণ করেছে। অথবা তিনি নিজেই
হারিয়ে গেছেন। কল্পনা চাকমা নাকি ভারতের ত্রিপুরায়
আত্মগোপন করে আছেন। কিন্তু কেন কল্পনাকে
শান্তিবাহিনী অপহরণ করবে? কেনই বা তিনি নিজেই
আত্মগোপন করবেন? যদি ভারতের কোথাও কল্পনাকে
সন্ধান পাওয়া গেছে তাহলে ধরে নিয়ে আসুন তাঁকে।
ঝিমিয়ে থাকা জটিল সমস্যাটির জট খুলে দিন। জট
খোলার দায়িত্বতো রাষ্ট্রের, তাই না?
কল্পনা চাকমাকে শান্তিবাহিনীর সদস্যরা অপহরণ করতে
পারে না। কারণ, তিনিও শান্তিবাহিনীর একটি অংশ
ছিলেন। কল্পনা চাকমা নিজে হারিয়ে যেতে পারেন না,
কারণ তিনি পাগল বা উন্মাদ ছিলেন না।
৪.
কল্পনা চাকমা। একটি আদর্শ ও সংগ্রামের প্রতীক।
তিনি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নারী
সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক
সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বাড়ি রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি
উপজেলার নিউ লাইল্যাঘোনা গ্রামে। ১৯৯৬ সালের ১২
জুনে(১১ জুনের দিবাগত রাত একটা) সপ্তম জাতীয় সংসদ
নির্বাচনের ঠিক সাত ঘন্টা পূর্বে নিজ বাড়ি থেকে দুই বড়
ভাইসহ অপহৃত হন। ভাইয়েরা পালাতে সক্ষম হলেও
পারেননি কল্পনা চাকমা। অভিযোগ রয়েছে, কজইছড়ি
সেনা(১৭ ই.বি. রেজি.) ক্যাম্পের কমান্ডার লে.
ফেরদৌস’র নেতৃত্বে ১০-১২জনের পরিচিত-অপরিচিত
সেনা-ভিডিপি’র জওয়ান ২৩ বছর বয়সী এই নারী
নেত্রীকে অপহরণ করে গুম করে ফেলে।
২০ বছর পরও ঘটনার বিবরণ হুবহু তুলে ধরলেন কল্পনার
বড় ভাই ও মামলার বাদী কালিন্দি কুমার চাকমা। তাঁর
বিবরণে জানা যায়, অপহরণকারীরা বাড়ি ঘেরাও করে
তাঁদেরকে ডাক দিতে থাকে। ঘুমের ঘোরে ডাক শুনে
কালিন্দি কুমার উঠে এসে দরজার সামনে আসতেই
অপহরণকারীরা দরজার রশি কেটে প্রবেশ করেছে। এরপর
বাড়ির সবাইকে বারান্দায় ডেকে জড়ো করা হয়। একে
একে চোখে টর্চ লাইট মেরে নাম জিজ্ঞেস করে
অপহরণকারীরা।
এ সময় কল্পনার মেঝো ভাই লালবিহারী চাকমা
(ক্ষুদিরাম) কে চোখে টর্চ লাইট মারলে তিনি আলো
ঠেকাতে চেষ্টা করার সময় এলোপাতারি টর্চের আলোতে
লে. ফেরদৌস, ভিডিপি প্লাটুন কমান্ডার নুরুল হক ও
ভিডিপি সদস্য সালেহ আহমেদকে চিনতে ভুল করেননি।
অপহরণকারীরা প্রথমে ক্ষুদিরামকে বাইরে নিয়ে চোখে
কাপড় বেঁধে পাশের হ্রদের(লেক) দিকে নিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পরে বড় ভাই কালিন্দি কুমার চাকমা ও
কল্পনাকে নিয়ে একইভাবে বাঁধা হয়। তারপর তাঁদেরকে
হ্রদের হাঁটু পানিতে নামানোর পর লে. ফেরদৌস গুলির
নির্দেশ দিলে সাথে সাথে প্রাণপণ চেষ্টা করে পানিতে ডুব
দিয়ে পালিয়ে যান ক্ষুদিরাম। গুলির শব্দ পেয়ে ভাইকে
মেরে ফেলেছে ভেবে ও ভয়ে কালিন্দি কুমারও ছুটতে
কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন।
শেষে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তিনজন দুর্বৃত্তকে ধাক্কা
দিয়ে পানিতে লাফ দেন। কালিন্দি কুমার লাফ দেয়ার সাথে
সাথে গুলি করে সেনা-ভিডিপি’র সদস্যরা। কালিন্দি কুমার
পালানোর সময় ‘দাদা, দাদা’ করে দুইবার কল্পনার
চিত্কার শুনতে পেয়েছিলেন। কিন্তু পেছন ফেরে বোনকে
বাঁচানোর আর সাহস করতে পারেননি দুই ভাই কালিন্দি
ও ক্ষুদিরাম।
পরেরদিন গ্রামের মানুষ খবর পেয়ে কল্পনা চাকমাকে
অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। ওইদিনই থানায় মামলা
করা হলেও এজাহারের জবানবন্দী নিয়ে তালবাহানা শুরু
করে দেয় থানা পুলিশ। ওইদিন বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ
কালিন্দি কুমার চাকমাকে সারাদিন না খাইয়ে থানায়
বসিয়ে রেখে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা ডিসি-এসপি ও
কোনো গণমাধ্যমের সাথে দেখা করতে দেয়নি বলে
কালিন্দি কুমার অভিযোগ করেছেন। বাদীর অভিযোগ,
তিনি যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন তা বিকৃতি করে
অভিযুক্তদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে এজাহারে।
৫.
এ ঘটনা নিয়ে দেশে-বিদেশে তোলপাড় হলে চাপের মুখে
সরকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুল জলিলের
নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি বিচার বিভাগীয়
তদন্ত কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়। কমিটি ১৯৯৮ সালের
২৭ ফেব্রুয়ারি ৪০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেন।
তদন্ত কমিটির প্রদত্ত প্রতিবেদনটি ২০ বছরেও প্রকাশ
করেনি সরকার। আইনজীবীদের মারফত জানা গেছে যে,
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘…..কল্পনা
চাকমা চাকমা হয় উদ্দেশ্যমুলকভাবে নতুবা বলপূর্বক
অপহৃত হয়েছেন। তবে, পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে
কারা অপহপণ করেছে তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব
হয়নি।’ এদিকে, বাঘাইছড়ি থানা পুলিশও মামলার
এজাহারের সূত্র ধরে তদন্ত করতে থাকে।
১৪ বছর পর ২০১০ সালের ২১ মে থানার অফিসার্স
ইনচার্জ(ওসি) প্রথম চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
মামলার বাদী পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনটির উপর
নারাজী আবেদন করলে আদালত একই বছরের ২
সেপ্টেম্বর অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ
দেন। সিআইডি কর্মকর্তা দুই বছর পর ২০১২ সালের ২৬
সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। অভিযোগ
রয়েছে, এই দু’টি প্রতিবেদনও আব্দুল জলিলের তদন্তের
মতো সাক্ষীদের সাক্ষ্য ব্যতীরেকে। তাই বাদী পক্ষ
থেকে সিআইডির প্রতিবেদনের উপরও নারাজী দেয়া হলে
আদালত ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি আরো অধিকতর
তদন্তের জন্য রাঙামাটি পুলিশ সুপার(এসপি)কে নির্দেশ
দেন। কিন্তু রাঙামাটি এসপি এখনো পর্যন্ত তদন্ত
প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।
উপরন্তু আদালতে কালিন্দি কুমার চাকমার ডিএনএ
পরীক্ষার জন্য অনুমতি চাওয়া হলে আদালত অনুমতি
দেন। কিন্তু মামলার বাদী কালিন্দি কুমার চাকমা ডিএনএ
পরীক্ষা করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে, কালিন্দি কুমার
চাকমা বলেন, ‘আমার ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়টি একেবারে
অযৌক্তিক ও অপ্রাসঙ্গিক। রাষ্ট্র এসব পরীক্ষার কথা
বলে তদন্ত কালক্ষেপন করছে’। তিনি বলেন, ‘অপহৃতকে
জীবিত অথবা মৃত সন্ধান পাওয়ার পর চিহ্নিত করা না
গেলে না হয় ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন ছিল। রাষ্ট্র
কল্পনা চাকমাকে সন্ধানই পায়নি, আমি কেন ডিএনএ
পরীক্ষা করাবো?’।
৬.
রাষ্ট্র পক্ষ থেকে হরহামেশাই মন্তব্য করা হয়েছিল,
হয়েছে এবং হচ্ছে তা হলো- অপহরণের আগে কল্পনা
চাকমা আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী দীপংকর
তালুকদারের পক্ষে নির্বাচনের কাজ করতেন। অপরদিকে,
পাহাড়িদের পক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন বিজয় কেতন
চাকমা। রাষ্ট্রপক্ষের অযৌক্তিক অভিযোগ, নির্বাচনী
কর্মকাণ্ডকে ঘিরে শান্তিবাহিনী কল্পনা চাকমাকে
অপহরণ করে থাকতে পারে। এ ব্যাপারে, কালিন্দি কুমার
চাকমা বলেন, ‘কল্পনা কোনো নির্বাচনী কর্মসূচিতে
অংশ গ্রহন করেনি। বরং সে দীপংকর বাবুদের মতো
প্রতিক্রিয়াশীলদের বিপক্ষে ছিল সব সময়।’ কালিন্দি
কুমার জানান, ঘটনার কিছুদিন আগে লে. ফেরদৌস তাঁদের
গ্রামের কয়েকটা বাড়ি অগ্নিসংযোগ করেছিল। আর
কল্পনা চাকমা ফেরদৌসের মুখোমুখি হয়ে কঠিন জবাবের
মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। এছাড়াও কল্পনা
চাকমা প্রত্যেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে রাষ্ট্রের ও
রাষ্ট্র যন্ত্রের অনিয়ম, অত্যাচার ও অগণতান্ত্রিকতা
বিরুদ্ধে কথা বলতেন। কোনোভাবেই কল্পনার যুক্তি
খণ্ডন করতে পারতো না রাষ্ট্র বা শাসকগোষ্ঠীর
সদস্যরা। মূলত, কল্পনার জবান থামিয়ে দিতেই তাঁকে
কাপুরুষের মতো রাতের অন্ধকারে অপহরণ করে
শাসকগোষ্ঠী। কিন্তু কল্পনার জবান কি নিঃস্তব্দ
হয়েছে? বরং লাখো-কোটি কল্পনা চাকমা জন্ম নিয়েছে
বিশ্বে।
তদন্ত অগ্রগতির ব্যাপারে সর্বেশেষ অবস্থা জানতে,
রাঙামাটির এসপি তারিকুল হাসানকে বারবার ফোন করেও
ফোন ধরেননি তিনি। কালিন্দি কুমার চাকমার আইনজীবী
এ্যাডভোকেট জুয়েল দেওয়ানকে কয়েকদিন ধরে ফোন
দিয়েও ফোন ধরেননি।
৭.
এদিকে, এ বছর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক
মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কল্পনা
চাকমাকে ‘ফটো এ্যাকশন’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও
রাজনৈতিক সংগঠন কল্পনা চাকমার অপহরণের ২০তম
দিবস উপলক্ষে নানান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ১০ জুন
(২০১৬) সকাল সাড়ে ১০টায় ইউনাইটেড পিপলস
ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত হিল
উইমেন্স ফেডারেশন (HWF) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী
সংঘের যৌথ উদ্যোগ চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় মোড়ে
প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। একইদিনে বিকাল
চারটার দিকে ঢাকার শাহবাগে মানববন্ধন ও সমাবেশ
করেছে সিএইচটি রাইটার্স এ্যান্ড এ্যাকটিভিস্ট ফোরাম।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)
সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম
মহিলা সমিতির উদ্যোগে ১২ জুন (২০১৬) রোববার
ঢাকাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা-উপজেলায় প্রতিবাদ
বিক্ষোভ ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন,
কেন্দ্রীয় ফেডারেশনের উদ্যোগে একটি স্মারকলিপি
প্রদান করা হবে বলেও জানান সংগঠনের সাধারণ
সম্পাদক ত্রিমিতা চাকমা।

সূত্র : পপেন ত্রিপুরা

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

78 − = 76