উপমহাদেশে আমলা নির্ভর রাজনৈতিক ইতিহাস’র খন্ড চিত্র ও সংখ্যালঘু নির্যাতন?

এ উপমহাদেশ’র বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান ও আফগানিস্তান-এর সংখ্যাগুরুরা সংখ্যালঘুদের প্রহসন মূলক নির্যাতন করে আসছে। এটি বর্হির বিশ্বে আমাদের জন্য লজ্জাষ্কর। যেহেতু আমরা জীব জগতের শ্রেষ্ঠ ও সভ্য জাতি হিসেবে মানুষ। মানসিকতার পরিবর্তন করে এখান থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।
দেীশ-বিদেশী বিজ্ঞ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল আপনাদের জানা আছে, ঘোরতর অন্ধকারের পর আলো আসবেই! সে কারণে ইতিহাসের রাজনৈতিক চর্চায় পলাশীর যুদ্ধ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত অনুশীলন করলে দেখা যায়. যুগে যুগে কত মীরজাফরের জন্ম হয়েছে, তারপরও আলোর দিশারীরা তাদের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে জয়যুক্ত হয়েছেন। ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে ২৩ জুলাই নদীয়ার আম্রকাননে পলাশীর চুড়ান্ত যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ক্লাইভ-সিরাজ-উদ্দৌলা, মীর মদন, মোহন লাল, উর্মিচাঁদ, জগৎ শেঠ, মীরাবাঈ (আলেয়া)রা, ঘরের শত্র“ মীর জাফর আলী খান-এর কারণে বেণীয়াদের হাতে পরাজিত হন।
১৮৫৭খৃষ্টাব্দে সিপাহী বিদ্রোহ, জালিয়ানওয়ালা বাগের হত্যাকান্ড, ক্ষুদিরাম-সূর্যসেনের ফাঁসি, অভিরামের দ্বীপান্তর আরো কত নিবেদিত প্রাণ মানুষের জেল-জুলুম ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অবশেষে ১৯৪৭ খৃষ্টাব্দে ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে। ইংরেজ চলে যায়। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে মুসলিম লীগ লাভ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। শুরু হয় বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির ছাত্র আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান, একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রাম। এখানেও বলা উচিত পাঞ্জাবিরা চলে যায় কিন্তু অধ্যাপক গোলাম আযম (মীরজাফর) গংরা রয়ে যায়। ১৯৭৫-এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারবর্গকে হত্যা করে খন্দকার মোশতাক আহমদ (মীরজাফর)গংরা। ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী গণঅভ্যূত্থানের পর দেশটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ১/১১তে রাজনীতিবিদদের কি না নির্যাতন করা হল তা পৃথিবী অবলোকন করেছে। ১৪ দলীয় আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর মহাজোট সরকার গঠন করে। নির্ধারিত মেয়াদকাল শেষ হলে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বিএনপি প্রত্যাখান করায় আওয়ামীলীগ নেতৃত্তাধীন ১৪দলীয় জোট দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে। এখানেও সৌভাগ্যক্রমে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির আসনে বাবু সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বসানো হয়েছে। আমার প্রশ্ন- তিনিও তো একজন সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য। এখন বলতে চাই সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু বিভক্তি করে ভারত-পাকিস্তান-আফগানিস্তান ও বাংলাদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ বিষয়ে গতকাল ১৪ দলীয় জোটের সভায় সংখ্যালঘু নেতা এডভোকেট রমাকান্ত দাশ গুপ্ত যথার্থ বলেছেন। উপমহাদেশে প্রতিটি দেশে সংখ্যাগুরুরাই বলেন, সংখ্যালঘুরাই বলেন, সকলেই বংশ পরম্পরায় স্ব-স্ব দেশের নাগরিক। প্রতিটি দেশে সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগুরুর দ্বারা প্রহসনমূলক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা যায়, আমলা নির্ভর রাজনীতির কারণে আমাদের ভবিষ্যত কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিদগ্ধজনেরা বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে। সে আলোকে এ অঞ্চলের সকলে মিলে মিশে এক যুগে মানসিকতার পরিবর্তন করে কাজ করতে হবে। এখানে বলে রাখা আবশ্যক, সকল দেশের সংখ্যাগুরুরা সংখ্যালঘুদের রক্ষা করা নৈতিক দ্বায়িত্ব। স্বচ্ছ, সুস্থ্য, সুন্দর মানসিকতাই শান্তিপূর্ণ সহবস্থান প্রতিষ্ঠা করার সহায়ক ভুমিকা পালন করে থাকে। তাই জাতীয় আন্তর্জাতিক জাগ্রত বিবেক সংগঠিত হলে পৃথিবীতে অসম্ভব বলে কোন কাজ নেই। মানুষ পারে না এমনটা ভাবা অনুচিত। ভালো কাজ করতে চেষ্টা করা আপত্তি কোথায়? মনে রাখতে হবে শষ্যের ভেতরে ভূত রেখে শষ্য দিয়ে ভুত তাড়ানো যায় না। পরশ্রীকাতর মীর জাফররা কখনোই কোন বিষয়ে সফল হতে পারেনি। তারা সাময়িক ভাবে বাধাগ্রস্থ করলেও, ভালো কাজের অগ্রগতি ভূলুন্ঠিত করতে পারে না। বরং তারা নিজেরাই আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। এ অঞ্চলের সভ্যতার ক্রমবিকাশ এর স্বর্ণ শিখরে পৌছার জন্য আমাদেরকে অনুসরণীয় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। যা দেখে অন্যরা বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতে হয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

46 − 40 =