লালসালু

মহব্বতনগর গ্রামের ফেসবুক গ্রুপে হঠাৎ করে নতুন একটা জয়েন রিকোয়েস্ট আসলো। আইডির নাম মজিদ। ফেসবুক প্রোফাইল পিকচারে এক লোক মোনাজাত ধরা অবস্থায় দাঁড়ানো। তাহের অনলাইনেই ছিল। সে প্রোফাইল একবার ভিসিট করে রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করলো। একটু পরেই দেখা গেলো নতুন মেম্বার মজিদ পুরোনো একটা কবরের ছবি তুলে গ্রুপে পোস্ট করলো। ক্যাপশন লিখলো আপনারা সবাই জালেম, বেএলেম। মোদাচ্ছের পীরের মাজার আপনারা এমন করি ফেলি রাখছেন? দেখা গেলো একটু পরেই গ্রুপ এডমিন খালেক ব্যাপারী ব্যস্ত হয়ে পড়লো। পোস্টে লাইক আর কমেন্টের অবস্থা দেখে তাড়াহুড়া করে সালু কাপড় দিয়ে ঢাকা হলো কবর। রাতারাতি মজিদ হয়ে গেলো ফেমাস এবং গ্রুপের এডমিন। অনেক গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত মজিদ নেয়। কোন পোস্ট এপ্রোভ করা হবে, কোন পোস্ট হবেনা। কার রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করা হবে কারটা হবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি। মজিদ এখন সেলিব্রিটি কিন্তু তার রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস সিংগেল। কিছুদিন পর দেখা গেলো মজিদ রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস ম্যারিড করে দিল। মজিদের বউ রহিমা মজিদ যাই করে তাতেই লাইক দেয়। তো একদিন হাসুনির মা রহিমাকে মেসেজ দিয়ে জানায় যে তার বাপ তাকে মেরেছে। মজিদ এটা শুনে গ্রুপে তাহের-কাদেরের বাপকে নিয়ে পোস্ট দেয়। অপমানে তাহের কাদেরের বাপ গ্রুপ লীভ নেয়। এর মধ্যে নতুন সমস্যা দেখা দেয়। আওয়ালপুরের পীরের ফেসবুক পেজে মহব্বতনগর গ্রামের কিছু লোকের লাইক দেখে মজিদের হিংসা লাগে। মজিদ তাই বুদ্ধি করে অপপ্রচার চালিয়ে তার ফ্যান ফলোয়ার কমায়। এদিকে একদিন আক্কাস গ্রুপে পোস্ট দেয়, আমি একটা স্কুল খুলতে চাই।আমার জন্য কতগুলো লাইক হপে ফ্রান্স? লাইক তো সে পাই ই না বরং মজিদ তাকে গ্রুপ থেকে বের করে দেয়। এদিকে মজিদের কোন সন্তান হয় না। অন্যদিকে হাসুনির মা মাঝে মাঝেই হাসুনির ছবি ফেসবুকে দেয়। সেই ছবিতে আবার রহিমা কে ট্যাগ করে। এসব দেখে মজিদের আর ভালো লাগে না। তাদের ও তো একটা সন্তান দরকার তাইনা?এভাবে আর কতদিন? তো এবার মজিদ জমিলার সাথে রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস দিল। দিন চলে যায়, রাত আসে। রাত শেষে নতুন দিন আসে। এভাবে চলতে চলতে জমিলা হঠাৎ করে বুঝতে পারে মজিদ অটোলাইক উইজ করে। নাইলে মজিদের মতো লোক কিভাবে এতো লাইক পায়? সে মজিদের আইডি রিপোর্ট করতে থাকে। মজিদ টের পেয়ে জমিলার আইডি হ্যাক করে। এতে রহিমা বুঝতে পারে মজিদ ভালো লোক না। সে জমিলার আইডি রিকভার করে দেয়।একদিন মহব্বতনগর গ্রামে ঝড়ো শিলা বৃষ্টি হয়ে ফসল সব নষ্ট হয়ে যায়। মজিদ স্ট্যাটাস দেয়, ভাইসব সবকিছু আল্লার হাতে। তিনি আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন । তারপর আর কি দিন শেষে রাত আসে। রাত শেষ হয়, আবার নতুন দিন আসে। এভাবে কেটে যায় সপ্তাহ,মাস, বছর। প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন হয় কিন্তু কভার ফটোতে থাকা সালু কাপড়ে ঢাকা কবরের ছবিটা পরিবর্তন হয়না………….

‪#‎অফটপিক‬
লালসালু উপন্যাসটা সব যুগের জন্য যেন তৈরী।ধর্মের চেয়ে টুপি বেশী, শস্যের আগাছা বেশী উক্তি দিয়েই পুরো উপন্যাসটা যেন বোঝা যায়। এতো বড় উপন্যাস এ কটা শব্দে লেখা যায় না। দরকার যেমন ছিল আরো শব্দের, তেমনি ছিল আরো ঘটনাপ্রবাহের। কিন্তু হলো না। সেটা ব্যর্থতা। ভুল থাকতেই পারে, আর সেটা অবশ্যই অবশ্যই অনিচ্ছাকৃত।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

54 + = 63