সফলতার পিছে কালো অধ্যায় থাকবেই…

পত্রিকায় বেশ অবাক হয়ে
দেখলাম,যশোরের ৩৬ ইঞ্চি উচ্চতার
কার্তিক নামের একজন এমএ পাশ করে
হন্য হয়ে চাকরি খুঁজছে তার মামাতো
ভাইয়ের কোলে উঠে উঠে।
আত্মনির্ভরশীল হওয়ার কি উৎসাহ!
আমি প্রায়ই লক্ষ্য করি,আমার বাসার
সামনে দিয়ে দুই অন্ধ ছেলে হাত
ধরাধরি করে (মনে হয় দুই ভাই) একটা
ছড়ি নিয়ে টুকটুক করতে করতে প্রতিদিন
স্কুলে ক্লাস করে বাসায় ফিরে।
নিজেকে জাগানোর কি অভিপ্রায়
তাদের!
আমার এক ছাত্রের ভাই,বধির।ছেলেটা
সারাদিন নামাজ কালাম আর বই পড়ায়
ব্যস্ত থাকে।ক্লাস এইটে গোল্ডেন
পেয়েছে।এখন ভোকেশনালে পড়ে
স্বনির্ভর হতে চায়।
এরকম স্বনির্ভর হওয়ার উদ্দামতায় অনেক
অশিক্ষিত লোকও কোমড়ে গামছা
বেধে নেমেছে।নিজেদের অব্যাহত
প্রচেষ্টায় এক কাপড় বিক্রেতা
আঙ্কেলের কাছে শুনলাম ব্যাংকের
নিচে পান বিক্রেতা লোকটার
দৈনিক ইনকাম ৮০০টাকার উপর।
উদ্দ্যানের চা বিক্রেতা মামার
ইনকাম দৈনিক প্রায় ১২০০ টাকা!
ভাবা যায়!বিএসসি-এমএসসি পাস করে
আপনি এরকম দৈনিক ইনকাম করতে
পারবেন গ্যারান্টি দিতে পারবেন?
আমাদের সবার মাথাতেই জন্মগত
ভাবে মনে হয় একটা কথা ইন্সটল দেওয়া
আছে,”আল্লাহ্ কপালে যা লিখে
রেখেছে তা হবেই” এই
চিন্তাধারাটা!
হ্যা,আল্লাহ্ সবার ভূত-ভবিষ্যৎ লিখে
রেখেছে তাই বলে তো হতাশ হয়ে
বসে থাকতে বলে নি।সামনে যা আসে
তা থেকেই বৃহৎ কিছু করার মানসিকতা
থাকাটাই মেইন ফ্যাক্ট।
সিরাজগঞ্জের “খাজা ইউনুছ
হসপিটাল” (দক্ষিন এশিয়ায় অন্যতম) এর
ফার্মাসী ডিপার্টমেন্টের হেড
(এখনো আছে কিনা জানি না)
অষ্ট্রেলিয়া গিয়েছিলো উচ্চতর
ডিগ্রি নিতে।যাওয়ার মাস তিনেক
পরেই টাকা শেষ, বাড়ি থেকেও আনা
সম্ভব না।বাধ্য হয়ে কাজ খুঁজতে বের হয়।
অবশেষে এক পুলিশের বাড়িতে
লোভনীয় পারিশ্রমিকে “থালা-
বাসন” ধোয়ার কাজ পায়।লজ্জা শরম
ভেঙে সেই কাজ করে তিনি তার
লেখাপড়া
কমপ্লিট করে।
কিন্তু দেখুন তিনি যদি আজ কপালের
উপর ভরসা করে বসে থাকতো তাহলে
কি তিনি তার ডিগ্রী অর্জন করতে
পারতেন? পারতেন কি আগের ঐ
লোকগুলি স্বনির্ভর হয়ে মাথা উচু করে
দাঁড়াতে?
এই প্রশ্ন টা পড়বো না,পরীক্ষায় কপালে
যা আছে হবে…এত সুন্দর,স্মার্ট মেয়ে/
ছেলে কি আর আমার প্রোপজ গ্রহণ
করবে
(?)… বিসিএস বা এই চাকরি আমার
কপালে নাই…
ইত্যাদি মনোভাব গুলি আমাদের সবার
ভিতরেই কম বেশি আছে।কিন্তু হিম্মত
নিয়ে যদি ঐ প্রশ্ন টা মুখুস্ত করি,ঐ
ছেলে/মেয়েকে প্রোপজ করি
কিংবা সব শংসয় ভেঙ্গে যদি
বিসিএস বা চাকরীর প্রিপারেশন নেই
তাহলেই কিন্তু হবে।
আমাদের প্রত্যকেরই আশা নিজস্ব
যোগ্যতা অনুযায়ী ভালো কিছু করার।
কিন্তু বিন্দু থেকেই তো সিন্দুর সৃষ্টি
তা প্রায়ই ভুলে যাই।
অন্যে ছিঃ ছিঃ করবে,বিদ্রুপের
হাসি হাসবে হাসুক না। আমাদের
জনবহুল এই দেশে এটা মেনে নিতেই
হবে।হালাল পথে চললেই হলো।
সব সফলতার পিছনেই এক অবিশ্বাস্য
কালো অধ্যায়
আছে।ফুলের ছোট্ট কুড়িকে আপনার
ভালো না লাগাটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু পরিস্ফুটিত সুন্দর ফুলের জন্যে
আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে,তার
পিছে লেগে থাকতেই হবে….কপালে
লেখা যাই থাক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 82 = 91