সপ্ন দ্যা ড্রিম……….

ছোট বোনটার বিয়ে হয়েছে ঢাকা মালিবাগে। মা বল্লো তোর তো কোন কাজ নাই কিছু অাম নিয়ে ঢাকা থেকে ঘুরে অায়। অামিও রাজি হয়ে গেলাম
তাই সকালের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যকে সাক্ষী রেখে এক সকালে ঢাকা যাত্রা শুরু করলাম।
সকাল ৬:১০ এ বাস ছাড়বে। আমি আবার জানালার পাশে ছাড়া বসতেই পারি না।
তাই আগে থেকেই সিট টা জানালার পাশেই কেটে রেখেছি।
কিন্তু এ কী মহা বিপদ?
ঢাকা যাত্রা তে আমার পাশে একটি ফুটফুটে ফাজিল টাইপের মেয়ে বসে আছে তাও আবার আমার যায়গাটাতেই।
আমি: ওহে আপু যায়গাটা আমার একটু সরে এপাশে আসুন।
মেয়ে : মানে কী? কোথাও তো কোনো নাম দেখতে পাচ্ছি না। তাহলে আপনার কেমনে হয়।
আমি : এই যে আপনার কী মনে হচ্ছে আমি আপনার সাথে ফাজলামি করছি? সিটে নাম লেখা থাকে না। সেটা টিকিটে থাকে।
মেয়ে : ওহ তাই। যানতাম না তো। তো কই আপনার টিকিট দেখান তো কোথায় নামটা লেখা।
আমি টিকিট বের করতেই আমার কাছ থেকে নিয়ে গেলো আর তার টিকিট টা আমাকে ধরিয়ে দিলো।
আমি :এটা কী হলো?
মেয়ে : টিকিটে কোনো নাম নাই ভাল করে দেখে নেন।
আমি : মেজাজটা যে কী রকম খারাপ লাগছিলো কাউকে বোঝাতে পারব না। একে তো মেয়েদের প্রতি একটা এলার্জি আগে থেকেই ছিল তার উপর পাশে এখন একটা মহাবিপদ টাইপের মেয়েকে নিয়ে যাত্রাটা আমার অশুভ সেটা নিশ্চিত।
মেয়ে মানুষ বলে আর বাড়তি ঝামেলা না করে পাশেই বসে পড়লাম।
কিন্তু ঝামেলাটা যে আরও বাড়বে কখনও বুঝিনাই। বুঝলে কখনও এর পাশে যাইতাম না।
প্রয়োজনে সারা জীবন জন্মভূমি রাজশাহিতেই পড়ে থাকতাম। >এই ছেলে কোনো কথা বলোনা কেনো হুম। পাশে সুন্দরি একটা মেয়ে । তারপরও এত ভাব কেনো?
কোনো কথা না বলে নিজের কাজেই মন দিলাম।
তোমাকে কিন্তু এত ভাবের জন্য মাসুল দিতে হবে কী যেনো একটা খেতে খেতে বলছে সে।
রোজার মাসে এমন বেহায়ার মতো খাচ্ছে মেয়েটা একটু লজ্জা ও নাই।
একটু পরে দেখি বাসে পুলিশের চেক। মেয়েটা পুলিশকে বলল আমি নাকি তাকে নিয়ে পালিয়েছি।
কী বিপদে পরলাম রে বাবা?
ঝামেলার কারণে বাস আমাদের রেখে চলে গেলো।।
এদিকে পুলিশ তো মহা ঝামেলা শুরু করছে । অবশেষে চিপায় গিয়ে কিছু টাকা দিয়ে এবারের মতো মুক্তি পেলাম।
_আপনি এমন কাজটা কেনো করলেন?
_আপনার ভাবটা কমানোর জন্য।
_এখন কীভাবে যাবো আমি?
আমি তো কিছুই চিনি না।
_এই ছেলে আমি তো আছি এতো টেনশন কীসের হুম
_আপনি সাথে আছেন এটাই তো মহা বিপদ।
_মানে কী?
_মানে আপনি একটা প্যারা। সামনের পথটুকু আপনি আপনার মতো যাবেন আর আমি আমার মতো।
_ইসস কী বলেন এই গুলো।। দেখেন আপনি যদি আমাকে ছেড়ে যেতে চান তাহলে একটা বাজে কিছু করে ফেলবো আমি।
আসলে ভয় পেয়েছি ওর কথাতেই। কারণ এত সময় বোঝা হয়ে গেছে ও কেমন। তাই সাথে নিয়ে চললাম তাকে।
_অবন্তি,,, আমার নাম।
অামি জুয়েল। জুয়েল রানা
_থাকেন কোথায়?
_বাড়িতে….
_সেটা তো আমি ও যানি। তো বাড়িটা কোথায়?
রাজশাহিতে
_আমি এত সুন্দরি একটা মেয়ে। আপনি আমার সাথে ভাব না নিয়ে এমন বাজে ভাবে কথা বলছেন কেনো?
_যে নিজেকে সুন্দরি মনে করে তাকে আমি সুন্দরি মনে করি না।।
আমি ঢাকা যাবো। আমি ঢাকাতেই থাকি আর সবই চিনি। তাই আপনি আমার সাথে যেতে পারেন।।।।
আসলে ঢাকার কিছুই চিনতাম না। তার উপর অবন্তির অনুরোধে না করতে পারলাম না।
২ মাস ঢাকায় ছিলাম আমি। এই ২ মাসে ঢাকার সব যায়গায় ঘুরেছি অবন্তির সাথে।
এতদিনে ফোন নম্বর, ফেসবুক আইডি সবই দেওয়া নেওয়া হয়েছে আমাদের
আপনি থেকে আমাদের সম্পর্কটা তুমি তে দাড়িয়েছে।
দুজন এখন আমরা দুজনকে ছাড়া চলতে পারি না।
খুব গভীরে আমাদের সম্পর্কটা গড়িয়েছে।
এভাবেই কেটে যাচ্ছে আমাদের দিন।।।।।
হঠাৎ বাসের সুপারভাইজার জোরে ডাকতেই ঘুমটা ভেংগে গেলো।
ভাই সিরাজগঞ্জ অাইছি বাস টপিস দিছে লাঞ্চ করবেন না সবাই তো চলে গেলো আপনে যাইবেন না।
ধুর বেটা তোমার লাঞ্চ তুমি করো। আমার কত বড় ক্ষতি করছো তুমি যানো। যেই সপ্ন টা তে একটু মজা আসতে লাগলো সেই ঘুমটা ভেংগে দিলে। আসলে এতক্ষন সপ্ন দেখতেছিলাম আমি। আসলে আমার পাশে বসে ছিলো BBA শেষ বর্ষের এক বড় ভাই।
মানুষ সপ্ন দেখে। আমিও দেখেছি তাতে দোষের কী। তবে
এমন কেউ সত্যি থাকলে ব্যাপারটা মন্দ হতো না।।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.