পাহাড়ে কিছু অজানা তথ্য।

১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধের বিপক্ষে প্রতিবাদ করেছিল তখনকার সচেতন আদিবাসীরা। কিন্তু সরকার প্রতিবাদ তোয়াক্কা না করে কাপ্তাই বাঁধ স্থাপন করে। পরে অসংখ্য ঘর-বাড়ি এবং বৌদ্ধ বিহার থেকে শুরু করে চাকমা রাজার রাজবাড়ি পর্যন্ত ডুবে গিয়েছিল পানির তলে। আপনারা যদি রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে বোটে করে পর্যটনে আসেন, তাহলে দেখা যাবে সেখানে বিরাট একটি গাছ (ধ্বংসাবশেষ) পানির উপরে দেখা যাবে। যেটা একসময় চাকমা রাজার রাজবাড়ি ছিল। এখন পানির গভীরতা কমে গেছে বলে আসতে আসতে সেগুলো দেখা যাচ্ছে। আর রাংগামাটি থেকে কাপ্তাই যদি নতুন রাস্তা দিয়ে যান তাহলে পথে দেখা যাবে রাস্তার পাশে একটি বৌদ্ধ বিহার। ঠিক তারই সামনে কাপ্তাই লেকে তাকালে দেখা যাবে সেই বৌদ্ধ বিহারটিও আজ কিছুটা অনুমান করা যাচ্ছে, যে বিহারটি ডুবে গিয়েছিল। সেই স্থান থেকে কিছু বৌদ্ধ মূর্তি পাওয়া গিয়েছে তাই রাস্তার পাশে আগের নামে বৌদ্ধ বিহার স্থাপন করা হয়েছে এবং মূর্তি গুলো সেখানে রয়েছে। সেখানকার আদিবাসীরা বগাছড়া নামে এক গ্রামে বসবাস শুরু করে আসছে। আজ সেই গ্রামের সবাইকে উচ্ছেদ করেছে, কারণ সেখানে সেনাবাহিনী ক্যাম্প তৈরি করবে।

আমরা সবাই জানি, কাপ্তাই বাঁধের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো জল বিদ্যুৎ উপন্ন করা। কিন্তু আশেপাশে আদিবাসীদের গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি।
সব চেয়ে বড় কষ্টের কথা হলোঃ স্থানীয় আদিবাসীরা জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেখতে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে বাঙালি হলে প্রবেশ করতে পারবে। আর দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র বেতবুনিয়াতেও একইভাবে পাহাড়িদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ভিতরে স্কুলের শিক্ষার্থী ব্যতীত। আর বাঘাইছড়ি সাজেকের কথাতো নাই বা বললাম।

বান্দরবানে চিম্বুক পাহাড় আজ পর্যটকের জন্য একটি প্রিয় স্থান। সেখানে আগে বম সম্প্রদায়রা ছিল। তাদের অনেককে উচ্ছেদ করে সেনা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে, নীলগিরি, নীলাচল এবং বর্তমানে #বগালেকের মারমা এবং বম সম্প্রদায়কে সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছে প্রশাসন। #কারণঃ এইগুলো সরকারি পর্যটন কেন্দ্র। অথচ, আজ থেকে ১০০-১৫০ বা তারও অনেক আগে থেকেই সেখানকার পাহাড়িরাই এইসব জায়গা বসবাসের উপযুক্ত স্থান করেছে এবং বসবাস করে আসছে।

বান্দরবানে এমন চিত্রও আছে যে, এক রাতেই আদিবাসীদের জায়গায় বেদখল করে ঘর-বাড়ি মেরামত করেছে সেটেলার বাঙালিরা। ৮০ দশকের পর থেকে প্রতিনিয়ত সেটেলার বাঙালীরা পার্বত্য অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করেছে।
ফলে পাহাড়িদের পাশাপাশি সেখানকার স্থানীয় বাঙালিরাও তাদের বসতভিতা হারাচ্ছে।
সরকার কি পাহাড়ে শান্তি স্থাপন করতে চাই নাকি অশান্তি স্থাপন করতে চাই তা জানিনা। তবে কথা দিতে পারি, খুব শীঘ্রই পাহাড় আবারও অশান্ত হয়ে উঠতে পারে।।।।।।।।।।

#নোটঃ পাহাড়ে এসে সবাই ওয়াও!!! ওয়াও!!! করতে পারেন কিন্তু পাহাড়ের কান্না কেউ দেখতে পারেন না এবং বুঝতেও পারেন না।।।।। চেষ্টাও করেন না। জানতে।।।।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “পাহাড়ে কিছু অজানা তথ্য।

  1. পাহাড়ে অবিচার হয়েছে এবং হচ্ছে
    পাহাড়ে অবিচার হয়েছে এবং হচ্ছে তা কোন বিবেক সম্পন্ন মানুষ অস্বীকার করতে পারে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এর বাইরে আমার কোনও সামর্থ্য নেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 9 =