দেশ আজ চলেছে হাস্যকর এক উষ্ট্রের পিঠে

গার্মেন্ট কল-কারখানার শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ বারবার হতাহতের ঘটনায় আজ যে বিষয়গুলো আমাদের সামনে প্রকটভাবে ধরা দিয়েছে তা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজছি আমি। যতোবার চোখ যায় সাভারে ততোবার শরীরে সবকটি লোম বিদ্রোহ করে। কি করবার আছে আমার? কেবল তাকিয়ে থাকা ছাড়া!
দেশ আজ চলেছে হাস্যকর এক উষ্ট্রের পিঠে।
সে উষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপ বলছে- এদের পিষিয়ে ফেল বুলডোজারে! তাই কি?
না আমি মানি না। মানতে পারি না।
তাই আমি আওয়াজ তুলছি। যা আমার করবার আছে।
আমি ১১টি দফা নিয়ে দাঁড়াতে চাই রাজপথে। চাই আপনাকেও আমার পাশে।
রাজার পথে আমরা আপামর জনতা একাট্টা হয়ে বলেত চাই——–

১. ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী ঘনবসতীপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে শিল্পকারখানা সরিয়ে অন্য জায়গায় স্থাপন
করতে সরকারী নীতি নির্ধারণী তৈরি এবং তা প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে
২. বহুতল কোনও ভবনে (তিনতলার উপরও কোন তলা থাকলে) কোনও ধরনের কারখানা স্থাপন করা যাবে না
৩‌. দেশের সকল ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করণ এবং ওই ভবনগুলোতে কারখানা ফ্যাক্টরি থাকলে তা অপসারণ করতে হবে
৪. দেশে বিদ্যমান শ্রম আইন এবং শ্রমিকের জন্য সরকার নির্ধারিত মজুরির সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে
৫. এ যাবতকাল সকল শিল্প-প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য কল-কারখানায় শ্রমিকদের সব বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধে
মালিক পক্ষের উপর সরকারী হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হবে
৬‌‌. আইএলও’এর বিধান মোতাবেক সকল প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন/শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করতে হবে
৭. সাভার ট্র‌্যাজেডিসহ পূর্বে সংগঠিত সকল ট্র‌্যাজেডির সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে এবং দায়ী
ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে
৮. সাভার ট্র‌্যাজেডিতে নিহত আহত সকলের পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে
(প্রতি পরিবারকে প্রতি মাসে ১০,০০০/- টাকা করে দশ বছর প্রদান করে যেতে হবে)
৯. সকল শিল্প কল কারখানা একটি সেন্ট্রাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে
১০. বিজিএমইএ-কে সকল প্রকার দুর্ঘটনার দায়দায়িত্ব নিতে হবে
১১. সকল প্রতিষ্ঠানের সব শ্রমিকের প্রণোদনা ভাতা, যাতায়াত, আবাসনসহ নানাবিধ নাগরিক সুবিধার ব্যবস্থা মালিক শ্রেণীর
মাধ্যমে নিশ্চত করার জন্য সরকার চাপ প্রয়োগ করবে এবং কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে

অতি সাধারণ একটা মানুষ আমি। স্বল্প মাইনের চাকুরে। সারাদিন মাথার মধ্যে খবর আর খবর জট পাকায়ে থাকে। এই জটের মধ্যে কখনও বউ বাচ্চার অসুখ বিসুখ ব্যাপক উসকো-খুসকো করে তোলে আমাকে। কিন্তু শব্দ আর কথার একটা ইজ্জত আছে। আর এই ইজ্জত বলে আমার মধ্যে মিডল কেলাস সেন্টিমেন্টো আগাগোড়া বাসা করেছে। আমার বিনুদোন ওই একখান টেলিভিশন। ওই বাক্সর ভিতরে চোখ-মুখ মাথা হান্দায়ে রাখি। আর সারাদিন মৃত সারি সারি লাশের গন্ধ আমাকে উস্কায়ে দেয়। কোথায় আছি আমি?
এ কোথায় আমরা?
মাঝে মধ্যে হেলেদুলে উঠলে মনে হয়- এক উষ্ট্রের পিঠে যাচ্ছি আমি আর আমরা। সে এক হাস্যকর উষ্ট্র। আমার হাসি পায়।
হাসি নামের এক মেয়ের কথা মনে পড়ে। তারা ছিল পাঁচ বোন। একটা ভাই তাদের আটজনের সংসারকে তটস্থ করে রাখত। বাবা-মা কখনো চাইত না তাদের ছেলেটা রোদে পুড়ুক-বৃষ্টিতে ভিজুক। ছেলেটা জরপরনাই বেসামাল সাইজ নিল। আকারে আকৃতিতে আর বিদ্যা-বুদ্ধির লেপ-তোশকে ঢাকা তার চোখ-মুখ। একটা কুনুই মারলেই বেটা খাড়ায়ে চোখ ডলতে ডলতে দেখে সূর্য আজ উঠে নাই। ‌ছেলেটার মাথা-ই থাকত না দিন শেষে সন্ধ্যা তারপর রাত। বাপ-মা আদরের শাসনে ওই ছেলেকে পাঁচ বোনের সাগর কলা বানিয়েছিলেন। হাসি তার ভাইকে দেখে রাগের আস্ফালনে হাসত। এছাড়া আর তার কিছু করবার ছিল না। সে হাসতে হাসতে লেব্দা ভাইটার জন্য বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে রিক্সা নিয়ে আসত।
হাহাহাহা…. দেশ আজ হাস্যকর এক উষ্ট্রের পিঠে চলেছে।
এই উষ্ট্র কিন্তু একাধিক। এরা বারবার আমাদের তাদের পিঠে চড়িয়ে কোথায় নিয়ে যায়, আমার জানা নাই!
((দফাগুলোর মধ্যে প্রাসঙ্গিক আরও কোনও বক্তব্য কারও থাকলে অনুগ্রহ করে কমেন্টে জানাবেন। আর অপ্রাসঙ্গিক কোনও দফা থাকলে সে বিষয়টিও উল্লেখ করতে ভুলবেন না। বিকে))

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “দেশ আজ চলেছে হাস্যকর এক উষ্ট্রের পিঠে

  1. একমত পোষণ করছি দাবি গুলার
    একমত পোষণ করছি দাবি গুলার সাথে । কিন্তু আদৌ কি সম্ভব হবে !!! জানি না তবুও স্বপ্ন দেকতে ভালবাসি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 53 = 59