মাহে রমজানে যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি

ঢাকার রাস্তা আর যানজট নতুন কোনো বিষয় নয়। এটা যেন নগরবাসীর নিত্যসাথী। তবে এই পবিত্র রমজানের শুরুতেই সহনীয়তার মাত্রা ছাড়াতে শুরু করেছে যানজট। সেইসঙ্গে গণপরিবহণের স্বল্পতা হেতু নগরবাসীকে নাকাল হতে হচ্ছে। প্রায় দেড় কোটি মানুষের বাস ৩০২ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাজধানী ঢাকায়। একটি আদর্শ নগরীতে যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তার প্রয়োজন যেখানে ২৫ শতাংশ, সেখানে ঢাকায় রয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ। এর মধ্যে আবার বন্ধ থাকে সড়কের বেশিরভাগ অংশ। অপরিকল্পিত গাড়ি পার্কিং এবং সড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকান নগরীতে যানজটের অন্যতম বড় কারণ। বাণিজ্যিক এলাকা থেকে শুরু করে নগরীর বিভিন্ন মহাসড়ক, অলিগলিতেও অবৈধভাবে গাড়ি পার্ক করে রাখা হয়। বিশেষ করে রাস্তার পাশে থাকা শপিংমল, হাসপাতাল, কমিউনিটি সেন্টার, স্কুল-কলেজগুলোর সামনে সকালে ও বিকেলে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট ভয়াবহ রূপ নেয়। পার্কিংয়ের পাশাপাশি ফুটপাত দখলও যানজটের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এই ফুটপাত হকারদের দখলে থাকার কারণে পথচারীরা সড়কের পাশ দিয়ে হাটতে বাধ্য হন। ফলে নির্ধারিত গতিতে গাড়ি চালানো মুশকিল হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি ফুটপাতে যত্রতত্র বাস কাউন্টার গড়ে ওঠায় যাত্রী ওঠানামার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজধানীর ১৬৩ কিলোমিটার ফুটপাতের মধ্যে ১০৮ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ফুটপাতই হকারদের দখলে। রমজান মাস এলে এই দখলদারিত্ব রাস্তায়ও বিস্তৃত হয়। স্বাভাবিকভাবেই তখন রাস্তায় গাড়ি চলাচলের জায়গা সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং যান চলাচল ব্যহত হয়। এসবের ওপর আবার মড়ার ওপর খরার ঘা হিসেবে থাকে প্রতি বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। সব মিলিয়ে অফিস শুরু ও ছুটির সময়টা যেন রাজধানীবাসীর জন্য রীতিমতো নরকে পরিণত হয়।মাহে রমজানে স্বাভাবিকভাবেই অফিস ফিরতি মানুষের ঘরে ফেরার তাড়া থাকে। এসময় যানবাহনগুলোর মধ্যে দ্রুত চালানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। এ কারণে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা ঘটে অন্যদিকে যানজটেরও সৃষ্টি হয়। এছড়া বিশেষজ্ঞদের মতে নগরীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও সেকেলে। সিগন্যাল বাতিগুলো কাজ না করায় এখনো ট্রাফিক পুলিশের বাঁশি আর লাঠিই ভরসা।রমজানে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের আগে থেকে বিশেষ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম হাতে নেওয়া প্রয়োজন ছিলো। এছাড়া নগরীর বিশেষ পয়েন্টগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রনে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশও মোতায়েন জরুরি। সবে রমজানের প্রথম সপ্তাহ চলছে। অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেছে, ঈদের কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কারণে রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই সড়কগুলোতে গাড়ির চাপ যেমন বাড়ে তেমনি যানজটও বাড়ে। তাই এখনই নগর কর্তৃপক্ষসহ ট্রাফিক পুলিশ বিভাগকে দ্রুত যানজট নিরসনে যথা উদ্যোগ নিতে হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 6