আইনের শাসন এবং একজন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার যদি একজন মানুষ থাকেন তো তিনি কেবলমাত্র শেখ হাসিনা। ক্ষমতায় থাকা মন্ত্রী, এমপি’রা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি তাদেরকে আসামী হয়ে দুদক ও আদালতে গিয়ে হাত জোড় করে দাড়াতে হবে। কিন্তু আইন ‘সবার জন্য সমান’ এবং সেটিই প্রমাণ করেছেন শেখ হাসিনা। সে সকল মাননীয় মন্ত্রী, এমপি’রা এখনো অনেকেই কারাগারে আবার কেউ নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন। আইনের শাসন একেই বলে।

যেকোন নির্বাচিত সরকারের ফার্স্ট প্রায়োরিটি হলো দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সেদিক বিবেচনায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শতভাগ সাফল্যের দাবি রাখেন। ১৯৭৫ সালের পর থেকে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল শেখ হাসিনা তা ধীরে ধীরে সহনীয় অবস্থায় নিয়ে এসেছেন। হত্যাকান্ড, লুটপাট করার জন্য এখন আর পুরস্কার দেয়া হয় না। দেয়া হয়না রাষ্ট্রীয় কোন উচ্চ পদ বা বিদেশে আমাদের দুতাবাসে লোভনীয় চাকরি। এখানেই অন্যান্য শাসকদের থেকে শেখ হাসিনা আলাদা, অনন্য।

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলে প্রথমেই বাধা হিসাবে আসে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি। তিনি জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সেই কালো আইন রহিত করেন এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন যা তিনি তাঁর ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে শেষ করতে পারেননি। কিন্তু তাই বলে ঐ নারকীয় যত্যাযজ্ঞের বিচার তিনি কোন বিশেষ আদালতের মাধ্যমে করেননি। এতে হয়তো বলা হতো শেখ হাসিনা ইর্ষাবশত এ বিচার করছেন। আইনকে নিজের গতিতে চলতে দেয়াও যে আইনেরই শাসন, তাই প্রমাণ করলেন শেখ হাসিনা।

আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরনের নমুনা তৈরি করেন ২০০১ সালে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে। চাইলে তিনি তার ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সে শিক্ষা পাননি। শেখ হাসিনা তার দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসেন। তাই তিনি চাননি তার কারনে দেশে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি তৈরি হোক। আগের মেয়াদে ক্ষমতায় এসে তিনি শুরু করেন যুদ্ধাপরাধের বিচার। দুনিয়া দেখছে কতটা সময় এবং শুদ্ধতা নিয়ে এ বিচার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। সমসমায়িক বিশ্বে আমাদের ‘মানবতা বিরোধি বিচারের স্বচ্ছতা’ নজির সৃষ্টি করেছে। চাইলে তড়িঘড়ি করে কিছু জানোয়ারের ফাসি দিয়ে দেয়া যেত, কিন্তু তাতে করে দুনিয়াব্যাপী প্রশ্ন উঠতো যা শেখ হাসিনা চাননি। তাই সকল আসামীর জন্য রাষ্ট্রীয় আইনি সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি শেখ হাসিনাই নিশ্চিত করেছেন।

একেই বলে আইনের শুদ্ধতা এবং যথাযথ প্রয়োগ। আমাদের মনে আছে ২০১৩ সালের হেফাজত সৃষ্ট সমস্যা, ২০১৪ সালের গোড়ার দিকে বিএনপি-জামায়াতের দেশ অচল করে দেবার মতো ঘটনা। সেখানেও অসংখ্য আসামী রয়েছে, যাদের বিচার রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় কোন স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে করতে পারতেন শেখ হাসিনা। কিন্তু তিনি তা করেননি। ব্যক্তিগত ক্ষোভকে রাষ্ট্রীয় কাজের সাথে মিলিয়ে ফেলার মতো অসংখ্য নজির আমরা দেখেছি। শুধু মাত্র ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্ধী হওয়ায় ২০০৪ সালে শেখ হাসিনাকে মেরে ফেলার অপচেষ্টা আমরা দেখেছি। চাইলে কোন স্পেশাল কোর্টের মাধ্যমে তিনি সে ঘটনার ক্ষোভ মেটাতে পারতেন। কিন্তু শেখ হাসিনা সে পথে হাঁটেননি। আইনের গতিপথ রুদ্ধ করা তার স্বভাব নয়।

তবে একটি কথা নির্দিধায় বলা যায়, শেখ হাসিনার কোমলে ও ভালোবাসায় মেশানো মনকে বিষিয়ে তুলে কেউ আরামে থাকবেন তা কল্পনায় আনাও ঠিক হবে না। জনগণের শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে তাঁর চেয়ে কঠোরও বাংলাদেশে কেউ হতে পারবেন বলে মনে হয়না। কারন তিনি তাঁর নিজ দলের নেতা-কর্মীদের জন্যও মূর্তিমান আতঙ্ক। দল ও সরকারে থেকে ইচ্ছেমতো যা খুশি করে বেড়ানো শেখ হাসিনার আমলে কল্পনা না করাই উত্তম।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “আইনের শাসন এবং একজন শেখ হাসিনা

  1. এটাই বাস্তব। চমৎকার একটি
    এটাই বাস্তব। চমৎকার একটি পোস্ট। সে ১০০ ভাগ পারফেক্ট না হলেও, দেশীয় রাজনীতিতে বর্তমান সময়ে তার দ্বিতীয় কেউ নাই।

    1. সমালোচনা থাকতেই পারে,
      সমালোচনা থাকতেই পারে, ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে। কিন্তু অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ায় শেখ বর্তমান সময়ে শেখ হাসিনার বিকল্প কেউ নেই বলেই আমি বিশ্বাস করি। ধন্যবাদ। @ শফিক মিয়া

  2. সবই বুঝলাম, উনার কোনও বিকল্প
    সবই বুঝলাম, উনার কোনও বিকল্প নাই। এই দেশে রাজনীতির এ সংস্কৃতি তাতে ভালো কেউ উঠেও আসবে না। কিছু ব্যাপার তারপরেও থাকে। এই যেমন, উনার বিশেষ দুত হুমু এরশাদ। রাজনীতির স্বার্থে নীতির সাথে আপোষ করা আসলে কি নীতি আমি বুঝি না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

30 − 21 =