পিছনের হাতটি কার!

রনি রেজা:
রাজধানীর নগর সমস্যার মধ্যে অন্যতম ফুটপাত বেদখল। রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় ফুটপাত জুড়ে গিজগিজ করছে নানা রকম পন্যের দোকান। হাটার উপায় থাকে না পথচারীদের। তাই বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় রাস্তার মধ্য দিয়ে। এটি সারা বছরের চিত্র। আর সামনে যদি থাকে কোনো উৎসব। তবে তো কথাই নেই। ফুটাপাতের পুরোটাই থাকে হকারদের দখলে।

আসলে কি হকারদের দখলে? হকাররা এত সাহস কোথায় পায়? এমন প্রশ্ন সাধারণ জনগণের মনে আসতেই পারে। উত্তরও দিয়েছেন এক হকার। ফার্মগেটের সিজান পয়েন্টের সামনের ফুটপাতে ব্যবসা করেন হকার মো: মাসুদ। তাকে এমন প্রশ্ন করাতে সহাস্যে জবাব দেন, মামা! আমরা গরিব মানুষ। আমাগো কি সাধ্য আছে ফুটপাত দখল দেওয়ার? বুঝেন না পেছনে হাত আছে। এইখানে যতগুলো হকার দেখতেছেন। একজনকেও নড়াইতে পারবেন না। সবার পিছনেই বড় হাত আছে। প্রতিদিন তাদের মাল পাতি দিতে হয়।

মাসুদের এমন জবাবে অবাক হবার কিছুই নেই। এটি কম বেশি আমাদের সকলেরই জানা। কিন্তু জানার বাইরে থেকে যায়, পেছনের ওই হাতটি কার? কি এমন শক্তি বহন করে ওই হাত। ওই হাতের পিছনে আরো কোনো হাত আছে কি না? জানার আগ্রহ থাকলেও হয়তো উপায় নেই। আড়ালেই থেকে যায় এসকল প্রশ্নের জবাব। বাড়তে থাকে দুর্ভোগ। যা সাধারণ জনগণের নিত্য সঙ্গী।

দোরগোড়ায় করা নাড়ছে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল ফিতর। আর এতেই চরমে উঠেছে অবৈধ দখলদারদের দখল বাণিজ্য। ফুটপাতগুলো পরিণত হয়েছে নানা রকমের পন্যের বাজারে। ভোগান্তির সীমা নেই পথচারিদের।

সম্প্রতি জাপান সরকারের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকার প্রায় ৬৫ শতাংশ রাস্তাই সারাবছর চলাচলের অনুপযোগী থাকে। এছাড়া যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করার কারনে রাস্তাও সঙ্কীর্ণ হয়ে গেছে। তবুও ফুটপাত চলাচলের উপযোগী না থাকায় ব্যাস্ততম সড়কগুলোর মধ্য দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

এ প্রসঙ্গে কথা বললে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (দুই অংশেরই) সূত্র জানায়, ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করতে ইতিপূর্বে একাধিক পদক্ষেপ নেয়া হলেও তা সম্ভম হচ্ছে না। এর পিছনে শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব সিণ্ডিকেটের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় সহজে এদের সরানো সম্ভব হচ্ছে না। কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা এর সাথে জড়িত বলেও অভিযোগ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের।

কিছুদিন আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাইদ খোকন বলন, এ উদ্যোগ প্রিয় আর অপ্রিয় যেটাই হোক না কেন, নগরীকে সুন্দর করে সাজাতে হলে কঠোর উদ্যোগ নিতে হবেই। এরফলে পরবর্তীতে নগরবাসী একটি সুন্দর ও সবুজময় শহর পাবে। এর কিছুদিন পরে তিনি গুলিস্তনে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যই ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। ট্রেড সেন্টারের সামনের ফুটপাতে হকারদের দোকান বসাতে বাঁধা দিলে দোকান মালিক কর্মচারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ওই এলাকা।

অপরদিকে গত বছর ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক এক সভায় বলেছিলেন, যারা জায়গা দখল করছে, যেখানে সেখানে গাড়ি থামিয়ে যানজট সৃষ্টি করছে, তাদের পেছনে নিশ্চয়ই রাজনৈতিক হাত রয়েছে। এদেরকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। পর্যায়ক্রমে সকল রাস্তা ও ফুটপাতকে দখলমুক্ত করা হবে। যদিও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো উদ্যগ চোখে পড়েনি।

এরপরেও আশায় বুক বেঁধে আছে নগরবাসী। বর্তমান দুই মেয়রের হস্তক্ষেপেই দখলমুক্ত হতে পারে রাজধানীর ফুটপাতগুলো। চিহ্নিত হবে পেছনের হাতগুলো। আরো সুন্দর হবে স্বপ্নের নগর। সুন্দর হবে নগর জীবন।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 4 = 9