সরকারের জঙ্গি বিরোধী অভিযান কি স্ববিরোধী লুকোচুরি খেলা নয় ?

সরকার বর্তমানে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে তাতে গত কয়দিনে ১১/১২ হাজার মানুষকে ধরেছে , বলা হচ্ছে তাদের মধ্যে অনেকেই জঙ্গি। কিন্তু তার আগে জানা দরকার , জঙ্গি বলতে সরকার কাদেরকে বুঝায়। কারাই বা জঙ্গি? জঙ্গিবাদই বা কি জিনিস। দেখা যাচ্ছ জঙ্গি বলে যাদেরকে ধরা হচ্ছে , তারা প্রায়ই মাদ্রাসার ছাত্র , ইমাম , মুয়াজ্জিন বা ইসলামী দলের সদস্য। তাহলে কি সরকার বুঝাতে চায় যে, মাদ্রাসা , মসজিদ বা ইসলামী দলগুলো জঙ্গিবাদ চর্চা করে ও মানুষকে জঙ্গি বানায় ? বিষয়টা খোলাসা হওয়া দরকার।

আমরা তো জানি মাদ্রাসায় ইসলাম শেখান হয়, মসজিদে নামাজ পড়ান হয়, ইসলামী দলগুলো ইসলামের ভিত্তিতে রাজনীতি করে দেশে ইসলামী শাসন কায়েমের জন্যে। তাহলে কি সরকার ইসলামকে জঙ্গিবাদী আদর্শ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। আর যারাই খাটি ইমানদার মুসলমান তাদেরকে জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত করেছে ? তো তাই যদি হয়, তাহলে আবার দেখা যাচ্ছে , এই সরকারই মাদ্রাসা ও মসজিদে বিপুল অনুদান প্রদান করছে , সারা দেশে ব্যপকভাবে ওয়াজ নসিহতের আয়োজন করেছে। সেটা আবার কেন করা হয় ? ইসলাম যদি জঙ্গিবাদই হয়, সেটার জন্যে উৎসাহিত করে , পরে যারা খাটি ইমানদার মুসলমান হচ্ছে আর তাদের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্যে কাজ করে যাচ্ছে , তাদেরকে আবার গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কেন ?

এ ধরনের স্ববিরোধী আচরন থেকে কিভাবে আশা করা যায় যে সরকারের এই জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান সফলতা লাভ করবে ?

ধর্মের নানা স্ববিরোধীতা ও অন্ধত্ব নিয়ে যারা ফেসবুক ব্লগে লেখা লেখি করত , তাদেরকে নাস্তিক আখ্যায়িত করে অনেককেই যখন এইসব খাটি ইমানদার মুসলমানরা চাপাতি দিয়ে হত্যা করছিল , তখন সরকার হত্যাকারীদের কাউকেই প্রায় ধরে নি , বিচার করে নি, বরং সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ লোকজন বলা বলি করছিল , ইসলামের সমালোচনা করা ঠিক না , ব্লগারদের উচিত হয় নি ইসলাম নিয়ে লেখালেখি করা অর্থাৎ পরোক্ষভাবে সরকার সেইসব ব্লগারদের হত্যাকে সমর্থন করছিল। সরকারের পুলিশবাহিনীও সেটাই অনুসরন করছিল। কারন এক পর্যায়ে তারাও তো মুসলমান আর তাই তারাও কেউ ইসলামের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। কিন্তু যখনই সেই সব কথিত জঙ্গি কোন এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে খুন করল, আর তখনই তাদের ইসলামী ইমানের ফাকা বুলি শেষ হয়ে গেল ? আর তখনই তাদের ইসলামী জোস শেষ ? আর তার সাথে সাথেই তারা বাংলাদেশের প্রকৃত সহিহ ইমানদার মুসলমানদেরকে জঙ্গি বলে ধরার জন্যে উঠে পড়ে লেগে গেল ? তার মানে ইসলামের নামে যতক্ষন অন্যদেরকে হত্যা করা হবে , ততক্ষন সব কিছুই ঠিক ঠাক , কিন্তু যেই নিজেদের কেউ হত্যার শিকার হবে , তখনই আর ইসলামের নামে হত্যা বলে পার পাওয়া যাবে না ? আর এই হলো সরকার ও পুলিশ বাহিনীর ইসলামী ইমান ?

এভাবে লুকোচুরি খেলে কি সরকার পার পাবে ? তারা কি জানে না , যে সাধারন মানুষের ৯০% মানুষই ইমানদার মুসলমান আর তাদের কাছে ইসলাম হলো সবার চাইতে উপরের বিষয়। তারা কি এভাবে বেশীদিন খাটি ইমানদার মুসলমানদেরকে জঙ্গি বলে গ্রেপ্তার করাটা মেনে নেবে ?

ইসলাম নিয়ে কথা বলা যাবে না , ইসলামের সব বিষয় চোখ বুজে অন্ধের মত বিশ্বাস করতে হবে ,কেউ যদি ইসলাম নিয়ে কোন প্রশ্ন করে , তাহলে তাকে চাপাতি দিয়ে হত্যা করলে কিছু বলা যাবে না, এইমত অবস্থায় সেই একই সরকার যদি যারা খাটি মুসলমান তাদেরকে জঙ্গি আখ্যায়িত করে গন গ্রেপ্তার শুরু করে , তাহলে দেশের ধর্মপ্রান মুসলমান একদিন প্রচন্ড জনরোষে ইসলামী উদ্দীপনায় জেগে উঠবে, এটা কি সরকারের লোকজন বুঝতে পারে না ? এই ধরনের স্ববিরোধী লুকোচুরি খেলায় সরকার ও জনগন উভয়ের জন্যেই এক ভয়াবহ পরিনতি অপেক্ষা করছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “সরকারের জঙ্গি বিরোধী অভিযান কি স্ববিরোধী লুকোচুরি খেলা নয় ?

  1. পরিণতি আসএই খারাপ হবে মনে হয়।
    পরিণতি আসএই খারাপ হবে মনে হয়।

    যাইহোক, প্রথমেই যেটা প্রশ্ন আসে, সেটা হচ্ছে অভিযানের জন্য ঘোষনা দিতে হবে কেন? আগে সতর্ক করে এরপর চোর পুলিশ খেলা খেলে লাভটা কি? হাজার ১৫ ধরা পড়েছে শুনলাম, সন্দেহভাজন নাকি মাত্র ২০০। বাকীগুলো তাহলে কি? না, ধরুক। সামনে তো ঈদ। পুলিশের তো ঈদের জন্য অতিরিক্ত কামাইয়ের দরকার আছে।

    প্রতিটা ধর্মভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তো এটাই শেখাবে যে তাদের ধর্মটাই শ্রেয় এবং রাষ্ট্রের আইন সে অনুসারেই হওয়া উচিত। আপনি ঠিকই বলেছে, যখন আবার তারাই খেলাফত বা ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করবে, তখন সেটা সরকার জঙ্গী বলবে কেন? আসলে তো তারাই মদদ দিচ্ছে। দ্বিমুখী নীতি বন্ধ হোক।

    1. খাটি সহিহ মুসলমানদেরকে জঙ্গি
      খাটি সহিহ মুসলমানদেরকে জঙ্গি আখ্যায়িত করে গ্রেপ্তার করা দেশের আপামর ধর্মপ্রান মুসলমানরা কখনই মেনে নেবে না। আপনি কি বলেন ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 5 = 9