প্রত্যক্ষদর্শী

গুলিবিদ্ধ লাশের পাশে একটা মানিব্যাগ পড়ে আছে। মানিব্যাগের উপর কয়েক ফোঁটা রক্ত। মতি পাগলা একটু দূরে বসে গাঁজায় দম দিচ্ছিলো। কিছুক্ষণ আগেই লোকটাকে খুন করা হয়েছে। পাগলা সবে মাত্র দুই নাম্বার টানটা দিচ্ছিলো। কোত্থেকে তিনটা ছেলে এসে লোকটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মাথায়, বুকে আর পেটে তিনটে গুলি করার পর তারা পালিয়ে যায়। লোকটার কাছে একটা কালো ব্যাগ ছিল। ছেলেগুলো ব্যাগটা নিয়ে গেছে। লোকটার নীল শার্ট রক্তে লাল হয়ে আছে। কালো প্যান্টের উপরও ছোপ ছোপ রক্ত। ছেলেগুলো মতির দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে ছিল। মতি পাগল হলেও বেকুব নয়। সে ছেলেগুলোর দিকে তাকায়নি। সমানে গাঁজায় দম দিয়ে যাচ্ছিলো। আজকের গাঁজাটা ভালো। ইদানিং ভালো গাঁজা পাওয়া যাচ্ছেনা। ধস্তাধস্তিতে লোকটার মানিব্যাগ পড়ে গিয়েছিল। ছেলেগুলো মানিব্যাগ নেয়নি। একটু একটু করে লোক জমছে। যেন বান্দরের খেলা চলছে। আরে বলদের দল, এখন এসে আর কী লাভ? আসল সিনতো সে কবেই শেষ। মতি আরো কয়েকটা দম দিলো। সাইরেনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। ওস্তাদেরা আইতাছে। মতি খেয়াল করলো মানিব্যাগটা আর দেখা যাচ্ছেনা। এই ফাঁকে কেউ হাপিস করে দিয়েছে। মতির হঠাৎ খুব হাসি পাচ্ছে। সে হো হো করে হেসে উঠলো। পুলিশের গাড়ি চলে এসেছে। পুলিশ দেখে মতি পাগলা গাঁজায় আরো কয়েকটা টান দিলো। গাড়ি থেকে সানগ্লাস পরা একজন অফিসার নেমেছে। ওয়ারলেসে কাকে কী যেন বলছে। জায়গাটা ঘিরে দেয়া হচ্ছে। মতি পাগলা আরেকটা গাঁজা ধরালো। নেশা হচ্ছেনা। সে পাগল হলেও বলদ না। নেশা না হলে বুঝতে পারে। অফিসার মতির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ওয়ারলেসে কথা বলতে বলতে অফিসার মতি পাগলার দিকে এগিয়ে আসছে। মতি গাঁজায় আরো দুইটা টান দিলো। আহ! কী শান্তি। অফিসারটাকে হিন্দী সিনেমার একটা নায়কের মত লাগছে। মতি নায়কটার নাম মনে করার চেষ্টা করছে।

এই তোর নাম কী?
মতি পাগলা অফিসারের দিকে তাকিয়ে আছে। তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশ তাকে কেন ধরলো ঠিক বুঝতে পারছেনা।
এই কথা কানে যায়না? তোর নাম কী?
ওস্তাদ আমার নাম মতি, মতি পাগলা।
তুই কি নেশা করোছ?
জ্বী ওস্তাদ। নেশা করলে পাগলামী কম করি। পাগল মানুষতো ওস্তাদ। নেশা করলে ঠিক থাকি।
খুনের সময় ওইখানে কী করতেছিলি?
নেশা করতাছিলাম। গাঁজার নেশা। আইজকার মালটা ভালো ছিল। ইদানিং ভালো মাল পাওয়া যায়না। দুনিয়াটা ভেজালে ভইরা গেছে।
অফিসার মতির দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে বললো-
কয়জন ছিল?
কোথায় ওস্তাদ?
খুনের ওখানে?
তিনজন।
মুখ বাঁধা ছিল?
না।
দেখতে কেমন?
চেংড়া পোলা।
বয়স কত?
জানিনা ওস্তাদ।
চেহারা দেখলে চিনতে পারবি?
না ওস্তাদ, আমিতো নেশা করতেছিলাম। মাথা এমনিতেই আউলা। কিছুই চিনুম না।

অফিসারের সাথে একজন ছিল। মতি পাগলা দেখলো সে কটমট চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। সে অফিসারকে বেশ বিরক্তি নিয়েই বললো, স্যার এই ব্যাটা একটা গাঞ্জাট্টি। আমাদের কোন কাজেই আসবেনা। টোটাল টাইম লস স্যার।

অফিসার এই কথা শুনে শক্ত মুখে কিছুক্ষণ মতি পাগলার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর একটা সিগেরেট ধরিয়ে টানতে লাগলো।

রাতের প্রায় আড়াইটা। মতি পাগলা চুপচাপ বসে আছে। তার সামনে একটা কালো ব্যাগ। তিনজন মুখ নিচু করে বসে আছে। তারা মতি পাগলাকে যমের মত ভয় পায়। মতি পাগলা তাদের দিকে গম্ভীর হয়ে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ মুচকি হেসে মতি পাগলা বললো, তোরা এবার আয়। আমার ঘুম পাচ্ছে।

মতি পাগলা তার মোবাইলটা বের করলো একটা গোপন জায়গা থেকে। তারপর সেখানে কন্টাক্ট লিস্টের বস লেখা নাম্বারে ডায়াল করলো।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 + = 85