আমি ভয় পাচ্ছি……!

সত্যি আমি ভয় পাচ্ছি, আমি কিছু ভাবতে, চলতে, বলতে, করতেও ভয় পাচ্ছি! আমি এখন একখন্ড-একদলা ভয়ের পোঁটলা!
আমি যে ভয় পাচ্ছি, তা বলতেও ভয় পাচ্ছি!
আমি যে কেনো ভয় পাচ্ছি, তা বলতেও ভয় পাচ্ছি!
মানে আমার ভয় পাওয়া, ভয়ের কারন সবকিছুই আবার ভয়মিশ্রিত! রাষ্ট্র স্বাধীন, কিন্তু আমি পরাধীন!
রাষ্ট্র আমাকে অপরাধীর চেয়েও বড় অপরাধী বানিয়ে দিয়েছে! বাসা থেকে বের হলেই সঙ্গে একটা আই.ডি কার্ডের প্যারা উপহার দিয়েছে!
এই ভয়ার্ত রাষ্ট্রে, ভয়ার্ত দেহটা বহন করতেও কষ্ট হচ্ছে! মনে হচ্ছে দিনকে দিন চিন্তার জায়গাটা, কলম ধরতে ব্যবহৃত আঙুলগুলো ও কী-বোর্ডে ব্যবহৃত আঙুলগুলো মানে দু’হাতের দশটা আঙুলকে বুঝিয়ে দিতে হবে, তোমরা স্বাধীন নও! তুমি আর প্রতিবাদে ব্যবহৃত শব্দগুলো ভাবতেও পারো না, লিখতেও পারো না!
মনে হচ্ছে আমি এই রাষ্ট্রের জন্ম-বসবাস অথবা দখলিসূত্রে বাসিন্দামাত্র, কিন্তু ওরা কয়েকজন এই রাষ্ট্রের ক্রয়সূত্রে মালিক! মানে তারা আমার কাছে রাষ্ট্রের ভূমি রায়তীসূত্রে থাকতে দিয়েছে মাত্র!
ঈশ্বর আমাকে জীবনটা দিয়ে প্রচন্ড রকম ফাঁসিয়ে দিয়েছেন!
রাষ্ট্র যখন ইচ্ছা তার প্রয়োজনে আইনগুলো নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে!
রাষ্ট্রের কাছে আবেদন করবো, বাংলা একাডেমির অভিধান থেকে সব ধরনের প্রতিবাদের শব্দগুলো বাতিল করা হোক! এই শব্দগুলো অপ্রয়োজনীয়! যে শব্দগুলো শিখার পর বলার-ব্যবহার করার স্বাধীনতা নাই, সেই শব্দগুলো অভিধানে জঞ্জাল ছাড়া আর কিছুই না! অযথা অভিধানটা ভারী হয়ে থাকবে কেনো?
ভয়ের আতিশয্যে আক্রান্ত এই রাষ্ট্রে ভয়ের জয় হোক! কারন ভয় বেঁচে থাকলে যে রাষ্ট্রযন্ত্র-ক্ষমতা সবই টিকে থাকবে!
আমার ঘর পুড়ে যাক
তবু রাষ্ট্র বেঁচে থাক,
ক্ষমতাও টিকে থাকুক
মহাজন ভালো থাকুক।।
প্রাসঙ্গিক রেফারেন্স : “সমালোচনা করতে ভয় পেয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নানা ছায়া-শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে।” বাংলা ট্রিবিউনে সাম্প্রতিক বিষয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের শেষ দু’লাইন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 60 = 69