অন্ধকার যাত্রা – ১

বাংলাদেশকে ইসলামাইজেশনের যে বিশাল চেষ্টা গত কয়েক দশক থেকে চলছে তা শুধু মাত্র যে নাস্তিক হত্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না সেটা অনুমেয়ই ছিল। নাস্তিক হত্যা যে ক্ষনিক উত্তেজনার বশে করে ফেলা কোন কাজ না, একটা বৃহৎ পরিকল্পনার একটা অংশ মাত্র এটা বোঝা বেশ শক্ত কাজ। একেকটা খুনের পর পাবলিক প্লেসে বা অনলাইন প্লাটফর্মগুলেতে যে আলোচনা হয় তাতে এটা পরিস্কার যে এই হত্যাকান্ডের পিছনে সাধারণ ধার্মিক মানুষদের একটা মৌন ও সবর উভয় সমর্থনই আছে। তবে নাস্তিকরা ইসলামের সমালোচনা করছে তাই গোটা দশেক নাস্তিক মেরে দুরাকাত নফল নামাজ পড়ে “মিশন কমপ্লীট” করে দেবে এমনটা ভাবা দুরাশা। সেমনটা হয়ও নি। নাস্তিক এর পাশাপাশি হত্যাকান্ডের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, বাউল, সমকামী, শিয়া, কাদিয়ানী, অমুসলিম ধর্মীয় গুরু থেকে অমুসলিম খেটে খাওয়া নাগরিক, এমনকি ইসলাম ধর্মেরই ভিন্ন মতালম্বী ইসলামী নেতারাও।

এই পরিস্থিতির শেষ কবে হবে এটা আপাত দৃষ্টিতে আমরা সেটা জানি না। আমরা একটা বৃহৎ পরিকল্পনার মাঝামাঝি স্তরে আছি। যে কারনে একের পর এক হত্যাকান্ড হচ্ছে এবং সাধারণ জনগনও এটে হবিচ্যুয়েট হয়ে পড়ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে সমর্থনও জুগাচ্ছে তাতে এটা স্পষ্ট যে বাংলাদেশকে নিয়ে এই পরিকল্পনা তাদের দিক থেকে সঠিক ভাবেই আগাচ্ছে। স্বাধীনতার কিছু দিন পরথেকেই ধীরে ধীরে যে মৌলবাদি মতাদর্শের বিকাশ হচ্ছিল, কিছুটা রাজনৈতিক সহায়তা, কিছুটা মানুষের মুর্খতা, ধর্মান্ধতা সব একত্রিত হয়ে মুল রাস্ট্রীয় দর্শনটাকেই প্রায় ১৮০ ডিগ্রী ঘুরিয়ে দিয়েছে এই চার দশকে। যে দলটা এক সময়ে নিজেদের নাম থেকে “মুসলীম” শব্দটা বাদ দিয়ে নিজেদের সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়ীক দল হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছিল সে দলটাই আজ ভোটের আগে হজ্ব করে এসে মাথায় টুপি পরে, ফুল হাতা ব্লাউজ পরে কত বড় ধার্মিক তা প্রমানের প্রানান্ত কসরত করে। যে দলগুলো এরশাদ সরকারের রাস্ট্রধর্ম প্রবর্তণের মত সস্তা ধর্ম ব্যবসার তুমুল প্রতিবাদ করেছিল আজ ভোটযুদ্ধে তারাই সেই ধর্ম ব্যবসাকে সব থেকে লাভজনক মনে করছে।

মৌলবাদি অর্থনীতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত ব্যপক গবেষনা করেছেন। দেখিয়েছেন ইসলামী অর্থনীতির নামে এই মৌলবাদি অর্থনীতির শিকড় কতদূর গেড়ে গেছে। স্বৈরশাসকরা যে মৌলবাদি অর্থনীতির ভিত্তি দিয়ে গেছে, পরবর্তীতে গনতান্ত্রীক সরকারগুলো সেই বেড়ে ওঠা চারাগাছে সার মাটি দিয়ে মহীরূহতে পরিনত হতে সাহায্য করেছে। আবুল বারকাত এটাও দেখিছেন মৌলবাদি অর্থনীতির একটা অংশ কিভাবে মৌলবাদি মতাদর্শ বিকাশে ব্যবহৃত হচ্ছে। যার ফল আমরা দেখতে পাচ্ছি কিভাবে দেশের মানুষ ক্রমেই সাধারণ ধার্মিক থেকে উগ্র ধার্মিকে পরিনত হচ্ছে। যে রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা আজ সেখানে সাধারণ মাথায় ঢুকে গেছে ধর্মনির্পেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা। পহেলা বৈশাখ যে ইসলামী মুল্যবোধের সাথে যায় না, এই ধারণা লালনকারী লোকের সংখ্যা চক্রবৃদ্ধি হারেই বাড়ছে। অনেক নামীদামী লোক আর রাখ-ঢাক না করে সরাসরিই এর বিরোধিতা করছে। কবিগুরু ক্রমেই হিন্দু কবি হিসেবেই পরিচিত হচ্ছে। গ্রাম বাংলার লৌকিক আচারগুলো ক্রমেই অনৈসলামিক বিবেচিত হচ্ছি। এমনকি যে ধর্মীয় আচারগুলোও এদেশীও আচারের সাথে মিশে সামাজিক হয়ে ঊঠেছিল আজ জানা যাচ্ছে সেগুলো নাকি ঠিক ইসলাম সম্মত না।

আমরা মুটামুটি একটা ফ্যান্টাসির মধ্যে আছি। আমাদের দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে বসে আসে এই দেশে ইসলাম কায়েম হয়ে, দেশের সব দুর্নীতি-অনাচার সব শেষ হবে, আল্লার রহমত পেয়ে আমাদের দেশের সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আজ রাস্তার মোড়ে মোড়ে মসজিদ নির্মাণ করেই ক্ষান্ত হইনি। অফিস আদালতের প্রতি ফ্লোরে ফ্লোরে মসজিদ হচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীগন বেশ আয়োজন করেই ইদানিং ছবক দিচ্ছেন- ইসলামই একমাত্র শান্তির ধর্ম। দুনিয়ার সব সুখ, শান্তি ইসলামের মাঝেই নিহিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরাও নিয়ম করে এই টাইপ ওয়াজ করছেন।

মিডিয়া, ব্যাংক, বীমা, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুল বিনিয়োগ ইসলামপন্থীদের জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ সোশিও-ইকোনোমিক বেজ তৈরী হয়েছে। আজ এদেশের মানুষেরও ঠিক পাকিস্তানের মত উঠতে বসতে ধর্মানুভুতিতে আঘাত পাচ্ছে। ঠিক পাকিস্থানের মতই মসজিদের মাইক ব্যবহার করে উন্মত্ত জনতাকে ডেকে ইসলামের অবমাননাকারীদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা চেচাচ্ছিলাম যে, দেশটা পাকিস্থান হয়ে যাচ্ছে। তখন অনেকেই কটাক্ষ করে বলেছে – শুধু নাস্তিক মারলেই দেশটা পাকিস্তান হয়ে যায়? না নাস্তিক মারলেই দেশ পাকিস্থান হয় না, যে দর্শণটা আজ নাস্তিক মারছে সেই দশর্ণটা কাল শিক্ষক মারবে, বাউল মারবে, সমকামী মারবে, শিয়া কাদিয়ানী মারবে, মারবে বাউলদেরও। সেটা শুরুও হয়েছে। এবং ক্রমান্বয়ে পাকিস্তানের মত একটা ব্যার্থ রাষ্ট্রের দিকেই আগাচ্ছি।

সব থেকে ভয়ংকর কথা হচ্ছে এরকম একটা উগ্র ধর্মীয় ধর্মীয় দর্শণ নিয়ে আমাদের দেশের মানুষের খুব একটা ভাবান্তর নেই। “নাস্তিক মারছে, বেশ করছে, আল্লা-নবীরে নিয়া ফাইজলামী করার যায়গা পায় না”- সাধারণ মানুষের মনভাবটা এই পর্যায়েই আছে এখন পর্যন্ত। বাউল, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, সমকামী, শিয়া কিংবা কাদিয়ানী যেই ভিকটিম হোক না কেন সবাই দিন শেষে নাস্তিক ও ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবেই পরিচিতি পাচ্ছে এবং তাতে হত্যাকান্ডগুলোও একরকম লিগালাইজ হয়ে যাচ্ছে।

দ্বি-জাতি তত্ত্বের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। সারা পৃথিবীতেই ধর্মের ভিত্তিতে জাতিসত্ত্বার বিভাজনের প্রচেষ্টা কখনও শুভ হয়নি। আজ পৃথিবীর কোন প্রান্তের মুসলমান আহত হয়েছে শুনলে আমাদের দেশের মানুষ আবেগে বিহ্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু বাস্তবতা হল শক্তিশালী মুসলমান দেশগুলোর বাংলাদেশের লোকদেরকে মিসকিন হিসেবেই দেখে। কিছুদিন আগে আইএস এর এক মুখপাত্র বাংলাদেশ নিয়ে তাদের বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তাদের ভাষায় বাংলাদেশের মানুষের ইসলামের প্রতি প্রেম আছে, কিন্তু নানা ইহুদি ষড়যন্ত্রে এই দেশের মানুষ প্রকৃত ইসলাম থেকে অনেক দূরে আছে। মজার ব্যাপার পাকিস্থানিরাও বাংলাদেশীদের ব্যাপারে এই একই অভিযোগ করত একসময় যে বাংলাদেশের মানুষ অনেকখানি হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি লালন করে। আমরা যতই চেষ্টা করি আইএস বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে আমরা সহিহ মুসলমান হতে পারব না। কোন পন্য ভিন্ন দেশে প্রচলন করতে গেলে তাকে “লোকাল এডাপ্টেশন”* প্রসেস পার হতে হয়। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সেই লোকাল এডাপটেশনের ফলে কখনই আরবের ইসলাম আর দক্ষিন এশিয়ার ইসলাম এক হবে না।

লেখার এই পর্যায়ে খরব এল খুনের ব্যাপ্তি আরো একটু বেড়েছে। এবার খুন হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী। যে পুলিশ কর্মকর্তা জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে বেশ নাম করেছেন। এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নাস্তিকতার কোন অভিযোগ নেই, খুন হওয়া স্ত্রীর হিজাব দেখে এটা ধরণা করা যায় পরিবারটি সাধারণ ধর্মভীরু ছিল। তথাপিও হামলা হল কারন, দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়ার প্রতিশোধ স্বরুপ। এখন আমরা ভবিষ্যত ভিকটিম কে বা কারা হতে পারে তার একটা অনুমান করতে পারি। এক্ষেত্রে আপনার নামায, রোজা, হিজাব পরা বা সাধারণ ধর্মচর্চার মত ব্যাপারগুলো খুব একটা সেফগার্ড হিসেবে কাজ করবে না। মধ্যপ্রাচ্যের যে রাস্ট্রগুলো ইসলাম কায়েমের চেষ্টা করছে সে দেশগুলোর দিকে তাকালেই দেখতে পাই যে সে দেশগুলোতে সাধারণ মুসলিম নাগরিকই খুন হচ্ছে উগ্র মতাদর্শের মুসলমানদের হাতে। বাংলাদেশে ইসলাম কায়েমের পথে আসলে নাস্তিক গোষ্ঠি খুব একটা বাধা না। দেশের নাস্তিকের সংখ্যা ০.১ শতাংশও হবে কিনা সন্দেহ। নাস্তিক হত্যা শুধু দেশে ইসলাম কায়েমের একটা মেসেজ দিচ্ছে। দেশে ইসলামাইজেশনের বলি দেশে সাধারণ ধার্মিকরাই হবে ভবিষ্যতে। দেশে নাস্তিক হত্যায় বেশ একটা তৃপ্তি পাচ্ছে যারা আগামীতে তারা বা তাদের পরিবার যখন ভিকটিম হবে তখন হয়ত বোধদয় হবে। এমনিতে আমাদের দেশের মানুষ কাজ দিয়ে নয় মুখ দিয়েই বিপ্লব করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এদেশে নামাজের সময় ফেসবুকে বসে নামাজের ফজিলত সম্পর্কিত পোস্ট দেয়াটাই বেশী সোয়াবের মনে করে। কিছুদিন আগে দেখা গেল সিরিয়ায় আইএস অধ্যুসিত এক এলাকায় একজন নারীকে শিরঃশ্ছেদ করা হল ফেসবুকে ব্যবহার করার কারনে। ঊগ্র ধর্মীয় মতবাদগুলো প্রচন্ড মাত্রায় নারী শিক্ষা বিরোধী। আগামীতে কি হবে যদি উগ্র কোন ইসলামীক দল কোন নারী স্কুলে গিয়ে এলএমজি নিয়ে হামলা করে। কিংবা নারী ডাক্তার, সাংবাদিক বা পেশাজীবীরা ঘর থেকে বের হয়ে পরপুরুষের সাথে চাকরী করার অপরাধে লাশ হয়ে ফিরে আসে। কিংবা কৈশোরে চুল একটু বড় রাখা, একটু ফ্যাশনেবল জামা-কাপড় পরার মত অপরাধও হত্যার কারন হতে পারে, আর এইরকম ক্ষেত্রে ভিকটিক নিজের পরিবারের কেউ হলে কেমন হবে? আংশকাগুলো করতে হচ্ছে কারনে এসবই কথিত ইসলামীক দেশ, যেগুলোতে শরীয়া আইন জেকে বসেছে সেগুলোতে বেশ কমন চিত্র।

রিপোর্টে এসেছে বাংলাদেশের ৮৪% মানুষ শরীয়া আইন চায়। সরকার এই ধর্মান্ধায় ডুবতে থাকা জনগোষ্ঠি কে জ্বালানী দিচ্ছে। সরকার প্রধান বেশ ঘটা করে বলছে ধর্ম নিয়ে লেখালিখি করে খুন হলে সরকার পতার দায় নেবে না। এই বক্তব্যের পর থেকে জংগীরা দ্বিগুন উৎসাথে খুনের মহোৎসব চালাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অনেকটাই নির্বাক দর্শক। দু একজনকে ধরতে পারলেও কার্যত কোন ঘটনারই কোন কুলকিনারা করতে পারছে না। আসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেই সক্ষমতাই নেই। এতদিন স্বরাস্ট্রমন্ত্রী ভিকটিমের উপর দোষ চাপিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছিল, পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যার পর সেটি আর পারছে না। আজ পুলিশ ভিকটিম হচ্ছে, আজ পুলিশও দেখা যাচ্ছে অসহায়ের মত মানব বন্ধনে দাঁড়িয়ে। নেক্সট কারা হবে? বাংলাদেশে কার্যত কোন বিরোধীদল নেই। সরকারের কর্মকান্ডে সবাই নাখোশ। এই বিরাট রাজনৈতিক শুন্যতায় এই জংগী গোষ্টি পুরো সুযোগটা নেয়া চেষ্টা করবে স্বাভাবিক, কিন্তু সেই স্রোতে গাঁ ভাসিয়ে দেয়ার পরিনাম কি হবে সেটা আমাদের ধারণারও বাইরে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “অন্ধকার যাত্রা – ১

  1. সুন্দর পোষ্ট । কিন্তু এই
    সুন্দর পোষ্ট । কিন্তু এই পোষ্ট তেমন কেউ পড়বে না , পড়লেও মন্তব্য করবে না। ধার্মিকদের কাছে এসব কথার কোন মূল্য নেই। তারা সবাই বেহেস্তের হুর পরীদের স্বপ্নে বিভোর । আর তা না হলে দোজখের আগুনের ভয়ে সব সময় সিটকে থাকে। একটা শিশু জন্মগ্রহনের পর যখন তার জ্ঞান হয়, প্রথম কথা ফোটে তখন যদি তাকে মুহাম্মদ আর আল্লাহর নাম শিখান হয়, তার প্রথম শিক্ষাটাই যদি আরবী দিয়ে মসজিদে শুরু হয়, তাহলে সেই জাতির মধ্যে যে ক্রমশ: মৌলবাদী চেতনার উদ্ভব ঘটবে , তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

    1. ধার্মিকদের কাছে কি আর এই
      ধার্মিকদের কাছে কি আর এই দুনিয়ার কোন কিছুর মুল্য আছে? জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, আমাদের সভ্যতা এর মুহুর্তেই গুড়িয়ে দিতে পারে জেহাদী জোস উঠলে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 2