হে জিহাদী মুমিন, আসো আমরা ইসলাম বিরোধীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করি

একথা এখন সবাই জানে , ইসলাম ও সন্ত্রাস পরস্পর এক। সন্ত্রাস ছাড়া কোন ইসলাম নেই। মক্কায় দুর্বল মুহাম্মদ কিছুদিন শান্তির কথা বলেছিলেন কিন্তু মদিনায় গিয়ে একটা সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে একের পর এক বানিজ্য কাফেলায় ডাকাতি , মদিনার আশপাশের নানা বসতি আক্রমন ও তাদের সম্পদ লুটপাট করে, তাদের নারীদেরকে বন্দিনী করে যৌনদাসী হিসাবে ব্যবহার করে, সবাইকে বশ্যতা স্বীকার করিয়ে ইসলামকে একটা খাটি জিহাদী বা সন্ত্রাসবাদী রাজনৈতিক মতবাদ রূপে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মুহাম্মদ মারা যাওয়ার পর তার সাহাবীরা সেই জিহাদী পথ অনুসরন করেই একটা ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছিল। অথচ বর্তমানে কিছু নামধারী মুসলমান এখন বলছে ইসলাম নাকি শান্তির ধর্ম।

ইসলামের খাটি বিধান জানার জন্যে নিচে কিছু কোরানের আয়াত ও হাদিস দেয়া হলো , তাহলেই বোঝা যাবে ইসলাম আসলে শান্তির আদর্শ নাকি সন্ত্রাস বা জিহাদের আদর্শ। এইসব আয়াত ও হাদিসের মধ্যে কোথায় শান্তির কথা বলা আছে ?

সুরা আনফাল- ৮: ৩৯: আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।

সুরা তাওবা – ৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তা্ওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

সুরা নিসা- ৪: ৯৫: গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০:
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আমাকে বিজয়ী করা হয়েছে। একবার আমি নিদ্রায় ছিলাম, এমতাবস্থায় পৃথিবীর ধনভান্ডার সমূহের চাবি আমার হাতে অর্পণ করা হয়। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তো চলে গেছেন আর তোমরা তা বের করছ।

==========================================================
সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১:
আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি ।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ২ :: হাদিস ২৪:
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মুহাম্মদ আল-মুসনাদী (র) ………… ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্(সা) ইরশাদ করেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য আদিষ্ট হয়েছে, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই ও মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ্(সা) আল্লাহ্‌র রাসূল, আর সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করল; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারন থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহ্‌র ওপর ন্যস্ত।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ২ :: হাদিস ২৫:
আহমদ ইব্‌ন ইউনুস ও মূসা ইব্‌ন ইসমা’ঈল (র) ……. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্(সা) কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কোন্ আমলটি উত্তম?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘তারপর কোনটি?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদ করা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘তারপর কোনটি।’ তিনি বললেনঃ ‘মকবূল হজ্জ।’

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৫ :: অধ্যায় ৫৯ :: হাদিস ৩৭৭:
আবদুল্লাহ্ ইব্ন মুহাম্মদ (র)……জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্(রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,এক ব্যক্তি উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বললেন, আপনি কি মনে করেন, আমি যদি শহীদ হয়ে যাই তাহলে আমি কোথায় অবস্থান করব? তিনি বললেন, জান্নাতে। তারপর উক্ত ব্যক্তি হাতের খেজুরগুলো ছুঁড়ে ফেললেন, এরপর তিনি একাই লড়াই করলেন। অবশেষে তিনি শহীদ হয়ে গেলেন।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২০৮:
ইসহাক ইব্ন ইব্রাহীম (রা)………..মুজাশি’ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি আমার ভাতিজাকে নিয়ে নবী (সাঃ)- এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তারপর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদেরকে হিজরতের উপর বায়আত নিন’। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, ‘হিজরত তো হিজরতকারীগণের জন্য অতীত হয়ে গেছে’। আমি বললাম, ‘তাহলে আপনি আমাদের কিসের উপর বায়আত নিবেন?’ তদুত্তরে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, ‘ইসলাম ও জিহাদের উপর’।
========================================================

কোরান ও হাদিসের পাতায় পাতায় মুহাম্মদ ও তার আল্লাহ মুসলমানদেরকে বলেছে তারা যেন অমুসলিমদেরকে হত্যা করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে , অথচ কিছু কথিত আলেম বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে ইসলামে নাকি সন্ত্রাস নেই। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নাকি ইসলাম বিরোধী।

তাই আসুন জিহাদী মুমিনেরা , আমরা এই সব কথিত আলেম তথা মুনাফিকদের বিরুদ্ধে কঠিন জিহাদ ঘোষনা করি ও তাদেরকে চিরতরে দুনিয়া থেকে ধ্বংস করে দিয়ে সারা দুনিয়ায় ইসলাম প্রতিষ্ঠা করি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “হে জিহাদী মুমিন, আসো আমরা ইসলাম বিরোধীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করি

  1. আসলে যুদ্ধ-বিগ্রহ ছাড়া
    আসলে যুদ্ধ-বিগ্রহ ছাড়া পৃথিবীর ভাল কিছুই পাওয়া যায় নি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আর জাতীর মুক্তি আর স্বাধীনতার পাওয়ার পেছনে রয়েছে যুদ্ধ আর বিগ্রহ। ঠিক তেমনি ইব্রাহীম, মুসা , ইসা , মুহাম্মদ সব মহাপুরুষকেই বিরোধ আর যুদ্ধাবস্থার মধ্যে দেয়ে যেতে হয়েছে। আর মুহাম্মদ যেহেতু ইসলামের চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিলেন তাই তাকে বিরোধীতার সম্মুখীন হতে হয়েছে সবচেয়ে বেশী, আর যুদ্ধও করতে হয়েছে বেশী। আপনার দেয়া কোরানের আয়াতগুল সেই সব যুদ্ধেরই নির্দেশ।

    তাছাড়া সে সময়কার কাঠমোল্লা, বেহুলার ভেলা, থাবা বাবা, আসীফ মহীউদ্দিনদেরকেও তো সামলাতে হয়েছে, যারা ছিল মারত্নক হুমকী।

    1. যীশু বা গৌতম বুদ্ধ কোথায়
      যীশু বা গৌতম বুদ্ধ কোথায় যুদ্ধ করেছেন ? কার সাথেই বা যুদ্ধ করলেন ?

      জাতীয় মুক্তি বা স্বাধীনতার যুদ্ধ তো একটা রাজনৈতিক বিষয়। ইসলাম যদি এদেরই মত কিছু একটা হয়, তাহলে কি ইসলামও একটা রাজনৈতিক মতবাদ ? তাই যদি হয়, তাহলে ইসলামের সমালোচনা করা যাবে না কেন ? দুনিয়ার এমন কোন রাজনৈতিক মতবাদ আছে যা সমালোচনার উর্দ্ধে ?

      যখনই ইসলামের সমালোচনা করা হবে , তখনই বলবেন ইসলাম একটা ধর্ম , আর তাই ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেয়া ঠিক না। আবার যখনই ইসলামের সন্ত্রাসের বিষয় কোরান হাদিস থেকে দেখান হবে , তখন বলবেন সেটা রাজনীতির বিষয়। তা তাই যদি হয়, তাহলে ইসলামের সমালোচনাটা আর ধর্মীয় অনুভুতির বিষয় হয় কিভাবে ?

      আশা করি এবার সমস্যাটা বুঝতে পারছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

22 − = 20