প্রেমপত্র-৭৬

কুহেলীকা,
ধরো কাল তোমার প্রেজেন্টেশন,রাত জেগে লেপটপে বসে আছ,
মাথাটা বড্ড ধরেছে তোমার,হঠাত যদি উইন্ডোজ বন্ধ করে দুষ্টুমির কন্ঠে বলে উঠি ভালবাস? তুমি কি আমাকে ঘর থেকে বের করে দিবে?নাকি উঠে এসে জড়িয়ে ধরে বলবে,ভালবাসি, ভালবাসি।ধরো ক্লান্ত তুমি,ক্লাস থেকে সবে ফিরেছ ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত পীড়িত.।খাওয়ার টেবিলে কিছুই তৈরি নেই,এমন সময় যদি চিকেন পিজ্জাটা সামনে দিয়ে,আমি তোমার
হাত ধরে যদি বলি- ভালবাস?তুমি কি বিরক্ত হয়ে খাওয়ায় মনযোগ দিবে?
নাকি আমার হাতে আরেকটু,চাপ দিয়ে বলবে ভালবাসি, ভালবাসি।
ধরো তুমি শুয়ে আছ সবেমাত্র ঘুমিয়েছ তুমি,এমন সময় একটা তেলাপোকা যদি গায়ে ছেড়ে দিয়ে শশব্যস্ত এই তোমাকে বলি ভালবাস?
তুমি কি তখন ফুলঝাড়ুটি নিয়ে আমায় তাড়া করবে?নাকি ভয়ে জাপটে ধরে বলবে ভালবাসি, ভালবাসি।ধরো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি দুজনে,এমন সময় কিছু ইভটিজার যদি অশ্লিল মন্তব্য ছুঁড়ে দেয়,তবে আমি তাদের পিটিয়ে চামড়া তুলে তেজি কন্ঠে যদি বলি-ভালবাস?তবে তুমি কি আমার তেজ দেখে ভয় পেয়ে যাবে?নাকি পরম বিশ্বাসে তোমার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে তোমার মাথা এ বুকে রাখবে?ধরো আমারা দুজন টিএসসির পথে হাঁটছি মাথার উপর তপ্ত রোদ,সিএনজি পাওয়া যাচ্ছেনা,এমন সময় হঠাত দাঁড়িয়ে অপরাজেয় বাংলার পাশে হাটুমুড়ে পথরোধ করে চিৎকার করে হাতটা বাড়িয়ে যদি বলি-ভালবাস?তুমি কি হাত সরিয়ে দেবে?নাকি রাস্তার সবার দিকে তাকিয়ে হাতে হাত দিয়ে বলবে ভালবাসি, ভালবাসি।
ধরো এক মন খারাপের বিকেলে কিছুই তোমার ভাললাগছে না।এমন সময়
এক ফোঁটা রক্ত দিয়ে দেয়ালে তোমার নাম লিখে যদি বলি ভালবাস?
তুমি কি বকা দেবে?নাকি ভেজা চোখে আমায় জড়িয়ে আমার গালে গাল লাগিয়ে আদুরে গলায় বলবে ভালবাসি, ভালবাসি।ধরো তুমি খুব অসুস্থ তুমি,জ্বরে কপাল পুড়ে যায় হাসপাতালের বিছানায় কাটে বিশ্বাদ দিনগুলি।
মুখে নেই রুচি, নেই কথা বলার অনুভুতি,এমন সময় কিছু ফলের টুকরো তোমার মুখে দিয়ে অথবা মাথা ঝাকিয়ে বলি তোমাকে কিন্তু তারাতারি সুস্থ্য হতে হবে তুমি ছাড়া যে আমি বড্ড একা তারপর হাতধরে যদি বলি-ভালবাস?তুমি কি চুপ করে থাকবে?নাকি তোমার গরম শ্বাস আমার
শ্বাসে বইয়ে দিয়ে বলবে ভালবাসি,ভালবাসি।
ধরো মৌলবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি আমি,প্রচন্ড যুদ্ধে তুমিও অঃশীদার আমার।মৌলবাদিরা ঘিরে ফেলেছে আমায় চারিদিক থেকে।হয়ত জয় নতুবা ক্ষয় এমন পরিস্থিতিতে শেষ যুদ্ধের আগে মাথা ঠান্ডা করে আমি তোমায় জিজ্ঞেস করলাম-পাগলি ভালবাস? ক্রুদ্ধস্বরে তুমি কি বলবে যাও তোমার মাথা কি ঠিক আছে?নাকি চিন্তিত আমায় আশ্বাস
দেবে,বলবে আমার তোমার উপর ভরসা আছে বুঝলে তোমায় ভালবাসি, ভালবাসি।
ধরো শিক্ষাসফরে বিদেশ যাচ্ছ তুমি,দেরি হয়ে যাচ্ছে,বেরুতে যাবে,হঠাত
পিছন থেকে পাজাকোলা করে জড়িয়ে যদি বলি-ভালবাস?তখন কি বিরক্ত হবে?নাকি ট্রাভেল ব্যাগফেলে চুলে বিলি কেটে বলবে ভালবাসি, ভালবাসি।
ধরো রোয়ানুতে উড়ে গেছে ঘরবাড়ি,আশ্রয় নেই বিধাতার দান এই
পৃথিবীতে,বাস করছি দুজনে চিন্তিত তুমি এমন সময় তোমায় বুকে জড়িয়ে ধরে যদি বলি পাগলি চিন্তা করোনা আমিতো আছি একবার খালি বলো ভালবাস?তুমি কি আমায় সরিয়ে দেবে?নাকি আমার বুকে হাত রেখে বলবেভালবাসি, ভালবাসি।
ধরো সব ছেড়ে চলে গেছ কত দুরে,সাড়েতিন হাত মাটির নিচে শুয়ে আছ
হতভম্ব আমি যদি বিদ্ধস্ত পাগল অপ্রকৃতস্থ ভাবে চিৎকার করে বলি-একদিনও কোথায় আমায় ছেড়ে একলা থাকতে পারবে না,সবসময় পাশে থেকে বলবে ভালবাসি ভালবাসি,বলো ভালবাস?তুমি কি তখন চুপ করে থাকবে?নাকি সেখান থেকেই উঠে এসে বলবে আরে পাগলা আমিতো মাটির নিচে শীতলতা মাপতে গিয়েছিলাম বাইরে যে গরম পড়েছে,তোমাকে ছেড়ে যাব সেই সাদ্ধি কি আছে?আমাকে তখন বলবে ভালবাসি, ভালবাসি।
যেখানেই যাও,যেভাবেই থাক,দূরে অথবা কাছে থাক অথবা না থাকলেও দূর থেকে একবারের জন্যে হলেও বলো ভালবাসি, ভালবাসি, ভালবাসি।
দূর থেকে অথবা তোমায় সর্বশক্তিতে এই বুহুতে জড়িয়ে শুনব তোমার।কন্ঠস্বর,বুঝব তুমি আছ,তুমি আছ।আমায় বলছো ভালবাসি, ভালবাসি.।
বুঝলে পাগলী এই ১৬ কোটির পৃথিবীতে তোমাকে সবথেকে আলাদা লাগে,থাকুক এমন ১৬ কোটি বা আরো হাজার হাজার জন।তুমি থাকো এমন অগোছালো এখনটা যেমন আছো আমি সারাজীবন পাশে থাকব তোমাকে গোছাতে।তোমার সব পাগলামির সাথে পাগল হবো তুমি বললে মতিঝিল সিটিসেন্টার থেকে লাফ দিব কিন্তু তাও তোমার হাত ছাড়ব না। তোমার জন্য আমার পৃথিবী বদলাবো কতকাল ভোরের সূর্য না দেখা এই আমি মোরগের মতো আলো ফুটলেই জেগে যাব কিন্তু তোমাকে বদলাতে হবে না।তোমার আকাশে হাজার তারা ঘুরঘুর করবে তোমার পিছু কিন্তু আমি হব তোমার একক সূর্য।আমি ছাড়া আর কোন তারা চোখে পরবে না।আমাকে কখনো ডাকার প্রয়োজন হবেনা কারন আমার অনুপস্থিতি কখনো অনুভব ই হবে না।তোমার সকল দুর্বলতা,পাগলামী,ভাল ও খারাপ সব নিয়ে ভালবাসি এবং বাসবো বিশ্বাস করো!
তোমাতে উদিত হয়ে তোমাতেই অস্তমিত যাব।
ইতি
মেঘবালক
[সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের “ভালবাসি, ভালবাসি” কবিতা অবলম্বনে]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

42 + = 44