যীশুর শিক্ষা ও মোহাম্মদের শিক্ষা- কার শিক্ষা মুসলমানদেরকে রক্ষা করতে পারে ?

শান্তিবাদী মুসলমানরা মনে প্রানে বিশ্বাস করে ইসলাম শান্তির ধর্ম, কিন্তু দেখা যাচ্ছে যারা প্রকৃত ইসলাম জানে , তারাই ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে যাচ্ছে , চালাচ্ছে আত্মঘাতী হামলা, গনহত্যা , নারী ধর্ষন ইত্যাদি। এইসব শান্তিবাদী মুসলমানদের একজন ঈশ্বর দরকার , তারা বিপদে আপদে সেই ঈশ্বরকে ডাকাডাকি করে শান্তি পেতে চায়, কিন্তু ইসলামের আল্লাহ বর্তমানে শান্তির বদলে অশান্তি উপহার দিচ্ছে , যা শান্তিবাদী মুসলমানদেরকে মহাবিপদে ফেলে দিচ্ছে। এইসব শান্তিবাদী মুসলমানদেরকে উদ্ধার করতে পারে একমাত্র যীশু আর তার শিক্ষা। উল্লেখ্য, খৃষ্টানরা নবীদের ধারাবাহিকতা বোঝার জন্যে বাইবেলের পুরাতন নিয়ম সংরক্ষন করে কিন্তু তারা শুধুমাত্র যীশুর শিক্ষাই অনুসরন করে।

মোহাম্মদের শিক্ষা:

সুরা তাওবা-৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তাওবা-৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০:
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ——— শত্রুর মনে সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আমাকে বিজয়ী করা হয়েছে। একবার আমি নিদ্রায় ছিলাম, এমতাবস্থায় পৃথিবীর ধনভান্ডার সমূহের চাবি আমার হাতে অর্পণ করা হয়। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তো চলে গেছেন আর তোমরা তা বের করছ। –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১:
আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি ।

এরকম আরও শত শত আয়াত ও হাদিস থেকে দেখা যায়, ইসলামের বিধান হলো অমুসলিমদের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী যুদ্ধ জারির বিধান। এত যুদ্ধ , হত্যা এর মধ্যে ইসলাম কিভাবে শান্তির ধর্ম হয় সেটা আমরা বুঝতে অক্ষম। ইসলাম যদি শুধুমাত্র একটা ধর্ম হয় , আর সেটা যদি কোন সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে আসে , তাতে এত হত্যা, যুদ্ধ ইত্যাদির কথা থাকবে কেন ? যারা অবিশ্বাসী তাদেরকেও তো ঈশ্বর নিজেই সৃষ্টি করেছে , নিজেই যাদেরকে সৃষ্টি করেছে , তারা যদি অত:পর অবিশ্বাসী হয়, তাহলে তার জন্যে শাস্তি দেবে স্বয়ং ঈশ্বর। কিন্তু ঈশ্বর নিজহাতে সেই শাস্তি না দিয়ে যদি কিছু মানুষকে বলে অবিশ্বাসীদেরকে হত্যা করতে- তাহলে সেই বিধি বিধান সত্যি সত্যি ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে কি না , সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। কোরান ও হাদিসের মধ্যে এই ধরনের অজস্র হিংসাত্মক বানী বিদ্যমান থাকার কারনেই , মুসলমানরা গত ১৪০০ বছর ধরে সর্বদাই হিংসাত্মক, কখনও সেটা প্রকাশ্য হয়েছে , কখনও চাপা থেকেছে। ইসলামের এই হিংসাত্মক বিধি বিধানের কারনেই বর্তমান দুনিয়ার কোন মুসলিম দেশেই গনতান্ত্রিক ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গড়ে ওঠেনি , প্রায় প্রতিটা মুসলমান প্রধান দেশেই মারামারি , হানাহানি , হিংসাত্মক ঘটনা ইত্যাদির বাড়াবাড়ি দেখা যায়। এমন কি যেসম অমুসলিম দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলমান প্রবাসী হয়ে বাস করছে , সেখানেও তারা মারামারি , সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে সেখানকার শান্তিপূর্ন সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। আর এর মূল কারন তাদের ইসলামী শিক্ষা।

আমাদের যীশু কিন্তু এই ধরনের কোন হত্যা বা হিংসার বানী প্রচার করেন নি , তিনি প্রচার করেছেন অপরিসীম ভালবাসার কথা , শান্তির কথা , যা অনুসরন করলে একটা প্রকৃত সভ্য ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা যায়। আজকে যে পৃথিবীর অধিকাংশ খৃষ্টান অধ্যুষিত দেশে সভ্য ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে , তার একমাত্র কারনই তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যীশুর বিধানগুলোকেই নৈতিক শিক্ষার মানদন্ডরূপে গ্রহন করেছে। সেগুলো এবার দেখা যাক —

যীশুর শিক্ষা

মথি- ৫: ৪৩-৪৪: ৪৩: ‘তোমরা তাদের বলতে শুনেছ, ‘তোমার প্রতিবেশীকে ভালবাসো,শত্রুকে ঘৃণা করো।
কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমাদের শত্রুদের ভালবাসো। যাঁরা তোমাদের প্রতি নির্য়াতন করে তাদের জন্য প্রার্থনা করো,

লুক – অধ্যায় – ৬:
২৭ ‘তোমরা যাঁরা শুনছ, আমি কিন্তু তোমাদের বলছি, তোমরা তোমাদের শত্রুদের ভালবেসো। যাঁরা তোমাদের ঘৃণা করে, তাদের মঙ্গল কোর।
২৮ যাঁরা তোমাদের অভিশাপ দেয়, তাদের আশীর্বাদ কোর। যাঁরা তোমাদের সঙ্গে দুর্য়্ববহার করে, তাদের জন্য প্রার্থনা কোর।
২৯ কেউ যদি তোমার একগালে চড় মারে, তার কাছে অপর গালটি বাড়িয়ে দাও। কেউ যদি তোমার চাদর কেড়ে নেয়, তাকে তোমার জামাটিও নিতে দাও।
৩০ তোমার কাছে য়ে চায় তাকে দাও। আর তোমার কোন জিনিস যদি কেউ নেয়, তবে তা ফেরত চেও না।
৩১ অন্যের কাছ থেকে তুমি য়েমন ব্যবহার পেতে চাও, তাদের সঙ্গেও তুমি তেমনি ব্যবহার কোর।
৩২ যাঁরা তোমাদের ভালবাসে, তোমরা যদি কেবল তাদেরই ভালবাস, তবে তাতে প্রশংসার কি আছে? কারণ পাপীরাও তো একই রকম করে।
৩৩ যাঁরা তোমাদের উপকার করে, তোমরা যদি কেবল তাদেরই উপকার কর, তাতে প্রশংসার কি আছে? পাপীরাও তো তাই করে।
৩৪ যাঁরা ধার শোধ করতে পারে এমন লোকদেরই যদি কেবল তোমরা ধার দাও, তবে তাতে প্রশংসার কি আছে? এমন কি পাপীরাও তা ফিরে পাবার আশায় তাদের মতো পাপীদের ধার দেয়।
৩৫ কিন্তু তোমরা তোমাদের শত্রুদের ভালবেসো, তাদের মঙ্গল কোর, আর কিছুই ফিরে পাবার আশা না রেখে ধার দিও। তাহলে তোমাদের মহাপুরস্কার লাভ হবে, আর তোমরা হবে পরমেশ্বরের সন্তান, কারণ তিনি অকৃতজ্ঞ ও দুষ্টদের প্রতিও দযা করেন।
৩৬ তোমাদের পিতা, য়েমন দযালু তোমরাও তেমন দযালু হও।
৩৭ অপরের বিচার কোর না, তাহলে তোমাদেরও বিচারের সম্মুখীন হতে হবে না। অপরের দোষ ধরো না, তাহলে তোমাদেরও দোষ ধরা হবে না। অন্যকে ক্ষমা কোর, তাহলে তোমাদেরও ক্ষমা করা হবে।
৩৮ দান কর, প্রতিদান তুমিও পাবে। তারা তোমাদের অনেক বেশী করে, চেপে চেপে, ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে উপচে দেবে। কারণ অন্য়ের জন্য য়ে মাপে মেপে দিচ্ছ, সেই মাপেই তোমাদের মেপে দেওযা হবে।’
৩৯ যীশু তাদের কাছে আর একটি দৃষ্টান্ত দিলেন, ‘একজন অন্ধ কি অন্য একজন অন্ধকে পথ দেখাতে পারে? তাহলে কি তারা উভয়েই গর্তে পড়বে না?
৪০ কোন ছাত্র তার শিক্ষকের উর্দ্ধে নয়; কিন্তু শিক্ষা সম্পূর্ণ হলে প্রত্যেক ছাত্র তাঁর শিক্ষকের মতো হতে পারে।
৪১ ‘তোমার ভাইয়ের চোখে য়ে কুটো আছে তুমি সেটা দেখছ, কিন্তু তোমার নিজের চোখে য়ে তক্তা আছে সেটা দেখছ না, কেন?
৪২ তোমার নিজের চোখে য়ে তক্তা আছে তা যখন লক্ষ্য করছ না, তখন কেমন করে তোমার ভাইকে বলতে পার, ‘ভাই তোমার চোখে য়ে কুটোটা আছে, এস তা বের করে দিই।’ কেন তুমি একথা বল? ভণ্ড প্রথমে তোমার নিজের চোখ থেকে তক্তা বের করে ফেল, আর তবেই তোমার ভাইয়ের চোখে য়ে কুটো আছে, তা বের করার জন্য স্পষ্ট করে দেখতে পাবে।
৪৩ ‘কারণ এমন কোন ভাল গাছ নেই যাতে খারাপ ফল ধরে, আবার এমন কোন খারাপ গাছ নেই যাতে ভাল ফল ধরে।
৪৪ প্রত্যেক গাছকে তার ফল দিয়েই চেনা যায়। লোকে কাঁটা-ঝোপ থেকে ডুমুর ফল তোলে না, বা বুনো ঝোপ থেকে দ্রাক্ষা সংগ্রহ করে না।

এই যে যীশুর অল্প কিছু বানী এখানে দেয়া হলো, ইসলামের গোটা কোরান ও হাদিস থেকে এত সুন্দর শান্তি ও ভালবাসার বানী বের করে হাজির করা যাবে না। যীশু ও মোহাম্মদের বানীর এখানেই মৌলিক তফাৎ। গোটা গসপেলে যীশুর একটা বানীও নেই যেখানে হত্যা , মারামারি বা সন্ত্রাসের কথা বলা আছে। যীশুর এইসব বানীর কারনেই খৃষ্টানরা প্রকৃতিগতভাবে ভীষন গনতান্ত্রিক , মানবতাবাদী ও উদার। মুসলমানরা যদি সত্যি সত্যি সভ্য মানুষ হিসাবে টিকে থাকতে চায়, তাদের একমাত্র সমাধান হলো যীশুর এইসব মানবতাবাদী বানী গ্রহন ও অনুসরন করা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “যীশুর শিক্ষা ও মোহাম্মদের শিক্ষা- কার শিক্ষা মুসলমানদেরকে রক্ষা করতে পারে ?

  1. আমাদের যীশু কিন্তু এই ধরনের

    আমাদের যীশু কিন্তু এই ধরনের কোন হত্যা বা হিংসার বানী প্রচার করেন নি , তিনি প্রচার করেছেন অপরিসীম ভালবাসার কথা , শান্তির কথা , যা অনুসরন করলে একটা প্রকৃত সভ্য ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা যায়।

    কিন্তু সমস্যা হচ্ছে দিন কে দিন যীশূর অনুসারীর সংখ্যা কমছে, আর মুহাম্মদের অনুসারী বাড়ছে। খৃষ্টান দেশগুলোতে নাস্তিকতা বাড়ছে আশংকাজনক হারে। কমছে চার্চ আর গির্জা, বাড়ছে মসজিদ। তাছাড়া যীশুর ফলোয়াররা এখনও সিদ্ধান্তই নিতে পারে নি– যীশূ কি নিজেই ঈশ্বর নাকি ঈশ্বরের বউয়ের সন্তান!!! সত্যিই অদ্ভুত।

    1. আর তার চাইতে অদ্ভুত হলো ,
      আর তার চাইতে অদ্ভুত হলো , এইসব কথা বললেও কেউ যীশুর নাম করে কারও গলায় চাপাতির কোপ বসাতে যায় না , কি বলেন ? আর এটাই হলো খৃষ্টান ধর্মের মাহাত্ম। আর সে কারনেই খৃষ্টান অধ্যুষিত সমাজ হলো দুনিয়ার সভ্য গনতান্ত্রিক সমাজ যাকে দুনিয়ার অন্য জাতি গোষ্ঠি অনুসরন করে , আর আপনাদের মত ইমানদার মুসলমানরাই এক সময় ইসলামী বিধানের দৌরাত্ম থেকে মুক্তির আশায় খৃষ্টান দেশে উন্মাদের মত চলে আসেন। এটাই হলো খৃষ্টান ধর্মের আসল মাজেজা । কোন খৃষ্টান বা অমুসলিম কিন্তু উন্নত ও সভ্য জীবনের আশায় কোন মুসলমান দেশে উন্মাদের মত পাড়ি জমায় না।

      কোন ধর্মের লোকসংখ্যা বাড়ছে , সেটা বোঝা যাবে আরও কিছু বছর পর। তবে আপনারা একটা মিথে বিশ্বাস করেন , সেটা হলো মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে , কিন্তু জানেন না কি পরিমান মুসলমান ইসলাম ত্যাগ করছে। বেশী দিন হয়ত নেই যখন দেখবেন , ইসলাম ত্যাগি মানুষদেরও পরিসংখ্যান বের হতে থাকবে। হয়ত চাপাতির কোপ দেখিয়ে তাদেরকে বেশীদিন দমিয়ে রাখা যাবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =