হয় সবাইকে জিহাদী হতে হবে , না হয় ইসলাম ত্যাগ করতে হবে

সম্প্রতি শোলাকিয়ার ইমাম ফরিদ উদ্দিন মাসউদ এক ফতোয়া জারি করেছেন যাতে নাকি এক লাখের বেশী আলেমের স্বাক্ষর আছে। ফতোয়ায় বলা হয়েছে – ইসলাম নাকি সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে না। তাই যারা ইসলামের নামে অমুসলিমদেরকে হত্যা করছে তারা নাকি খাটি মুসলমান না , তারা নাকি বেহেস্তে যাবে না। তিনি আরও বলেছেন , গোটা কোরান ও হাদিসে নাকি তিনি নাকি হত্যা সন্ত্রাসের কোনই আয়াত বা হাদিস খুজে পান নি। তিনি বলেন – জিহাদ অর্থ নাকি নিজের আত্মার লোভ লালসার বিরুদ্ধে যুদ্ধ। কিন্তু বিষয়টা কি তাই ?

ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেছেন , যারাই নাকি ইসলাম প্রতিষ্ঠায় সন্ত্রাস করবে তাদের জন্যে নাকি বেহেস্ত হারাম । এভাবে উনি মিথ্যা কথা কিভাবে বললেন ? দেখা যাক বেহেস্তটাই আসলে কোথায় —

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৭৩:
আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (র)…………উমর ইব্ন উবায়দুল্লাহ (র)-এরাযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব আবূন নাযর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইব্ন আবূ আওফা (রা) তাঁকে লিখেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত।

অর্থাৎ তরবারীর নিচেই অবস্থান করে বেহেস্ত। যার সোজা অর্থ হলো যারা ইসলামের জন্যে জিহাদ বা যুদ্ধ করবে না তথা কোরান ও হাদিসের বিধান অনুযায়ী অমুসলিম হত্যা করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবে না , তারা কোনভাবেই বেহেস্তে যেতে পারবে না। বরং যারা আত্মঘাতী বোমা হামলা বা অন্য উপায়ে অমুসলিমদেরকে হত্যা করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করছে ,তারাই বরং বেহেস্তে যাবে আর এ সম্পর্কিত বহু বিধানই কোরান ও হাদিসে বিদ্যমান , নিচে সেগুলো দেখা যাক :

আরও কিছু বিধান দেখা যাক , কোরান ও হাদিস থেকে —

সুরা আনফাল- ৮: ৩৯: আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।

সুরা তাওবা – ৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তা্ওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

সুরা নিসা- ৪: ৯৫: গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০:
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আমাকে বিজয়ী করা হয়েছে। একবার আমি নিদ্রায় ছিলাম, এমতাবস্থায় পৃথিবীর ধনভান্ডার সমূহের চাবি আমার হাতে অর্পণ করা হয়। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তো চলে গেছেন আর তোমরা তা বের করছ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১:
আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি ।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ২ :: হাদিস ২৪:
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মুহাম্মদ আল-মুসনাদী (র) ………… ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্(সা) ইরশাদ করেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য আদিষ্ট হয়েছে, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই ও মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ্(সা) আল্লাহ্‌র রাসূল, আর সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করল; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারন থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহ্‌র ওপর ন্যস্ত।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ২ :: হাদিস ২৫:
আহমদ ইব্‌ন ইউনুস ও মূসা ইব্‌ন ইসমা’ঈল (র) ……. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্(সা) কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কোন্ আমলটি উত্তম?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘তারপর কোনটি?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদ করা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘তারপর কোনটি।’ তিনি বললেনঃ ‘মকবূল হজ্জ।’

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৫ :: অধ্যায় ৫৯ :: হাদিস ৩৭৭:
আবদুল্লাহ্ ইব্ন মুহাম্মদ (র)……জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্(রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,এক ব্যক্তি উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বললেন, আপনি কি মনে করেন, আমি যদি শহীদ হয়ে যাই তাহলে আমি কোথায় অবস্থান করব? তিনি বললেন, জান্নাতে। তারপর উক্ত ব্যক্তি হাতের খেজুরগুলো ছুঁড়ে ফেললেন, এরপর তিনি একাই লড়াই করলেন। অবশেষে তিনি শহীদ হয়ে গেলেন।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২০৮:
ইসহাক ইব্ন ইব্রাহীম (রা)………..মুজাশি’ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি আমার ভাতিজাকে নিয়ে নবী (সাঃ)- এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তারপর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদেরকে হিজরতের উপর বায়আত নিন’। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, ‘হিজরত তো হিজরতকারীগণের জন্য অতীত হয়ে গেছে’। আমি বললাম, ‘তাহলে আপনি আমাদের কিসের উপর বায়আত নিবেন?’ তদুত্তরে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, ‘ইসলাম ও জিহাদের উপর’।

সুতরাং দেখাই যাচ্ছে ইসলাম আসলে হলো একটা যুদ্ধবাদী আদর্শ, একজন প্রকৃত মুসলমান সেই , যে ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্যে নিজের জীবন দিয়ে হলেও অমুসলিমদেরকে হত্যা করে বা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। সুতরাং এইমত অবস্থায় ফরিদ উদ্দিন মাসউদ যদি কোরান হাদিসে এসব জিহাদ বা যুদ্ধের বিষয় খুজে না পায়, তাহলে বুঝতে হবে তিনি আসলে মিথ্যা কথা বলছেন। এর সোজা অর্থ, কেউ যদি হত্যা , সন্ত্রাস যুদ্ধ এসব পছন্দ না করে , সে ইসলাম ত্যাগ করবে , অথবা নিজের জীবন বাজি রেখে সন্ত্রাস বা হত্যা কান্ডে লিপ্ত হয়ে খাটি মুসলমান হবে। মাঝামাঝি কোন পথ নেই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

44 − = 42