প্রেমপত্র-৭৭

প্রিয়ন্তীকা,
মাঝেমধ্যে ইচ্ছে করে তোমাকে গাল চেপে ধরে কল্পনা থেকে বাস্তবে নিয়ে আসি! এনে দেখাই.কি ভয়ংকর রকম শব্দ করে বিজলি চমকাচ্ছে,টিনের চালে শব্দ হচ্ছে, লোডশেডিং এ অন্ধকার ভিষন!তুমি যদিও ঢং করে বলো ভয় পাও নাহহ, তবুও একেকটা বজ্রপাতের তীব্র শব্দে তোমার
উচিৎ আমার হাত চেপে ধরে রাখা! আমারও তো মাঝেসাঝে একটু আকটু উষ্ণতা লাগে..তাই না?

এমন একটা তুমি দরকার। যে ভালোবাসি বলার আগে তিনবার হোচট খাবে।ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার চেয়ে চিঠিতে যে সপ্ন আঁকতে ভালবাসে।
ভালোবাসার বিজ্ঞাপন করা যার ভীষণ অপছন্দ,আমি না হয় সারা পৃথিবীর থেকে লুকিয়ে তোমায় নিয়ে পত্র লিখি।অভিজাত রেস্তোরা থেকে চারুকলার বকুলতলার আড্ডাখানা বকুল তলায় গেলে মুখে খই ফুটবে তোমার। চুমু খেতে চাইলে যে লজ্জায় অবনত শিরে দাড়িয়ে থাকবে তুমি, কিন্তু রাস্তা পেরোবার সময় যে ভয়ে আমার হাত খামচে ধরে ভালোবাসার তীব্রতা বুঝিয়ে দেবে।চটপট আধুনিকাদের ভিড়ে তুমি হবে বড্ড সেকেলে।
প্রেমিকের জন্মদিনের অপেক্ষায় নীল খামে ছবি আঁকবে।আমার দেয়া দামি উপহার টি থেকে আমার পাশে চলাই তোমার কাছে মুখ্য হবে।
অতিভালবাসায় সে যখন ছোট্ট একটা ভুল করে ফেলবে,অপরাধীর দৃষ্টি
নিয়ে তখন দু চোখে প্লাবন আনবে। সেই বর্ষায় আমারবিরক্তি গলে
পানি হয়ে যাবে।সেই তুমি আমার কত আপন সেই তুমি আমার কত ভালবাসা।

আমার দু-চোখের মধ্যখানে গহীন এক অন্ধকার আছে, আমার বিশ্বাস তুমি থাকো সেখানে;মাঝে মাঝে যখন চুপচাপ বসে থাকি,হয়তো অভিমানে কিংবা ক্রোধে স্থিমিত হয়ে যাচ্ছে আমার চিন্তা ভাবনা ঠিক তখনি ডুব দেই তোমার ভূবনে।মগোজ হাত বুলাতে বুলাতে বলে আমায়, ওহে তোমার দেবীর খবর কি?
আমি কিচ্ছু বলিনা, আমার চোখে মুখে শুধু ‘লড়াই আর লড়াই’
মগোজ আস্তে আস্তে মাথায় হাত বুলাতে থাকে আর বলে,পূনর্জন্ম, পূনর্জন্ম।আমার আর কিচ্ছু বুঝতে বাকি থাকেনা,ক্লান্তির ছায়া ছেড়ে তখন চলে আসি নীরবে।
কারো চোখের কাজলে সমার্পিত হলে একান্ত নিজের বলে থাকেনা কিচ্ছু আর, জীবন পেরিয়ে কিচ্ছু নেই,আমি কয়েক জন্ম লড়াই চালিয়ে যাব তোমার সাথে বুড়ো হওয়ার জন্যে।

ইতি
গ্লাডিয়েটর

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 4 =