নোয়াখালীর বেশির ভাগ হিন্দুদের বাধ্য করে ধর্মান্তরিত করা হয়-রবীন্দ্রনাথ দত্ত

(শ্রীরবীন্দ্রনাথ দত্ত দেশবিভাগের নিষ্ঠুরতার প্রত্যক্ষদর্শী।বাল্যকাল থেকেই মানবদরদী এইমানুষটি দেশ ও সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রান।প্রথমে ১৬ই আগষ্ট ১৯৪৬ প্রত্যক্ষসংগ্রামদিবসের বিভৎসতা ও তারপর মুসলিমদের গনবর্বরতায় বিপন্ন মানবতার সেবায় তৎপর হন।১৯৫০ এর পূর্ববাংলার নারকীয় হিন্দুগননির্মূলীকরনের শিকার হয়ে একবস্ত্রে কপর্দকশূন্য অবস্থায় পশ্চিমবাংলায় শরনার্থী য়ে আসেন।কঠিন জীবনসংগ্রামেসফলতা লাভ করেন।ভারতীয় জীবনবিমা নিগমের কর্মদক্ষ আধিকারিক হিসাবে স্বর্ণপদক দ্বারা সন্মানিত হন।ব্যক্তিগত জীবনের সফলতা তাকে মানবসেবার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।একদিকে সারাজীবন তিনি অত্যাচারিত মানুষের স্বাধ্যমত সহায়তা করেছেন অন্যদিকে তন্নিষ্ঠ পঠনপাঠনে অনুসন্ধানের মাধ্যমে বুঝতে চেয়েছেন ইসলামে বিকৃত জীবনশৈলী,মানবসভ্যতা বিরোধী বহুমুখী জিহাদ,রাজনৈতিক স্বার্থে সেকুলারিজম নামে মুসলিম তোষনের রহস্য!তাঁর ক্লান্তিহীন লেখনি হিন্দুকে বার বার সচেতন করে চলেছে জাগো জাগো জাগো….

তার ভাষায়
“দেশবিভাগের একবুক জ্বালা নিয়ে এতদিন চুপচাপ বসেছিলাম।হঠাৎ ১৯৯৯ সালের শীতের এক সন্ধ্যাবেলা দুই ভদ্রলোক এসে কলিং বেল বাজালো।দরজা খুলে দেখি শ্রীঅজিতকুমার বিশ্বাস ও ডঃ নরেন্দ্রনাথ দত্তবনিক।তাদেরকে অনেক সভাসমিতিতে দেখেছি কিন্তু কোন কথাবার্তা হয়নি।এরপর ১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ আমার অভিজ্ঞতার কিছু বলার পর তাঁরা বললেন আপনি এইসব লিখছেন না কেন?আমি বললাম লিখলে কে ছাপাবে?মনে হল তাঁরা আমার পেট্রোল ট্যাঙ্কে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।তারপর থেকে একটু একটু করে লিখে স্বস্তিকাতে পাঠালাম এবং তারা ছাপাতে আরম্ভ করলো।ভগবানের অশেষ কৃপায় এপর্যন্ত আমার সাড়া জাগানো কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে।তাছাড়া ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদিত হয়ে অন্যান্য লেখা প্রকাশিত হয়েছে তবুও মনে হয় আমি হয় নিঃসঙ্গ পথিক,নিতান্তই একা….”
-রবীন্দ্রনাথদত্ত)

১৯০ বছর ভারতে রাজত্ব করার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানে অবস্থার চাপে ইংরেজরা যখন এদেশ ছেড়ে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারার জন্য ভারতে বসবাসকারী মুসলমানেরা কাফের(ঘৃণিত) হিন্দুদের সাথে এক থাকলে ইসলাম বিপন্ন হবে ধুয়া হবে তাদের জন্য একটা আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের মহড়া হিসাবে ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগষ্ট ঢাকা শহরে যে প্রলয় কান্ড ঘটিয়েছে তার বিস্তৃত বিবরন আমি আমার লিখিত বইগুলোতে উল্লেখ করেছি,ঢাকা শহরে ১৯৪৬ সালের ১৬ই অগাষ্টের নিহত হিন্দুদের মৃতদেহগুলি সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে ট্রাক বোঝাই করে আমাদের পাড়ায় পাঠিয়ে দেয়া হত।তাতে ছিল উলঙ্গ মহিলা এবং মস্তকহীন শিশুদের মৃতদেহ বাধ্য হয়ে ট্রাক থেকে হাত পা গুলি নামিয়ে গনসৎকার করাতাম।

ট্রাকের পাটাতনে ত্রিপল পেতে দেয়া হত যাতে রাস্তায় ঐরক্ত না পড়ে।আমাদের পা রক্তে ডুবে যেত।কলকাতা শহরের হত্যালীলায় প্রথম তিন দিনে ২০,০০০ লোক নিহত হল, এত লাস গঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়া হয়ে ছিল যে নৌকা চলাচল দুঃস্বাধ্য হয়ে গিয়েছিল।মানুষের মাংসে শকুন কুকুরেরও অরুচী ধরেছিল।এরপর যখন হিন্দু ও শিখরা রুখে দাঁড়াল তখন মুসলিম লীগ সরকার প্রমাদ গুনলো।

এরপর মুসলীম লীগ বেছে বেছে বাংলার সবচেয়ে হিন্দু সংখ্যালঘু জেলা নোয়াখালী তাদের পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার গিনিপিগ হিসাবে ১০ই অক্টোবর ১৯৪৬ সেখানে হিন্দুনিধন আরম্ভ হলো।হত্যা লুঠপাঠ অগ্নিসংযোগ,নারীধর্ষন,বলপূর্বক বিবাহ,অপহরন,মহিলাদের মাটিতে চিৎ করে শুইয়ে বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে সিঁথির সিঁদুর মুছে দেয়া,গরু জবাই করা রক্তদিয়ে মূর্তীগুলিকে স্নানকরানো এবং তারপর সেগুলিকে টুকরো টুকরো করে ভেঙ্গে ফেলার মধ্যে দিয়ে পাকিস্তান আদায়ের জন্য হিন্দুদের মনে ভীতি সঞ্চার করার প্রয়াস হল।

এই বর্বরোচিত ঘটনা প্রথম দশদিন লীগ সরকার গোপন রাখতে সক্ষম হয়েছিল কারন সমস্ত টেলিগ্রাফের তার কেটে,রাস্তা কেটে নোয়াখালীকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল।এরপর অবস্থা একটুশান্ত হলে নোয়াখালীতে স্বয়ং সেবকরা যেতে আরম্ভ করলো।গান্ধীজী এই হত্যালীলা আরম্ভ হওয়ার ২৫দিন পরে গিয়ে গ্রাম পরিক্রমা আরম্ভ করলেন,ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে কিছু স্বেচ্ছা সেবক নোয়াখালী রওনা হলো।আমিও যাবো বলে মনস্থির করলাম ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানাত্মানন্দের একজন অত্যন্ত প্রিয়পাত্র এবং মঠের একজন কর্মী হিসাবে যাত্রার আগের দিন বিকালে গিয়ে মহারাজের সঙ্গে দেখা করলাম।তিনি বললেন “তুই যখন যাচ্ছিস দেখত ঐ প্যাকেটে কিছু বইপত্র এসেছে মনে হয় নোয়াখালী সমন্ধে খবর আছে।”তখন মঠের রান্নাঘর থেকে সবজি কাটার বঁটি এনে প্যাকেটের দড়ি কেটে এক কোনা থেকে ৭/৮ টা বই নিয়ে বাড়ি ফিরলাম।রাত্রে বইগুলো চোখ বোলানোর সময় হয়নি।

পরেরদিন ঢাকা থেকে রওনা হয়ে তারপর পরদিন সকালে চৌমুহানী স্টেশন থেকে প্রায় ৪মাইল পশ্চিমে আমাদের গ্রামের বাড়ি কালিকাপুরে পৌঁছালাম,ইতিমধ্যে অনেক স্বনামধন্য নেতানেত্রী চৌমুহানীতে ওখানকার ধনী ব্যবসায়ীদের আতিথ্য গ্রহন করে তারপর গ্রামগুলির দিকে রওনা হলেন।আর যারা অত্যন্ত সাধারন স্বেচ্ছাসেবক প্রানের টানে সেখানে গিয়েছেন তারাসব আমাদের বাড়িতে উঠেছে।আমিও তাদের সাথে উদ্ধার কাজে রওনা হলাম,তাদের অনেকের নাম আমার আর এখন মনে নেই তবে শ্রী অমরসরকার,রমেন চক্রবর্তী,যোগেশ চৌধুরীর নাম আমার বিশেষ করে মনে আছে।তারা কংগ্রেস সোসালিস্ট পার্টি করতো।

গ্রামগুলিতে গিয়ে দেখি হিন্দুরা সব মুসলমান হয়ে বসে আছে।পরনে লুঙ্গী,মাথায় সাদা টুপির ওপর ভারতের মানচিত্র তারমধ্যে যে অংশগুলি তারা পাকিস্তান বলে দাবী করছে তা সবুজ রংয়ে ছাপা,লেখা পাকিস্তান জিন্দাবাদ।মহিলাদের হাতে শাখা কপালে সিঁদুর নেই,চোখগুলি জবাফুলের মত লাল।মন্দিরগুলোর কোন চিহ্ন নেই।
আমরা তাদেরকে বললাম আপনারা চলুন উদ্ধার করে অন্যত্র নিয়ে যাবো।তারা প্রশ্ন করলো বাবু আমরা কলমা পড়ে মুসলমান হয়েছি নামাজ পড়েছি।আমাদের মুখে গোমাংস দিয়েছে।বাড়ির মেয়েদের অপহরন করা হয়েছে।হিন্দুরা কি আমাদের আবার সমাজে নেবে?আমাদের হাতে কি জল খাবে?আমরা বললাম আমাদের ধর্মগুরুরা এই নির্দেশ দিয়েছেন আপনারা বিনা দ্বিধায় স্বধর্মে ফিরতে পারবেন।তারা আমাদের মুখের কথা বিশ্বাস করলোনা।তখন ছাপার অক্ষরের বই পড়তে তারা বিশ্বাস করলো এবং দলে দলে বাড়ী ছেড়ে আমাদের সাথে বেরিয়ে এলো।এতে মুসলমানরা আপত্তি করলোনা।

কারন হিন্দুরা চলে গেলে স্থাবর অস্থাবর জমিজমা পুকুর তাদের দখলে আসবে।ইতিমধ্যে এইমধ্যে এই বই এর সংবাদ দাবানলের মত স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো,প্রথম দিনের বইটা তারা টানাটানি করে ছিঁড়ে যে যা পেরেছে এক এক পৃষ্ঠা একেক জন নিয়ে গেছে।এই বইয়ের পৃষ্ঠা দেখিয়ে ধর্মান্তরিত হিন্দুদের বের করে আনতে আরম্ভ করলো।এই বইয়ের সংবাদ কোনক্রমে কংগ্রেস সভাপতি আচার্য কৃপালনীর স্ত্রী সুচেতা কৃপালনীর নিকটে গেল।রাত্রে বাড়ি ফিরে এলাম,পরদিন সকালে ৩/৪কপি সঙ্গে নিয়ে গেলাম এবং সুচেতা কৃপালনীর সাথে দেখা হলো।বইটায় চোখ বুলিয়ে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।বললেন তুই করেছিসটা কি রবি?এরপর তার সাথে আমার অনেকবার দেখা হয় আমি তাকে পিসিমা বলে ডাকতাম।আমার এক পিসিমা ঊষারাণী গুহরায় সুচেতা কৃপালনীর নারী উদ্ধারের স্বেচ্ছাসেবিকার কাজ করতেন।ঐসব কাজে আমার অনেক নেতানেত্রীর সঙ্গে দেখা হয় তার মধ্যে শ্রীমতী লীলা রায় এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এখানে উল্লেখযোগ্য যে নোয়াখালি দাঙ্গার নায়ক গোলাম সারোয়ার ফতোয়া দিলেন সুচেতা কৃপালনীকে যে ধর্ষন করতে পারবে তাকে গাজী উপাধীতে ভূষিত করা হবে এবং বহুত টাকা ইনাম দেয়া হবে।

তাই নিজের সন্মান রক্ষা কল্পে সবসময় পটাশিয়াম সাইনাইডের ক্যাপসুল গলায় ঝুলিয়ে রাখতেন।আমার সহৃদয় পাঠকপাঠিকারা একবার চিন্তা করুন।যেখানে কংগ্রেস সভাপতির স্ত্রীর এই অবস্থা সেখানে সাধারন হিন্দুনারীদের কি অবস্থা হয়েছিল!পররবর্তীকালে ১৯৫০ সালে ঢাকার তথা সমগ্র পূর্বপাকিস্তানের হিন্দু নিধনের শিকার হয়ে একবস্ত্রে যখন কলকাতা এলাম তারপর পিসিমা(ঊষারানীগুহরায়)আমাকে বলেন চল লক্ষ্ণৌ থেকে বেড়িয়ে আসি সুচেতাদির বাড়িতে উঠব।তোকে দেখলে খুব খুশি হবে।আমি বললাম তিনি এখন একটা প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তিনি কি আমাদের কে পাত্তা দেবেন?পিসিমা বললেন তুই চলনা।আমিতো বিনা নোটিশে বারকয়েক তার বাড়ী গিয়ে থেকে এসেছি।তবে খুবই ব্যস্ত রাত্রে ছাড়া কথা বলার সময় নাই।তোর সমন্ধে দু-তিনবার জিজ্ঞাসা করেছেন।আমার মনে হয় বইটার অপরিসীম গুরুত্ব অনুভব করে আমার হাত থেকে পেয়ে তিনি আমাকে মনে রেখেছেন।

১৯৫০সালে ঢাকা থেকে এসে একদিন বেলুড়মঠে গেলাম স্বামী মাধবানন্দের সঙ্গে দেখা করতে।৩/৪জন সাধুকে জিজ্ঞাসা করার পর ঐ যে স্বামীজী মন্দিরের নিকট পায়চারী করছেন তিনি।আমি সামনে গিয়ে হাঁটুগেড়ে আমার দুই হাত তার দুইপায়ে স্থাপন করে আমার মস্তক তাঁর শ্রীচরনযুগলের উপর রেখে চোখের জলে পা দুটি সিক্ত করে দিয়ে ২/৩ মিনিট পর উঠে দাঁড়ানোর পর তিনি দুহাত আমার মাথার উপর স্থাপন করে দাঁড়িয়ে রইলেন।

২/৩ মিনিট আমি বাকরুদ্ধ হয়ে রইলাম।তারপর বললাম মহারাজ আমি ঢাকা থেকে এসেছি।স্বামী জ্ঞানত্মানন্দ,স্বামী সম্ভুদ্ধানন্দ,স্বামী ত্যাগীস্বরানন্দ,স্বামীসত্যকামানন্দ প্রভৃতি মহারাজদের স্নেহধন্য এবং ঢাকা মিশনের একজন স্বেচ্ছাসেবক।যে ব্যাপারে আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি সেটা হল নোয়াখালীতে হিন্দু নিধনের পর “পূর্ববঙ্গ ও হিন্দুসমাজ” নামে বইটা যদি আপনারা না ছাপাতেন তবে অধিকাংশ হিন্দুরাই ধর্মে ফিরে আসতো পারতো না।তাদের মুসলমান হয়েই ওখানে থেকে যেতে হত।
স্বামীজীর থেকে জানা গেল এই কাজটা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত।কি অক্লান্ত পরিশ্রম তাঁদের করতে হয়েছে,অতজন ধর্মগুরু এবং সমাজপতিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের লিখিত বিবৃতি এনে তা ছাপিয়ে সময়মত বিতরন করা এখন আমরা কল্পনাও করতে পারিনা।এখনকার মত তখন ফোন,ইন্টারনেট,মোবাইল ইত্যাদি ছিলনা।আমি আজও অবাক হয়ে পড়ি এই দুই দেশপ্রেমিক ধর্মপ্রান ব্যক্তির দূরদৃষ্টি দেখে।আর যেসব অকৃতজ্ঞ বাঙ্গালী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সাম্প্রদায়িক বলে গালি না দিয়ে জলগ্রহন করেননা তাদের মুখে থুতু ফেলতেও আমার ঘৃণা বোধ হয়।ভগবানের অশেষ কৃপায় আমি এককপি সংগ্রহ করে রেখেছি এবং বহু বছর বাদে আবার তা প্রকাশিত হচ্ছে ভাবী কোন গবেষকদের কাজে লাগবে বলে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “নোয়াখালীর বেশির ভাগ হিন্দুদের বাধ্য করে ধর্মান্তরিত করা হয়-রবীন্দ্রনাথ দত্ত

  1. এর আর নতুন কি কথা। গত ১৪০০
    এর আর নতুন কি কথা। গত ১৪০০ বছর ধরেই তো মুসলমানরা এভাবে অমুসলিমদেরকে মুসলমান বানিয়েছে। কিন্তু অমুসলিমরা তাদের লোমটাও ছিড়তে পারে নি।

  2. এই ব্যপারটা অনেককে বোঝানো
    এই ব্যপারটা অনেককে বোঝানো কঠিন যে, শখ করে কেউ তার ধর্ম ছেড়ে দিতে পারে না। বেশকিছু কারনে আমি ইসলাম ধর্ম ছেড়ে দিয়েছি। এই স্ট্যাটাসে এখন সেটা বিস্তারিত করে লিখছি।
    ক্রীতদাস প্রথার ব্যপারটি আমার মনে খুব গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এই প্রথা নিষিদ্ধ করার মতো সামর্থ নবী মুহাম্মদের ছিল। তিনি তা করেননি। তার প্রচারিত ইসলামের বিধান অনুসারে এই নিষ্ঠুর প্রথাটি বৈধ। এছাড়া তিনি ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স করার প্রাচীন রীতি অব্যাহত রেখেছেন। এমনকি তিনি নিজেও দাসীর সঙ্গে সেক্স করেছেন। অনেকে হয়তো জানেন যে, নবী মুহাম্মদের অকালমৃত সন্তান ইবরাহিম তার মিসর বংশোদ্ভূত দাসী মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে জন্মগ্রহন করেছিল।
    এরপর আমি প্রভাবিত হয়েছিলাম মেয়েদের অধিকারের ব্যপারটি নিয়ে। অন্যান্য ধর্মের মতো ইসলামও মেয়েদের জীবনে ভয়ঙ্কর অভিশাপ হিশেবে এসেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েরা শয়তান, কুকুর ও ঘোড়ার সমতুল্য। নবী মুহাম্মদ দেখে এসেছেন, দোজখে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি! এছাড়া কোরানে স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে নারীদের উপর পুরুষের আধিপত্যের বিষয়টি। মেয়েরা যে সবদিক থেকে পুরুষের সমান; অন্যান্য আরবের মতো নবী মুহাম্মদের মাথায়ও এটি আসেনি। তিনি তাদের উপর বাধ্যতামূলকভাবে চাপিয়ে দিয়েছেন অবমাননাকর পর্দাপ্রথা, নিষেধ করেছেন অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া বাড়ী থেকে বের হওয়া। মেয়েদেরকে নেতৃত্বের অবস্থানে তিনি কখনোই দেখতে চাননি। তাদের কণ্ঠ যেন অন্য কোন পুরুষ শুনতে না পায়, এই ব্যপারটিও তিনি নিশ্চিত করতে চেয়েছেন।
    ইসলামের শরিয়া আইন অনুযায়ী, কোন মেয়ে তার পিতার সম্পদ থেকে উত্তরাধিকার হিশেবে যা পাবে, তার ভাই পাবে এর দ্বিগুণ। এছাড়া বলা হয়েছে, একজন পুরুষের সাক্ষ্য দু’জন মেয়ের সাক্ষ্যের সমান। হুদুদ নামে একটি ইসলামি আইন রয়েছে, যার মূল বক্তব্য হলো, কোন মেয়ে ধর্ষনের অভিযোগ উত্থাপন করলে তাকে চারজন পুরুষ সাক্ষীও উপস্থিত করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ কীভাবে জোগাড় করা সম্ভব? এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে নবী মুহাম্মদ নারীকে পুরুষের উপর নির্ভরশীল করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
    ইসলাম স্বামীদের জন্য অবিশ্বাস্য নোংড়া কিছু বিধান তৈরী করে রেখেছে। স্বামীর কাছে স্ত্রী হচ্ছে শস্যক্ষেত্র। সে চাইলে চারটি বিয়ে করবে, যখন ইচ্ছে স্ত্রীকে তালাক দেবে, স্ত্রী কথা না শুনলে তার গায়ে হাত তুলবে। আর স্ত্রীদের প্রতি ইসলামের নির্দেশ হলো, তাকে সবসময় স্বামীর শারীরিক চাহিদা পূরনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যে কোন মূল্যে স্বামীকে সন্তুষ্ট করতে হবে। স্বামীর পায়ের নিচেই স্ত্রীর বেহেশত। সেই বেহেশতেও আবার স্বামী ৭২ টি সুন্দরী মেয়ে পাবে; স্ত্রী হবে এদের সর্দারনী।
    ইসলাম পালিতা কন্যা, পালিত পুত্রের স্ত্রী ও শিশুদের সাথে বিবাহকে উৎসাহিত করেছে, সভ্য সমাজে যা অত্যন্ত কদর্য একটি ব্যপার। এছাড়া এখানে হিল্লা বিবাহ নামের অত্যন্ত অমানবিক একটি বিধান রয়েছে। এতে স্বামী তালাক দেয়ার পর স্ত্রীকে পুনয়ায় ফিরিয়ে নিতে চাইলে এই স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে বিয়ে বসতে হবে। শুধু বিয়ে নয়, এই পুরুষের সাথে বাধ্যতামূলক সেক্সও করতে হবে। তালাক দিয়ে দোষ করলো স্বামী, অথচ এর শাস্তি পেতে হলো স্ত্রীকে! এক্ষেত্রে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটাই হচ্ছে ইসলাম।
    বর্তমানে ইসলাম সহস্র শাখা-প্রশাখা-উপশাখায় বিভক্ত হয়ে গেছে। প্রতিটি শাখা অন্য সকল শাখাকে ঘৃনা করে। শুধু ঘৃনাতে সীমাবদ্ধ নয়, এরা প্রতিনিয়ত পরস্পরের উপর আক্রমন চালায়। নবী মুহাম্মদের অধিকাংশ সাহাবী নিজেদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ করে নিহত হয়েছেন। তারা একেকজন একেকভাবে ইসলাম পালন করতেন। প্রকৃত ইসলাম যে আসলে কোনটি, সেটা এখন আর বোঝার কোন উপায় নেই। ইসলাম মহান সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত জীবন বিধান হলে এমনটি কখনোই হতো না।
    অন্যান্য ধর্মের মতো ইসলামেও পরকালে শাস্তির স্থান হিশেবে দোজখকে এবং পুরস্কার হিশেবে বেহেশতকে নির্ধারন করা হয়েছে। মদ ও সুন্দরী মেয়ে দ্বারা সমৃদ্ধ বেহেশতের বর্ননা শুনলে একে নোংড়া একটা পতিতালয় ছাড়া আর কিছু মনে হয় না। তাছাড়া যতো সুখেরই হোক, বেহেশতের মধ্যে অনন্তকাল ধরে কীভাবে বসবাস করা সম্ভব; এটা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। আর কবরের ব্যপারটি অদ্ভুত। ইসলাম অনুসারে, পৃথিবীর কাজকর্ম চুকে যাওয়ার পরে আসবে পরকাল। সেখানেই সবার বিচার হওয়ার কথা। অথচ একই ইসলাম আবার বলছে, পরকালের বিচার হওয়ার আগেই কবরে শুরু হবে শাস্তি! বিচার হওয়ার আগেই শাস্তি! এগুলো নিতান্তই পরস্পরবিরোধী অপলাপ।
    ইসলাম রক্তপাত খুবই পছন্দ করে। হিটলারের মতো করে নবী মুহাম্মদও অনন্তকাল ধরে মুসলমানদের যুদ্ধ করার পরামর্শ দিয়ে গেছেন। মদিনায় অবস্থানকালে তিনি ও অন্যান্য মুসলমানগন জীবিকা নির্বাহ করতেন লুটতরাজ করে। অনেকবার তিনি নিজেই মক্কার বাণিজ্য কাফেলা লুটে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইসলাম ধর্ম ছড়িয়ে দিতে ও সম্পদ লুট করতে তার অনুসারী মুসলমানগন অতীতে নিজেদের আশেপাশের সব শান্তিপ্রিয় দেশে অবিরাম আক্রমন চালিয়ে গেছে। বর্তমানেও এর বিরাম নেই।
    যুদ্ধে বন্দী হওয়া মেয়েদের ধর্ষন করা, মুক্তিপণ না পেলে বা ইসলাম গ্রহনে অস্বীকৃতি জানালে বন্দী পুরুষদের হত্যা করা ইসলামের অন্যতম জনপ্রিয় বিধান। নবী মুহাম্মদ নিজেও সাফিয়া নামের একটি মেয়ের পিতা ও স্বামীকে হত্যার পর একই রাতে তার সাথে বাসর করেছেন। এরকম পরিস্থিতিতে একটি মেয়ের পক্ষে স্বেচ্ছায় তার পিতা ও স্বামী হন্তকের সাথে ঘুমুতে যাওয়া কীভাবে সম্ভব? ইসলামের আরো কিছু বিধান হলো, দখলকৃত ভূখণ্ডের অমুসলিম লোকজনের কাছ থেকে জিযিয়া কর আদায় করা; আদায় না হলে বাপদাদার ভিটা থেকে তাদের তাড়িয়ে দেয়া বা হত্যা করে ফেলা।
    ইসলাম ত্যাগ করে নাস্তিক হয়ে যাওয়া বা অন্য ধর্ম গ্রহনকারীদের হত্যা করার আবশ্যিক বিধানটি ইদানীং আমাদের দেশে প্রচুর অনুশীলন করা হচ্ছে। নবী মুহাম্মদ তার সমালোচক শতবর্ষী বৃদ্ধ কবি আবু আফাককে, শিশুকে দুধপানে রত কবি আসমাকে এবং তরুণ কবি কাব বিন আশরাফকে রাতের আঁধারে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন।
    মদিনা শহরে নিজের অবস্থান মজবুত করার পর নবী মুহাম্মদ স্থানীয় বনু কুরাইজা গোত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। এরপর এই অভিযোগে একদিন সকালবেলা গোত্রের সকল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হত্যা করেছেন, যাদের সংখ্যা ছিল ৭০০-৯০০ জন। এই গোত্রের সব মেয়ে, শিশু ও সমস্ত সম্পদকে তিনি গনিমতের মাল হিশেবে সহচরদের মাঝে বন্টন করে দিয়েছেন। এসব কাজ হয়তো শুধু একজন অসুস্থ মানসিকতার লোকের পক্ষেই সম্ভব।
    নবী মুহাম্মদ ইসলামিক দেশে অন্য ধর্মের প্রচার, উপাসনালয় নির্মান ও মক্কা-মদিনায় অমুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছেন। তিনি নিয়ম বানিয়েছেন, অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা যাবে না। আর মুসলমান না হয়ে কেউ মারা গেলে তার ঠিকানা হবে দোজখ। নেলসন ম্যান্ডেলা, মাদার তেরেসা, আব্রাহাম লিংকন, মহাত্না গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপিয়ার প্রমুখ কালেমা পড়েননি কখনো এবং শুধু এই কারনেই তাঁরা অনন্তকাল ধরে দোজখে জ্বলবেন! তবে এঁদের জন্য দোজখের বন্দোবস্ত করলেও নবী মুহাম্মদ নিজের পৌত্তলিক পিতা-মাতাকে ঠিকই বেহেশতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
    ইসলামে শিল্প-সংস্কৃতির কোন বালাই নেই। নবী মুহাম্মদ নিষিদ্ধ করেছেন সংগীত, বাদ্যযন্ত্র, নৃত্য, অভিনয়। প্রাণীর ছবি আঁকা, ভাস্কর্য নির্মান, খেলাধুলা করা থেকে বিরত থাকতে মানুষকে তিনি কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি সাহিত্য রচনার গণ্ডিও তিনি বেঁধে দিয়েছেন! তিনি দুটি অবিবাহিত ছেলে-মেয়ের শারীরিক সম্পর্ক এবং সমকামের প্রচণ্ড বিরোধিতা করেছেন, যা এখনকার মানুষ নির্বুদ্ধিতা হিশেবে চিত্রিত করেছে। আর ইসলামের চেতনা হলো, পৃথিবীর সব মানুষ এক ও অভিন্ন সংস্কৃতি পালন করবে। এটিও চূড়ান্ত নির্বুদ্ধিতা।
    ইসলামের প্রধান ধর্মগ্রন্থ কোরানের ভাষার মান মোটেও উচ্চশ্রেনীর নয়। বরং রবীন্দ্র-নজরুলের লেখার মান এর চেয়ে অনেক উন্নত ও মনোমুগ্ধকর। একবার আয়াত পাঠানোর পর সেসব রহিত করে পুনরায় নতুন আয়াত পাঠানো এবং খলিফা ওসমান কর্তৃক সংকলিত কোরানের শুদ্ধতার ব্যপার দুটি অনেক রহস্যের জন্ম দিয়েছে। এমনকি অবতীর্ণ হওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় না রেখে নিতান্ত এলোমেলো পদ্ধতিতে একে সাজানো হয়েছে। নবী মুহাম্মদের কয়েকজন সাহাবী পর্যন্ত সদ্য সংকলিত কোরানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কোরানে ব্যাকরনগত ও গাণিতিক ভুল রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমানে। এসব ভুল নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
    প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস আমাদের বলছে, অতীতের জাতিগুলো ইসলাম মানতো, এমন কোন প্রমাণ নেই। তাদের মাঝে আল্লাহ প্রেরিত কোন নবী এসেছিল, এমনও কোন প্রমাণ নেই। বরং তারা মেনে চলতো তাদের নিজ নিজ আঞ্চলিক ধর্মকে। এসব ধর্ম ছিল একান্তই তাদের সংস্কৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সময়ের ব্যবধানে এদের মধ্যে অনেকগুলো ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ইহুদিদের মুসা ও ক্রিশ্চিয়ানদের যীশুকে ইসলাম নিজের নবী বলে দাবী করে। অথচ মুসা ও যীশুর কোন কথায় ‘আল্লাহ’ বা ‘মুহাম্মদ’ শব্দটি খুঁজে পাওয়া যায় না। তাদের প্রচারিত বিধি-বিধানের কথা বাদই দিলাম, অন্তত সৃষ্টিকর্তার নামটি তো অবিকৃত বা ঠিক থাকার কথা ছিল!
    ইসলাম বলেছে, সৌদি আরবে অবস্থিত মক্কা শহরের কাবা হচ্ছে আল্লাহর ঘর। অথচ এই ঘর বিভিন্ন দূর্যোগে ও দস্যু আক্রমনে কয়েকবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। কারামতিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানগণ ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কায় হামলা চালিয়ে হাজার হাজার হজ্জ্বযাত্রীর প্রান বিনাশ করে। নিহত হজ্জ্বযাত্রীর মৃতদেহ দিয়ে তারা জমজম কুপ পূর্ণ করে ফেলে। পাশাপাশি তারা কাবাঘরের দেয়াল-টেয়াল গুড়িয়ে এখানে সংরক্ষিত অতি পবিত্র কালো পাথরটিও লুট করে নিয়ে যায়। ১৩৪৯ খ্রিস্টাব্দে এখানে মহামারী দেখা দেয়, যাতে মারা গিয়েছিল অজস্র মানুষ। ১৯৭৯ সালে জুহাইমান আল ওতাইবি নামের এক জঙ্গি তার অনুসারীদের নিয়ে সমগ্র মসজিদুল হারাম অবরোধ করে, যার কেন্দ্রস্থলে রয়েছে কাবাঘর। এই অবরোধের একপর্যায়ে সরকারি বাহিনীর সাথে রক্তাক্ত সংঘর্ষে সবমিলিয়ে ২৫৫ জন নিহত ও ৫৬০ জন আহত হয়, পাশাপাশি কাবাঘরও মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এছাড়া গত ত্রিশ বছরে হজ্জ্ব পালনের সময় অগ্নিকাণ্ডে, শিয়া-সুন্নী সংঘর্ষে, পদদলিত হয়ে ও ক্রেন দূর্ঘটনায় মক্কায় সর্বমোট প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার হজ্জ্বযাত্রীর প্রাণহানি ঘটে।
    আর মদিনায় অবস্থিত নবী মুহাম্মদের কবরও দু’বার অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, যাতে কবরের রক্ষী পর্যন্ত পুড়ে মারা যায়। ধ্বংস হওয়ার পর এই কবর নতুন করে কয়েকবার নির্মান করতে হয়। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ঘর, আল্লাহর প্রিয়পাত্র নবী মুহাম্মদের কবর এবং আল্লাহ ঘোষিত দুটি নিরাপদ শহরের এই করুন দশা সম্পর্কে জানলে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন জেগে উঠবে।
    নবী মুহাম্মদের চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পূর্ণ কুসংস্কারের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তিনি জ্বরকে বলেছেন দোজখ থেকে আসা উত্তাপ। তিনি আস্থা রেখেছেন ঝাড়ফুঁক, শিঙ্গা লাগানো, উটের মূত্র ইত্যাদির উপর। তিনি বলেছেন মাছির এক ডানায় জীবানু ও অপর ডানায় সেই জীবানুর প্রতিষেধক রয়েছে, বার্লি খেলে হ্নদযন্ত্র ঠিক থাকে ও দুঃখ দূর হয়, কালো জিরা হচ্ছে সকল রোগের প্রতিষেধক, আযওয়া খেজুর খাওয়ার পর বিষের ক্রিয়া থেকে রেহাই পাওয়া যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ কারো কারো ধারনা, তিনি এক ইহুদি বৃদ্ধার দেয়া বিষ মাখানো ছাগল খেয়ে মারা গেছেন। তার ক্ষেত্রে এসব ঝাড়ফুঁক-শিঙ্গা-মূত্র-মাছি-জিরা-খেজুর ইত্যাদি কাজ করলো না কেন, সেটাও বিচিত্র।
    কোরান হচ্ছে অপবিজ্ঞানে ভরপুর একটি গ্রন্থ। এখানে সূর্যকে ঘূর্ননশীল, পৃথিবীকে স্থির সমতল, পাহাড়কে পেরেক ও আকাশকে পৃথিবীর ছাদ হিশেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোরানে পৃথিবীর যে সৃষ্টিতত্ত্ব কিংবা পানিচক্র কিংবা ভ্রূণতত্ত্ব কিংবা সাত আসমানের বর্ননা দেয়া হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি হাস্যকর। মিরাজ বা ঊর্ধ্বাকাশে গমন নিয়ে বিখ্যাত ছলাকলার রহস্য এখন অনেকটাই উন্মোচিঁত হয়ে গেছে। সকলের কাছে নূহ নবীর নৌকা খুব পরিচিত একটি শব্দ। এভারেস্টকে তলিয়ে দেয়ার মতো বন্যার পানি কোত্থেকে এসেছে ও এই মাঝারী আকারের নৌকার মধ্যে কী করে পৃথিবীর সকল প্রজাতির একজোড়া করে স্থান পেয়েছে, সেটার হিশাব কিছুতেই মেলানো যায় না। জ্বিন জাতি নিয়ে কোরানে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও এদের কোন খোঁজখবর পাওয়া যায়নি এখনো। কোরবানি নামে অযথাই পশুবলি দেয়ার প্রথা চালু আছে ইসলামে। ইসলামের আল্লাহ এসব নিরীহ প্রাণীর রক্ত দেখে কী সুখ পান, কে জানে! অন্যদিকে কোনরকম উল্লেখযোগ্য কারন ছাড়াই শুকরের মাংসকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
    প্রিয় পাঠক, উপরের ব্যপারগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরেই আমি ইসলাম ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি। এবং আমার ধারনা, ইসলাম ত্যাগ করে আমি কোন অপরাধ কিংবা ভুল করিনি।
    লিখেছেন: শাহিনুর রহমান শাহিন

    1. কোন কাহিনীটা গাঞ্জা কাহিনী
      কোন কাহিনীটা গাঞ্জা কাহিনী মনে হয়েছে? একটু আলোচনা করে বুঝিয়ে দেন। না হয় ধরে নেব অন্ধের মত নিজের পছন্দের মত ছাড়া অন্যগুলোকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া আপনার মত ধার্মিকদের চারিত্রিক ও ধর্মীয় বৈশিষ্ট।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 2 =