কবিতা আসলে কি? কবিই বা কারা? কিছু একটা বোঝার বৃথা চেষ্টা…

কবিতা আসলে কি? কি করলে একটা কবিতার মত কবিতা হয়?

গুগলের সাহায্য নিয়ে কবিতার সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য একটা সংজ্ঞা পেলাম, “a piece of writing that partakes of the nature of both speech and song that is nearly always rhythmical, usually metaphorical, and often exhibits such formal elements as meter, rhyme, and stanzaic structure.”

তার মানে কি নির্দিষ্ট কাঠামো, রুপকের ব্যবহার এবং ছন্দের সমাহার মিলেই কবিতা? আমি এটা কেন মানবো? সবাই এটাই কেন মানবে? কবিতা যেহেতু বোধের ব্যাপার, উপলব্ধির ব্যাপার আর পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ একজন অন্যের থেকে ভীষনভাবে আলাদা, তখন এর নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা মানতে কেউ বাধ্য নয়।

কবিতা গল্প বলে, কিন্তু কবিতা গল্প নয়, কবিতা কবিতাই। কবিতা হতে গেলে একটা এক্স ফ্যাক্টর লাগে।

কোনটা কবিতা, কোনটা নয়, তার উদাহরণ দেওয়াও কঠিন। কারণ এর অনেকটাই পাঠকের মতিগতির উপর নির্ভর করে। এ কথাও ঠিক সামান্য একটা লাইন অসামান্য কবিতা হয়ে উঠতে পারে। আবার যা ছুঁয়ে যায় তা কবিতা না ও হতে পারে।

” এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” বাঙ্গালী জাতিকে নাড়া দিয়ে গিয়েছিলো, ছুঁয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এ লাইন কবিতা নয়।

অথচ,

” হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে, মন বাড়িয়ে ছুঁই “, একটা মাত্র বাক্য হয়েও কবিতা হয়ে যায় বলে মনে হয়, বাকী অংশের দরকার নেই।

খবরের কাগজে সত্যি থাকে, গল্প থাকে, যে কারণে তা সংবাদ, কবিতা নয়। এ কারণেই অনেক মুক্তগদ্যই কবিতা নয়। আবার কোন এক এক্স ফ্যাক্টরের কারণে অনেক সহজ সরল কথাও কবিতা হয়ে ওঠে।

আবার, কবিও তো অনেকরকম হয়। কবিতার প্রতি প্রেম বা মাতোয়ারা পাগল না হয়েও অনেকে কবিতা লেখেন, খুব ভালোই লেখেন। তাদের কাছে হয়তো এটা অন্য অনেক কিছুর মতই আরেকটা ভালোলাগার কিংবা অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম। তারা কি কবি নন? প্রতিটা মানুষই তো আসলে কবি। জাত বা প্রজাতি ভিন্ন। একজন কবি এবং তার কবিতা কেমন হবে, কি তাকে আকর্ষন করবে, সেটা অনেককিছুর উপর নির্ভর করতে পারে। কেউ উচ্চবিত্ত পরিবারে জন্মালো, কেউ কৃষকের ঘরে, কেউ শিক্ষিত আর কেউ লিখতেই জানে না। কেউ বিজ্ঞানমনস্ক, কেউ আস্তিক, কেউ নাস্তিক, কেউ সংশয়বাদী, সবার বেলায় এসব আলাদা আলাদা ব্যাপার উঠে আসবে। কারো টিউলিপ স্মার্ট লাগবে আবার কারো গোলাপের চেয়ে ঘাসফুলে মুগ্ধতা বেশি হবে। সবকিছুরই কিন্তু আলাদা আকর্ষন থাকবে।

আবার,কেউ যদি সাধারণ জীবন অনেক বেশি দেখেন। সাধারণ জীবন, খুব সামান্য দুঃখ সুখের কথা, প্রকৃতির নানা ব্যাপারে ব্যাপক মুগ্ধতা তার মধ্যে যেভাবে আসবে সেটা টোকিও শহরের এক টেকশ্যাভি নাও বুঝতে পারে, তার ভালোলাগতে পারে অন্যকিছু। তার কথা যদি কেউ সেভাবে বলে, সে ধরে নেবে সেই আসল কবি। কবিদের বেলায় সার্বজনীন, সবার কাছে পৌছাতে পারা মানুষের পরিমান খুব কম। সেক্ষেত্রেও একটা কমন গ্রাউন্ড আচে, সেটা হচ্ছে প্রেম, এই প্রেমের কথা বলে কোনও কবি আবার পৃথিবীর সবার কাছে পৌছাতে পারবেন যদি তা তেমন স্পর্শ করবার মত হয়। এর বাইরে অন্য ব্যাপারগুলো নিয়ে সবার কাছে পৌছানো অসম্ভব মনে হয়।

আবার, উন্মাদের মত সবকিছু ফেলে কবিতা কিংবা শব্দের পেছনে ছোটা মানুষদেরও আমরা দেখি, উনারা সম্ভবত কবিতাপ্রেমী। জীবনকে কিংবা অন্য অনেক রহস্য ছুঁয়ে দেখতে চায়। ছুটতে ছুটোতেই তাদের বোধ আরও উন্নত হয়, নেশাটা কমে না, বরং আরও বাড়ে। আর এভাবে চলতে চলতেই মাঝে মাঝে কবিতাও লিখে ফেলে। শেষ পর্যন্ত যে মন দিয়ে লিখলো, উপলব্ধি থেকে লিখলো কিংবা ভেবে চিন্তে কাটাকাটি করে এটাসেটা মিলিয়ে লিখলো, সবাই কবিতাই লিখছে। এর সবগুলো হয়তো পাঠকের কাছে পৌছাবে না। কিন্তু এদের সবাই কবি, এদের লেখাগুলো কিংবা প্রচেষ্টাগুলো অবশ্যই কবিতা। স্বার্থক হওয়া বা একটা কবিতার মত কবিতা লেখা অনেক পরের ব্যাপার। কবি কিংবা কবিতার সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা সেভাবে সম্ভব না সম্ভবত। উপলব্ধি বা বোধ নিয়ে যাদের বা যেই জিনিসটার কাজকারবার, তাকে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন, খুব কঠিন। এইসব ছকবন্দী কিছু নাই হোক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “কবিতা আসলে কি? কবিই বা কারা? কিছু একটা বোঝার বৃথা চেষ্টা…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 2 =