বিএনপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সংখ্যালঘু নির্যাতন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলাম ও ভারত বিরোধী খেলা সেই ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ থেকে শুরু করে আজ ও অবদি চালিয়ে যাচ্ছেন একশ্রেনীর তথাকথিত জননেতা টাইটেল ব্যবহারকারী রাজনীতিবিদরা। যে খেলার প্রধান হাতিয়ার হল সংখ্যালঘু নির্যাতন। সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তি ধারণ করে সেই ১৯৪৭ সালেই দ্বিজাতি তত্ত্ব তথা ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়েছিল। যে সূত্রকে কাজে লাগিয়ে তাদের উত্তরসুরীরাই শান্তির ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করে দেশ ভাগের পর থেকেই সংখ্যালঘুদের ধারাবাহিক নির্যাতন শুরু করে। আর সেই নির্যাতনের ফল হল ১৯৪৭ সালে যেখানে বাংলাদেশে হিন্দুদের সংখ্যা ছিলো ৩১%. সেখানে ২০১১ সালে হিন্দুদের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮%!

১৯৯০ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে প্রায় ৪৪ লক্ষ হিন্দু জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ ছেড়ে ভারত সহ অন্যান্য দেশে চলে যায়। ১৯৯১ সালে সাধারণ নির্বাচনেই বিএনপি হিন্দু বিরোধী ও ভারত বিরোধী কার্ড খেলে ভাল ফল পেয়েছে। ফলে হিন্দুদের উপর দেশব্যাপী নির্যাতনে বিএনপি জামাত রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে একশ’ভাগ ((State of Human Rights, 1993)। খালেদা জিয়ার বাধার কারণে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে সংসদে আলোচনা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে ভোলায় এক হিন্দু মেয়ে ধর্ষণের ফলে গর্ভবতী হওয়ার ঘটনাটি উপস্থাপন করা হয়, তখন সংসদে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতেই বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব সালাম তালুকদার ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন “মেয়েটার মনে হয় ফারটিলিটি খুব বেশি।”

১৯৯০ সালে ভারতে বাবরি মসজিদে হামলার ফলে বাংলাদেশে ধর্মীয় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে যা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাম্প্রদায়িক হামলা। প্রথম বারের মতো ঢাকেশ্বরী মন্দিরে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী হামলা করে। ১৯৯২ সালে ভারতে যখন বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলে দেয়া হয়, তখন জিয়াউর রোমানের মন্ত্রী, আলিম চৌধরীর হত্যাকারী মাওলানা মান্নানের “ইনকিলাব” পত্রিকায় পরিকল্পিতভাবে “বাবরি মসজিদ ভাঙায় ঢাকার হিন্দুদের মিষ্টি বিতরণ।” এমন একটি নিউজ ছেপে দিয়েছিল। পরের দিন আবার ভুল নিউজের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তবে যা হবার তা আগের রাতেই হয়ে যায়। আফগানিস্তান,পাকিস্তানের মত দেশব্যাপী শুরু হয় হিন্দু নিধন যজ্ঞ! ৩৫২ টি মন্দির আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থা ছিলো আরো ভয়াবহ। ধর্ষণ ও লুটতরাজ করা হয় পাশবিকভাবে, যার মূল নেতৃত্বে ছিল বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল। শুধু ১৯৯২ সালের ভয়াবহ নির্যাতনের ফলে বাংলাদেশের হিন্দু জনসংখ্যা শতকরা ৬% কমে ১৮% থেকে ১২% এ নেমে আসে।

১৯৯৩ সালের মাঝামাঝি বিএনপি সরকার দুইটি আদেশ ইস্যু করে। প্রথমটি হলো, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে নির্দেশ দেয় যেন ব্যাংক হিন্দুদের টাকা উত্তোলনকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। দ্বিতীয়টি, কোন ব্যাংক যেন হিন্দুদের ঋণ না দেয়, বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার হিন্দুদের। ১৯৯৩ সালের ৪ নবেম্বর, বিএনপি আবার যেসব সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি আইনের আওতায় আনা হয়েছে, সেই সম্পত্তির তালিকাটি পর্যালোচনা করা শুরু করে (State of7 Human Rights, 1993)। এই পদক্ষেপটি আবারও হিন্দুদের অসহায় করে তুলে। প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে হিন্দুদের নিয়োগসহ বিসিএস চাকরিতে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায় ২০০১ সাল পরবর্তী ১৩ বছরে দেশে ২০ সহস্রাধিক সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও বাহাত্তর পরবর্তী বিভিন্ন হামলা নির্যাতনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬ শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ৬০ হাজারের ও বেশি মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সংঘবদ্ধভাবে হামলা, নির্যাতন, লুটতরাজের ঘটনায় লক্ষাধিক সংখ্যালঘু সদস্য নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পর সারা দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যে ভয়াবহ নির্যাতন নেমে আসে তা ছিল কল্পনাতীত। বিশেষ করে সংখ্যালঘু নারীদের ৭১ এর মত আবার ও গনিমতের মাল মনে করে পূর্বসুরীদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে বিএনপি জামাতের উত্তরসুরীরা। আওয়ামীলিগকে ভোট দেয়ার অপরাধে নির্বাচনের ৭ দিন পরে ৮ই অক্টোবর সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ার ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী পুর্নিমা রানী শিলের বাড়িতে ২০-২৫ জনের বিএনপি জামায়াতের একটা দল হামলা করে। প্রথমেই তার বাবাকে মেরে অজ্ঞান করে দেয়। মাকে বেধে রেখে পূর্ণিমাকে ২০-২৫ জনের প্রত্যেকেই তাদের যৌণতৃষ্ণা মেটাতে উম্মত্ত হয়ে হয়ে উঠে। পূর্ণিমা রানী শিলকে মায়ের সমানে গণধর্ষণ করেছিল বিএনপির সন্ত্রাসীরা। পুর্নিমার অসহায় মা উপায় না পেয়ে মেয়ের জীবন বাঁচানর জন্য শেষ পর্যন্ত বিএনপি জামাতি ক্যাডারদের বলতে বাধ্য হন “বাবারা আমার মেয়েটা ছোট, মরে যাবে। তোমরা একজন একজন করে আস।” সেদিন প্রথম আলো, যুগান্তর এমনকি কট্টর বিএনপি পন্থি পত্রিকার রিপোর্টারসহ অনেকেই পুর্নিমার মায়ের মুখে ঘটনা শুনে কেউ রিপোর্ট লিখতে পারেন নাই, অঝোরে কেদেছেন।’

বাগেরহাটের যাত্রাপুরের ঠাকুড় বাড়িতে হিন্দু গ্রামে এক রাতেই ২৩ জন গৃহবধূকে ধর্ষণ করে বিএনপির সন্ত্রাসীরা এবং ২ জনকে খুন করে। চরফ্যাশনে কল্যানী রানী দাশের বাড়িতে হানা দিয়ে বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাঁর মেয়ে কোথায় জিজ্ঞাসা করে। তিনি মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে বলাতে স্বামীর সামনে স্বয়ং কল্যানী রানীকেই ধর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।

নির্বাচনের পর ভোলা জেলার লালমোহন থানার অন্নদাপ্রসাদ গ্রামের হামলা করে তান্ডব চালায় বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। এই গ্রামের নিরীহ গ্রামবাসী পালিয়ে যেতে পারলেও পালাতে পারেনি পঙ্গু শেফালী রানী। বিএনপি জামায়াতের হায়েনারা ধরে ফেলে নিরপরাধ শেফালী রানীকে। শেফালী হাসপাতালে ভর্তি হয় তার পবিত্র শরীরে বিএনপি জামায়াতের বিষাক্ত আচড় আর কামড়ের দাগ নিয়ে। চার দিন অচেতন অবস্থায় থাকে শেফালী রানী।

২০০২ সালের ২১ শে মার্চ বিএনপি’র দুর্বৃত্তরা রাজশাহী মাগমারার রজব আলী বিএনপি জামাতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও আওয়ামী লীগ ও নৌকার জন্য কাজ করার অপরাধে মাত্র ৭ বছর বয়সের রজুফাকে মায়ের বুক থেকে কেড়ে নিয়ে যায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে রজুফার যৌনাঙ্গ কেটে রক্তাক্ত অজ্ঞানাবস্থায় ৪ নরপিশাচ পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এর পর থেকেই রজুফা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।

২০০২ সালের ২১ আগস্ট বাগেরহাটের রামপালের আওয়ামী লীগ নেত্রী ছবি রানী বিশ্বাস দিনের কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। রামপাল বাসস্ট্যান্ডের কাছে আসতেই তাঁকে বিএনপির ক্যাডাররা ধরে নিয়ে যায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে। প্রকাশ্যে তাঁকে বিবস্ত্র করে বিএনপি জামায়াত ক্যাডাররা। তারপর মাথার সব চুল কেটে ফেলা হয়। এখানেই শেষ নয়। বিবস্ত্র ছবি রানীর গোপনাঙ্গে লাঠি-বালু-মাটি ঢুকিয়ে উল্লাস করে তারা। সব অপকর্মের ছবিও তোলে সেই সন্ত্রাসীরা। এভাবে নির্যাতন চলে অনেকক্ষণ। ছবি রানী অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মৃত্যু হয়েছে মনে করে বন্ধ হয় নির্যাতন। বিবস্ত্র ছবি রানীকে তারা রাস্তার ওপরে ফেলে রাখে। পাশের একটি দোকানে তখন পুলিশ বিড়ি ফুঁকছিল। সন্ত্রাসীরা চলে গেলে প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। প্রাণে বেঁচে যান ছবি রানী বিশ্বাস।

২০০৩ সালের নভেম্বরে দক্ষিন সাধনপুর ইউনিয়নে নারী এবং শিশুসহ এক পরিবারের ১১ জন হিন্দুকে পুড়িয়ে হত্যা। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানার বিশেষ কয়েকটি ইউনিয়নে হিন্দু মেয়েরা থাকতে পারেননি। এভাবেই দেশজুড়ে শত শত নারকীয় তান্ডব চালায় বিএনপি জামায়াত।

২০০১ সালে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় যেসব ব্যক্তির ওপর হামলা, লুটপাট, গণধর্ষণ করা হয়েছিল, তারা থানায় বা আদালতে অভিযোগ দায়ের পর্যন্ত করতে পারেননি। কেউ অভিযোগ করতে পারলেও রাজনৈতিক কারণে তদন্ত হয়নি। রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে সংখ্যালঘুর ওপর বর্বরোচিত নির্যাতন-সন্ত্রাস চালিয়েই ক্ষান্ত ছিলেন না সংশ্লিষ্টরা। জোট সরকারের আমলে হামলা সন্ত্রাস লুটতরাজসহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাবলিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়ে ৫ হাজার ৮৯০টি মামলা প্রত্যাহারও করা হয়। ফলে এসব মামলার ১২ হাজার অপরাধী শাস্তি ছাড়াই বীরদর্পে ঘুরে বেড়াতে থাকে। ২০০১ সাল থেকে শুরু করে যুদ্ধাপরাধ বিচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত হামলার শিকার হয়েছেন সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়সহ পাহাড়ি নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ।

আওয়ামী লীগ জয়লাভ করলেও তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চলে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলেও নেমে আসে নির্যাতনের বিভীষিকা। এটাই যেন তাদের নিয়তি। যুদ্ধাপরাধ বিচারে কাদের মোল্লার ফাঁসি হওয়ার পর জামায়াত শিবির নৃশংসতা চালিয়ে তাদের হত্যা করে, যেন তারাই ফাসি দিয়েছে। একাত্তর পরবর্তী অন্তত ১০ দফা হামলার শিকার গহিরার নির্মল চন্দ্র দাস। কক্সবাজারের রামুতে ১২টি বৌদ্ধ মন্দির, মঠ পুড়িয়ে দেয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু জনগোষ্ঠী ও তাদের উপাসনালয়ের ওপর তাণ্ডব চালানো হয়। বান্দরবানে বৌদ্ধ মন্দির ও সংলগ্ন বৌদ্ধপল্লী হামলার শিকার হয়।

সংখ্যালঘুদের উপর হামলায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৃদ্ধ দয়াল হরি শীল, সিলেটের জগৎ জ্যোতি তালুকদার, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দাসের বাজার ইউনিয়নের সুশীল বিশ্বাস এবং নোয়াখালীর প্রকৌশলী সুমন ভৌমিক নিহত হন। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও গফরগাঁওয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় প্রায় ৪০০ নারী-পুরুষ আহত হয়। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর এলাকা খ্যাত পিরোজপুরের বিভিন্ন স্থান সংখ্যালঘুদের জন্য রীতিমতো মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে। সাতক্ষীরার বেশির ভাগ গ্রামাঞ্চল সংখ্যালঘুদের জন্য বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

বিএনপি জামাতের এই সব বর্বরোচিত নৃশংসতা তদন্তের জন্য হাই কোর্টের নির্দেশে একাধিক কমিশন গঠিত হয়। তদন্ত কমিশন ৫ হাজার ৫৭১টি অভিযোগ পায়। ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬২৫টি। এর মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ৩৫৫টি এবং লুটপাট, অগ্নি সংযোগ, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, গুরুতর আঘাত, চিরতরে পঙ্গু করা, সম্পত্তি দখল ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ ৩ হাজার ২৭০টি। ধর্তব্য নয় উল্লেখ করে ১ হাজার ৯৪৬টি অভিযোগ বাতিল করারও ঘটনা ঘটে। তদন্ত করা ৩ হাজার ৬২৫টি ঘটনায় ১৮ হাজারেরও বেশি লোক জড়িত বলে চিহ্নিত হয়।

ইসলামের নাম নিয়ে যারা এই সব সাম্প্রদায়িকতার সাথে জড়িত তারা কখনো ইসলাম ও দেশের মঙ্গল চায় নাই। ইসলামে হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ, উগ্র জঙ্গিবাদের স্থান নেই। ওরা আসলে ইসলাম ও দেশ প্রেমিক না। ওদের রাজনৈতিক জন্ম দাতারাও দেশ প্রেমিক ছিলো না। দেশটা কোন মুসলমানের একক সম্পত্তি নয়। এটা মুসলিম-হিন্দ-বৌদ্ধ-খৃস্টানের দেশ। যারা সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে নিজের দেশ মনে করে পাকিস্তানিদের কবল থেকে মুক্ত করেছে। তারপর ও তাদের উপর নির্যাতন দেখে মনে হয় তারা সংখ্যালঘু হয়ে জন্ম নেয়াটাই অপরাধ।

তথ্যসূত্র:-
১. সচিত্র প্রতিবেদন- South Asian Peoples union against Fundamentalism & Communalism
২. সচিত্র প্রতিবেদন-আমাদের বাচতে দাও: শাহরিয়ার কবির
৩. সচিত্র প্রতিবেদন-The War Crimes File Dispatches Channel 4
৪. State of Human Rights, 1993
৫. প্রতিবেদন-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ
৬. দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক
মোহাম্মদ হেলাল মিয়া, লেখক ও গবেষক, লন্ডন, যুক্তরাজ্য

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বিএনপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সংখ্যালঘু নির্যাতন

  1. হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য
    হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সাল পরবর্তী ১৩ বছরে দেশে ২০ সহস্রাধিক সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও বাহাত্তর পরবর্তী বিভিন্ন হামলা নির্যাতনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬ শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ৬০ হাজারের ও বেশি মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সংঘবদ্ধভাবে হামলা, নির্যাতন, লুটতরাজের ঘটনায় লক্ষাধিক সংখ্যালঘু সদস্য নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

15 + = 25