মুসলমানরা কি আসলে মানসিক রোগী ও উন্মাদ ?

যাদের মধ্যে চিত্ত বৈকল্য দেখা যায় , তাদেরকে মানসিক রোগী বলে। স্ববিরোধী ধ্যান ধারনার অধিকারী হওয়া একটা চিত্ত বৈকল্য। আবার বর্বরতা , অসভ্যতা , হিংস্রতার আদর্শবাহী কোন ধ্যান ধারনার অধিকারীকে বলা হয় উন্মাদ। গোটা মুসলমান জাতির সকল মানুষকে যদি পরীক্ষা করে দেখা যায় , তাহলে দেখা যাবে এদের সিংহভাগই হলো মানসিক রোগী অর্থাৎ স্ববিরোধী ধ্যান ধারনার অধিকারী, বাকীরা সবাই উন্মাদ অর্থাৎ বর্বর ও অসভ্য ধ্যান ধারনার অধিকারী।

কোরান ও হাদিসের মধ্যে শত শত আয়াত ও হাদিস বিদ্যমান যাতে বলা হয়েছে অমুসিলমদের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করে তাদেরকে হত্যা করতে হবে ,কিভাবে ইসলাম ত্যাগীদেরকে হত্যা করতে হবে অথবা কিভাবে অমুসলিমদেরকে কিভাবে জোর করে মুসলমান বানাতে হবে , কিভাবে যুদ্ধ বন্দিনী নারীদেরকে ধর্ষন করতে হবে , কিভাবে অমুসলিমদের জনপদ আক্রমন করে তাদেরকে হত্যা করতে হবে ও তাদের নারীদেরকে বন্দিনী করতে হবে বা তাদের ধন সম্পদকে গনিমতের মাল হিসাবে ভাগ বন্টন করতে হবে -সেসব কথা। আবার দুই একটা আয়াত বা হাদিস আছে যাতে বলা আছে অমুসিলমদের সাথে শান্তিপূর্নভাবে বসবাস করার কথা। এই যে দুই পরস্পর বিরোধী আদর্শ, তারা কিভাবে এক সাথে সহাবস্থান করতে পারে ? কোনভাবেই পারে না। একমাত্র সেই সব মানুষই একই সাথে এই দুই বিপরীত ধারার আদর্শকে লালন করতে পারে যারা মানসিকভাবে রোগগ্রস্থ। সুতরাং উপসংহারে সাধারনভাবে গোটা ইসলামটাই হলো একটা স্ববিরোধী আদর্শ। বিস্ময়কর বিষয় হলো – সাধারন ধর্মপ্রান মুসলমানরা ঠিক এই স্ববিরোধী আদর্শটাই লালন করে।

কোরান ও হাদিসে শত শত হত্যা , খুন , ধর্ষন , ডাকাতি , যুদ্ধ ইত্যাদি সম্পর্কিত আয়াত ও হাদিস থাকা সত্ত্বেও তারা সেসবকে বাতিল করে দিয়ে, অথবা নিজেদের মনগড়া একটা তত্ত্ব বের করে এসব জিহাদী বিধানসমূহকে উপেক্ষা করে , শুধুমাত্র শান্তির আয়াত বা হাদিস গ্রহন করে ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে প্রচার করতেই সদা ব্যস্ত, যদিও তারা এটা নিশ্চিতভাবেই জানে যে ইসলামে শান্তির চাইতে যুদ্ধের ও হত্যার কথা শতগুন বেশী বলা আছে। অর্থাৎ তারা খুব সচেতনভাবেই দুইটা বিরোধী আদর্শকে লালন করে শান্তিপূর্নভাবে জীবন যাপন করে, যা হলো একটা মানসিক বৈকল্যের লক্ষন অর্থাৎ তারা হলো আসলে মানসিক প্রতিবন্ধি। সাধারন কথায়, দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলমানরাই হলো তাদের নিজস্ব দাবীমতে শান্তিপ্রিয় মুসলমান তথা মানসিক রোগী।

তবে কোরান ও হাদিস যদি সঠিকভাবে অধ্যয়ন করা হয়, কোরানকে যদি প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে বিচার করা হয়, তাহলে দেখা যাবে , জিহাদী বিধানই হলো ইসলামের শেষ ও চুড়ান্ত বিধান। এই জিহাদী বিধানই মুহাম্মদ তার জীবনের শেষের দিকে মদিনায় চালু করে গেছিলেন। শান্তির যে সামান্য বিধান আমরা কোরান হাদিসে দেখি , সেসব মুলত: মুহাম্মদ তার মক্কার জীবনে যখন দুর্বল ছিলেন তখনই প্রচার করেছিলেন। সুতরাং সর্বশেষ বিধান দ্বারা পূর্বোক্ত বিধান স্বত:সিদ্ধভাবেই বাতিল হয়ে অত:পর সর্বশেষ জিহাদী বিধানই একমাত্র খাটি ও সহিহ বিধান হিসাবে ইসলামে টিকে থাকবে। সেই অর্থে জিহাদী বিধানই হলো ইসলামের একমাত্র ন্যয়সঙ্গত বিধান , আর শান্তির বিধান হলো আসলে বাতিল বিধান। এই বিষয়টা খুব সুন্দরভাবে কোরানে উল্লেখও আছে ,যেমন –

সুরা বাকারা – ২: ১০৬: মি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?

অনেকে বলে এটা নাকি কোরান দ্বারা তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব বাতিলের কথা বলা হয়েছে। ভাল কথা , তাহলেও কিন্তু মুহাম্মদ নিজেই যখন কোন এক বিষয়ে আগে এক কথা বলে সেই একই বিষয়ে পরে ভিন্ন কথা বলতেন , আর তার সাহাবিরা যখন এই পরিবর্তনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেন , তখনই তিনি নিচের বানী বলেন —

সুরা নাহল- ১৬: ১০১: এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না।

সুতরাং এখন স্বত:সিদ্ধভাবেই মুহাম্মদের জীবনের শেষ দিকের জিহাদী আয়াতের দ্বারা , পূর্বে কথিত শান্তির বানী বাতিল হয়ে যাবে , তা কেউ সেটা বিশ্বাস করুক বা গ্রহন না করুক , তাতে কিছুই যায় আসে না। বিধি বিধান সংশোধনের বিধান এটাই। এবার মুহাম্মদের জীবনে কথিত সর্বশেষ কোরানের সুরা হলো সুরা তাওবা , সেখান থেকে কিছু জিহাদী আয়াত দেখা যাক –

সুরা তাওবা – ৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তা্ওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

এই আয়াত দুটো থেকে সরাসরি ইসলামের আসল অর্থ বোঝা যায়। আর বোঝা যায়, জিহাদ আসলে কি জিনিস। এখানে কোন প্রেক্ষাপট জানার দরকার নেই। তারপরেও যদি কেউ সেই প্রেক্ষাপট সহ অর্থ জানতে চায়, সেক্ষেত্রে , স্বয়ং মুহাম্মদ উক্ত আয়াত সমূহের যে ব্যখ্যা দিয়ে গেছেন , সেটা জানা যেতে পারে সহিহ হাদিস থেকে , যেমন –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে । –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১:
আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি ।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ২ :: হাদিস ২৪:
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মুহাম্মদ আল-মুসনাদী (র) ………… ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্(সা) ইরশাদ করেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য আদিষ্ট হয়েছে, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই ও মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ্(সা) আল্লাহ্‌র রাসূল, আর সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করল; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারন থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহ্‌র ওপর ন্যস্ত।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , ইসলামের সর্বশেষ বিধান হচ্ছে জিহাদ বা যুদ্ধ আর সে এমন যুদ্ধ যা দুনিয়ার শেষ অমুসিলমটা ইসলাম গ্রহন না করা পর্যন্ত চালু ও বহাল। এই বিধানের কোথাও রোজা , হজ্জ, যাকাত বা কোরবানীকে গুরুত্ব দেয়া হয় নি। সবচাইতে বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে জিহাদ বা যুদ্ধের ওপর। আর তা থেকেই ইসলামের সর্বশেষ বিধান ভালমতই জানা যাচ্ছে। মুহাম্মদ যে সন্ত্রাসের দ্বারাই ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন , সেটাও তিনি খুব সরলভাবেই স্বীকার করে গেছেন ,যেমন –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০:
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আমাকে বিজয়ী করা হয়েছে। একবার আমি নিদ্রায় ছিলাম, এমতাবস্থায় পৃথিবীর ধনভান্ডার সমূহের চাবি আমার হাতে অর্পণ করা হয়। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তো চলে গেছেন আর তোমরা তা বের করছ।

সুতরাং এত কিছুর পরেও যেসব মুসলমানরা ইসলামকে মনে করে শান্তির ধর্ম, তাহলে বুঝতে হবে , সেই সব মুসলমানদের মস্তিস্কে বা মনে সমস্যা আছে অর্থাৎ তারা মানসিক রোগী। অথবা তারা সবাই মিথ্যাবাদী।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে দুনিয়ার দেশে দেশে এক শ্রেনীর মুসলমান আছে যারা এই জিহাদকেই প্রকৃত ইসলাম হিসাবে গন্য করে যেমন আই এস , তালেবান , আল কায়েদা, বোকো হারাম , জে এম বি , হিজবুত তাহরির ইত্যাদি। তারা ইসলামের এই বিধান অনুসারে দুনিয়া ব্যপী সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে , আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে নির্বিচারে অমুসলিমদেরকে হত্যা করছে , তাদের নারীদেরকে বন্দি করে ধর্ষন করছে বা দাসী হিসাবে বিক্রয় করছে। এখন প্রশ্ন হলো – ইসলামের এই জিহাদী বিধান একটা সম্পূর্ন অসভ্য ও বর্বর বিধান। হত্যা , খুন , গনহত্যা, নারী ধর্ষন , দাসী বিক্রয় ,লুটপাট ইত্যাদি বিধান কোন সভ্য জগতের বিধান হতে পারে না। এসব যে সভ্য সমাজের বিধান হতে পারে না, সেই কারনেই কথিত শান্তিবাদী মুসলমানরা এইসব বিধানকে অস্বীকার করে বা মানতে চায় না। কিন্তু সে যাই হোক, যেসব খাটি মুসলমান এই বর্বর ও অসভ্য বিধানকে সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত বিধান বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বুঝতে হবে , তারা কোনভাবেই মানসিকভাবে সুস্থ না, বরং কঠিনভাবেই উন্মাদ।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , যারা নিজেদেরকে মুসলমান হিসাবে পরিচয় দেয়, তারা সিংহভাগ আসলেই মানসিকভাবে অসুস্থ বা মানসিক রোগী আর বাকী যারা থাকল তারা আসলে উন্মাদ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

59 − = 57