জিহাদ কি অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ? তাহলে সেই অন্যায়টা কি ?

সম্প্রতি জিহাদকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা আত্মশুদ্ধির যুদ্ধ বলে ব্যপক প্রচার প্রচারনা করা হচ্ছে। এসব নানা কায়দায় জিহাদ যে একটা সত্যিকার অর্থেই ভাল জিনিস , সেটা প্রমানের ব্যপক চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো ইসলামের বিধান অনুযায়ী প্রকৃত অন্যায় কোনটা ? চুরি , ডাকাতি , হত্যা , ধর্ষন ইত্যাদি এসবই কি আসল অন্যায়, নাকি মুহাম্মদকে নবী স্বীকার না করাটা আসল অন্যায় , কোনটা ? আসুন সেটা ভালভাবে জেনে নেই কোরান হাদিস থেকেই ।

সবচাইতে সুন্দর উদাহরন হলো নিচের আয়াত —

সুরা তা্ওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

অর্থাৎ বলা হচ্ছে আহলে কিতাবের লোক বা ইহুদি খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে , কারন তারা ইসলাম বিশ্বাস করে না। আরও পরিস্কার করে পরের আয়াতে ইহুদি ও খৃষ্টানদের অপরাধের কথা বলা হচ্চে যে কারনে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে। সেটা দেখা যাক , পরের আয়াতে –

সূরা তাওবা – ৯: ৩০: ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।

অর্থাৎ ইহুদিরা উজাইরকে আল্লাহর পূত্র , আর খৃষ্টানরা যীশুকে আল্লাহর পুত্র বলে এটাই তাদের অপরাধ , এই অপরাধই হলো একটা বিরাট অন্যায় কাজ , আর তাই এই অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে। যদিও গোটা তৌরাত কিতাবে কোথাও দেখা যায় না যে ইহুদিরা উজাইর বা এ ধরনের কাউকে আল্লাহর পূত্র বলত। তবে খৃষ্টানরা যীশুকে আল্লাহর পূত্র বলত। কিন্তু সেটা তারা বলত যা যীশু নিজেই বলে গেছে , সেটাই তাদের বিশ্বাস। কিন্তু মুহাম্মদ ও ইসলামের কাছে তাদের এই বিশ্বাসটাই হলো বিশাল অন্যায় কাজ। সুতরাং সেই অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে , তাদেরকে মেরে কেটে সাফ করে দিতে হবে , তাদের নারীদেরকে বন্দি করে ধর্ষন করতে হবে, এসবই হলো কোরানের আল্লাহর বিধান।

এখন কেউ কেউ এসে বলতে পারে যে ইহুদি ও খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে এই যে জিহাদের কথা বলা হয়েছে , তা হলো আসলে আত্মরক্ষার জন্যে। কিন্তু ৯:২৯ সরাসরি বলেছে কি কারনে আহলে কিতাবীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। আর সেটা হলো তারা ইসলামে বিশ্বাস করে না , মুহাম্মদকে নবী মানে না। যা কিন্তু তার আগের আয়াত থেকেও জানা যাচ্ছে –

সুরা তাওবা- ৯: ২৮: হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রের আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

মক্কা বিজয়ের কিছু কাল পর এই সুরা তাওবা নাজিল করেন মুহাম্মদ আর তাতে বলা হয় অত:পর হজ্জের সময় আর কোন মুশরিক কাবার আশপাশে আসতে পারবে না। তখন মুসলমানরা মুহাম্মদকে বলল- এরকম হলে তারা আয় উপার্জন করবে কিভাবে। কারন হজ্জ উপলক্ষ্যে কাবা ঘরের প্রাঙ্গনে যে সব কাফের মুশরিক আসত তাদেরকে পানি পান করিয়ে বা অন্য ব্যবসা বানিজ্য করেই মক্কাবাসীরা জীবন নির্বাহ করত। যদি তারা আর আসতেই না পারে তাহলে ব্যবসা মন্দা হবে , আর তাই তাদের জীবন নির্বাহ কঠিন হয়ে যাবে। ঠিক তখনই উপায় হিসাবে মুহাম্মদ ৯: ২৯ নং আয়াত বলেন যাতে বলা আছে , যুদ্ধ করে ইহুদি ও খৃষ্টানদেরকে বশ্যতা স্বীকার করিয়ে তাদের কাছ থেকে জিজিয়া কর আদায় করতে হবে। অর্থাৎ চাঁদাবাজি ও লুটপাট হবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী মুসলমানদের আয়ের উৎস। অর্থাৎ ৯:২৯ নং আয়াতে যে যুদ্ধের কথা বলছে সেটা কোনভাবেই আত্মরক্ষার বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বলছে না , সেটা হলো সর্বাত্মক আক্রমনাত্মক যুদ্ধ , আর সেটা চলবে যতক্ষন না সকল ইহুদি খৃষ্টান বা অমুসলিম ইসলাম গ্রহন না করবে। এই বিষয়গুলো খুব পরিস্কারভাবেই মুহাম্মদ বহু হাদিসে বলে গেছেন , তার দুই একটা যেমন –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

শুধু তাই নয়, মুসলমানদের বেহেস্ত লাভ যে এই ধরনের আক্রমনাত্মক যুদ্ধ বা জিহাদ ছাড়া সম্ভব না , সেটাও পরিস্কার করে হাদিসে বলা আছে। যেমন –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৭৩:
আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (র)…………উমর ইব্ন উবায়দুল্লাহ (র)-এরাযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব আবূন নাযর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইব্ন আবূ আওফা (রা) তাঁকে লিখেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত।

তরবারির নিচে হলো মুসলমানদের জান্নাত , তথা জিহাদ ছাড়া বেহেস্তে যাওয়ার আশা দুরাশা মাত্র। আর সেই জিহাদটা কি জিনিস? সেটা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। ইসলাম অনুযায়ী সেই অন্যায়টা কি জিনিস ?

ইসলাম অনুযায়ী সেই অন্যায়টা হলো মুহাম্মদকে নবী হিসাবে বিশ্বাস না করা ও ইসলাম কবুল না করা।

উক্ত সুরা তাওবার ২৮.২৯ ও ৩০ নং আয়াত থেকে সেটাই পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে যদি কেউ সত্যিকারভাবে বুঝতে চায়। সুতরাং অন্যায় বলতে যে নানা রকম অপরাধ , যেমন চুরি . ডাকাতি , হত্যা ধর্ষন ইত্যাদি বা কারও সম্পদ জোর করে দখল বুঝাচ্ছে , তা নয়, বরং ইসলামে অন্যায় বলতে সব চাইতে বড় বিষয়ই হলো – মুহাম্মদকে নবী হিসাবে স্বীকার না করা ও ইসলাম গ্রহন না করা। আর এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধটাই হলো ইসলামে সত্যিকার জিহাদ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 2