শান্তির ধর্ম ইসলাম ও জিহাদ


ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, সিস্টেম, যাকে মানবজীবনে কার্যকরী করলে অনিবার্যভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষ সুখে-শান্তিতে-নির্ভয়ে বসবাস করবে। দরজা খুলে ঘুমাবে। রাত-বেরাতে নিরাপদে চলাচল করবে। নারীর সম্ভ্রম রক্ষিত থাকবে। যার যার প্রাপ্য অধিকার সে সে বুঝে পাবে।

ইসলাম এই শান্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সামর্থ্য রাখে বিধায় ইসলামকে বলা হয় শান্তির ধর্ম। এখন আপনি যদি প্রশ্ন তোলেন যে, যেহেতু ইসলামে জিহাদ আছে, কিতাল আছে, রক্তপাত আছে, সুতরাং এটা শান্তির ধর্ম হয় কী করে তাহলে প্রশ্নটা নিতান্তই অর্বাচীনসুলভ মনে হয়। এটা চিন্তাশীল-বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের প্রশ্ন হতে পারে না। এ ধরনের প্রশ্ন তোলেন যারা, তারা শান্তির ধর্ম বলতে মূলত এমন ধর্মের সন্ধান করেন যে ধর্ম পালন করতে গেলে কাউকে সংঘর্ষের মুখোমুখী হতে হবে না, দ্বন্দ্ব-বিবাদে জড়াতে হবে না, কারও ক্ষতির কারণ হতে হবে না, কারও পথরোধ করে দাঁড়াতে হবে না। যে ধর্ম সমাজ নিয়ে কথা বলবে না, দেশ নিয়ে ভাবতে শেখাবে না, অন্যায় দেখেও প্রতিবাদের প্রেরণা যোগাবে না| দেহ ও আত্মার মধ্যে যে ধর্ম বেছে নেবে কেবল আত্মাকে, সমষ্টি ও ব্যক্তির মধ্যে বেছে নিবে ব্যক্তিকে, ইহকাল ও পরকালের মধ্যে বেছে নিবে পরকালকে, দ্বীন ও দুনিয়ার মধ্যে বেছে নিবে দ্বীনকে। অন্যদিকে কীভাবে মানুষের জৈবিক চাহিদা পূরণ হবে, কীভাবে তাদের ইহকালকে সার্থক করতে হবে, কীভাবে তাদের সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, সাংস্কৃতিক, বিচারিক তথা সমষ্টিগত জীবনকে পরিচালনা করতে হবে সেটা নিয়ে ওই ধর্মের কোনো বক্তব্য থাকবে না। জাতীয় জীবনে মানুষ মল-মূত্রের সাগরে হাবুডুবু খাক, ওই ধর্মের তাতে আপত্তি নেই, কেবল ব্যক্তিজীবনে বছরে একবার গয়া-কাশিতে, রোম-বেথেলহামে বা মক্কা-মদীনায় যেতে পারলেই ধর্ম সন্তুষ্ট।

শান্তির ধর্ম বলতে যদি আপনি একদল গো-বেচারা, নিরীহ মানুষের উদ্দেশ্যহীন কিছু আচার-প্রথা ও আনুষ্ঠানিকতা বোঝেন, যাতে সমাজের কোনো উপকার বা ক্ষতি কিছুই হয় না, যে ধর্ম পালন করলে বা না করলে কারও কিছু যাবেও না আসবেও না, তাহলে সেই শান্তির ধর্ম থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। মানুষের জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য মানুষ নয়। যে ধর্ম মানুষের কোনো উপকারে লাগল না সেটা ধর্মই নয়, শান্তির ধর্ম বা অশান্তির ধর্ম তো পরের কথা।

বাবুরাম সাপুড়ের কাছে এমন সাপ চাওয়া হয়েছিল যে সাপ-

`ছোটে না কি হাঁটে না,
কাউকে যে কাটে না,
করে না কো ফোঁসফাঁস
মারে নাকো ঢুসঢাস,
নেই কোন উৎপাত,
খায় শুধু দুধভাত।

আপনিও যদি তেমন `উৎপাতহীন শান্তির ধর্ম’ (!) প্রত্যাশা করে থাকেন তবে স্পষ্ট বলে রাখছি- ইসলাম তা নয়। ইসলাম কেবল ফোঁসফাসই করবে না, ছুটবে, হাঁটবে ও কাটবে। অন্যায়ের হৃৎপিণ্ড ধরে টান দিবে। মিথ্যার কণ্ঠনালী উপড়ে নিবে। শোষকের শোষণযন্ত্রে নির্দয় আঘাত করবে। অত্যচারী শাসকের শাসনদণ্ড ভেঙ্গে তছনছ করে ফেলবে।

ইসলাম প্রতিবাদ শেখায়, সংগ্রাম শেখায়। জিহাদ আর কিছু নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। জিহাদ আছে বলেই ইসলাম শান্তির ধর্ম হবার দাবী রাখে। এক গালে চড় খেয়ে অপর গাল পেতে দিলে ব্যক্তিগত আত্মার উন্নতি হতে পারে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না।

একদিন রসুলের এক সাহাবী একটি পার্বত্য এলাকা অতিক্রম করছিলেন। সেখানে একটি মিষ্ট পানির ঝর্ণা ছিল। ঝর্ণাটির সৌন্দর্য্য তাকে মুগ্ধ করলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, এখন থেকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি এই জনমানবহীন স্থানে বসবাস শুরু করবেন এবং সেখানে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত-উপাসনা করবেন। এজন্য তিনি রসুলের অনুমতি নিতে গেলেন। কিন্তু রসুলাল্লাহ তার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে নিষেধ করে দিলেন এই বলে যে, কখনই এমনটা কর না। জেনে রাখ- ঘরে বসে বসে সত্তর বছর সালাত আদায় করার চেয়ে স্বল্প সময়ে আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া অধিক উত্তম (তিরমিজি, ই.ফা, হাদীস নং- ১৬৫৬)।

দেহ-আত্মা, ইহকাল-পরকাল, সমষ্টি-ব্যক্তি নিয়েই মানুষের জীবন। এর ভারসাম্য রক্ষিত না হলে সমাজও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়তে বাধ্য। একদল মানুষ কেবল আত্মা, পরকাল ও ব্যক্তিগত সাধনা-তপস্যা নিয়ে পড়ে থাকবে, কোথায় কী হচ্ছে, কে খেয়ে আছে কে না খেয়ে মরছে, কে শোষণ করে অর্থের পাহাড় গড়ছে কে শোষিত হয়ে সর্বসান্ত হচ্ছে, কে যুলুম করছে কে মাজলুম হচ্ছে, কে রাজনীতির নামে প্রতারণা করছে কে প্রতারিত হচ্ছে সেসব দেখবে না, শুনবে না, জানবে না, দুনিয়াদারী জ্ঞান করে এসব থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবে, সমাজকে রসাতলে যেতে দেখেও নিশ্চিন্তে চোখ বুঁজে ধ্যান-সাধনায় মত্ত হবে, এই শিক্ষা দেয় যে ধর্ম সেটা শান্তির ধর্ম? নাকি যাবতীয় স্বার্থপরতা, ভোগবাদিতা ও আত্মকেন্দ্রিকতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার কল্যাণে আত্মত্যাগ করার শিক্ষা দেয় যে ধর্ম সেটা শান্তির ধর্ম?

সত্যমাত্রই মিথ্যার সাথে সংঘর্ষ তৈরি করবে, এটা সত্যের ধর্ম। একইভাবে শান্তির ধর্মও সেটাই যা অশান্তি সৃষ্টিকারী ব্যক্তি বা শক্তির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। যদি সংঘর্ষই না হবে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে কী করে? এই সংঘর্ষই জিহাদ।

শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “শান্তির ধর্ম ইসলাম ও জিহাদ

  1. মনগড়া কিছু আলতু ফালতু কথা
    মনগড়া কিছু আলতু ফালতু কথা বললে সেটা সত্যি হয়ে গেল ? আপনার সকল বক্তব্যের প্রেক্ষিতে যথাযথ কোরানের আয়াত ও হাদিস দেখান। সেসব কিছুই না দেখিয়ে কিছু পাগলের প্রলাপ বকে গেলেই সেটা সত্য হয়ে যাবে না। আর এভাবে ইসলামকে রক্ষাও করা যাবে না। ইসলামকে রক্ষার একমাত্র উপায় হলো – ইসলাম যেমন তেমন করেই প্রচার করা , তাতে যদি কেউ ইসলাম গ্রহন করে জিহাদী হয় তো হোক , আর যদি কেউ তখন ইসলাম ত্যাগ করে তো করুক। ইন্টারনেটের এই যুগে আজে বাজে ফালতু কথা বলে কোন লাভ নেই , তা দিয়ে ইসলামকে বাচানও যাবে না।

    1. কথায় কথায় প্রয়োজন ছাড়া কোর
      কথায় কথায় প্রয়োজন ছাড়া কোর’আনের আয়াতের উদ্ধৃতি দেওয়া মোল্লাদের স্বভাব। আবার কোর’আনের কোথাও লেখা নাই-এই যুক্তিতে সত্যকে স্বীকার না করাও মোল্লাদের স্বভাব। দুর্ভাগ্যক্রমে মোল্লাদের এই বদ অভ্যাস নাস্তিকদের মধ্যেও ঢুকে গেছে। নাস্তিকরা দিনদিন ‘মোল্লা নাস্তিক’ হয়ে যাইতেসে কেন বুঝতেসি না।

      1. কোরানের আয়াত উল্লেখ করলে
        কোরানের আয়াত উল্লেখ করলে মোল্লা নাস্তিক?? একজন মানুষের উচিত কোন বিষয়ে সবটা জেনে বুঝে দুইপক্ষের কথা তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া। আর নাস্তিক রা সেটাই করে। আপনি মুখে মুখে যতই বলুন না কেন ইসলাম অই আছে এই আছে আপনি যতক্ষন না পর্যন্ত তার প্রমাণ দিতে পারছেন ততক্ষন পর্যন্ত আপনার কথার ভিত্তি নেই

        1. কোর’আনের কোথাও আল্লাহ বলেন
          কোর’আনের কোথাও আল্লাহ বলেন নাই যে, ওহে মানবসম্প্রদায় তোমরা পায়খানা-পেশাব চাপিলে পায়খানা-পেশাব করিবে। তাই বলে কি একজন মুসলমান পায়খানা-পেশাব করবে না? কোর’আনের আয়াত ব্যবহারেরও একটা প্রাসঙ্গিকতা থাকতে হবে।

          যে কথায় কোর’আনের আয়াত দরকার সেটাতে অবশ্যই কোর’আনের আয়াত ব্যবহার করব। যেখানে দরকার নাই সেখানেও কোর’আনের আয়াত দেখতে চাওয়া অন্ধত্বের পর্যায়ে পড়ে। আমি যা লিখেছি তা কোর’আনের আয়াত দিয়ে খণ্ডাইতে পারলে খণ্ডন করেন। কোর’আনে জিহাদ করার কথা বলা আছে। জঙ্গিদের ব্যাখ্যায় জিহাদ হচ্ছে সন্ত্রাস সৃষ্টি, আমার ব্যাখ্যায় জিহাদ হচ্ছে সন্ত্রাস নির্মূলের সংগ্রাম। আপনি কার ব্যাখ্যা নেবেন সেটা আপনার ব্যাপার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.