পাকিস্তানে কাওয়ালী শিল্পী আমজাদ শাবরিকে হত্যা: ইসলামের সাথে ইহার কোনই সম্পর্ক নেই

সম্প্রতি পাকিস্তানের করাচীতে বিখ্যাত কাওয়ালী শিল্পী আমজাদ শাবরিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে এটা নাকি সন্ত্রাসী ঘটনা। তো কারা এই সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটাতে পারে ? কি এমন দোষ করল এই শিল্পী যে তাকে হত্যা করতে হলো ? নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, সহিহ মুসলমানদের কিছু লোক এই হত্যা কান্ড ঘটিয়েছে আর তাদের এই হত্যাকান্ডটা ধর্মীয় আদর্শের কারনেই। যারা বাংলাদেশে লালন শাহের ভাস্কর্য ভেঙ্গেছিল বা আফগানিস্তানে বৌদ্ধ মূর্তি ভেঙ্গেছিল বা সিরিয়ার প্যালমিরাতে দুই হাজার বছর আগের সভ্যতার ভাস্কর্য ভেঙ্গেছিল, তাদের আদর্শের লোকরাই এই কান্ডটি করেছে।

যদিও কোরানে সরাসরি কোন বিধান নেই যাতে বলা আছে যে গান বাজনা হারাম। তবে কিছু আয়াত আছে যাতে পরোক্ষে বলা হয়েছে গান বাজনা হারাম , যেমন —-

সূরা আন নাজম – ৫৩: ৫৯-৬২: তোমরা কি এই বিষয়ে আশ্চর্যবোধ করছ?এবং হাসছ-ক্রন্দন করছ না? তোমরা ক্রীড়া-কৌতুক করছ, অতএব আল্লাহকে সেজদা কর এবং তাঁর এবাদত কর।

উক্ত আয়াত সমূহে হাসি-ঠাট্টা- ক্রীড়া-কৌতুক এসব বাদ দিয়ে আল্লাহর জিকির করতে বলছে। গান-বাজনা তো ক্রীড়া কৌতুকেরই একটা বিষয়। দুনিয়ার সকল বিখ্যাত সব ইসলামী আলেমই এ বিষয়ে একমত। তারা সবাই বলেছেন মুশরিকরা নানারকম গান বাজনা ক্রীড়া কৌতুকে ব্যস্ত থাকত। সেসব থেকে মুসলমানদেরকে নিবৃত্ত করার জন্যেই উক্ত আয়াত সমূহের আগমন। এছাড়া নিচের আয়াত দেখা যাক –

সুরা লোকমান- ৩১: ৬: একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অলস গল্প-গুজব সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।

এখানে এই অলস গল্পগুজব বলতে সেই ইসলামের প্রাথমিক যুগের সকল আলেমই বলেছেন এসব হলো – গান-বাজনা ও রাগা রাগিনী। যারা যারা এই মত পোষণ করেছেন তারা হলেন – ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস , জাবির , ইকরিমা, সাইদ ইবনে জুবাইর , মুজাহিদ, মাকহুল, আমর ইবনে শুয়ায়েব ইত্যাদি। ( সূত্র : ১৫শ খন্ড, তাফসির ইবনে কাসির- http://www.quraneralo.com/tafsir/)

অর্থাৎ ইসলামের বিধান হলো গানবাজনা করে ফালতু সময় নষ্ট করা যাবে না , তার পরিবর্তে বসে বসে আল্লাহ ও মুহাম্মদের জিকির করতে হবে। বিষয়টা আরও পরিস্কারভাবে হাদিসে আছে , যেমন –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৭ :: অধ্যায় ৬৯ :: হাদিস ৪৯৪:
হিশাম ইব্ন আম্মার (রা) ….. আবদুর রহমান ইব্ন গানাম আশ’আরী (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট আবূ আমের কিংবা আবূ মালেক আশ’আরী (র) বর্ণনা করেছেণ। আল্লাহর কসম! তিনি আমার কাছে মিথ্যে কথা বলেননি। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা:) কে বলতে শুনেছেন: আমার উম্মতের মাঝে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের দৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে। অনুরূপভাবে এমন অনকে দল হবে, যারা পর্বতের কিনারায় বসবাস করবে, বিকাল বেলায় যখন তারা পশুপাল নিয়ে ফিরবে তখন তাদের কাছ কোন অভাব নিয়ে ফকীর আসলে তারা উত্তর দেবে, আগামী দিন সকালে তুমি আমাদের নিকট এসো। এদিকে রাতের অন্ধকারেই আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেবেন। পর্বতটি ধসিয়ে দেবেন, আর অবশিষ্ট লোকদের তিনি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বানর ও শূকর বানিয়ে রাখবেন।

সুনান আবু দাউদ, অধ্যায় – ৪৩, হাদিস- ৪৯২৭:
সালাম ইবনে মিসকিন বর্নিত , তিনি একজন বৃদ্ধ লোককে আবু ওয়ালির সূত্রে একটা বিবাহ অনুষ্ঠানে বলতে শুনেছেন – তারা খেলতে ও গান-বাজনা করতে শুরু করল। তখন আব্দুল্লাহ বললেন – আমি নবী(সা)কে বলতে শুনেছি : গানবাজনা মানুষের অন্তরে মুনাফিকির সৃষ্টি করে।

গানবাজনা যে সত্যি সত্যি ইসলামে হারাম , সেটার জন্যে আর কোন দলিল লাগবে ? ঠিক একারনেই সারা দুনিয়ার ইমাম, মুফতি ইসলামী পন্ডিতেরা বলেন যে – গান বাজনা হলো হারাম। দুনিয়ায় এমন কোন ইমাম পাওয়া যাবে না যে বলবে গান বাজনা ইসলামে হালাল।

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে , কেন খাটি সহিহ মুসলমানদের কিছু লোক এই কাওয়ালী শিল্পীকে গুলি করে হত্যা করেছে। এই শিল্পী গান বাজনা করে মানুষকে বিপথে চালিত করছিল। সেটা ছিল ইসলামের দৃষ্টিতে এক কঠিন হারাম কাজ। সুতরাং এই শিল্পী যাতে আর কাউকে বিপথে চালিত করতে না পারে , তাই তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই , বাকী যারা এভাবে গান বাজনা করে , তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া ,যাতে তারা অতি সত্ত্বর গান বাজনা বন্দ করে দেয়।

এতকিছুর পরে যদি কোন কথিত মুমিন এসে বলে যে এর সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই , তার মাথায় যেন আল্লাহর গজব পড়ে। তার ওপর লানত। আর তার স্থান জাহান্নামের আগুন !

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

60 − 58 =