জঙ্গীবাদ

“জঙ্গ” থেকে জঙ্গী, ‘জঙ্গ’ মানে যুদ্ধ

জঙ্গীরা সর্বদা যুদ্ধাংদেহী মনোভাবে থাকে।
ইসলামের ইতিহাসে প্রথম জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটে হযরত ওমর (রাঃ) কে যখন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তারপর থেকে মক্কা-মদীনার জাতীয়তাবাদীরা এর জন্য সিরিয়ানদেরকে দোষারোপ করে ইত্যবসরে খিলাফত ইসলামের ৩য় খলিফা হযরত ওসমান (রাঃ) নিহত হন।
সিরিয়ানরা দোষারোপ করে মক্কা-মদীনার জাতীয়তাবাদকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় নিহত হন হযরত আলী (রাঃ)।

ততক্ষনে ইসলামের ইতিহাস তথা দুনিয়ার মধ্যে গোলার্ধ্বে দুইটি ঘটনা ঘটে

১. শিয়া-সুন্নির বিভক্তি এবং
২. মতাদর্শ (ইজম) বাস্তবায়নের নিমিত্তে সশস্ত্র আক্রমন, গুম, খুন, অপহরণ, দাঙ্গা, গৃহযুদ্ধ ইত্যাদির অধিক্য যা ক্রমেই জঙ্গীবাদ হিসেবে প্রসার লাভ করে।

তারপরও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব হত। কিন্তু কারবালার যুদ্ধের পর একটা চিঠি এবং তার জের ধরে ১০২৬ বছর ধরে জঙ্গীবাদ প্রকাশ্যে/ অপ্রকাশ্য, আনুষ্ঠানিক/ অনানুষ্ঠানিক ভাবে দুনিয়ার উল্লেখযোগ্য অবস্থান-অবস্থায় তৎপর।
কারবালার যুদ্ধের পর শিয়া-সুন্নি মুসলমান শক্তির বিভাজন মোটা দাগে চিহ্নিত হয়ে যায়। কারবালার শহীদগণ তথা ইমাম হোসেন (রাঃ) হত্যার বদলা নিতে ফাতেমীয় খিলাফতের উত্থান ঘটে।
উমাইয়া (হোসেন হত্যাকারী সিরিয়ান জাতীয়তাবাদীদের) খিলাফত এবং ফাতেমীয়দের সংঘর্ষ থেকে খিলাফত ইসলামকে রক্ষার কথা বলে আব্বাসীয় খিলাফত নামে একটি ধারা সংগঠিত হয় যদিও এই আব্বাসীয়রা সংগঠিত হয়েছিল ফাতেমীয় উদ্ভবের অনেক পূর্বে তা অন্য ইতিহাস এবং আব্বাস মানে মহানবী (দঃ) চাচা জ্ঞানী শ্রেষ্ঠ হযরত আব্বাস (রাঃ) এবং প্রতিষ্ঠাতা খলিফা আব্দুল আব্বাস এবং ১০১১ খৃষ্টাব্দে আব্বাসীয় খলিফা আল-কাদীর (বাগদাদ) জনতার উদ্দেশ্যে একটা খোলা চিঠি প্রকাশ করেন।
মহান আল্লহু রাব্বুল আলামিনের অভিসম্পাত থেকে সাবধান!

মহান খলিফা বলে আপনারা যার নামে খুতবা পাঠ করেন ফাতেমীয় খিলাফত নামধারী সেই খলিফা আল হাকাম হযরত আলী (রাঃ) এবং মা ফাতেমা (রাঃ)’র বংশের কেউ নয় বরং তার রক্তে বইছে দাইমান নামের এক ধর্মবিরোধীর রক্ত। অতএব, ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা এবং সে নামধারীদের হারাম জ্ঞানে বর্জন না করলে মুসলমানদের উপর আল্লাহর গজব নাজিল হবে। আব্বাসীয় খিলাফত জিন্দাবাদ !
বলা বাহুল্য যে মিশরে অবস্থানরত ফাতেমীয়রা এই চিঠি ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করে প্রবারণায় বিশ্বাসী হয়ে আব্বাসীয়দের একটা শক্তিশালী অংশ উমাইয়াদের সাথে হাত মিলিয়ে পূন্য অর্জনের (!) লক্ষ্যে ফাতেমীয়দের বিরুদ্ধে কখনও গুপ্ত, কখনও প্রকাশ্য হামলা চালাতে থাকে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ফাতেমীয়রাও সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এভাবে জঙ্গীবাদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। সমকালীন প্রেক্ষাপটে খৃষ্টানশক্তিকে পোপ হয় আরবান এই মর্মে উত্তেজিত করে যে, ‘এশিয়া মাইনরকে মুসলমানদের দখলমুক্ত না করলে খৃষ্টের ধর্ম থাকবেনা’। ব্যাস ক্রুসেভ বা ধর্মযুদ্ধের নামে ক্রুসেভারদের তান্ডব। ধর্মযুদ্ধকে চ্যালেনু করে মুসলমান জঙ্গীবাদে নতুন মেরুকরণ সূচীত হয়। এই অচলাবস্থা চলে শত শত বছর।

ফলতঃ মধ্যযুগে রেনেসা বা নবজাগরণের মধ্যে দিয়ে বিশ্বসভ্যতা আবার আলোকজ্জ্বল যুগে প্রবেশ করে।

কিন্তু ততদিন সাম্রাজ্যবাদী শোষন শাসন বিশেষ করে নয়া উপনিবেশবাদী ইঙ্গ-মার্কীনদের মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক আগ্রাসন ঘৃতে অগ্নিসংযোগ। ১৯০০ সালে মরক্কোর বিপ্লবী রাইসুলি ইউরোপের বিমান ছিনতাই করে আধুনিক সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেয় এবং সে ছিল দ্রুজ মুসলমান। ৭০ সালে উত্থান ঘটে বিখ্যাত সন্ত্রাসবাদী আন্দ্রিয়াস বাদের এবং ক্যাপ্টেন ওয়াল্টার মাহমুদের। যাদের হাত ধরে জঙ্গীবাদ আরো সুক্ষ্ম, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার শিখেছে।
বিশেষতঃ সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর তার সৃষ্ট দুইটি শক্তি বর্তমানে বিশ্বের প্রধান জঙ্গীবাদী আইএস এর নেপথ্যে নিয়ামক শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

১. রিপাবলিকান গার্ড,
২. ফেদাইন গেরিলা।

এর সাথে আরো নানা ধরণের অনুসঙ্গ সহায়ক শক্তির যোগ ছিল যেমন, কুর্দী প্রশ্ন, তেলমাদক আরবের নিয়ন্ত্রণ, জাত্যাভিমান, আদনান খাসেগীর অর্থ আসে এর জোগান বিন লাদেনের প্রভাব। ভৌগলিক-সামরিক রাজনীতির কৌশলগত চর্চা ইত্যাদি। ফলতঃ লাইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ রননৈতিক অবিচ্ছিন্নতা থাকলেও কৌশলগত বিষয়ে জঙ্গীবাদীরা অবশ্যই আদর্শচ্যুত। শুধু খিলাফত প্রতিষ্ঠার তকমাধারী জঙ্গীরা নয় রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া শিবসেনাদের মত ক্ষত্রিয়রাও তদ্রুপ মূদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
লক্ষ্য করবেন,

১. জঙ্গীরা মাদানী সুরার আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে, কারণ মাদানী সুরাগুলোয় জেহাদী কথাবার্তা, মক্কী সুরায় ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা সব ধর্মের সমান অধিকার ইত্যাদিতে ব্যাপৃত।

২. বাস-টেম্পুতে লেখা, নামাজকে বলোনা কাজ আছে, বরং কাজকে বলো নামাজ আছে। নামাজতো পরের বিষয় তাদের অযু করার টাইম নাই বরং সে সময়টুকুতে তারা বোমায় তার প্যাচাবে। নামাজ পড়ে অযথা সময় নষ্ট (?) না করে চা-পাতিতে শান দেবে।

(চুরি করা)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “জঙ্গীবাদ

  1. কারা সন্ত্রাস অার যুদ্ধ করে
    কারা সন্ত্রাস অার যুদ্ধ করে পৃথিবীকে জাহান্নাম বানাতে চায় দেখুন ইতিহাস সাক্ষি
    Top 10 War in the History
    01. The Deadliest of All World War II 1939-1945 Death Totall: 80 million
    02. Mongol Invasions 13th Century Death Totall: 60million
    03. Taiping Rebellion, Civil War (China) 1850-1864 Death Total: 40 million
    04. World War I 1914-1918 Death Totall: 39 million
    05. An Shi Rebellion against Tang Dynasty 755-763 Death Totall: 36 million
    06. Qing dynasty conquest of Ming dynasty 1616-1662 Death totall: 25 million
    07. Second Sino-Japanese War 1937-1945 Death Taotall : 20 million
    08. Conquests of Tamerlane (Mongolic ruler) 1370-1405 Death Totall : 20 million
    09. Dungan Revolt (China) 1862-1877 Death Totall : 16 million
    10. Russian civil war and Foreign intervention 1917-1922 Death Totall : nine million

    Top 10 Nuclear Power Countries
    01. Russia Active Warheads: 8000
    02. United States Active Warheads: 7300
    03. France Active Warheads: 300
    04. China Active Warheads: 250
    05. United kingdom Active Warheads: 225
    06. Pakistan Active Warheads: 100-120
    07. India Active Warheads: 90-110
    08. Israel Active Warheads: 80
    09. North korea Active Warheads: 6-8
    10. Iran Active Warheads: N.A

    Top 10 Largest Armies 2016
    1- Chinese Armed Forces Military Manpower 2,285,000
    2- United States Army Military Manpower 1,459,000
    3- Indian Military Military Manpower 1,330,000
    4- North Korean Army Military Manpower 1,195,000
    5- Russian Military Military Manpower 845,000
    6- Turkish Army Military Manpower 663,000
    7- South Korean Armed Forces Military Manpower 650,000
    8 – Pakistani Army Military Manpower 643,000
    9- Iranian Army Military Manpower 545,000
    10 – Egyptian army Military Manpower 469,000

    Top 10 Deadliest Nuclear Missiles (ICBM) in the World
    10. M51 – SLBM (France)
    9. DF-31/31A – ICBM (China)
    8. RT-2UTTKh Topol-M – ICBM (Russia)
    7. RS-24 Yars – ICBM (Russia)
    6. LGM-30G Minuteman III – ICBM (USA)
    5. RSM-56 Bulava – SLBM (Russia)
    4. R29RMU2 Layner – SLBM (Russia)
    3. UGM-133 Trident II – SLBM (USA/UK)
    2. DF-5/5A – ICBM (China)
    1. R-36M2 – ICBM SATAN (Soviet Union/Russia)

    1. আপনি একটু ভাল করে পড়ে দেখুন।
      আপনি একটু ভাল করে পড়ে দেখুন। এখানে ইসলামি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের শুরু কোথা থেকে তার বর্ননা দেওয়া হয়েছে।
      এখানে মন গড়া কিছু লেখা হয় নি ইতিসাহ যা সাক্ষ দেয় তার বাইরে এখানে লেখা আছে।

      আর একটা কথা ইসলাম ভুলে ভরা একটা ধর্ম

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 − 5 =