মাননীয় সরকার ও মোল্লাগণ, হিল্লা বিয়েকে ‘হ্যা’ বলুন এবং ব্যাখ্যা করে বোঝান, তিন তালাকের অন দ্যা স্পট প্রথাকে ‘না’ বলুন এবং সেভাবেই প্রচারণা চালান

মাঝে মাঝেই হিল্লা বিয়ের কথা শুনি। নানা চ্যানেল, পত্রিকায় এ ব্যাপারে সরকারী প্রচারণাও দেখি। সরকার এবং দেশের নানা আলেমরাও ফতোয়া দিচ্ছেন হিল্লা নামের প্রথা বা বিধান ইসলাম মোতাবেক গ্রহনযোগ্য নয়। হিল্লার সংজ্ঞা কি এবং এই হিল্লা নামটাই কিভাবে এলো আমি এতকিছু জানি না। আমি জানি হিল্লা হচ্ছে শরীয়া মোতাবেক একবার তালাক হয়ে গেলে যাকে তালাক দেয়া হয়েছিলো সেই সাবেক স্ত্রীকে আবার সরাসরি বিয়ে করা যাবে না। সেই স্ত্রীর আবার বিয়ে হতে হবে এবং নতুন স্বামী তাকে তালাক দিলেই আবার তাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করা যাবে। কিন্তু সরকারী প্রচারণা এবং দেশের নানা নামীদামী আলেমগনও বলছেন এটা গ্রহনযোগ্য না। আসলেই কি তা নয়?

আসুন দেখি কোরান কি বলে এ ব্যাপারে। সূরা আল-বাকারার ২৩২ নং আয়াত হচ্ছে এ ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনাঃ


তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই।
যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। [সুরা বাকারা: ২৩০]

এবার আসি কোরানে তালাক সম্পর্কে কিংবা এ সংক্রান্ত বিধিবিধান বা নির্দেশনাবলীতে কি বলা আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা খুবই স্পষ্ট এবং সন্দেহ বা বিতর্কের তেমন অবকাশ নেই। দেখে নেই কোরানের তালাক সম্পর্কিত আয়াতগুলোঃ

সূরা তালাক থেকেঃ

হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদেরকে তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমরা তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করো। তাদেরকে তাদের গৃহ থেকে বহিস্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয় যদি না তারা কোন সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালংঘন করে, সে নিজেরই অনিষ্ট করে। সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এই তালাকের পর কোন নতুন উপায় করে দেবেন। [সুরা তালাক: ১]

অতঃপর তারা যখন তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছে, তখন তাদেরকে যথোপযুক্ত পন্থায় রেখে দেবে অথবা যথোপযুক্ত পন্থায় ছেড়ে দেবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোককে সাক্ষী রাখবে। তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দিবে। এতদ্দ্বারা যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন। [সুরা তালাক: ২]


এখানে লক্ষ্য করুন যে ইদ্দতকালের কথা বলা হয়েছে। এটা তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি টাইমফ্রেম যা নানা প্রেক্ষাপটে ভিন্ন হবে এবং কেন ভিন্ন হবে সেটাও স্পষ্ট উল্লেখ আছে পরবর্তী আয়াতসমূহে। এই ইদ্দতপালনের পরই যে তালাক হয়ে যাবে তাও নয়, এটা সিদ্ধান্ত নেবারও সময়। ইদ্দতের সময় শেহ হলেই কেউ স্ত্রীকে রেখে দেবার বা ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন। [সুরা তালাক: ৩]

তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের ঋতুবর্তী হওয়ার আশা নেই, তাদের ব্যাপারে সন্দেহ হলে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস। আর যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি, তাদেরও অনুরূপ ইদ্দতকাল হবে। গর্ভবর্তী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তানপ্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন। [সুরা তালাক: ৪]

এটা আল্লাহর নির্দেশ, যা তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার পাপ মোচন করেন এবং তাকে মহাপুরস্কার দেন। [সুরা তালাক: ৫]

তোমরা তোমাদের সামর্থ? অনুযায়ী যেরূপ গৃহে বাস কর, তাদেরকেও বসবাসের জন্যে সেরূপ গৃহ দাও। তাদেরকে কষ্ট দিয়ে সংকটাপন্ন করো না। যদি তারা গর্ভবতী হয়, তবে সন্তানপ্রসব পর্যন্ত তাদের ব্যয়ভার বহন করবে। যদি তারা তোমাদের সন্তানদেরকে স্তন্যদান করে, তবে তাদেরকে প্রাপ্য পারিশ্রমিক দেবে এবং এ সম্পর্কে পরস্পর সংযতভাবে পরামর্শ করবে। তোমরা যদি পরস্পর জেদ কর, তবে অন্য নারী স্তন্যদান করবে। [সুরা তালাক: ৬]

বিত্তশালী ব্যক্তি তার বিত্ত অনুযায়ী ব্যয় করবে। যে ব্যক্তি সীমিত পরিমাণে রিযিকপ্রাপ্ত, সে আল্লাহ যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যা দিয়েছেন, তদপেক্ষা বেশী ব্যয় করার আদেশ কাউকে করেন না। আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দেবেন। [সুরা তালাক: ৭]

সূরা নিসাও তালাকের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয় কিভাবে তা মীমাংসা হওয়া উচিত সে ব্যাপারেঃ

পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ। [সুরা নিসা: ৩৪]

যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত। [সুরা নিসা: ৩৫]


একমাত্র যে স্ত্রীকে স্পর্শ করবার পুর্বে তালাক প্রদান করা হবে, সেই এই ইদ্দতপালনের বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবেঃ

মুমিনগণ! তোমরা যখন মুমিন নারীদেরকে বিবাহ কর, অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তখন তাদেরকে ইদ্দত পালনে বাধ্য করার অধিকার তোমাদের নাই। অতঃপর তোমরা তাদেরকে কিছু দেবে এবং উত্তম পন্থায় বিদায় দেবে। [সুরা আহযাব: ৪৯]

সূরা বাকারা তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেয় এবং তালাকের পরেও যে স্বামীর দ্বায়িত্ব থাকে সে সম্পর্কেও নির্দেশ প্রদান করেঃ


যারা নিজেদের স্ত্রীদের নিকট গমন করবেনা বলে কসম খেয়ে বসে তাদের জন্য চার মাসের অবকাশ রয়েছে অতঃপর যদি পারস্পরিক মিল-মিশ করে নেয়, তবে আল্লাহ ক্ষামাকারী দয়ালু। [সুরা বাকারা: ২২৬]

আর যদি বর্জন করার সংকল্প করে নেয়, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী ও জ্ঞানী। [সুরা বাকারা: ২২৭]


এখানেও দেখুন বলা আছে তালাক দিলেই সাথে সাথে কার্যকর হবার কথা বলা নেই, বরং সেটা পরিবর্তনের সুযোগের কথাই বয়া আছে।

আর তালাকপ্রাপ্তা নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েয পর্যন্ত। আর যদি সে আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাত দিবসের উপর ঈমানদার হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ যা তার জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন তা লুকিয়ে রাখা জায়েজ নয়। আর যদি সদ্ভাব রেখে চলতে চায়, তাহলে তাদেরকে ফিরিয়ে নেবার অধিকার তাদের স্বামীরা সংরক্ষণ করে। আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি ভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর নিয়ম অনুযায়ী। আর নারীরদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আর আল্লাহ হচ্ছে পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ। [সুরা বাকারা: ২২৮]

তালাকে-`রাজঈ’ হ’ল দুবার পর্যন্ত তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয় সহৃদয়তার সঙ্গে বর্জন করবে। আর নিজের দেয়া সম্পদ থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য জায়েয নয় তাদের কাছ থেকে। কিন্তু যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই এ ব্যাপারে ভয় করে যে, তারা আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, অতঃপর যদি তোমাদের ভয় হয় যে, তারা উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি বিনিময় দিয়ে অব্যাহতি নিয়ে নেয়, তবে উভয়ের মধ্যে কারোরই কোন পাপ নেই। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা। কাজেই একে অতিক্রম করো না। বস্তুতঃ যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তারাই জালেম। [সুরা বাকারা: ২২৯]

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। [সুরা বাকারা: ২৩০]

আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও, অতঃপর তারা নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্ত করে নেয়, তখন তোমরা নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে রেখে দাও অথবা সহানুভুতির সাথে তাদেরকে মুক্ত করে দাও। আর তোমরা তাদেরকে জ্বালাতন ও বাড়াবাড়ি করার উদ্দেশ্যে আটকে রেখো না। আর যারা এমন করবে, নিশ্চয়ই তারা নিজেদেরই ক্ষতি করবে। আর আল্লাহর নির্দেশকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করো না। আল্লাহর সে অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের উপর রয়েছে এবং তাও স্মরণ কর, যে কিতাব ও জ্ঞানের কথা তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে যার দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয়। আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ সর্ববিষয়েই জ্ঞানময়। [সুরা বাকারা: ২৩১]

আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও এবং তারপর তারাও নির্ধারিত ইদ্দত পূর্ন করতে থাকে, তখন তাদেরকে পূর্ব স্বামীদের সাথে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিয়মানুযায়ী বিয়ে করতে বাধাদান করো না। এ উপদেশ তাকেই দেয়া হচ্ছে, যে আল্লাহ ও কেয়ামত দিনের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে। এর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে একান্ত পরিশুদ্ধতা ও অনেক পবিত্রতা। আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না। [সুরা বাকারা: ২৩২]

আর সন্তানবতী নারীরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ন দু’বছর দুধ খাওয়াবে, যদি দুধ খাওয়াবার পূর্ণ মেয়াদ সমাপ্ত করতে চায়। আর সন্তানের অধিকারী অর্থাৎ, পিতার উপর হলো সে সমস্ত নারীর খোর-পোষের দায়িত্ব প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী। কাউকে তার সামর্থাতিরিক্ত চাপের সম্মুখীন করা হয় না। আর মাকে তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। এবং যার সন্তান তাকেও তার সন্তানের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন করা যাবে না। আর ওয়ারিসদের উপরও দায়িত্ব এই। তারপর যদি পিতা-মাতা ইচ্ছা করে, তাহলে দু’বছরের ভিতরেই নিজেদের পারস্পরিক পরামর্শক্রমে দুধ ছাড়িয়ে দিতে পারে, তাতে তাদের কোন পাপ নেই, আর যদি তোমরা কোন ধাত্রীর দ্বারা নিজের সন্তানদেরকে দুধ খাওয়াতে চাও, তাহলে যদি তোমরা সাব্যস্তকৃত প্রচলিত বিনিময় দিয়ে দাও তাতেও কোন পাপ নেই। আর আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ অত্যন্ত ভাল করেই দেখেন। [সুরা বাকারা: ২৩৩]

আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং নিজেদের স্ত্রীদেরকে ছেড়ে যাবে, তখন সে স্ত্রীদের কর্তব্য হলো নিজেকে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে রাখা। তারপর যখন ইদ্দত পূর্ণ করে নেবে, তখন নিজের ব্যাপারে নীতি সঙ্গত ব্যবস্থা নিলে কোন পাপ নেই। আর তোমাদের যাবতীয় কাজের ব্যাপারেই আল্লাহর অবগতি রয়েছে। [সুরা বাকারা: ২৩৪]

আর যদি তোমরা আকার ইঙ্গিতে সে নারীর বিয়ের পয়গাম দাও, কিংবা নিজেদের মনে গোপন রাখ, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই, আল্লাহ জানেন যে, তোমরা অবশ্যই সে নারীদের কথা উল্লেখ করবে। কিন্তু তাদের সাথে বিয়ে করার গোপন প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখো না। অবশ্য শরীয়তের নির্ধারিত প্রথা অনুযায়ী কোন কথা সাব্যস্ত করে নেবে। আর নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্তি পর্যায়ে না যাওয়া অবধি বিয়ে করার কোন ইচ্ছা করো না। আর একথা জেনে রেখো যে, তোমাদের মনে যে কথা রয়েছে, আল্লাহর তা জানা আছে। কাজেই তাঁকে ভয় করতে থাক। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ ক্ষমাকারী ও ধৈর্য্যশীল। [সুরা বাকারা: ২৩৫]

স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার আগে এবং কোন মোহর সাব্যস্ত করার পূর্বেও যদি তালাক দিয়ে দাও, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই। তবে তাদেরকে কিছু খরচ দেবে। আর সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এবং কম সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সাধ্য অনুযায়ী। যে খরচ প্রচলিত রয়েছে তা সৎকর্মশীলদের উপর দায়িত্ব। [সুরা বাকারা: ২৩৬]

আর যদি মোহর সাব্যস্ত করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তাহলে যে, মোহর সাব্যস্ত করা হয়েছে তার অর্ধেক দিয়ে দিতে হবে। অবশ্য যদি নারীরা ক্ষমা করে দেয় কিংবা বিয়ের বন্ধন যার অধিকারে সে (অর্থাৎ, স্বামী) যদি ক্ষমা করে দেয় তবে তা স্বতন্ত্র কথা। আর তোমরা পুরুষরা যদি ক্ষমা কর, তবে তা হবে পরহেযগারীর নিকটবর্তী। আর পারস্পরিক সহানুভূতির কথা বিস্মৃত হয়ো না। নিশ্চয় তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ সেসবই অত্যন্ত ভাল করে দেখেন। [সুরা বাকারা: ২৩৭]

সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও। [সুরা বাকারা: ২৩৮]

অতঃপর যদি তোমাদের কারো ব্যাপারে ভয় থাকে, তাহলে পদচারী অবস্থাতেই পড়ে নাও অথবা সওয়ারীর উপরে। তারপর যখন তোমরা নিরাপত্তা পাবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর, যেভাবে তোমাদের শেখানো হয়েছে, যা তোমরা ইতিপূর্বে জানতে না। [সুরা বাকারা: ২৩৯]

আর যখন তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে তখন স্ত্রীদের ঘর থেকে বের না করে এক বছর পর্যন্ত তাদের খরচের ব্যাপারে ওসিয়ত করে যাবে। অতঃপর যদি সে স্ত্রীরা নিজে থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে সে নারী যদি নিজের ব্যাপারে কোন উত্তম ব্যবস্থা করে, তবে তাতে তোমাদের উপর কোন পাপ নেই। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী বিজ্ঞতা সম্পন্ন। [সুরা বাকারা: ২৪০]

আর তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খরচ দেয়া পরহেযগারদের উপর কর্তব্য। [সুরা বাকারা: ২৪১]

এভাবেই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশ বর্ণনা করেন যাতে তোমরা তা বুঝতে পার। [সুরা বাকারা: ২৪২]

এভাবেই সূরা বাকারার আয়াতসমূহ থেকে মুসলমানেরা তালাক পরবর্তী নানা অধিকার সম্পর্কেও স্পষ্ট নির্দেশনা পান।

এখন কথা হচ্ছে, এখান থেকে আমরা আবার হিল্লা বিয়ে নামে যা প্রচলিত, সেটা সম্পর্কেও স্পষ্ট নির্দেশনা পাই। কিন্তু তিন তালাক সম্পর্কে কিছু পাই না। কোরান অনুসারে আসলে তিন তালাকের কোনও বিধানই নেই। ব্র্যাকেটে ‘তৃতীয়বার’ বলে যা বোঝানো হয়েছে, তা হচ্ছে সেই ইদ্দতকালীন সময়েরই শেষ পর্যায়। স্বাভাবিকভাবেই তিনবার হায়েজের (গর্ভে সন্তান আছে নাকি এ ব্যাপারে জানবার জন্যও ইদ্দতকা গুরুত্বপুর্ণ) সময় সিদ্ধান্ত পাল্টাবার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনভাবেই এটা তিনবার তালাক একবারে উচ্চারণ করবার কিংবা একবারেই তালাক দিতে পারবার কথা কোথাও বলা নেই।

ইসলামে বিয়েকে সুদৃঢ় বন্ধন বলা হয়েছে। আর কোরান অনুসারে তালাক প্রদান বা বিবাহবিচ্ছেদকেও করা হয়েছে খুবই কঠিন। এবং একমাত্র স্ত্রীকে স্পর্শ করা না হলে অন্যসব পরিস্থিতিতে সেই প্রক্রিয়াটা সময় সাপেক্ষও বটে। মানুষ রাগাণ্বিত হয়ে অনেক সিদ্ধান্ত নেয়, সময়ের সাথে রাগ চলেও যায়। আলাপ আলোচনাতেও অনেককিছুর মীমাংসা হয়। এই সমস্ত সম্ভাব্য সবকিছুই আরোপ করা হয়েছে এ ব্যাপারে যাতে এ বন্ধনটা টিকে থাকে।

কোরানে যেমন একবারে তিনতালাকের কিছুর অস্তিত্ব নেই এটা যেমন সঠিক, আবার হিল্লা বিয়ের মত ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে এটাও সত্য। যে মুসলিম এটা অস্বীকার করবে সে ইসলামকে বা কোরানের আয়াতকেই অস্বীকার করবে।

আমি পোস্ট লিখতে চাইছিলাম রাষ্ট্রের দ্বৈতনীতির ব্যাপারে, অসাধুতার ব্যাপারে নানা ধর্মীয় নীতির ব্যাপারে। কিন্তু লিখতে লিঝতেই ভাবলাম, এই হিল্লা বিয়েটা আরোপ করা কি যৌক্তিক? আমার মনে হচ্ছে যৌক্তিক। কারণ, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের জন্য অনেক সময় আর অনেক বিধান আরোপ করা হয়েছে, এতকিছুর পরেও যদি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে, তবে সেই সিদ্ধান্ত তো ভেবেচিন্তে নেয়া সিদ্ধান্তই বলা যায়। এরপর তালাক দিয়েই দিলেন বা কার্যকর হয়েই গেল, এরপর আবার তাকেই বিয়ে করে আপন করে নিলেন। এভাবে চললে তো বিয়েটা কিংবা সঙ্গীকে ধরা ছাড়া একটা খেলার মত হয়ে যাবে। এই বিধানটা থাকা যৌক্তিক, কারণ, অন্তত এই বিধানের ফএ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেবার আগে কেউ আরও একবার হলেও ভাববে।

যাইহোক, আমি বলছিলাম রাষ্ট্র আর নানা মাধ্যমের প্রচারণার কথা। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম আর সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। এখন রাষ্ট্র হিল্লা বিয়ে বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে কি ইসলামের অবমাননাই করছে না? আমার তো মনে হয় করছে। রাষ্ট্রের উচিত তিন তালাকের অন দ্যা স্পট রীতি বিরোধী প্রচারণা চালানো, আর হিল্লার ব্যাপারটা পরিস্কার করে বোঝানো যদি তা একান্তই দরকার হয়।

আফসোসের ব্যাপার হচ্ছে আমাদের দেশে এবং বিশ্বে নানা আলেম, ওলামা, ধর্মীয় বিদ্বানেরাও এ ব্যাপারে একমত হয়ে সুর মেলাচ্ছেন। আপনারা দয়া করে আল্লামা এই, শায়খ ওই, পীর সেই এর পুস্তক পড়া বাদ দিয়ে কোরানটাই একবার কিংবা বারবার ঠিকমত পড়ূন। কোরানে স্পষ্ট বলা আছে এটা পরিপূর্ণ বা কমপ্লিট এবং পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী মানবজাতির উপর যে সকল বিধান জারী করা হয়েছে এতে তার বিধান রয়েছে। নিজের ধর্মের ভিত্তিটা প্রথমত কোরান এবং সেটাই আগে জানা এবং উপলব্ধি জরুরী।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “মাননীয় সরকার ও মোল্লাগণ, হিল্লা বিয়েকে ‘হ্যা’ বলুন এবং ব্যাখ্যা করে বোঝান, তিন তালাকের অন দ্যা স্পট প্রথাকে ‘না’ বলুন এবং সেভাবেই প্রচারণা চালান

  1. অন্ধকারে হাটতে কেউ কেউ আনন্দ
    অন্ধকারে হাটতে কেউ কেউ আনন্দ পায়। দেড়হাজার বছর আগে অন্ধকারযুগের কোন আইন এখন বাস্তবায়ন করার চিন্তা করা অজ্ঞতার পরিচায়ক।

    1. কে কোন পথে হাটবে সেটা তার
      কে কোন পথে হাটবে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, নিজস্ব বিবেচনা। আমি কেবল এটাই বললাম যে রাষ্ট্র ইসলামকে রাস্রধর্ম বানিয়ে রেখেছে কিন্তু এই ব্যাপারে ভুল প্রচারনা চালাচ্ছে। এটাকে আমি ধর্মের অবমাননাই মনে করি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 4 =