পথ…১

ডিগিটি মোচড় দিয়ে আমার বাহুবন্ধন ছাড়িয়ে নিল আর আমার দিকে তাকালো, মাথাটা একটু উপরে তুলে, শুকরছানার মত কানগুলো দুলিয়ে। আমি অভিজ্ঞতা পেলাম সেই ডুবন্ত অনুভূতির যা তুমি পাও যখন তুমি জানো যে তুমি প্রতারিত করেছ নিজেকে এমন কঠিন কিছু করার জন্য এবং যখন আর ফেরার কোনো পথ নেই। সবকিছুই বেশ ভাল ছিল, শূন্য পকেটে ট্রেনে চড়ে বসে নিজেকে বলতে থাকা যে তুমি আসলেই দুঃসাহসী এবং রোমাঞ্চকর একজন মানুষ, আর তুমি সবকিছুর সাথে সক্ষমভাবেই মোকাবেলা করবে যখন তা ঘটবে, কিন্তু তুমি যখন বাস্তবে অপর প্রান্তে পৌঁছাও যেখানে কারো সাথে দেখা করার নেই এবং কোথাও যাওয়ার নেই আর তোমাকে ধরে রাখার মত এমন কিছু নেই শুধুমাত্র একটা পাগলাটে পরিকল্পনা ছাড়া, তখন হ্রদ্যতাপূর্ণ কুইন্সল্যান্ড সমুদ্রতীর উপকূলের বাড়িতে থাকাটা হঠাৎ করে অনেকবেশি আকর্ষনীয়ভাবে দৃশ্যমান হয়, বন্ধুদের সাথে বারান্দায় বসে প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করা এবং জিনে অল্প অল্প চুমুক দেয়া, আর বিরামহীন লিস্টের পর লিস্ট তৈরি করা যা একসময় এক পাশে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হবে এবং উট সম্পর্কিত বই পড়া।

এই পাগলাটে পরিকল্পনাটি ছিল, মূলত আমার জন্য ঝোপ থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণে বন্য উট সংগ্রহ করা এবং তাদেরকে আমার সরঞ্জাম পরিবহনের প্রশিক্ষণ দেয়া, তারপর মূল মরুভূমির চতুর্দকে এবং ভেতরে যাত্রা করা।আমি জানতাম, এই দেশের অভ্যন্তরে সেখানে প্রচুর পরিমাণে ফেরাল উটের দল আছে। এদেরকে ১৮৫০ সালে তাদের আফগানি এবং নর্থ ইন্ডিয়ান মালিকদের সাথে আমদানি করা হয়, দুর্গম এলাকাগুলো সুগম করার জন্য, খাদ্য পরিবহনের জন্য এবং টেলিগ্রাফ সিস্টেম আর রেলওয়ে তৈরিতে সহায়তা করার জন্য, যা একসময় তাদের অর্থনৈতিক ধ্বসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।এটা যখন ঘটেছিল, তখন আফগানরা তাদের উটগুলোকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়, ভগ্নহ্রদয়ে, আর অন্য কোন কাজ খোঁজার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু তারা ছিল বিশেষজ্ঞ এবং ব্যাপারটা এত সহজ ছিল না।তাদের ভাগ্যে সরকারি সাহায্যও তেমন একটা জোটে নি। অপরপক্ষে, তাদের উটগুলো স্বচ্ছন্দ পথ খুঁজে পেয়েছিল – এই দেশটি ছিল তাদের জন্য উৎকৃষ্ট, তারা জন্ম দেয় আর প্রচুর পরিমানে বৃ্দ্ধি পায়, এই কারণে এখন প্রায় দশ হাজারের মত উট উন্মুক্তভাবে এই দেশে ছড়িয়ে ছিটেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং গৃহপালিত পশুসম্পদের ওপর উপদ্রব সৃষ্টি করছে, গুলি খাচ্ছে, আর কিছু পরিবেশবাদীদের মতানুসারে, কিছু উদ্ভিদ প্রজাতিকে বিপন্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে যেগুলোর উপর তাদের বিশেষভাবে আসক্তি আছে।তাদের একমাত্র প্রাকৃতিক শত্রু হচ্ছে মানুষ, তারা কার্যত রোগবালাইমুক্ত এবং অস্ট্রেলিয়ান উট বিশ্বের কিছু উৎকৃষ্ট উটের মধ্যে অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হয়।
চলবে…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “পথ…১

  1. পড়ে ভালোলাগলো। বাঙ্গালীর হাতে
    পড়ে ভালোলাগলো। বাঙ্গালীর হাতে এইসব বেওয়ারিশ উট পড়লে এক কুরবানী ঈদেই সব সাফ হয়ে যেতো। ওখানে কেউ উটের মাংস খায়না?

    1. ধন্যবাদ ভালো লাগলো বলে। উটের
      ধন্যবাদ ভালো লাগলো বলে। উটের মাংস খাওয়া হয় ওখানেও, মানুষ সর্বভুক প্রাণী কিনা! তবে এখানে উট খাওয়া হচ্ছে এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। বর্তমান জরিপে দেখা গেছে,অস্ট্রেলিয়ান উটের পরিমান প্রায় এক মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রতি আট বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে, যা মরুভূমির ইকোসিস্টেম এবং অ্যাবরিজিনি সম্প্রদায়ের জন্য হুমকিস্বরূপ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

34 − 24 =