প্রেমপত্র-৭৮

‘প্রিয় রাজকুমারী,
কেমন আছিস ? খুব ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছিস,তাই না ? আমিও প্রচুর ব্যস্ত ।তবে আমার এই ব্যস্ততা তোকে নিয়ে । দিবানিশি তোকে নিয়েই আমার কল্পনারাজ্যে বিচরন । আজও মনে হয় এইতো সেদিন তোকে দেখেছিলাম ।তারপর প্রেমটা হতে কিছু সময় নিয়েছিল এই যা। প্রথম প্রথম তোকে দেখে মনে হয়েছিল তুই বুঝি খুব আগোছালো । কি অবাক লাগছে? আমারও এখন এসব কথা মনে পড়লে অবাক লাগে । কি ভাবতাম এসব ?
ধীরে ধীরে ভুই ভাঙ্গলো । তোকে বুঝতে শিখলাম । যতক্ষন তোকে দেখি ততক্ষনই একটা কথা মাথায় ঘুরে তোর মনে শিশুর মত এতো সরলতা কেন ?
শুধু তাই নয় অন্যের বিপদ আপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তোর কি আকুলতা ,ব্যস্ততা। আমাকে ক্রোধ থেকে মুক্ত করে তোর পাগলামী আর তোর আনন্দ আমার মনের শেষ প্রকোষ্ঠ পর্যন্ত ছুয়েছিল ।
আমি চাই পাশাপাশি চলতে চলতে একদিন তোর হাতে হাত রেখে চলার আনন্দ। অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে তোর নিকট আমার প্রেমের অর্ঘ নিবেদন করলাম ।বুঝলি তোর অভাবে আমি ঝড়ে দুমড়ে মুচড়ে খোল ভেঙ্গে যাওয়া তরীর ন্যায় অকুল পাথারে ডুবে যাচ্ছি ।তুই একবার এসে বাড়িয়ে দে পবিত্রতায় ভরা তোর সেই হাত ।জানিস আজও আমার কাছে এটা একটা বিস্ময় ।তুই মানুষ নাকি পরী।
তোর সব কথা আমি চোখ বুজে শুনতে চাই। আমার এলোমেলো মরুভূমির জীবনে তুই যেন একফোটা জলের মতো । যে তৃষ্ণা কমানোর পরিবর্তে তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয় ।থাক আর বেশি কিছু বলব না ।যেখানেই থাকিস একটা কথা মনে রাখিস বদ্বীপের এই ছোট ভূ খন্ডের এক বাসিন্দা তার ছোট্ট হ্রদয়ের সবটুকু ভালোবাসা নিয়ে তার জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তোর অপেক্ষায় থাকবে ।’অসম্ভব স্বপ্ন দেখাটা বিশাল অপরাধ দিন
শেষে,চূড়ান্ত অপরাধে যদি মরতে হয় তা হলেও আমি রাজি আছি।
আমি নাটাইবিহীন ঘুড়ি হয়ে তোর আঁকাশে উড়ি আর ছাতা হাতে
নিয়ে তীব্র ভালবাসার বৃষ্টিহীনতায় ভুগতে থাকি! আশায় থাকি যদি ফোঁটায়
ফোঁটায় বৃষ্টি নামে,সেই বৃষ্টি পুরোটা গাল আমার ছুঁয়ে নেমে যায় আর তোর আঙ্গুলে আমার আঙ্গুল ছুঁয়ে থেমে যায় এই প্রত্যাশায়।ঠিক যেমন
আমি সুউচ্চ তোর আলিঙ্গনে,আমি ভালোবাসা তোর প্রতি নিঃশ্বাসে।
আমি দূর্গ তোর সিংহাসনে,আমি দিগন্ত তোর ভাবনা-বিশ্বাসে।
আমি হিমালয় তোর অভিধানে,আমি ভীষণ আবেগী তোর নির্জনে।
আমি বৈরাগী তোর সুরে সুরে,আমি বিবাগী তোর অবর্তমানে।আমি ছন্নছাড়া তোর বিষন্নতায়,আমি সংবৃতা তোর চেতনায়,আমি স্বপ্ন-বিলাসী তোর আয়নায়,আমি সংসারী তোর মমতায়।আমি হাসি তোর দূরন্তপনায়,
আমি কাঁদি তোর অবহেলায়।আমি সদ্য ফোটা ফুল তোর আঙিনায়
আমি প্রকৃতি তোমার মহানুভবতায়।আমি ঝরা বকুল তোর পরাজয়ে
আমি প্রতিবাদী কমরেড,তোকে পাবার লড়াইয়ে।আমি আনন্দ তোর আনমনে,আমি সমঝোতা তোর বিশ্বাসে-বোধে।আমি নিঃস্তব্ধতা তোর নিঃসঙ্গতায়,আমি শ্রাবণধারা তোর ভালোবাসায়।আমি ঝড়ো হাওয়া তোর আকাশে,আমি বিকীর্ণ রোদ তোর উচ্ছাসে।আমি জোছনা তোর আঁধার সময়ে,আমি উষ্ণতা তোর শীতার্ত আবহে।আমি মমতাময় তোমার হৃদয় ক্ষরণে,আমার হৃদয় গালিচা তোর বরণে।আমি একাত্তরের গেরিলাযোদ্ধা,তোর স্বাধীনতায়,ঔজ্জ্বল্যে,হেমে আমি বিহ্বল ব্যাকুল দিশাহারা আমি ব্যাপ্ত, মগ্ন তোর প্রেমে।
ইতি
তোর ঘুটেকুমার ‘

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 7 =