প্রেমপত্র-৭৯

পরী,
আচ্ছা আমি শুনেছি ভালবাসা নাকি পাগলামি ছাড়া আর কিছুই না?
কই আমার তা মনে হয় না আমি সুস্থ্য স্বাভাবিক জীবনের নিয়মে তোমাতে বিমুগ্ধ হয়েছি।খুব স্বাভাবিক ভাবে কখন থেকে কিভাবে কেন এই সব প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজিনি।তবে তো এটা বলতে পারি ভাললাগাটা আস্তে আস্তে ভালবাসায় রুপ নিয়েছে।হুমম আমি জানি তোমাকে জয় করার পথটা সহজ নয়,ঠিকই আছে এত সহজ হবে কেন?তুমিও তো সহজলভ্য কিছু নও।আমি আস্ত আস্তে অথচও চূড়ান্ত বিশ্বাসে তোমায় জয় করতে চাই।হুমম এর জন্যে আমাকে শুদ্ধ থেকে শুদ্ধতম হতে হবে,তাই সই।
আমি সারাক্ষন তোমার মাঝে মিশে থাকতে চাই।কথাটা যদিও রুপক অর্থে ব্যাবহৃত,তবুও আসলে ঠিক মনের কাছে থাকা অথবা না বলেই বুঝে ফেলা।একটা পিন পরার শব্দও শেয়ার করা এইতো,হয়ত অনেক তুচ্ছ তবে দিন শেষে এতটা পাশে তুমি থাকলে আমার স্বর্গও চাই না।তুমি জানো মেয়ে,আমি শুধু তোমার পানে চেয়ে থাকি।তোমার কাছে আমি বুঝতে শিখেছি ভালবাসার মানে।কিভাবে লড়াই করে যেতে হয় নিজের চাওয়া টকে আদায় করতে হয়।এত প্রতিকূলতার মাঝে এগিয়ে যেতে হয় কিভাবে তা তো তুমিই করে দেখয়েছো।আমি তাই বুঝতে পারি,কিভাবে তোমাকে চাইতে হয়।তোমাকে অর্জন করে নিতে হয় কিভাবে,যুদ্ধ করতে হয়
ভালবাসার পবিত্র সম্পর্ককে রক্ষা করতে হয় কিভাবে।আমি শিখেছি মাথা নত না করেও কোন কিছু জয় করা যায়।আমি একটা যুদ্ধ করছি প্রতিনিয়ত,তোমাকে আমার নাম দেয়ার লড়াই।যুদধ নয় এ লড়াই শুধু অপেক্ষার,তোমার জন্য,আমাদের জন্য।সত্যি যদি ঈশ্বর বলে কেউ থাকেন, তবে আমি শুধু চাইবো,লড়াই করে তোমাকে পাবার আধিকার।
বেঁচে থাকলে কোন একদিন সুন্দর সময়ে তোমার কাছে আমি ঠিকই পৌঁছব।তোমার জন্য,তোমার সাথে থাকার জন্য।
বুঝলে আনিসুল হকের মা গল্পটা পড়লে দুঃখে কুকরে যাই।শুধু তোমায় এতটুকু বলতে ইচ্ছে করে আমি তো সেই কবেই আজাদ হয়ে গেছি মনে প্রানে তুমি কি আমার মিলি হবে,শুধুই আমার।এবারের গল্পটা আর বিয়োগাত্বক হবেনা হবে মিলনাত্বক।প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম কচি কাচা দের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনাব তুমি আর আমি একসাথে।এর জন্য আমাকে একটু কষ্টতো করতেই হবে,তার জন্যে তুমি যদি কঠিন হও অনেক কঠিন জেনে নিও আমি কঠিনেরেই ভালবাসলাম।
বালিকা আমার জীবন কখনই অনেক আনন্দের ছিল না।তবু জীবনে কিছু ব্যাপার নতুন করে আমি শুরু করি।কত বার তোমার ঐ রঙিন শাড়ি ঢেউয়ের মতো একের পর এক আঁছড়ে পরে স্মৃতির তটভূমিতে এবং ক্রমাগত ভিজিয়ে দেয়।প্রথম কথা মনে পরে যায় ।কি স্নিগ্ধ শান্ত কোমল মেয়েটি,মন চায় সারা জীবন পাশে বসে গল্প করি।কিছু কথা বলি খুব দৃঢ় ভাবে, এই যেমন “এখন থেকে তোমার আর কোন ভাবনা নেই ।আমার যে ছোট হৃদয় সম ডিঙিখানি যমুনার জলে ভাসালাম ,সেটি বাইবার দায়িত্ত তোমার। তুমি যে দিকে তরি বাইবে,আমি নিঃসংশয়ে তোমার হাত ধরে নিশ্চিত মনে সেদিকেই যাবো।আমি অতি সাধারন সাধারন মানুষ। আমি জানি,তুমি প্রখর বুদ্ধিমতী মেয়ে ।তোমায় পাশে পেয়েছি তাই আজ থেকে আমি ভাবনামুক্ত মানুষ।জানিনা তুমি তখন কি বলবে?
নিপট সরলতায় তোমার হাত খানি ধরে আরও বলে দিবো”
তোমায় ভালবাসি আমি,তোমার সমস্ত দুঃখ কষ্টেও আমি শান্তির ছায়ার মত প্রসারিত হয়ে তোমায় জড়িয়ে রাখব ” অত:পর শুধু উপভোগ করবো তোমার মায়াময় চোখ।এত মায়াময় গভীর করো চোখ হতে পারে!এত অতল গহীন যে তাতে ভাসাও আমায় আবার ডোবাও কখনো ।আমি একবার দমবন্ধ করা অলিঙ্গনে তোমায় আবদ্ধ করতে চাই।তোমার সাথে পথ চলতে চাই ভাললাগার সবটুকু সাথে নিয়ে সমস্ত একাগ্রতায় । জীবনের টুকরো টুকরো ঝগড়া ,অভিমান,মধুসুখের ক্ষনগুলো তোমার চোখে চোখ রেখে কাটিয়ে দিতে চাই।
তোমাকে ই বলছি একটু ভাবো তো কতটা পাগল আমি তোমার জন্যে।
কত আর চুপ করে থাকবে পাগলী,অনেক হয়েছে তো আর কতো?একটি বার চোখটি বন্ধ ভাবো আর বলো.”ভালোবাসি তো”,বুঝলে পাগলী তোমাকে আমি লবন এর মত ভালবাসি ।
তুমি বলবে এটা স্বপ্ন,হুমম স্বপ্নই তো তুমিও তো আমার কাছে স্বপ্নেরই মত,একটা কথা বলি আমি তোমার সাথে বৃদ্ধহতে চাই,এইজনমে ৮০ বছর বয়সে বাগানে বসে তোমার সাথে চা খেতে চাই।এর জন্য অবশ্যই তোমাকে লাগবে।বুঝলে না তুমি আমার জীবনের জন্য খুব জরুরী।
ইতি
মেঘবালক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 + = 19