এসপি বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের দায় নিবে কে?

স্কুলে পড়ার সময় আমাদের একজন শিক্ষক প্রায়শ বলতেন, একটি জাতিকে বিভ্রান্ত এবং বিনাশ করতে পারে তিন পেশার মানুষ। এক হচ্ছে শিক্ষক, তিনি শিক্ষার্থীদের কুশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বারোটা বাজাতে সক্ষম। দুই হচ্ছে সাংসদ বা আইন প্রণেতা, এরা কালাকানুন প্রণয়নের মাধ্যমে জাতিকে বিনাশ করে দিতে পারেন। তৃতীয় যে শ্রেণীর কথা স্যার বলেছিলেন, তারা হলেন সাংবাদিক। সাংবাদিকরা ভুল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্তই শুধু করে না, একটা জাতিকে গৃহযুদ্ধের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। যার উদাহরণ আজ আমরা দেখলাম।

১.
স্কুলে পড়ার সময় আমাদের একজন শিক্ষক প্রায়শ বলতেন, একটি জাতিকে বিভ্রান্ত এবং বিনাশ করতে পারে তিন পেশার মানুষ। এক হচ্ছে শিক্ষক, তিনি শিক্ষার্থীদের কুশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বারোটা বাজাতে সক্ষম। দুই হচ্ছে সাংসদ বা আইন প্রণেতা, এরা কালাকানুন প্রণয়নের মাধ্যমে জাতিকে বিনাশ করে দিতে পারেন। তৃতীয় যে শ্রেণীর কথা স্যার বলেছিলেন, তারা হলেন সাংবাদিক। সাংবাদিকরা ভুল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্তই শুধু করে না, একটা জাতিকে গৃহযুদ্ধের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। যার উদাহরণ আজ আমরা দেখলাম। একটি অনলাইন নিউজে এসপি বাবুল আকতারকে নিজ স্ত্রী’র খুনের প্রধান পরিকল্পনাকারী উল্লেখ্য করে সংবাদ প্রকাশ করে। মুহুত্বের মধ্যে সেটা ছড়িয়ে পড়ে সবার ফেসবুক ওয়ালে। অনলাইনে সবাই দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। একপক্ষ বাবুলের মুন্ডুপাত করতে থাকে, অন্যপক্ষ বাবুলের পক্ষে অবস্থান নেন। পরে দেখা গেলো পুরো সংবাদ ভুল এবং মিথ্যা। এখন কথা হচ্ছে, সামজিকভাবে যে এসপি বাবুল আকতার হেয় প্রতিপন্ন হলেন এর দায় নিবে কে? কেউ কেউ হয়তো এখনও অনলাইনের সংবাদটিকে সত্য ভেবে, এসপি সাহেবকে বাঁচাতে এখন ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে বলে ভাবতে শুরু করবেন। মোদ্দাকথা একটি নিউজ জঙ্গীদের জন্য ত্রাস, এসপি বাবুল আকতারকে হিরো থেকে ভিলেন বানিয়ে দিলো।

২.
কাগজের সংবাদ মাধ্যমে ভুল সংবাদ প্রকাশিত হলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে কিংবা ভুল স্বীকার করে সংবাদ প্রকাশ করা যায়। কাগজের সংবাদপত্র দেখভাল করার জন্য প্রেস কাউন্সিল রয়েছে, তাই এরা খুব সতর্কতার সহিত রিপোর্ট বা সংবাদ প্রচার করে। পক্ষান্তরে অনলাইন মাধ্যমে এইসবের কোন বালাই নেই। অনলাইন নিউজের জবাবদিহিতার জায়গা নেই। তাই অনলাইনে যে কোন ধরনের নিউজ প্রচার হয়ে থাকে। দেশে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি অনলাইন পত্রিকা ছাড়া অধিকাংশ অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ ঠিকমতো সম্পাদনাও করা হয় না। কারণ অনলাইনে আগে নিউজ প্রচারের জন্য এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলে। যার কারণে সাংবাদিকতার মান বারংবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কাগজের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধিদের অনেকেই সাংবাদিকতা দেখে দেখে শিখেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও অনেকে এই মাধ্যমে যুগ পার করায়, অভিজ্ঞতা দ্বারা সাংবাদিকতা করেন। কিন্তু অনলাইনে যারা কাজ করে এর বেশিরভাগই নতুন। তাদের অনেকেই সাংবাদিকতায় না পড়েই, এই মাধ্যম সম্পর্কে কোন প্রকার ধারনা না থাকার পরও সাংবাদিক। যার ফলশ্রুতিতে দেশ দক্ষ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিক না পেয়ে পাচ্ছে দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানো সাংঘাতিক!!

এর থেকে পরিত্রাণের জন্য অনলাইন প্রচার মাধ্যমের জন্য আলাদা আইন প্রণয়ন করা জরুরি। সেই সাথে প্রেস কাউন্সিলের মতো জবাববিহিতের জন্য একটা কিছুর ব্যবস্থা করা সময়ের দাবি। আমি কোন ধরনের সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের পক্ষে নই। কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করার পক্ষে। হলুদ সাংবাদিকতা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তবে স্বাধীনগণমাধ্যমের সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “এসপি বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের দায় নিবে কে?

  1. এরাই বর্তমান বাংলাদেশের
    এরাই বর্তমান বাংলাদেশের চিরশত্রু। এদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আর এর দায়ীত্ব নেয়া উচিৎ সাংবাদিকদেরই। কারন, সাংবাদিকতা একটা মহৎ পেশা। আর এ পেশার সাথে সমাজ, দেশ, মানুষের অধিকার জড়িত। তাই, যাকে-তাকে এমন মহৎ পেশায় নিয়োজিত করা মোটেই উচিৎ নয়। দায়ভার সরকারে উপর একা দিতে রাজি নই। এর দায়বার সেই নিউজ পোর্টাল ও সাংবাদিক এসোশিয়েশন যদি থাকে তাদেরও।

    ভালো পোষ্ট দিয়েছেন বস। শুভকামনা রইল

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

71 + = 79