মুহম্মদের জন্মের কিংবদন্তি গল্প

[ প্রবন্ধটি The First Muslim: The Story of Muhammad Book by Lesley Hazleton বইয়ের একটি অধ্যায়ের অনুবাদ ]

ইসলামের নবি মুহম্মদ জন্মগ্রহণ করেছিল এতিম অবস্থায়, যা উপলক্ষণ বিশ্বাসীদের জন্য মোটেই শুভ কোন লক্ষণ নয়। মুহম্মদের জীবনীকারদের অনেকে এই বিষয়টি নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ দেখাননি যেন বিষয়টি ছিল নিয়তির একটি খেলমাত্র, এনিয়ে বিশদ আলোচনার কিছু নেই। অথচ মুহম্মদের জীবনের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে আমরা তার এতিমত্বের প্রভাব তার পরবর্তী জীবনে দেখতে পাই।

মুহম্মদের জন্মের ঘটনা নিয়ে যে আখ্যান প্রচলিত আছে, তাতে বিশ্বাস করলে বলতে হয়, মুহম্মদের জন্ম হতোই না; কারন, তার মায়ের সাথে সঙ্গমের কয়েক ঘন্টা আগে তার পিতাকে তার দাদা প্রায় হত্যা করেই ফেলেছিল। এবং মুহম্মদের পিতা রক্ষা পেয়েছিল তার যথাযথ কর্ম (মুহম্মদকে জন্মদান) সম্পন্ন করার জন্য; তিনি তার বসবাসের শহর হতে অনেক দূরে মারা যান; মৃত্যুর সময় জানতেনও না যে, তার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে।

মুহম্মদের দাদার নাম আবদুল মুত্তালিব, ক্ষমতাশালী কুরাইশ গোষ্ঠীর সম্মানিত একজন নেতা এবং মক্কার একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু আকর্ষণীয় লোককথায়র কেন্দ্রীয় চরিত্র। যুবক বয়সে আবদুল মুত্তালিব ধর্মস্থান কাবায় স্বাদুপানির জমজম প্রস্রবণ খনন করেছিলেন, যা সারা আরব হতে তীর্থযাত্রীদের আকর্ষণ করেছিল। আরবে জমজম প্রস্রবণ নিয়ে অনেক লোককথা প্রচলিত ছিল। লোককথায় আছে- অনেক প্রাচীনকালে ইব্রাহিম নবীর লাঠির আঘাতে জমজমের প্রসবণের সৃষ্টি হয়। নবী ইসমাইলকে জন্ম দেয়ার পর তৃষ্ণার্ত মা হাজেরা প্রথম এই প্রসবণের সন্ধান পান। কিন্তু কালের বিবর্তনে এই প্রসবণের আশেপাশের বসতি পরিত্যাক্ত হয় এবং প্রস্রবণটির নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। অনেক শতাব্দী পর মুহম্মদের দাদা আব্দুল মুত্তালিব এই প্রস্রবণটি পুনরায় খুঁজে পান। লোককথায় আছে, আব্দুল মুত্তালিব প্রস্রবণটির মুখ খুলতে গেলে অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটতে থাকে; কেউ বলে, প্রসবণের মুখ একটি ভয়ংকর সাপ পাহারা দিচ্ছিলো যেন কেউ এগুতে না পারে, তখন একটি বিশাল আকৃতির ঈগল উড়ে এসে সাপটিকে ছোঁ মেরে নিয়ে যায়; আবার কেউ কেউ বলে, জমজমের প্রস্রবণে মণিখোচিত তরবারী, সোনা দিয়ে তৈরী হরিণের বড় মূর্তি সহ অনেক ধনসম্পদ পাওয়া গিয়েছিল। জমজম প্রস্রবণ নিয়ে সবচেয়ে চমকপ্রদ আখ্যান হলো, নিজ সন্তানকে নবী ইব্রাহিমের উৎসর্গ করার ঘটনা।

জমজম প্রস্রবণ পুনরায় আবিষ্কার করা পর আব্দুল মুত্তালিব দাবি করেন যে, তীর্থযাত্রীদের কাছে পানি বিক্রয় হতে যে মুনাফা হবে, তা তার গোত্র বনু হাশিম পাবে। বনু হাশিম হলো কুরাইশ গোষ্ঠীর প্রধানতম চারটি গোত্রের একটি। মক্কায় আরো পানির প্রস্রবণ থাকলেও জমজম প্রসবণের অবস্থান ছিল মক্কার কেন্দ্রে, এর পানি ছিল অন্য প্রসবণের চেয়ে সুপেয় এবং সবচেয়ে বড় কথা জমজম প্রসবণকে ঘিরে ছিল আকর্ষণীয় বহু কিংবদন্তী লোককথা। ফলশ্রুতি জমজম প্রসবণের উপর বনু হাশিম গোত্রের দাবি নিয়ে কুরাইশ গোষ্ঠীর অন্যান্য গোত্রের নেতারা দ্বিমত প্রকাশ করে, আব্দুল মুত্তালিবের উদ্দেশ্য ও সম্মান নিয়েও প্রশ্ন তোলে। এই বিষয়ে আবদুল মুত্তালিবের প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্ময়কর, ভয়ংকর একটি শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সে সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়। শপথটি ছিল- যদি তার দশ ছেলে যুবক বয়সে উর্ত্তীণ হয়, তাহলে জমজম প্রসবণের উপর বনু হাশিম গোত্রের অধিকার রক্ষার্থে সে তাদের একজনকে জমজম প্রসবণের পাশে কাবার চত্বরে বলি দেবে। আব্দুল মুত্তালিবের এই শপথ গ্রহণের পর সবাই চুপচাপ হয়ে যায়। আরবে নরবলিকে খুব গুরুত্ব সহকারে দেখা হতো, বিশেষতঃ পিতা কর্তৃক পুত্রকে বলিদানের ঘটনা, কারন তাদের লোককথায় কিংবদন্তী পূর্বপুরুষ ইব্রাহিম তার পুত্র ইসমাইলকে বলি দিতে চেয়েছিল। লোককথায় আছে, কাবার ভেতরে যেখানে প্রবেশ নিষেধ, সেখানে অলৌকিকভাবে ইসমাইলের বদলে বলি হওয়া মোষটির শিং রাখা।

আরবে সেই সময় দশজন তথা অধিক সংখ্যক জীবিত ও প্রাপ্তবয়স্ক পুত্রসন্তান থাকাকে ঐশ্বরিক করুণাপ্রাপ্ত বলে ধরা হতো; আরবে শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার এতটাই বেশি ছিল যে একজন পুরুষের অনেকজন স্ত্রী থাকলেও পুত্র বংশধর রেখে যাওয়া অনেক দুস্কর বিষয় ছিল। ৫৭০ খ্রীস্টাব্দ বা তার কাছাকাছি সময়, আব্দুল মুত্তালিবের দশজন পুত্রসন্তান ঠিকই জীবিত ছিল ও প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গিয়েছিল। অধিক প্রাপ্তবয়স্ক জীবিত পুত্রসন্তান থাকার কারনে আব্দুল মুত্তালিব, তার পুত্ররা ও বনু হাশিম গোত্র তখন কুরাইশ গোষ্ঠীর মধ্যে খুবই প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছিল। আরবে সেসময় লম্বা নাকের মানুষদের খুব কদর করা হতো। আব্দুল মুত্তালিবের পুত্রদের ছিল লম্বা নাক। মুহম্মদের জীবনীকার ইবন ইসহাক এনিয়ে লিখেছেন- “তাদের নাক এতটাই লম্বা ছিল যে পান করার সময় ঠোঁটের আগে নাক পানি স্পর্শ করতো। আরবে বোচা নাকের লোকেদের অবজ্ঞা করা হতো, তাদের ফ্যাকাসে চামড়ার বিজান্টিয়াম গ্রিকদের মত মেয়েলি ভাবা হতো, অপমান করে ডাকা হতো- হলদে মানুষ।”

আব্দুল মুত্তালিবের শপথ পূর্ণ করার সময় চলে এলো। যে সম্মান সে ও তার গোত্র ভোগ করছিল, তা ধরে রাখতে হলে শপথ পূর্ণ করতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো, বলি দেয়ার জন্য পুত্র বাছাই করা; পিতা হিসেবে আব্দুল মুত্তালিবের জন্য এই কাজটি ছিল দুরহ, তাই এবিষয়ে তাকে আরবে প্রচলিত প্রথার আশ্রয় হয়; তাকে কাবাতে রাখা কুরাইশ গোত্রের টোটেম প্রতীক পবিত্র বলে গণ্য হুবালের মূর্তিকে ব্যবহার করে এই কাজটি সমাধা করতে হবে।

হুবালের মূর্তির সামনে শপথ ও চুক্তি করা হয়, বন্ধুত্বের ও প্রতিশোধের শপথ নেয়া হয়। কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণে এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে হুবালের মূর্তি ব্যবহার করা হতো। আরবরা বিশ্বাস করতো হুবাল সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছের প্রকাশ করে; আরবদের কাছে সৃষ্টিকর্তার নাম আল্লাহ, যিনি সর্বোচ্চ আসনে আসীন, আশ্রয়দাতা প্রভু, যিনি এতটাই উচ্চাসীন ও রহস্যময় যে, শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন হয়। দ্বন্দ্ব-দ্বিধা সমাধানে তীর-ছোঁড়ার আশ্রয় নেয়া হয়; আরবরা ভাবতো হুবাল এর মাধ্যমে আল্লালাহ প্রদত্ত সমাধান তাদের জানাবে। সম্ভাব্য সমাধানগুলো লিখে তীরের সাথে লাগানো হয়; যেমন কোন কাজ সমাধা সময় জানার জন্য- এখন, পরে, কখনো নয় বা আজকে, সাতদিনের নাম লিখে, মাসের নাম লিখে তীরের সাথে যুক্ত করা হয়; অর্থাৎ যতটি সমাধান, ততটি তীর প্রস্তুত করা হয়। এরপর আমন্ত্রণ প্রস্তুত করা হয় এবং ছাগল বা উট বলিদান করা হয়। সবশেষে হুবালের পুরোহিতরা তীরগুলোকে একত্রে বাঁধে, তীরের মাথা উর্ধ্বমুখী করে ভারসাম্য বজায় রেখে মাটিতে পাশাপাশি রাখে এবং এরপর অনেকটা চাইনিজদের আই-চিং পদ্ধতির মত তীরগুলোকে ছেড়ে দেয়; এরপর হুবালের মূর্তির দিকে যে তীরটি মাথা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকবে, সে তীরটির সাথে লেখা সমাধানটিই ইশ্বর প্রদত্ত সমাধান বলে বিবেচিত হয়।

আব্দুল মুত্তালিবের শপথ পূর্ণ করার জন্য সন্তান বাছাইয়ের সমস্যা সমাধানের জন্য দশটি তীরের প্রয়োজন ছিল, প্রতিটি তীরে আব্দুল মুত্তালিবের একজন করে পুত্রের নাম লেখা ছিল। পুরো শহরের লোকেরা আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান বাছাইয়ের উত্তেজনাপূর্ণ এই অনুষ্ঠান দেখার জন্য উপস্থিত হয়েছিল; সবখানে আলোচনা শপথ পূরণ করার জন্য কার নাম উঠবে। এদিকে হুবালের পুরোহিতরা প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সেরে ফেলেছে; অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার পরিসমাপ্তি ঘটে, পুরোহিতরা তীরগুলো ছেড়ে দেন। পুরোহিতরা ফলাফল ঘোষণার পর, চারপাশে এক অদ্ভুত দমবন্ধ করা নিস্তবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

আব্দুল মুত্তালিবের শপথ পূর্ণ করার জন্য সন্তান বাছাইকৃত সন্তানের নাম- আব্দুল্লাহ, আব্দুল মুত্তালিবের কনিষ্ট ও প্রিয় পুত্র।

আব্দুল মুত্তালিব এই ঘটনায় এতটাই মুষড়ে পড়লেন যে, বয়সের সাথে তার দাঁড়ি যদি সাদা না হতো, তবে এই সিদ্ধান্ত শুনে তা সাদা হয়ে যেত একনিমিষেই; কিন্তু তার কিছুই করা ছিল না; এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করলে শুধু তার সম্মানই নয়, পুরো বনু হাশিম গোত্রের সম্মান ভূলুন্ঠিত হবে। আব্দুল মুত্তালিবের অন্য পুত্ররা দলবেঁধে দাঁড়িয়ে ছিল, তারা দেখছিল, পিতা নিজহাতে তাদের ছোটভাইকে বলি দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের কিছু করার ছিল না, কারন সে সমাজে পিতার কাজে বাঁধা দেয়ার চল ছিল না। এছাড়া, তারা সবাই এইভেবেও স্বস্তিবোধ করছিল যে, বলির শিকার হবার জন্য তাদের নাম উঠেনি। তারা আশা করেছিল, হুবাল হতে ভিন্ন নির্দেশনা আসতে পারে, তারা ছোটভাইয়ের জীবন বাঁচানোর জন্য অলৌকিকত্বের আশা করছিল কিন্তু কিছুই হলো না। ইতোমধ্যে পিতা আব্দুল মুত্তালিব পুত্র আব্দুল্লাহকে হাঁটুতে ভর দিয়ে বসতে বললো এবং হাতে বলির জন্য ছুরি নিলো। বড় ভাইরা তাদের ছোট ভাইয়ের আসন্ন এই পরিণতি সহ্য করতে পারলো না, তারা সাহস করে বাঁধা দিয়ে বললো, এটি হয়তো হুবালের প্রদত্ত সমাধানের অর্থ নাও হতে পারে; হুবালের ইচ্ছে অনেক সূক্ষ্ণ ও দুর্বোধ্য হতে পারে, যা সাধারণের বোধগম্য সবসময় নাও হতে পারে। হুবালের প্রদত্ত সমাধানের প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করতে তারা আরবের প্রথা অনুসারে মদিনায় বসবাসরত খাজরাজ গোষ্ঠীর বিখ্যাত একজন নারী তান্ত্রিকের (কাহিনা) কাছে যাবার সিদ্ধান্ত নিল। মক্কা হতে মদিনার দুর্গম মরুপথ সাতদিনে পাড়ি দিল আব্দুল মুত্তালিব ও তার পুত্ররা, সাথে নিলো কাহিনার জন্য প্রচুর উপহার।

মদিনায় পৌঁছে কাহিনার কাছে উপহার সমর্পণ করে সবকিছু খুলে বলে তারা। কাহিনা আত্মাদের কাছে এই বিষয়ের সমাধান জানতে চায়। কাহিনা তাদের জানায়, মক্কায় একজন মানুষের জীবনের বিনিময়ে কি পরিমাণ রক্তমূল্য (ব্লাডমানি) পরিশোধ করতে হয়? উত্তরে তারা কাহিনাকে জানায়, দশটি উট। কাহিনা এরপর তাদের সমাধান বলে দেয়।

সমাধান হলো- আবদুল্লাহ এবং দশটি উট হুবালের মূর্তির সামনে রেখে, নতুন করে তীর ছুঁড়তে হবে; যদি এবার তীর আবদুল্লাহের দিকে ইঙ্গিত করে, তাবে আরো দশটি করে উট যোগ করতে হবে; এভাবে যতক্ষন তীর উটের দিকে র্নিদেশ করবে না, ততবার দশটি করে উট যোগ করতে হবে এবং যেবার তীর উটের দিকে নির্দেশ করবে, তখন উটের সংখ্যা যা হবে, ততটি উট বলিদান করতে হবে।

মক্কায় ফিরে কাহিনের কথা মত তীর ছোঁড়া হয়; বার বার তীর আব্দুল্লাহ দিকে নির্দেশ করছিল এবং রক্তমূল্য হিসেবে দশটি করে উট যোগ হচ্ছিল; এভাবে করে একসময় তীর উটের দিকে নির্দেশ করে, সে সময় উটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০০ টি। সন্তানের জীবন বাঁচাতে পেরে আনন্দিত হন আবদুল্লাহ’র পিতা ও ভাইয়েরা; দ্রুততার সাথে উটগুলো বলিদান করা হয়। বলিদান হতে আবদুল্লাহ জীবন বেঁচে যাওয়ার সেই সন্ধ্যায় আবদুল্লাহ’র পিতা আব্দুল মুত্তালিব খুব ধুমধাম করে উদযাপন করেছিলেন, নিশ্চিতভাবে সেদিন তিনি জীবন ও মৃত্যুর অনিবার্য সম্পর্কের কথা ভুলে গিয়েছিলেন; এই কিংবদন্তীময় ঘটনার কিছুকাল পরেই আবদুল্লাহ মারা যান।

আবদুল্লাহ’র জীবন বলিদান হতে বেঁচে যাবার পর আব্দুল মুত্তালিব পুত্র আবদুল্লাহ’র বিয়ের ঘোষণা দেন, কন্যা আমিনা। অনেকে বলেন, আবদুল্লাহ’র কপালে একটি উজ্জ্বল সাদা আলোক ছটা ছিল কিন্তু আমিনার সাথে বাসররাতের পরদিন সেই আলোকছটা আর ছিল না। আবদুল্লাহ তার স্ত্রী আমিনার সাথে বাসররাত সহ আরো দু’রাত কাটিয়েছিল। তৃতীয়দিন আবদুল্লাহ দামেস্কের উদ্দেশ্য বাণিজ্য করতে বেরিয়ে যায় এবং মক্কায় ফেরার পথে বাড়ি হতে দশদিনের দূরত্বে থাকা অবস্থায় মারা যায়।

আবদুল্লাহ কিভাবে মারা যান ও তার সমাধি কোথায়, তা সঠিকভাবে কেউ বলতে পারেনি। শত শত মাইলের মরুপথ পাড়ি দিতে যেয়ে দুর্ঘটনায় বা রোগাক্রান্ত হয়ে বা বিষাক্ত প্রাণীর কামড়ে মারা যাওয়া, সে সময় আরব বণিকদের জন্য খুব স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। আবার আরবের অনেকে ভাবতেন, যে কাহিনার মাধ্যমে আবদুল্লাহ বলিদান হতে বেঁচে ফিরেছিল, আত্মাদের ইচ্ছায় ও নিয়তির বিধান অনুসারে সেই কাহিনার কাছাকাছি অবস্থান করার সময় আবদুল্লাহ’র মৃত্যু হয় কিন্তু এই মর্মান্তিক বিষয় নিয়ে কেউ খুব একটা আলোচনা করতো না।

সে সময় আবদুল্লাহ’র স্ত্রী আমিনা গর্ভবতী ছিলেন; আবদুল্লাহ-আমিনার সন্তান জগতখ্যাত মুহম্মদ। আরব সমাজে মুহম্মদের জন্মের এই কিংবদন্তি ঘটনার কারনে তাকে বিশেষ হিসেবে দেখা হতো। মক্কা নগরীর প্রভাবশালী পরিবারে মুহম্মদের জন্ম হয়েছিল। মুহম্মদের জন্ম কিংবদন্তি তাকে মক্কার অন্যান্যদের চেয়ে আলাদা ও বিশেষ স্থান দিয়েছিল; সেই সময়ের আরব সমাজে পিতাহীন (এতিম) নাবালক পুত্রের অবস্থান ছিল খুবই কষ্টকর কিন্তু এই বিষয়টিও মুহম্মদকে বিশেষ শিশু হিসেবে আসীন করেছিল যে, তার পিতার জীবনমূল্য অন্যান্যদের চেয়ে দশগুন বেশি দামী।
_____________
মুসলমানরা দাবি করে-

/মুহম্মদের পিতা আব্দুল্লাহ ও দাদা আব্দুল মুত্তালিব পৌত্তালিক ছিলেন না এবং কোনো নবী বা রাসূলের পিতা কখনও কাফির ছিলেন না।/

উপরের ঐতিহাসিক প্রবন্ধ হতে এটি স্পষ্ট যে, মুহম্মদের পিতা ও দাদা পৌত্তালিক, কাফির ছিলেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “মুহম্মদের জন্মের কিংবদন্তি গল্প

  1. লেখা নিয়ে একটাই প্রশ্ন, “নবী”
    লেখা নিয়ে একটাই প্রশ্ন, “নবী” ধারণাটি সম্পূণই ইহুদীদের। আরব পৌত্তলিকদের মধ্যে “নবী” নেই। আব্রাহাম ইহুদীদের নবী। আরবরা বহু ঈশ্বরবাদী ছিলেন কাজেই আব্রাহাম কি করে তাদের ধর্মের অংশ হয়। আমি অনেক ইসলামী জ্ঞানীজনদের এই প্রশ্ন করে সদুত্তর পাইনি। তারা এড়িয়ে গেছেন। আব্রাহামকে কুরআনের ইব্রাহিম উল্লেখ করে কাবার সাথে মুহাম্মদ জুড়ে দেন। জমজমের কুপের সাথেও ইব্রাহিমকে জুড়ে দেন।

    1. মুহম্মদের ইসলাম ধর্ম গড়ে
      মুহম্মদের ইসলাম ধর্ম গড়ে উঠেছিল সেমিটিক বিভিন্ন জাতির নানান ধর্মীয় প্রথা, গল্প, আচারের উপর।
      তাই, সেমিটিক ইহুদি জাতির অনেক কিছুই সেমিটিক আরবদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল।

  2. স্পস্টতই বোঝা যাচ্ছে
    স্পস্টতই বোঝা যাচ্ছে মুহাম্মদকে পৃথিবীতে আনবার জন্য গডের একটা পরিকল্পনা ছিল। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে মুহাম্মদের দাদা-চাচারা পৌত্তলকতা , ব্ল্যাক ম্যাজিক আর অন্ধ প্রথায় বিশ্বাসী ছিল। মুহা্‌ম্মদ স্পস্টত এসবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি মাত্র ২৩ বছরে মনইথিস্টিক ইসলাম ধর্মকে যেভাবে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা সত্যিই অতুলনীয়। ধর্মটি এখনো প্রসার লাভ করছে।

  3. আপনার এই ঘটনাটি মুহাম্মদ সা
    আপনার এই ঘটনাটি মুহাম্মদ সা যে একজন সত্য নবী সেটাই প্রমাণ করে। কারন একজন এতিম হয়েও সমগ্র আরবের আর নিজের বংশের মানুষের মধ্যে প্রচলিত অন্ধ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শুধু আল্লাহর একত্ববাদ খুব অল্প সময়ে প্রতিষ্ঠা করতে পারাটা কোন সাধারন ব্যাপার নয়। মুহাম্মদ সা এমন একজন ব্যাক্তিত্ব যার আদর্শ বর্তমান পৃথিবীতে মানুষ এমন ভাবে অনুসর যার আর দ্বিতীয় কোন উদাহরন নেই।

  4. কাহিনীর এতটুকুতে আমাদের অনেক
    কাহিনীর এতটুকুতে আমাদের অনেক ধার্মিক ভাইজানদের মনে হচ্ছে মুহাম্মদের জন্ম অনেক মহান সময়ে, মহান পরিবেশে, মহান পরিমণ্ডলে। কিন্তু আসলে কি তাই? আবদুল্লাহ মারা যাওয়ার চার বছর পর আমিনার গর্ভে মুহাম্মদের জন্ম হয়। আমিনার এই রহস্যময় গর্ভবতী হওয়া ও আবদুল্লাহ মারা যাওয়ার চার বছর পর মুহাম্মদের জন্ম হওয়া নিয়ে তখনকার আরব সমাজে বেশ কানা-ঘুষা আছে। সেই সময় আরবের সমাজপতিরা মুহাম্মদকে মরুবালিতে অযত্নে বেড়ে উঠা ওক গাছ বলে টিটকারী করত। এ বিষয় নিয়ে লিখা উচিত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + = 14