পাহাড়ি অাদিবাসী জনগোষ্ঠীর মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে সমতলের শিক্ষিত বাঙ্গালিদেরও

১। দাদা একটা মিনিট কল্পনা করুন, ছুটির দিন কিংবা কোন বৃষ্টি-বাদল দিন বাড়ি বসে অাছেন বিরক্তিকর লাগছে,এখন অাপনার একটা সিনেমা দেখতে ইচ্ছে করছে। কিংবা অাপনার বন্ধুরা অাপনার বাড়ি চলে অাসলো সবাই মিলে সিনেমা দেখবে বলে।হলিউড,বলিউড,মালায়াম,চাইনিজ মিলে অনেক সিনেমা অাপনি দেখেছেন।এখন অাপনার দেখতে ইচ্ছে নিজের দেশের সিনেমা।নিজের দেশের মানে বাংলাদেশের সিনেমা কিন্তু বাংলা সিনেমা না।

২। ধরুন, অাপনি দেখবেন কোন চাকমা কিংবা মারমা ভাষার সিনেমা। না না অাপনার চিন্তার কোন কারণ নেই কারণ এই সিনেমায় বাংলা সাব টাইটেল দেয়া থাকবে।অাপনি সিনেমা দেখতে শুরু করলেন অার দেখতে দেখতে সিনেমাটার কাহিনী অাপনার ভালো লেগে গেলো।
এই সিনেমার মাধ্যমে অাপনি অাদিবাসীদের অনেক অজানা বিষয় জানতে পারলেন।পাহাড়ি অাদিবাসীদের জীবনধারা,সংস্কৃতি সম্বন্ধে ও ধারনা পেলেন।
অার এই সিনেমাটা অাপনার পছন্দের সিনোমাগুলোর একটা হলো। অার হ্যাঁ পাহাড়ে অাপনার অনেক জায়গায় অাপনার যাওয়ার ইচ্ছা ছিল যাওয়া হয়নি, সিনেমার বদৌলতে অাপনি সেসব জায়গা বাড়ি বসেই দেখার সুযোগ পেলেন।

৩। ভাবছেন ধূর ! এসব হয় নাকি? হয় দাদা, হয়। তাহলে
অাপনাকে কিছুদিন অাগের একটা গল্প শোনাই। বেশ কিছুদিন অাগে “অং রাখাইন” নামে এক লোক সাহসী অাদিবাসী বিশাল বড় এক সাহসের কাজ করেছিলেন।
তিনি কি করেছেন জানেন?? তিনি একটা সিনেমা তৈরি করেছিলেন, চাকমা ভাষার প্রথম মিনেমা।সিনেমার নাম ছিলো “মর থেংগাড়ি” মানে “মাই বাইসাইকেল”।সিনেমাটায় পাহাড়ে চলমান সত্যিকার কিছু ঘটনা তুলে ধরা হয়েছিল।অার তিনি সিনেমায় এত সাহসের সাথে এই ঘটনাগুলো তুলে ধরেছিলেন যে,সরকারের রেশন খাওয়া সেনাবাহিনী গুলো ভয় পেয়ে গেলো।
অার অাপনাদের ঐ সেনাবাহিনীর লোকগুলো ভয় পেয়ে কি করছে জানেন?? চোখের জল নাকের জল এক করে সেন্সর বোর্ডের কাছে গিয়ে হাত-পা জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলেছে,সিনেমাটা যেন প্রদর্শনের কোনরুপ অনুমতি দেয়া না হয়।সেন্সর বোর্ড কি করবে,চোখের জল দেখে বেচারা অার্মিদের প্রতি দয়া হলো, তাদের অাবার দয়ার শরীর।
ফলাফল সেই বাইসাইকেলকে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে সেখানেই অাটকে দেয়া হলো অার্মিদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়ার জন্য!!!

৪। বিশ্বাস হচ্ছে না তো?হবে কি করে? অাপনি পাহাড় সম্বন্ধে কতটুকু জানেন?? যতটুকু জানেন কিংবা পাহাড় সম্বন্ধে যতটুকু পত্রিকায় বছরে দু-একবার পড়েন তা কি করে অাসে জানেন?
এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশনের এক্স-রে মেশিন দেখেছেন?যেই এক্স-রে মেশিনের এক মাথায় মালামাল তুলে দিলে তা এক্স-রে মেশিনের মধ্য দিয়ে অন্য মাথায় গিয়ে বের হয়। যদি মালামালের সাথে অবৈব বা নিষিদ্ধ কোন জিনিস মালামালের সাথে থাকে তাহলে এক্স রে মেশিন সাথে সাথে সংকেত দেয় অার সেখানে দায়িত্বরত অফিসারগুলো সাথে সাথে সেই মালামালসহ মালিককে অাটক করে।অার যদি সাথে বহন করা নিষিদ্ধ বা অল্প গুরুতর কোন জিনিস হয় তাহলে সেসব জিনিস রেখে দিয়ে মালামাল ফেরত দেয়া হয়।

এখন কি একটু বুঝতে পারছেন দাদা, অাপনি পাহাড় নিয়ে যেসব খবর পড়েন সেগুলো কোন প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে অাসে।যেই খবরগুলো পত্রিকায় কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে প্রচার পায় সেইসব নিউজগুলো অাগে ক্যান্টনমেন্টের সামনের গেট দিয়ে ঢুকে পিছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে এসে তারপর অাপনার হাতে এসে পৌছায়।অাপনার ইচ্ছা করুক অার নাই করুক ওরা অাপনাকে যাই গিলাবে অাপনার তা গিলতে হবে।
অামার এক বন্ধু একবার মজা করে বলেছিল, সমতলের মুসলিমদের জন্য অাল্লাহ অার পাহাড়ের মুসলিমদের জন্য অার্মিরা।কথাটা হয়তো সে মজা করে বলেছিলো কিন্তু এই সেনাবাহিনীই হচ্ছে পাহাড়ের কর্তা।

৫। প্রথমে যে গল্পটা অাপনাকে বলেছিলাম।পাহাড়ের চলমান সত্যি ঘটনা তুলে ধরায় সেনাবাহিনী যেখানে সিনেমা পর্যন্ত অাটকে দিতে পারে, তাহলে বুঝতে তাদের নজর অাপনার দিকেও অাছে অামার দিকেও অাছে। অামাদের অলক্ষ্য অামাদের মনিটরিং করছে সেনাবাহিনীগুলো।
ইদানিংকালে সোস্যাল মিডিয়া/সোস্যাল সাইটের কারণে সবাই কমবেশি হিল-ট্রাক্টস সম্বন্ধে জানতে পারছে।অার এই হিল-ট্রাক্টস সম্বন্ধে জানা লোকের সংখ্যা যে বাড়ছে তা ব্লগে, সোস্যাল সাইটে ঢুকা মাত্র বুঝা যায়।এই লোকগুলো তাদের জানা কথা গুলো এসব ব্লগে/সোস্যাল সাইটে উগরে দিচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই লোকগুলো পাহাড় সম্বন্ধে কতটুকু সত্য জানতে পারছে?কিংবা কতটুকু সত্য মিডিয়ায় প্রকাশ পাচ্ছে?যে জায়গায় নিউজগুলো ক্যান্টনমেন্টের ভিতর দিয়ে অাসে সে জায়গায় এইসব নিউজের কতটুকু সত্যতা থাকতে পারে।যেখানে সবাইকে মনিটরিংয়ে রাখা হয়েছে সেখানে কতটুকু সত্য প্রকাশ করতে পারছে?
ব্লগে, অনলাইন মিডিয়ায়,সোস্যাল সাইটে পাহাড়ি অাদিবাসীদের নিয়ে এখন অাগের তুলনায় অনেক লেখালেখি করা হচ্ছে। কথিত অাদিবাসী বান্ধব নামধারী লোকের সংখ্যাও বাড়ছে।
এখন মনে একটু কি খটকা লাগছে দাদা? সেনাবাহিনীগুলো যেখানে সবাইকে মনিটরংয়ের ভিতর রেখেছে তাহলে কি করে এইসব লেখা প্রকাশ পাচ্ছে? তাহলে কি করে হঠাৎ করে অাদিবাসী বান্ধব লোকের সংখ্যা বেড়েছে? এটা একটা কৌশল। সেনাবাহিনীর পাতা ফাদ।

?jadewits_media_id=472795″ width=”500″ />
মাই বাইসাইকেল এর পরিচালক অং রাখাইন

অাদিবাসী বিষয়ক যেসব খবর প্রকাশ করা হচ্ছে কিংবা ব্লগে/সোস্যাল সাইটে লেখা প্রকাশ করা হচ্ছে সেগুলো কয়টা অাদিবাসীদের পক্ষে অার কয়টা অাদিবাসীদের বিরুদ্ধে??? পাবলিকের কাজ হচ্ছে গেলা।যাই গেলানো হবে তারা গিলবে।কি গেলানো হচ্ছে তা তাদের বিবেচ্য নয়।এভাবে সমতলের শিক্ষিত বাঙালিদেরও কৌশলে পাহাড়ি অাদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। অার একাজে তারা সফলও হচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “পাহাড়ি অাদিবাসী জনগোষ্ঠীর মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে সমতলের শিক্ষিত বাঙ্গালিদেরও

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

71 − = 69