প্রেমপত্র-৮০

কাঁজল লতা,
শুধু ভালোবাসি বলেই তো এমন পাগলামী করি নাকি? এই যে আমি তোমার দিকে চেয়ে থাকি এই যে আমি দিনরাত্রি তোমাকে দেখি তুমি অসম্ভব মায়াবতী বলেই তো নাকি? এই যে এত সারাদিন অসম্ভব গরমে জ্যামে মাথা যখন বিগরে যায়,তখন প্রফাইল খুলে তোমাকে দেখলে ঠান্ডা হয়ে যাই কারন বুকের মধ্যে থাকো বলেই তো নাকি? এই যে এত কথামালা অর্থহীন বকাঝকি তোমার নিশ্চুপ সহ্যকরা মনের মিল আছে বলেই তো নাকি?এই যে এত অনন্ত অপেক্ষা করি চেয়ে থাকি তোমার অপেক্ষায় ভালো লাগে বলেই তো নাকি? এই যে বই মেলায় তুমি শাড়ি পড়ে যখন হাটতে ভয় পাবে শাড়ি সামলানোর ভয়ে,তখন ডাকবে আমাকে ভিড়ের মধ্যে শক্ত হাতে ধরে রাখব তোমাকে হারিয়ে যাবার ভয়েই তো নাকি? এই যে এত হাজার স্বপ্নগাথা বুকের মধ্যে আগুন জ্বলা ‘ভালোবাসি’ এই কথাটি আজো যে প্রকাশ্যে যায়নি বলা ভালোবাসি বলেই তো নাকি?তবু আমি চাই খুব করে চাই বারংবার চাই কি চাই জানো।আমি চাই, খুব করে চাই কোন একদিন আমাদের দেখা হবে হোক সেটা ঝুম বৃষ্টির দিনে,হয়তো তুমি ছাতা নিয়ে দাড়িয়ে থাকবে হয়তবা তুমি সেদিন বাড়ি ফেরার তাড়ায় আছ।
নিস্ফল প্রচেষ্টায় একটার পর একটা পরিপূর্ন বাস বা রিক্সা ভাড়া করার। কিংবা কোন এক কুয়াশা মাখা রাতে রাস্তায় যখন একটি প্রানী ও থাকবে না।আমি খুব করে চাই সেদিন আমাদের দেখা হোক।আমি দেখতে চাই আমি যদি হঠাৎ পিছু থেকে তোমার কোমড় জড়িয়ে ধরলে তুমি কী করো?তোমার মুখ কতটুকু লজ্জায় লাল হয়?তোমার অবাক হওয়া চাহুনী কতটা উজ্জল হয়?আমি দেখতে চাই তুমি কিভাবে আমাকে ছাড়িয়ে দেয়ার বৃথা চেষ্টা করো অথবা কীভাবে নিজেকে তুমি সামলাও।প্রতিনিয়ত তোমায় বুঁকে নিয়ে আমি মহাকালের স্রোত পাড়ি দিচ্ছি পাগলী তুমি কি তা টের পাও না?
শুধু এতটুকু বলা তোমাকে,আমি ভাবসম্প্রসারন লেপে দিয়ে রুমালীর উরুতে, আমি তটস্থ চিত্তে কবিতায় ভর করে ফিরে আসবো তোমার কাছে।তুমি অপেক্ষার গোলাপ ফুটাও, তুমি বিচ্ছেদের আগাছায় জল ঢালো।আমি ছন্দের যাদুকরী মোহ দিয়ে সাজাবো তোমার গোলাপ বাগান
আর বিচ্ছেদের গলায় সর্বনাশ পরিয়ে দিয়ে দখল করে নেব
আমার স্থান তোমার বিষাদের শহরে।
তুমি কি জানো মেয়ে,তোমাকে দেখার পর থেকে কীরকম পাল্টে গেলো আমার আকাশ,সেখানে এখন শুধু চাঁদের বদলে তুমি ওঠো,আর একটাই ওঠে সন্ধ্যাতারা,সেও তুমি।
তোমার
প্রেমিক পুরুষ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − = 6