বাবুরাই বচন

কিছু কথা আজ খুব ভাবায় আমায়, এতো কিছু করলাম তো এই অল্প সময়ে।
নিজেকে রক্ষা করার জন্য নিজের আপন বলতে কাউকে রাখিনি, কেউ বলবে দুপুরে খেয়েছো কিনা তেমন কোনো সম্পর্ক আমি আর টিকে থাকতে দেইনি।

কেন করলাম এতো কিছু কিসের জন্য…..?

আমি বাচতে চেয়েছি আমার মতো করে। এটাই কি তবে আমার অপরাধ ছিল….?

আমার জন্য কেউ ছিলো না, না বাবা না মা কেউ না আমি আমার জীবন কে নিজের মতো করে সাজিয়েছি তা হলে সেটাই কি আমার অপরাধ ছিল….?

ওয়াশিকুর যেদিন মারা গেলে সেদিন দুপুরেও বেশ ভাল ছিলাম,বেড়াতে গিয়েছিলা সবাই মিলে এক গ্রামে কিন্তু দুপুরে যখন সবাই মিলে খালে গোসল করতে গেলাম কোথা থেকে যেনো ফোন আসলো বাবু আর নেই শুধু এটুকু বলছে মেয়েটা কথা বলতে পারছিলো না খুব কান্না করেছিলো আর এটুকো বলছিলো বাবু বাবুআর নেই ওকে মেরে ফেলছে ওকে ওরা বাচতে দিলো না।

দুপুরের খাওয়ার জো ছিল না আর কারোরি কোনো মতে খেয়ে সবাই গাড়িতে উঠলাম কিন্তু কারোর আর কথা বলার মুড ছিলো না।
অবশেষে ফিরেও আসলাম সবাই যে যার মতো করে বাসায় ফিরলাম কিন্তু এবার যেনো আগুন জ্বলেই উঠলো খুব বেশি করে, রাতে খবর পেলাম বাবুর সাথে এক মেয়ের খুব ভাল সম্পর্ক ছিল যে হয়তো মৌলবাদি কুত্তারদের সাথে মিলে বাবুকে মাডার করেছে।

মাথায় কিছু আর আসতে ছিলো না শুধু ঐ মেয়ের ওয়ালে গিয়ে খুব ভাল করে তার সব কিছু দেখতে লাগলাম।
কিন্তু এতো বাচ্চা মেয়ে এ কি করে এরকম করতে পারে কিন্তু তখন জানা গেলো আরো ভিতরের কাহিনী এই মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিলো যার সাথে সে শিবিরের নেতা (এখন সাংবাদিক) তার সাথে এই মেয়েখুব ভাল ভাবে জরিয়ে ছিলো।
মাথায় রক্ত ফুটছিলো শুধু সামনে বাবুর রক্তাক্ত মুখটা ভেসে আসছিলো।

কিন্তু কি করবো আমি….?

আমার কি করার আছে কিন্তু তখন দেখলাম আমার তো কেউ নেই আমিও তো একে নিয়ে এর ভিতেরে কি আছে তা জানতে পারি ।
দুই জনের সাথে কথা হলো তারা জানালো এই মেয়ে ফেসবুক মাফিয়া এর দ্বারা কিছু বের করা সম্ভব না।

কিছু দিন পরে ওর ক্লাসমেট আত্মহত্যা করলো আমারো সামনে সুযোগ এসে গেলো…. আমি ওর সাথে কথা বলতে লাগলাম ওর এই বিষয় সাহায্য লাগবে আমি তাকে কাছে নিতে তাকে সাহায্য করলাম।
তার সাথে রাতের পর রাত কথা বলতে লাগলাম।
তার উইক পয়েন্ট সামনে আসতে শুরু করলো তাকে নিজের মধ্যে নিতে শুরু করলাম কিন্তু এর সামনে এগোতে গেলে আমাকে ভালবাসার এর নাটক ছাড়া আমার সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকলো না।
কিছু দিনের মধ্যে সে আমার সাথে নাটক শুরু করে দিলো কিন্তু সে নিজেই জানতো না এই নাটক তাকে দিয়ে করানো হচ্ছে।
সে তার পিক পাঠাতে শুরু করলো তার কিছু একান্ত ছবি পাঠাতে লাগলো কিন্তু সে চাইতো আমি তার ফাদে পা দেই কিন্তু বাবুর জন্য যদি কিছু করতে হয় তবে আমার আর কিছুই করার ছিলো না আমি তার ফাদে পা দিলাম।
কিন্তু ফাদ তার জিদে পরিনতো করলো তার সেই প্রেমিক এখন তাকে ছেড়ে অন্য এক মেয়ের প্রেমে পড়েছে।
সে পাগল হয়ে উঠলো কিন্তু সে তাকে ভোলার জন্য তাকে দেখানোর জন্য আমাকে ব্যাবহার করতে শুরু করলো। নিজে জেদে সে আমাকে ব্যাবহার করলেও আমার কিছু করার ছিলো না আমি বাবুর কাছে দায় ছিল আমার যা আমাকে মেটাতেই হতো।
চলতে লাগলো এভাবেই আমাদের মিথ্যা ভালবাসার নাটক কিন্তু সে তখন তার সাবেক প্রেমিক কে ভোলার জন্য আকরে ধরেছে আমাকে আর আমি বাবুর বদলা নেওয়ার জন্য আকরে ধরেছি তাকে।
এটে গেলো দুই মাস ঈদের ছুটিতে লঞ্চে করে বাড়ি ফিরছিলো রাতে অনেক বার ফোন দিলাম কিন্তু ধরলো না, মনের মাঝে চিন্তু ভর করলো ১৫৪ বার ফোন দিয়ে ছিলাম কিন্তু তার কোনো উত্তর ছিলো না।
লঞ্চের মালিকের ছেলের সাথে কাজের জন্য বেশ ভাল সম্পর্ক ছিলো ফোন দিলাম তাকে সে কেবিন নাম্বার জানতে চাইলো কিন্তু আমি জানতাম না।
শেষে সব কেবিন দেখে সে আমাকে জ্বানালো নিরাপদ আছে মেয়েটি।
সকালে ফোন দিলো কিন্তু রাতের কোনো বিষয় কথা হয়নি।
এর মধ্যে একদিন দেখা করতে চাইলো কিন্তু আমার পক্ষে ওর সাথে দেখা করা সম্ভব ছিলো না।
কিন্তু সে চলে আসলো আমাকে না বলে আমার তখনকার শহরে বাধ্য হয়ে দেখা করা কিন্তু এ ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিলো না কারন বাবুর মুখটা রক্তে মাখা আর সেই রক্ত আমার হাতেও লাগে আছে।
আসলো দেখা হলো পার্কে বসলাম কিন্তু আমার সেফটির জন্য তাকে বাসায় নিয়ে যাবো না এমন টা করা হলো।
কিন্তু বিধি বাম আসার পড়েই তার পিড়িয়ড শুরু হলো কিন্তু বাসায় নিয়ে যাবো না কোনা ভাবেই।
সে দিন রাতে সে আর গেলো না তার মা আসলো তাকে নিতে কিন্তু মাকে কি করে ফাকি দেবো….?
একদিকে মা অন্য দিকে বাবুর রক্তাত মুখ বাধ্য হয়ে দেখা হলো ওর মায়ের সাথে রাতে হোটেলে উঠিয়ে দিলাম।
আমি বাসায় চলে আসি।
এর পরে আরো কাছে আসতে শুরু করে সে কারন আমি তার সামনে মেলে ধরেছিলাম এক বিশাল সপ্নের জাল এ ছাড়া আমার আর কি বা করার ছিলো….?
যেখানে বাবুর হত্যার খবর শুনি কিন্তু আমার কাজ ছিলো তার হত্যার সাথে কোনো যোগাযোগ ছিলো কিনা সেটা জানা।
রাতে কেয়ে শুয়ে পড়লাম কিন্তু সে কোনো ভাবেই আমাকে ছাড়লো না।
আমি তার মাকে কথা দিয়েছিলাম তার মেয়েকে যে ভাবে এনেছি ঠিক তেমনি ফেরত দেবো।
কিন্তু তার যুক্তি ছিলো,

“তুমি আমাকে ভালবাসো না আমার মাকে,
আমাকে ভালবাসলে আমার সাথে সেক্স করতে তোমার সমস্যা কোথায় ”

পা ধরলাম যে আমি পারবো না কিন্তু কোনো কথায় কাজ হলো না।
আমি রিপুর কাছে পরাজিতো হলাম কিন্তু আমি তো দেহো ভোগ করতে আসি নি তবে আমি কি করছি….?
পড়ের দিন সে ফিরে গেলো কিন্তু আমার পক্ষে কিছুই বের করা সম্ভব হয়নি…..!
এভাবে দেখা করা কথা বলা এর মধ্য কেটে গেলো আরো তিন মাস।
তার সাবেক প্রেনিক বিয়ে করেছে এই খবর সে জানতে পরা মাত্র সে পাগল হয়ে উঠলো তার প্রেমিক জিতে গেছে এমনটা মনে করে সে বিয়ের জন্য উঠেপড়ে লাগলো কিন্তু আমি তো তার সাথে সেক্স করতে বা বিয়ে করার জন্য আসিনি তবে এখন কি হবে…?
তবে কি আমি হেরে যাবো নিন্তু না আমি বাবুর মৃত্যু কিছুতেই ভুলতে পারিনি,

এবার শুরু হলো নতুন নাটক,
তাকে বিয়ে করবো বলা হলো সে তার মধ্যে দিয়ে এবার তার মাকে রাজী করিয়েছে কিন্তু বিয়েটাই ছিলো একটা ভুয়া।
কিছু কাগজ তৈরি করে তার পরেসাইন নিয়ে আমি সে যাত্রায় নিজের লক্ষ কে টিকিয়ে রাখার লড়াই করে গেলাম।
২৪ সেপ্টেম্বর সে বিয়ে করতে আসলো একা কিন্তু আমি আমার কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলাম কাজগুলো আর তৈরি করে রাখতে পারিনি।
সেদিন রাতে হোটেলে ওঠে গেলাম যে কাল বিয়ে করে নেবো কিন্তু রাতে হোটেলে হানা দিলো পুলিশের এক এসআই তিনি আমাদের আটকে টাকা দাবি করলো কিন্তু আমার কছে তখন না ছিলো চেক বই না ছিলো এটিএম কার্ড কারন তা হলে আমার ধরা পড়ার সম্ভবনা ছিলো টাকা দিতে পারলাম না।
কিন্তু এসআই ওকে বোঝাতে লাগলো আমি যা বলেছে তা সত্য নাও হতে পারে,আমাকে ওরা থানায় নিয়ে যাবে এমন করা হলো কিন্তু শেষে ওর মা কথা বললো ঔ পুলিশের সাথে।
কিন্তু কাজ হলো না তার ডিমান্ড ছিলো ১ লাখ।
এর পড়ে ওর মায়ের ছাত্রীর বাবা পুশিল তাকে দিয়ে ফোন করা হলো সে সকালে আসবে এবং আমাদের ছাড়ায়ে নিয়ে যাবে এমন সিদ্ধান্ত হলো সকালে ওর মামা আমাদের টাকা দিয়ে মুক্ত করলো এবার বার আমি ওকে বললাম তুমি কিছুটা সময় নেও বিয়ে পড়ে করি কিন্তু ওর মা বাধা দিলো আমাকে কোনো বাধাই আটকাতে পাড়তো না কিন্তু ওর মায়ের একটা কথায় আমি আটকে গেলাম।

” তুমি চাইলে চলে যেতে পারো কিন্তু আমার মেয়ের কি হবে…?
আমার কি হবে….!”

কি উত্তর দেবো আমি এবার মায়ের কাছে অপরাজিত আমি।
চোখ বন্ধ করে চলে আসলাম ওদের বাসায় সে দিন সন্ধায় কাজী দিয়ে বিয়ে হলো আমাদের কিন্তু এবার আমার আর কিছুই করার নেই যুদ্ধ ছিলো এক মেয়ের সাথে কিন্তু এখন সে আমার বউ…!
তবে কি আমি বাবুকে ভুলে যাবো…?
তবে কি আমি বাবুর বদলা নেবো না….?

আমি আবার আমার লক্ষে অটল থাকতে শুরু করলাম এবার যুদ্ধ বউয়ের সাথে একে একে ওর ফেবুর আইডি নিজের দখলে নিলাম কিন্তু সে তখন সব কিছু মুছে দিয়েছে।
সন্দেহ আরো দানা বাধলে এবার কি করি এবার তার আশে পাশের কারা তাকে সাহায্য করে তাদের খুজতে লাগলাম….

চলবে……….

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “বাবুরাই বচন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

29 − = 27