দাসীর সাথে যৌনকাজের সময় স্ত্রীর কাছে ধরা পড়ে মুহাম্মদের আয়াত নাজিল

একথা এখন সর্বজন বিদিত যে ইসলাম দাসীর সাথে বিবাহ বহির্ভুত যৌনকাজ করাকে বৈধ করেছে। স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই দাসীদের সাথে যৌনকাজ খুব উপভোগ করতেন। মারিয়া নামের এক সুন্দরী যৌনাবেদনময়ী দাসীর সাথে ফাক পেলেই যৌনকাজ করতেন, কারন ঘরে তখন তার ১১টা স্ত্রী ছিল , তাদেরকে সময় দিয়ে দাসীর জন্যে সময় বের করা সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু বুদ্ধিমান মুহাম্মদ সেই কাজ করতে গিয়ে তার স্ত্রী হাফসার কাছে হাতে নাতে ধরা পড়েন ও অত:পর সেটা জায়েজ করতেই সাথে সাথেই ওহী নাজিল করেন।

আমরা প্রথমেই নিজের আয়াতগুলো দেখি —

সুরা আত তাহরিম- ৬৬: ১-৬:
হে নবী, আল্লাহ আপনার জন্যে যা হালাল করছেন, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে খুশী করার জন্যে তা নিজের জন্যে হারাম করেছেন কেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।
আল্লাহ তোমাদের জন্যে কসম থেকে অব্যহতি লাভের উপায় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তোমাদের মালিক। তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
যখন নবী তাঁর একজন স্ত্রীর কাছে একটি কথা গোপনে বললেন, অতঃপর স্ত্রী যখন তা বলে দিল এবং আল্লাহ নবীকে তা জানিয়ে দিলেন, তখন নবী সে বিষয়ে স্ত্রীকে কিছু বললেন এবং কিছু বললেন না। নবী যখন তা স্ত্রীকে বললেন, তখন স্ত্রী বললেনঃ কে আপনাকে এ সম্পর্কে অবহিত করল? নবী বললেন,ঃ যিনি সর্বজ্ঞ, ওয়াকিফহাল, তিনি আমাকে অবহিত করেছেন।
তোমাদের অন্তর অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে যদি তোমরা উভয়ে তওবা কর, তবে ভাল কথা। আর যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর, তবে জেনে রেখ আল্লাহ জিবরাঈল এবং সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণ তাঁর সহায়। উপরন্তুত ফেরেশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী।
যদি নবী তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন, তবে সম্ভবতঃ তাঁর পালনকর্তা তাঁকে পরিবর্তে দিবেন তোমাদের চাইতে উত্তম স্ত্রী, যারা হবে আজ্ঞাবহ, ঈমানদার, নামাযী তওবাকারিণী, এবাদতকারিণী, রোযাদার, অকুমারী ও কুমারী।
মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।

১ নং আয়াত থেকে দেখা যাচ্ছে , আল্লাহ মুহাম্মদের জন্যে বিশেষ একটা জিনিস হালাল করেছে , আর মুহাম্মদ এখন নিজের কাছে সেটা হারাম করছেন। তো সেই কি জিনিস যা মুহাম্মদের জন্যে আল্লাহ হালাল করেছিল ? সেই হালাল জিনিসটার বিষয়ে জানা যাবে নিচের আয়াত থেকে –

সুরা আল মুমিনুন- ২৩: ৫-৬:
এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে।
তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না।

অর্থাৎ দাসীর সাথে যৌনকাজ হলো হালাল জিনিস। এছাড়া নিচের আয়াতটাও দেখা যাক –

সুরা নিসা- ৪: ২৪: বং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।

উক্ত আয়াতে বলছে দক্ষিন হস্ত যেসব নারীদেরকে দখল করে , যেমন ক্রীতদাসী বা যুদ্ধের পর বন্দিনী নারী – এদের সবাইকে দাসী জ্ঞান করে , তাদের সাথে যৌনকাজও হালাল।

কিন্তু হঠাৎ করে কি এমন হলো যে মুহাম্মদ সেই দাসীদের সাথে যৌনকাজকে নিজের জন্যে হারাম করে নিচ্ছেন ? আর তাতে আল্লাহ যৎপরনাস্তি ব্যাথিত হয়ে মুহাম্মদের জন্যে ওহি পাঠিয়ে বলছে যে , তিনি যা হারাম করছেন , সেটা হারাম করার কোনই দরকার তার নেই। সেটা বিস্তারিত জানতে হলে উক্ত সুরা আত তাহরিম ৬৬:১-৬ আয়াত সমূহের প্রেক্ষাপট জানতে হবে। সবাই জানে কোন আয়াতের প্রকৃত অর্থ জানতে গেলে সেই আয়াতের প্রেক্ষাপট জানতে হবে। তো এখন আমরা সেই প্রেক্ষাপটটাই দেখি :

তাফসির ইবনে জারিরে বর্নিত আছে যে , রাসুলুল্লাহ(সা) তার কোন এক স্ত্রীর ঘরে উম্মে ইব্রাহীম (রা) এর সাথে কথা বার্তা বলছিলেন । তখন তার ঐ স্ত্রী তাকে বলেন -” তোমার ও আমার বিছানায় এ কাজ কারবার ?” তখন রাসুলুল্লাহ বলেন : “আমি তাকে আমার উপর হারাম করে নিলাম।”তখন তিনি বলেন : হে আল্লাহর রসুল ( সা) ! হালাল কিভাবে হারাম হয়ে যাবে ? জবাবে তিনি বলেন : “আমি শপথ করছি যে , এখন হতে তার সাথে কোন প্রকার কথা বার্তা বলব না। ” ঐ সময়ই এই আয়াতগুলো অবতীর্ন হয়।
হযরত মাসরূক(রা) বলেন যে , হারাম করার ব্যপারে তো রাসুলুল্লাহ(সা) এর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং তাকে তার কসমলে কাফফারা আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়। তাফসিরে ইবনে জারিরে রয়েছে যে , হযরত ইবনে আব্বাস (রা) হযরত উমার(রা) কে জিজ্ঞেস করেন : ” এ দুইজন স্ত্রী কে ছিলেন ?” উত্তরে হযরত উমার বলেন : তারা হলেন হযরত আয়শা ও হযরত হাফসা। উম্মে ইব্রাহীম কিবতিয়া(রা) কে কেন্দ্র করেই ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। হযরত হাফসা এর ঘরে পালার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা) হযরত মারিয়া কিবতিয়া(রা) এর সাথে মিলিত হন। এত হযরত হাফসা (রা) দু:খিতা হন যে , তার পালার দিনে তারই ঘরে ও তারই বিছানায় তিনি মারিয়া কিবতিয়া এর সাথে মিলিত হলেন। রাসুলুল্লাহ ( সা) হযরত হাফসা(রা) কে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে বলে ফেলেন : “আমি তাকে আমার উপর হারাম করে নিলাম। তুমি এই ঘটনা কারও কাছে বর্ণনা করো না। ” এতদ্সত্তেও হযরত হাফসা(রা) ঘটনাটি হযরত আয়শা(রা) এর কাছে প্রকাশ করে ফেলেন। আল্লাহ তালা এই খবর স্বীয় নবী(সা) কে জানিয়ে দেন এবং এই আয়াতগুলো নাজিল করেন। নবী(সা) কাফফারা আদায় করে স্বীয় কসম ভেঙ্গে দেন এবং ঐ দাসীর সাথে মিলিত হন।

(সূত্র: পৃ:৫৫৮, ১৭শ খন্ড, তাফসির ইবনে কাসির ,http://www.quraneralo.com/tafsir/)

অর্থাৎ হাফসার সাথে মুহাম্মদের যে দিন কাটানোর দিন নির্ধারিত ছিল , সেই দিন মুহাম্মদ সুন্দরী দাসীর সাথে যৌন মিলন করেন তাও আবার হাফসার ঘরেই , হাফসা সেটা হাতে নাতে ধরে ফেলে, তখন মুহাম্মদ কসম কাটে যে , এই ধরনের কাজ তিনি আর করবেন না।হাফসার কাছে কসম কাটার পর মুহাম্মদ তাকে অনুরোধ করেন ঘটনাটা যেন সে কাউকে না বলে , কিন্তু হাফসা সেকথা রক্ষা না করে আয়শার কাছে ঘটনাটা বলে ফেলে , আর তাতেই বাধে বিপত্তি। আর সেটা করার সাথে সাথেই আল্লাহ তার জন্যে ওহি পাঠিয়ে দিয়ে মুহাম্মদকে আস্বস্থ করে যে , এই ধরনের কসমের কান মূল্য নেই , এবং অত:পর আর কোন শর্ত থাকল না , মুহাম্মদ যখন খুশী তখন এবং কোন স্ত্রীর সাথে রাত কাটানোর দিন ধার্য্য থাকলেও সেই দিনে দাসীর সাথে যৌন কাজে আর কোনই বাধা থাকল না। শুধু তাই নয়, তখন আল্লাহ এই বলে ভয়ও দেখায় যে , সে ইচ্ছা করলে হাফসা বা আয়শার চাইতে অনেক বেশী সুন্দরী নারী মুহাম্মদের জন্যে জুটাতে পারে। আর যদি তারপরেও হাফসা বা আয়শা এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করে তখন তাদেরকে দোজখের আগুনের ভয় দেখান হয়েছে।

যে লোকের সাধারন জ্ঞান আছে , সে যদি একটু চিন্তা করে , তাহলে কি সে বুঝতে পারে না যে , এখানে মুহাম্মদ নিজের খাসলত চরিতার্থ করতে গিয়ে ধরা খেয়ে , তারপর কসম কেটেও সেটা রক্ষা না করার জন্যেই কোরানের বানীর নামে তার স্ত্রীদেরকে ধোকা দিচ্ছেন ? তাদেরকে তালাক দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন ? অবশেষে তার কথা না শুনলে তাদেরকে দোজখের আগুনের ভয় দেখাচ্ছেন ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “দাসীর সাথে যৌনকাজের সময় স্ত্রীর কাছে ধরা পড়ে মুহাম্মদের আয়াত নাজিল

  1. নবীর লুইচ্চামিকে কোরানের আয়াত
    নবীর লুইচ্চামিকে কোরানের আয়াত দ্বারা জায়েজ করা হয়েছে। এই ধরনের লুইচ্চামিকে নবীর সুন্নত হিসাবে ধরা যায়। মুমিনরা ইচ্ছা করলে সুন্নত মেনে লুইচ্চামি করতে পারে।

  2. উক্ত আয়াতে বলছে দক্ষিন হস্ত

    উক্ত আয়াতে বলছে দক্ষিন হস্ত যেসব নারীদেরকে দখল করে , যেমন ক্রীতদাসী বা যুদ্ধের পর বন্দিনী নারী – এদের সবাইকে দাসী জ্ঞান করে , তাদের সাথে যৌনকাজও হালাল।

    ঠিক তাই। সেই সময় মানূষ যুদ্ধবন্দী নারী-পুরুষ আর দাস-দাসীদের যাচ্ছে তাই ভাবে ব্যাবহার করত, তাদেরকে প্রস্টিটিউশনে বাধ্য করত এবং তাদের কোন মুক্তির পথই ছিল না। ইসলামই প্রথম দাস-দাসীদের সাথে মানবিক ব্যাবহার আর তাদের মুক্তির পথ বাতলে দেয়। যেমন-

    নিসা আয়াত ৩৬–
    তোমরা পিতা-মাতার সাথে ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর বা যুদ্ধবন্দীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে।

    সূরা নূর–
    তোমাদের অধিকারভুক্তদের মধ্যে যারা ( দাস-দাসী, যুদ্ধবন্দী) মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চায়, তাদের সাথে তোমরা লিখিত চুক্তি কর যদি জান যে, তাদের মধ্যে কল্যাণ আছে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে, অর্থ-কড়ি দিয়েছেন, তা থেকে তাদেরকে দান কর। তোমাদের দাসীরা বা যুদ্ধবন্দীরা নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করতে চাইলে তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদের লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য কারো না।
    সূরা বাকারা ২:১৭৭
    আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে ,

    আবু মুসা(রা.) হতে বর্ণিত:

    সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৫৮৪; ইংরেজি অনুবাদ: ভলি. ৩, বুক ৪৬, নম্বর ৭২০;
    রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
    যার একটি ক্রীসদাসি আছে আর সে তাকে শিক্ষাদীক্ষা দান করে, তার সাথে সদয় ব্যবহার করে, অত:পর তাকে মুক্ত করে বিবাহ করে সে দ্বিগুণ সওয়াব পাবে।

    কোরান কিন্তু বার বার দাস-দাসী আর যুদ্ধবন্দীদের সাথে সদয় ব্যাবহার আর মুক্তি দিতে বলছে। সেসময় আর কোন মতবাদ বা ধর্ম বা বিশ্বাস এভাবে দাস-দাসী আর যুদ্ধবন্দীদের পক্ষ নেয় নি।

    1. সুরা বাকারা -২: ১৭৭: সৎকর্ম
      সুরা বাকারা -২: ১৭৭: সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।

      এই আয়াতটা নাজিল হয় মুহাম্মদ কিছুদিন হয় মদিনায় হিজরত করেছিলেন। তখনও তার অনুসারীর সংখ্যঅ বেশী না। সুতরাং এমতাবস্থায় যদি তার কোন ধনী সাহাবী অর্থ দিয়ে কোন দাসকে ক্রয় করে আর সে যদি ইসলাম গ্রহন করে তাকে মুক্তি দিতে। এটা ছিল মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্যে একটা ক্ষনকালীন কৌশল।

      নিসা আয়াত ৩৬–
      তোমরা পিতা-মাতার সাথে ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর বা যুদ্ধবন্দীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে।

      মুহাম্মদ নিজেকে নবী দাবি করে নুতন একটা ধর্ম প্রচার করছেন। তার সব বিষয়ই যে খারাপ হবে সেটা তো ঠিক না। তাকে তো কিছু কিছু ভাল জিনিসও প্রচার করতে হবে। তাছাড়া সেই সময় দাসপ্রথা ছিল উৎপাদনের প্রধান উপায়, তখন তো আর কল কারখানা যন্ত্রপাতী ছিল না। দাস দাসীদেরকে ভাল মত না খাওয়ালে বা ভাল মত যত্ন না করলে সে কিভাবে বেশী কাজ করবে। যারা গরু মোটা তাজা করে কোরবানীর সময় বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করতে চায়, তারা তো দেখি নিজেদের চাইতেও গরুর যত্ন বেশী নেয়। কারনটা বোধগম্য। দাসদের সাথে ভাল ব্যবহারের অন্য কারনও ছিল। সেটা হলো তাহলে তারা এক সময় ইসলাম গ্রহন করতে পারে। মদিনার জীবনে মুহাম্মদের প্রচুর লোকবল দরকার ছিল। তখন তিনি নিয়মিত বানিজ্য কাফেলা ডাকাতি করছেন , আশপাশের বসতি আক্রমন করে লুটপাট করছেন। এমন অবস্থায় তার দলে যে কোন ভাবে লোক ভিড়ান দরকার ছিল। না হলে তাদের জীবিকাই নির্বাহ হতো না।

  3. আমার মনে হয় দাস-দাসী আর
    আমার মনে হয় দাস-দাসী আর যুদ্ধবন্দী সংক্রান্ত কোরানের আয়াতগুলোর ক্রিটিক্যাল এনালাইসিস করা দরকার। এই পোস্ট পড়ে আগ্রহী হয়ে সার্চ দিলাম। তাতে দাস-দাসী সংক্রান্ত এই আয়াতগুলো পাওয়া গেল–

    তোমাদের দাসীরা নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করতে চাইলে তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদের লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য কারো না। যদি কেহ তাদের উপর জোর-জবরদস্তি করে, তবে তাদের উপর জোর-জবরদস্তির পর আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [সুরা নুর: ৩৩]

    তোমরা পিতা-মাতার সাথে ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর বা যুদ্ধবন্দীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে।নিসা আয়াত ৩৬

    আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচা রিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে। আর যদি সবর কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। [সুরা নিসা: ২৫]

    আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। সূরা বাকারা ২:১৭৭

    এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচ ারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ। [সুরা নিসা: ২৪]

    তোমাদের অধিকারভুক্তদের মধ্যে যারা ( দাস-দাসী, যুদ্ধবন্দী) মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চায়, তাদের সাথে তোমরা লিখিত চুক্তি কর যদি জান যে, তাদের মধ্যে কল্যাণ আছে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে, অর্থ-কড়ি দিয়েছেন, তা থেকে তাদেরকে দান কর। তোমাদের দাসীরা বা যুদ্ধবন্দীরা নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করতে চাইলে তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদের লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য কারো না। সূরা নূর।

    অতঃপর সে ধর্মের ঘাঁটিতে প্রবেশ করেনি।
    আপনি জানেন, সে ঘাঁটি কি?
    তা হচ্ছে দাসমুক্তি [সুরা বা’লাদ: ১৩]

    যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। [সুরা তাওবা: ৬০]

    1. হ্যা গোটা কোরান ও হাদিসেরই
      হ্যা গোটা কোরান ও হাদিসেরই ক্রিটিক্যাল আলোচনা দরকার, কিন্তু সেটা করতে গেলেই তো চাপাতির কোপ খেতে হয়। তাহলে উপায় ?

      1. কোরান নিয়ে যদি আলোচনা করতে
        কোরান নিয়ে যদি আলোচনা করতে দেওয়া হত তাহলে এত সমস্যা তৈরি হত না। আমরা চাই কোরানের প্রতিটা কন্টেন্ট নিয়ে আলোচনা হোক। আলোচনায় বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্য। দাসীর সাথে সেক্স করার বৈধতা কোরান দিয়েছে। সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গেলেই মুমিনরা নবীর চরিত্র হননের অভিযোগ করে। শুধু অভিযোগ করেই তারা ক্ষ্যান্ত হয় না, সমালোচনাকারীর কল্লা ফেলে দিতে চাপাতি নিয়ে বের হয়। এটাই ইসলামের শিক্ষা।

        1. সত্য হলো ইসলামের সবচাইতে বড়
          সত্য হলো ইসলামের সবচাইতে বড় শত্রু। ইসলামের আসল সত্য প্রকাশ হয়ে গেলে, ইসলাম বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না। মুমিনেরা সেটা জানে , আর তাই তারা সত্যকেই সবচাইতে বড় ভয় পায়। ইসলামের ভিত্তি হলো মিথ্যা, আর সেই মিথ্যাটাকে টিকিয়ে রাখার জন্যে প্রধান অস্ত্র হলো চাপাতি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 2 =