আধিখ্যেতা ও শাকিব খান

যারা এখন শাকিব খানকে নিয়ে আহ্লাদ করছেন তারাই কিছুদিন আগে তারে হিজড়া খান, বস্তির নায়ক, হাফ লেডিস এসব নামে ডাকতেন। অথচ এই লোক তখন বাংলাদেশের পরিচালকদের ডিরেকশনে এবং বাংলাদেশের প্রডিউসারদের টাকায় বানানো সিনেমায় অভিনয় করতেন। যেসব ছবি থেকে বাংলাদেশ সরকার রাজস্ব পেতো এবং যেসব ছবি ভগ্নপ্রায় বাংলাদেশি চলচিত্র টিকিয়ে রেখেছিলো। এইসব আহ্লাদ করা পাবলিকের শখের ল্যাপটপে হলিউডের বাকোয়াস সিনেমা এবং হিন্দী অতি বাজে চলচিত্র থাকলেও শাকিব খানের একটা সিনেমার একটা গানও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। এটাই হচ্ছে চরম বাস্তবতা। যারা জীবনে কোনদিন নিজের পকেটের টাকা খরচ করে হলে গিয়ে শাকিব খানের একটা সিনেমাও দেখেনাই তারাই এখন কলকাতায় শাকিবের নিউ লুক দেখে আবেগে মোমের মত গলে যাচ্ছে। আমি আজ এই কথা বলছি কারন আমি শাকিব খানের কিছু ছবি হলে গিয়ে দেখেছি। এছাড়া শাকিব খান যে অভিনয় ভালোই পারে তা আমি তার দেবদাস দেখার পরেই বুঝেছিলাম। কিন্তু আফসোসের ব্যাপার গত ষোল বছর ঢাকার চলচিত্রে অভিনয় করেও শাকিব যে প্রশংসা পায়নি তা সে কলকাতায় গিয়ে কয়েকটা স্টিল ছবি তুলেই পেয়ে গেছে। এখন অনন্ত জলিল যদি কলকাতায় গিয়ে ছবি প্রডিউস এবং অভিনয় করা শুরু করে তাহলে এইসব আহ্লাদ করা পাবলিক জলিলকেও রজনীকান্তের সাথেই তুলনা করবে। উদাসীন এই জাতি তার রত্নকে সারাজীবন অবহেলাই করে এসেছে। এখন সবাই শাকিবের সিনেমা রাত জেগে ডাউনলোড করে দেখবে। মোবাইলে নিয়ে নিয়ে ঘুরবে। দোস্তদের সাথে ছবি শেয়ার করার জন্য শেয়ার ইট এপসও ওপেন করবে। এটাই হচ্ছে রিয়েলিটি। আর ব্যবসা হবে ভারতের। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই পরের উঠানে ডিম পাড়া মুরগির মত।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + = 13