মুহাম্মদ নিজেই বলে গেছেন ইসলাম হলো সন্ত্রাসবাদ

তথাকথিত মডারেট মুসলমানরা জীবনে কোরান হাদিস না পড়েই বলে – ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম। তাদের দেখা দেখি দুনিয়ার বহু দেশের সরকার প্রধানরাও বলে ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম। সম্ভবত: তারা এটা বলে একারনে যে তারা মুসলমানদের ধর্মবিশ্বাসকে সম্মান করে, আর তারা আশা করে মুসলমানরা সর্বদা শান্তিপূর্ণ আচরন করবে। কিন্তু প্রকৃত সহিহ মুসলমানরা ঠিকই জানে ইসলাম আসলে কি , তারা সেটা ভালমত জানে কারন খোদ মুহাম্মদ ইসলামের কথিত নবী নিজেই বলে গেছেন ইসলাম কোন শান্তির ধর্ম না , বরং এটা হলো একটা সন্ত্রাসবাদী আদর্শ।

প্রথমেই আমরা কোরানের আয়াত দেখি :

সুরা তাওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের(ইহুদি খৃষ্টান) ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

কি কারনে ইহুদি খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করা হচ্ছে ? সেটাও বলা আছে আয়াতে , সেটা হলো – তারা ইসলাম গ্রহন করে নি, মুহাম্মদকে নবী হিসাবে মানে নি। বিষয়টা এমন না যে ইহুদি ও খৃষ্টানরা মুহাম্মদ বা মুসলমানদেরকে আক্রমন করার পায়তারা করছিল আর তাই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে উপরোক্ত আয়াত নাজিল হয়েছে। অর্থাৎ এটা হলো সম্পূর্ন আগ বাড়িয়ে আক্রমনাত্মক যুদ্ধ , এখানে আত্মরক্ষার কোন বিষয় নেই। আরও পরিস্কার ভাবে বলা আছে পরের আয়াতে —-

সুরা তাওবা -৯: ৩০: ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।

খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে কারন তারা যীশুকে ঈশ্বরের পুত্র বলে , ইহুদিরা ওযাইরকে ঈশ্বরের পূত্র বলে। এটাই তাদের অপরাধ। বিষয়টা আরও ভালভাবে ব্যখ্যা করে গেছেন স্বয়ং মুহাম্মদ যিনি হলেন কোরানের শ্রেষ্ট ব্যখ্যাকার —

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

অর্থাৎ ইসলাম গ্রহন না করা পর্যন্ত মানুষদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাওয়ার জন্যে মুহাম্মদ আদিষ্ট হয়েছেন যার অর্থ দুনিয়ার শেষ মানুষটা ইসলাম গ্রহন না করা পর্যন্ত মুসলমানদেরকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যেতে হবে। বিষয়টা এমন না যে , অমুসলিমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করলেই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে । বিষয়টা হলো তারা ইসলাম গ্রহন না করা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে , অর্থাৎ এটা হলো সম্পূর্ন আক্রমনাত্মক যুদ্ধ। এখানে আত্মরক্ষার কোন বিষয় নেই। শুধু তাই নয়, স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই বলে গেছেন —

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০:
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে ভীতির সঞ্চারের(সন্ত্রাস) মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। একবার আমি নিদ্রায় ছিলাম, এমতাবস্থায় পৃথিবীর ধনভান্ডার সমূহের চাবি আমার হাতে অর্পণ করা হয়। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তো চলে গেছেন আর তোমরা তা বের করছ।

অর্থাৎ সোজা ভাষায় সন্ত্রাসের মাধ্যমেই মুহাম্মদ তার ইসলাম প্রচার করেছেন ও বিজয়ী হয়েছেন। সুতরাং তার উম্মতদেরও মুহাম্মদের পদাংক অনুসরন করে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার ও প্রসার করতে হবে। অর্থাৎ পরিস্কার ভাষায়, ইসলাম হলো একটা সন্ত্রাসের আদর্শ। এখানে শান্তির কোন স্থান নেই।

এমতাবস্থায় নিচের শান্তিপূর্ন আয়াতগুলোর অবস্থা কি হবে ?

সুরা বাকারা – ২: ২৫৬: দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি নেই
সুরা কাফিরুন- ১০৯: ০৬: আমার ধর্ম আমার কাছে , তোমার ধর্ম তোমার কাছে।

এসব শান্তির আয়াত বা বিধান কোরানেরই বিধি মোতাবেক বাদ হয়ে যাবে। কারন কোরানেই আল্লাহ বলেছে , সে মাঝে মাঝে কোন কোন আয়াত রদ করে দিয়ে নতুন আয়াত নাজিল করে , যেমন –

সুরা বাকারা – ২: ১০৬: আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?

অর্থাৎ আল্লাহ অনেক সময় কিছু আয়াত বাতিল করে ., সেই সম্পর্কিত আরও ভাল আয়াত নাজিল করে। তবে কিছু লোক বলে উক্ত আয়াত নাকি আগেকার কিতাব তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব যে বাতিল করা হয়েছে সে সম্পর্কে বলেছে। তাতে কোন অসুবিধা নেই। আল্লাহ খোদ কোরানেরই বহু আয়াত বাতিল করে তার পরিবর্তে উন্নততর আয়াত নাজিল করেছে যা বলা আছে নিচের আয়াতে –

সুরা নাহল – ১৬: ১০১: এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না।

অর্থাৎ জানা গেল কোন এক নির্দিষ্ট বিষয়ে যদি দুইটা আয়াত থাকে ,তাহলে সেক্ষেত্রে শেষের আয়াতটা পূর্বের আয়াতকে বাতিল করে দেবে। আরবীতে যাকে বলে নাসিক-মানসুক। সুতরাং সুরা তাওবার ৯:২৯ নং আয়াত পূর্বের সকল শান্তির আয়াত যথা ২: ২৫৬ বা ১০৯: ৬ নং আয়াতকে বাতিল করে দেবে। এর কারন হলো সুরা তাওবা মুহাম্মদ তার জীবনের সব শেষে নাজিল করেছিলেন। অত:পর শুধুমাত্র ৯: ২৯ নং আয়াতের বিধান বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ আগ বাড়িয়ে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে আক্রমন করতে হবে , তাদেরকে ইসলাম গ্রহনে বাধ্য করতে হবে , যদি তারা ইসলাম গ্রহন না করে , তাহলে করজোড়ে তাদেরকে জিজিয়া কর দিয়ে অত্যন্ত হীন অবস্থায় তাদেরকে বেঁচে থাকার অধিকার দিতে হবে।এটাই ইসলামের চুড়ান্ত বিধান।

পরিশেষে, মুহাম্মদ নিজেই ইসলামকে একটা সন্ত্রাসের মতবাদ বলে প্রচার , প্রসার ও প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। সেখানে যারা বলে ইসলাম শান্তির ধর্ম, তারা মুনাফিক কাফের , আর তাদের শাস্তি হলো কল্লা কাটা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “মুহাম্মদ নিজেই বলে গেছেন ইসলাম হলো সন্ত্রাসবাদ

  1. ইসলামকে ঠেকিয়ে রাখা ক্রমশ
    ইসলামকে ঠেকিয়ে রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে ঊঠছে। ইসলাম ইউরোপে ভাংগন ধরিয়েছে। ট্রাম্পকে ভাড়া করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসলামের আগ্রাসন থেকে রক্ষার চেষ্টা চলছে। দেখা যাক কি হয়। লুসিফার আপনার সহায় হোন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 48 = 54