আপনার মিস্ট্রেস এর কথা ভুলে যাবেন না যেন!

cinq-à-sept (ছাংক আ সেত-5 to 7) বলে ফ্রেঞ্চ একটি বলা আছে যার অর্থ আবার কানাডিয় ফ্রেঞ্চ আর ফরাসী ফ্রেঞ্চ এর কাছে সমান নয়। কানাডাবাসীর কাছে এটা আফটার ওয়ার্ক ফ্রেন্ডলি ডিনার, ড্রিংকস, ওয়াইন বাট ফরাসীবাসীর কাছে এটি পরকীয়া বা লাভ এফেয়ার(সেক্সুয়াল)। এই এফেয়ার শব্দটাও ফ্রেঞ্চ à faire (আ ফেখ-করা) থেকে এসেছে। ফ্রেঞ্চ কালচারে একজন ঘোষিত জীবনসঙ্গী থাকার পরেও আরেকটি সাময়িক সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়াই পরকীয়া এবং এই এফেয়ারে ফরাসী মেয়েদের থেকে ছেলেরা এগিয়ে। মানে ছেলেরাই বেশি করে থাকে এবং এর ভাল একটা অংশ অপর সঙ্গীকে জানিয়েই এটি করে থাকে(ফ্রেঞ্চ কালচারে)।

যতদূর জানি ফরাসী কালচারে এটা ঠিক অনৈতিক নয়। কেউ যেন আবার ধরে নিবেন না ফরাসী কালচার মানেই পশ্চিমা কালচার। অ্যামেরিকান কালচারে এটা খুবই অনৈতিক। অ্যামেরিকান কালচারের কথা এই কারণেই উল্লেখ করলাম যে আমরা সব গুলিয়ে ফেলতে পছন্দ করি। সোজা পশ্চিমা কালচার বলে দিই কিন্তু আসলে তা নয়। প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা কালচার, আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি। হয়ত কিছু ব্যপারে মিলে যায় ব্যাস ঐ পর্যন্তই। ফ্রান্সে এমন কোন ব্যাস্ত রাস্তা আপনি পাবেন না যেখানে একটি চমৎকার ফুলের দোকান নেই এবং এই দোকানীদের খুব চালু বিজ্ঞাপনের একটি হচ্ছে
“আপনার মিস্ট্রেস এর কথা ভুলে যাবেন না যেন” 😉

ফ্রেঞ্চদের বেশ ভালো একটা অংশ মনে করে একজনের প্রতি বিশ্বস্থ থেকে জীবন পার করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। জীবন সংক্ষিপ্ত তাই বাঁচো। ভালোবাসো, কাকে ভালবাসবে কিভাবে ভালবাসবে সেটা ব্যাপার নয়। ভালোবাসাই আসল, ওঁ স ফুঁ(হু কেয়ার্স)। তারা বলে পরকীয়া করেও একজন ভাল মানুষ হিসেবে বাঁচা সম্ভব। পরকীয়া নিয়ে আজকাল বাজ্ঞালীরা তিন ভাগে বিভক্ত। ধার্মিক ভাগ, স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী ভাগ, নারীবাদী ভাগ!
উইমেন চ্যাপ্টারে এক নারীবাদী সাদিয়া নাসরিন লিখেছেনঃ

//অনেক হয়েছে। যথেষ্ট। এবার থামাও মেয়ে। ঘুরে দাঁড়াও। ওরা এমনিতে থামবে না। ওদের থামাতে হবে। চরিত্রের জুজুর ভয় আর কতো? “পরকিয়া” মানে কি? পরের সাথে যে কিয়া? আরে ! আমি যদি কারো সাথে “কিয়া” করি, সে কি আর “পর” থাকে? তাহলে পরকিয়া হয় কেমনে? সে তো “স্বকিয়া”। প্রতিটা প্রেম, প্রতিটা সম্পর্কই তো বাস্তবতা। সম্পর্কে অতীত বলে তো কিছু নেই। যদি কোন সম্পর্কে জড়িয়ে যাও জীবনের যে কোন প্রান্তে, সে সম্পর্ক স্বীকার করে নেয়ার সাহস অর্জন করো, মেয়ে।
ঘুরে দাঁড়াও। চিৎকার করে বলো, আমি “স্বকিয়া” করি। কোন সমস্যা? মনে রেখ, রাম-রহিম সবাই তোমাকে সীতা হিসেবেই চায়। অতএব, তোমাকেই ঠিক করতে হবে তুমি আর কতযুগ অগ্নিপরীক্ষা দিবে একটা চারিত্রিক সনদের জন্য। অতএব চ্যালেঞ্জ করো।
জাগো, মেয়ে, বাঁচো। যেমন খুশি তেমন বাঁচো। তুমুল বাঁচো//

সমস্যা ভাগে নয়। সমস্যা জানায় এবং গুলিয়ে ফেলাতে। পরকীয়া বলতে আসলে বুঝায় অন্যের স্ত্রীর সাথে গোপন সেক্সুয়াল সম্পর্ক। প্রায় সারা দুনিয়ার কাছে এটি অনৈতিক। এই কারণেই অনৈতিক যে এটি আসলে বিশ্বাস ভঙ্গ। আপনি যদি সৎ লোক হয়ে থাকেন তবে আপনি অন্যের স্ত্রীর সাথে গোপনে সেক্স করতে চাইলে নিজের স্ত্রীকেও সেই অধিকার দিবেন। নাকি দিবেন না??? বাংলা অভিধান অনুযায়ী এটি একটি স্ত্রী লিঙ্গ শব্দ যার পু লিঙ্গ হচ্ছে পরকীয়। উপমহাদেশের কালচারেও এটি আছে তবে শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মের একটি শাখাতে(বৈষ্ণব প্রেমতত্ব)।

লিভিং টুগেদার আর এক্সট্রামেরিটাল এফেয়ার গুলিয়ে খিচুড়ি পাকিয়ে ফেলার কোন মানে নেই। যুক্তিও নেই। লিভিং টুগেদারের কালচার সারা পশ্চিমা বিশ্বে স্বীকৃত এবং এটার মাঝে কোন প্রকারের অনৈতিকতা নেই। দুজন মানুষ একে অপরকে ভালোবেসে বিস্বস্থতার সাথে একসাথে বসবাস করতেছে, অনেকে সন্তান ও নিচ্ছে। অনেকে সম্পর্ক ক্লিক না করাতে আলাদাও হয়ে যাচ্ছে আবার অনেকে বিবাহ নামক লিখিত এরেঞ্জমেন্টে পরবর্তীতে ঢুকে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার মনে করছে ভালবাসার জন্য লিখিত দলিলের কোন দরকার নাই তাই লিভ টুগেদারেই সারাজীবন পার করে দিচ্ছে। চমৎকার ব্যাপার। ভালবাসার জন্য আসলেই লিখিত দলিলের দরকার দেখি না।

জ্ঞানী গুণী ভাই এবং আপারা এত কথা লিখার একটাই কারণ। এক্সট্রামেরিটাল এফেয়ার আর লিভ টুগেদার খুবই ভিন্ন জিনিষ। জাগো মেয়ে বাঁচো, তুমুল বাঁচো, অন্যের স্বামীর সাথে লুকিয়ে সেক্স করো এমন স্লোগানের তো কোন যৌক্তিকতা দেখছি না!
জাগো মেয়ে বাঁচো, তুমুল বাঁচো, নিজের মত করে বাঁচো, ভালোবেসে বাঁচো, প্রেম করো, লিভ টুগেদার করো, বিয়ে করো, সন্তান নেও না নেও যাই করো নিজের মত করে করো এমন কথাই বরং যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়, নয় কি?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 − = 6