বাবুল আক্তার- একটি নতুন সরকারি ট্র্যাজেডির হিরো

ছোটবেলায় বিটিভি-তে রুবেল অভিনীত বাংলা সিনেমা দেখেছেন তো? সিনেমার প্রথম দিকে দেখা যায় নায়কের বাপ এক বিশাল মাপের স‌ৎ পুলিশ অফিসার। এলাকার সবচেয়ে বড় মাফিয়ার চোরাচালান বাধাগ্রস্থ করায় এক সময়ে তাকে ঐ মাফিয়ার হাতে সপরিবারে খুন হতে হয়। ভাগ্যক্রমে নায়ক হয়ত বেঁচে যায় প্রতিটা সিনেমাতেই।

এবার বাস্তবে আসা যাক- রাষ্ট্রীয় পেটোয়া বাহিনী পুলিশের এক কর্তা এবার নিজে খুন না হলেও খুন হতে হয়েছে তাঁর স্ত্রী-কে। সেই পুলিশ কর্তা স‌ৎ কিংবা অস‌ৎ সেই বিচারে যাওয়ার দরকার নেই। একজন সাধারণ বোধসম্পন্ন মানুষ অনায়াসেই বুঝতে পারছেন যে ঐ পুলিশ কর্তা একটা বিশেষ ষড়যন্ত্রের শিকার। হতে পারে তিনি বর্তমান সরকারের এমন কোন কর্তা ব্যক্তির লেজে এত জোরেই পা ফেলেছেন যে, লেজটা থেতলেই গেছে। হতে পারে দায়িত্বরত অবস্থায় তিনি এমন কোন তথ্য জেনে ফেলেছেন যা স্বয়ং তথ্যবাবার কাছেও নেই। হয়ত সেই তথ্যটা একটু বেশী বিব্রতকর-ই বটে! থলে থেকে কালো বেড়ালের ছানা তো অনেক আগেই বের হওয়ার পরেও একজন বেশ দাঁত কেলিয়ে বেড়াচ্ছেন কিন্তু বাকশাল সরকারের কোন কাজে তাকে আর ব্যবহার করাও যাচ্ছে না আবার ছুঁড়েও ফেলা যাচ্ছে না। এ যাত্রায় আবার বাবুল আক্তারের শাবলে কোন কেঁচো খুড়তে কোন কেউটে বের হয়ে আসত কে জানে……কত শত ৪৮ ঘন্টা তো পার হল, সাগর-রুনী’র হত্যাকারীদের আর পাওয়া গেল না। যাবে কি করে? ওই ঘটনায় তো পুলিশের মাথাব্যথা ছিল না। তারা কেউ পুলিশের স্বজন ছিলেন না। তাদের জন্য কেউ সরকারী ঊর্দি পরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন মারায় নি। তারা মারা যাবার পরে কোন শুয়োরের বাচ্চা পেটোয়ার নিজের পরিবার-স্বজনের চিন্তায় মাথা খারাপ হয়ে যায় নি। যেই না মিতু মারা গেলেন, অমনি দারোগার চেয়ে পাওয়ারফুল দারোগার ঘরের বউয়েরা “ভাত বন্ধ” আন্দোলন শুরু করলেন ঘরে আর দারোগারা নামলেন রাস্তায়! আহ্ সার্কাস-বাহ্ সার্কাস!!

পর্দা উঠল, নাটক হল। নির্যাতিতা হয়ত মরে গিয়ে বেঁচে গেছেন। কিন্তু রেখে গেছেন অনেকগুলো খবরের কাগজের চটকদার শিরোনাম, টিভি চ্যানেলের রং-বেরঙের খবর, অপদার্থ স্বরাষ্ট্র ভাঁড়ের খুল্লামখুল্লা মাতলামি আর একটা ট্র্যাজেডির নায়ক বানিয়ে দিয়ে গেছেন নিজের স্বামীকে। মরার পরে তার পরকীয়ার সংবাদ ছড়িয়েছে। তার স্বামীকে হয় ইস্তফা না হয় কারাবরণের মহান পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়েছে। রেলবস্তির দুটো আফিমখোরকে ধরে এনে “খুনি” বানিয়ে নাটকের সমাপ্তি টানার চেষ্টা করা হচ্ছে আপ্রাণ।

বাকশাল প্রযোজিত এই নাটকের মেসেজ জনগণ অনেক আগেই বুঝে নিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্যও আজ সুইমিং পুলের ক্লোরিন দেয়া পানির মতই পরিষ্কার। দেশটাকে কোন না কোন উপায়ে অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে নিয়ে “পূর্ব পাকিস্তান” পুন: প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে পেটোয়া বাহিনী দিয়ে প্রথমে সাধারণ জনগণ নির্যাতন-খুন করানো আর পেটোয়াদের মধ্যে পথের কাঁটাদের সরাতে তাদের স্বজনদের খুন করিয়ে তাদেরই ফাঁসিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা। কোন একটা হিন্দি সিনেমায় এমন দেখেছিলাম- একটা খুনের ঘটনায় নির্দোষ নায়ককে ফাঁসিয়ে দেয় এক মহিলা, পরে সে নায়ককে দিয়ে নিজের বিশ্রী যৌনক্ষুধা মেটাত বছরের পর বছর ধরে শুধুমাত্র ব্ল্যাকমেইল করে। বাবুল আক্তারের ঘটনায় রাষ্ট্রের আচরণ আমার সেই মহিলার মতই মনে হচ্ছে।

বাকি রইল বাবুল আক্তারের শিশুপুত্র মাহির। মা খুন হয়েছেন, বাবার ভবিষ্য‌ৎ এখনও অনিশ্চিত। তবে বাবুল আক্তার বেঁচে থাকলেও যে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন না সে বিষয়ে আমার অন্তত কোন সন্দেহ নেই। মাহিরের করণীয় হিসেবে হয়ত সাগর-রুনীর সন্তানের মত বছর বছর কবরে ফুল দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পরদিন –“আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি” গাইতে হবে। আর দূর থেকে খুনীরা কালো কাঁচে ঘেরা গাড়ির ভেতরে থেকে নতুন কোন টার্গেট খুঁজে নিয়ে আরেকটা নতুন নাটকের অবতারণা করবে। এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হোক সোনার বাংলা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

45 − 36 =